ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, ব্যক্তিত্ব

 


৬৯ এর গণ-অভ্যুত্থানের উত্তাল দিনগুলোতে তিনি পশ্চিম পাকিস্তানী শাসক চক্রের রক্ত চক্ষু ফাঁকি দিয়ে ঘুরে বেড়িয়েছেন দেশের এ প্রান্ত থেকে ঐ প্রান্ত। রাজপথে আন্দোলনরতদের ছবি তুলেছিলেন নির্ভয়ে।


গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ আসাদের রক্ত মাখা শার্টের ছবি তাঁর কালজয়ী আলোকচিত্রগুলোর মধ্যে অন্যতম।


৬৯-এর গণ-অভ্যুত্থানের সময় মিছিলে স্লোগানরত নিহত টোকাইয়ের ছবি।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র মূলক আগরতলা মামলায় হাজিরা দিতে যাবার দৃশ্য।


বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ১৯৭১-র ঐতিহাসিক ৭-ই মার্চের ভাষণের দৃশ্যটি।


৭-ই মার্চের ভাষণে জন-সমুদ্র


মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় ছুটে বেরিয়েছেন রণাঙ্গনে, অনুসরণ করেছেন।

মুক্তিকামী জনতার কাতারে থেকেছেন অকুতোভয়।

রায়ের বাজারের বুদ্ধিজীবীদের নির্মম হত্যাকাণ্ডে তাঁর তোলা ছবি সেদিন বিশ্ব বিবেক কে নাড়া দিয়েছিল।

তাঁর তোলা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ছবি।

স্বাধীনতার পর টাঙ্গাইলে কাদেরিয়া (কাদের সিদ্দিকীর নির্মম নির্যাতনের কাহিনী তাঁর ক্যামেরা বন্দি তাঁকে এনে দিয়েছিল পুলিৎজার পুরষ্কার)। ১৯৮২ থেকে ১৯৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে তাঁর তোলা ছবি সারাদেশ ব্যাপী আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল। এরশাদ বিরোধী আন্দোলনে তিনি বহুবার পুলিশের নির্দয়, নির্মম প্রহারে আহত হয়েছিলেন। (ছবিগুলো কেউ শেয়ার করবেন কি?)

রশীদ তালুকদার ১৯৩৯ সালের ২৪ অক্টোবর ভারতের চব্বিশ পরগনায় জন্মগ্রহণ করেন । বাবা চাকরি করতেন রাজশাহী। মাত্র ছয় বছর বয়সেই তিনি রাজশাহীর স্টার স্টুডিও-র মরহুম মোতাহার হোসেনের কাছে তার ফটোগ্রাফির হাতেখড়ি নেন। ১৯৫৯ সালে ফটো টেকনিশিয়ান হিসেবে যোগ দিলেন পি-আইডিতে (প্রেস ইনফরমেশন ডিপার্টমেন্ট)। বেতন ছিল মাত্র ৮০ টাকা ১৯৬১ সালে দৈনিক সংবাদে আলোকচিত্রী হিসেবে যোগ দিয়ে প্রায় একযুগ কাজ করেন। আলোকচিত্রী হিসেবে তাঁকে জীবনের প্রথম এ্যাসাইনমেন্টটি দিয়েছিলেন শহীদুল্লাহ কায়সার।

১৯৭৫ সালে তিনি যোগ দেন দৈনিক ইত্তেফাকে। টানা ২৯ বছর দৈনিক ইত্তেফাকে কাজ করে তিনি অবসরে যান ২০০৭ সালে। এরপর থেকে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গেই তিনি সময় কাটাচ্ছিলেন।

রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইহলোক ত্যাগ করেছেন এক ক্যামেরা সৈনিক রশীদ তালুকদার। তাঁর ফেলে যাওয়া স্থান কখনোই পূর্ণ হবেনা। মরহুমের শোকার্ত পরিবারের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছি। কালজয়ী এই আলোকচিত্রীর আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

***
ছবি ও তথ্য: ইন্টারনেট

***
ফিচার ছবি: আন্তর্জাল থেকে সংগৃহিত