ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

আজ বিশ্ব এইডস দিবস।

“Getting to Zero বা শূন্যে নামিয়ে আনি” এবারের প্রতিপাদ্য বিষয়। জোর দেয়া হয়েছে সংক্রমণ শূন্যে নামানো, এইচআইভি সংক্রমনে মৃত্যূ শূন্যে নামিয়ে আনা, আক্রান্তের প্রতি মমতা দেখানো, প্রতিরোধ করা, এড়িয়ে চলার উপর।

১৯৮১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসটি সর্বপ্রথম সনাক্ত করা হয়। পরবর্তী বছরের জুলাই মাসে এর নামকরণ করা হয় AIDS (“Acquired Immune Deficiency Syndrome”)
আধুনিক বিশ্বে এইডস একটি সংক্রামক মহামারি/প্রাণঘাতী ব্যাধির নাম। ভাইরাসটি আক্রান্তের দেহের কার্যকর রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা ভেঙ্গে ফেলতে সক্ষম। আমরা এইডস-এ আক্রান্ত রোগীকে এইচআইভি বাহক বলি (Human Immunodeficiency Virus)।

এইডস এর ভয়াবহতা সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে ১৯৮৭ সালে James W. Bunn এবং Thomas Netter নামক বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার দুই কর্মকর্তা সর্বপ্রথম এইডস দিবস পালনের উদ্যোগ নেন। ১৯৮৮ সাল থেকে জাতিসংঘর পক্ষ থেকে প্রতিবছরের পহেলা ডিসেম্বর দিবসটি সারাবিশ্বে উদযাপিত হয়ে আসছে।

এইডস/এইচআইভি ভাইরাসটি সনাক্ত করার পর থেকে বিশ্বে প্রায় ৩ কোটিরও বেশি মানুষ মারা গেছে।খ্যাতিমান অভিনেতা রক হাডসন এইডস আক্রান্ত হয়ে মৃত্যূর ঘটনা একসময় সারা বিশ্বে তোলপাড় সৃষ্টি করেছিল। সেই সময় আফ্রিকার প্রায় সবগুলো দেশে এইডস মহামারির মত ছড়িয়ে পড়ছিল।

আমাদের পার্শ্ববর্তী দেশ ভারতে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা আশংকাজনক হারে বাড়ছে । অবাধ যৌনতার কারণে দেশটির দক্ষিণাঞ্চল, মুম্বাই সহ প্রায় সর্বত্র আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে।

বাংলাদেশে ইসলামি অনুশাসন না থাকলেও দেশটির মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে, ধর্ম-ভীরুতার করনে জেনা-ব্যভিচার এখনও ছড়িয়ে পড়েনি। ফলশ্রুতিতে আমাদের দেশে এইডস আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগজনক নয়। সরকার, বিভিন্ন এনজিও সংস্থা, বেসরকারি স্বেচ্ছা-সেবক, প্রচারমাধ্যমগুলোর জোরালো ভূমিকার জন্য দেশে ব্যাপক সচেতনতার সৃষ্টি হয়েছে।

সারা বিশ্বেও এইডসের সংক্রমণের বিরুদ্ধে এখন জোরালো প্রচার প্রচারণা অব্যাহত রয়েছে। ফলশ্রুতিতে উন্নত বিশ্বে এইডস আক্রান্তের হার ততটা বাড়েনি শুরুর দিকে যতটা ভাবা হয়েছিল। সারা বিশ্বে ঔষধ উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান, চিকিৎসা বিজ্ঞানীরা দিনরাত গবেষণা করে চলেছেন। এখনও কোন প্রতিষেধক টিকা আবিষ্কারে কেউই সফল হতে পারেন নি।

প্রধান কারণ:
শুরুর দিকে বিকৃত যৌনতা যেমন সম-কামীতা, এনাল সেক্স, অনিরাপদ যৌন মিলনকে দায়ী করা হয়েছিল। এখনও ভয়াবহ এইডস ব্যাধি যৌন মিলন থেকেই ছড়াচ্ছে সবচেয়ে বেশি। একজন নারী বা পুরুষ যদি এইচআইভি বাহক হয় তবে সে যেনে কিম্বা না জেনে যতবার যৌন-সঙ্গী বদলাবে ততবারই একজন করে সংক্রমিত হবে। এটা চলবে অনেকটা চক্রবৃদ্ধি সুদের হারের মত!

এছাড়া এইচআইভি বাহকের সিরিঞ্জ, সূচের ব্যবহৃত সুস্থ ব্যক্তির সংক্রমণ ঘটাতে পারে যদি তাৎক্ষনিক ভাবে সুস্থ ব্যক্তির দেহে প্রবেশ করানো হয়। উল্লেখ্য বাংলাদেশে মাঝে মাঝে গুজব ছড়ানো হয় যে বিভিন্ন মার্কটে এইডস রোগী বিভিন্ন নারী দেহে সূচ ফুটিয়ে দিয়ে এইডস সংক্রমণ ছড়াচ্ছে। বিশেষজ্ঞ গন এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন এইচআইভি ভাইরাস বাতাসের সংস্পর্শে এলে কিম্বা রক্ত শুকিয়ে গেলে মৃত-কোষে পরিণত হয়। তবুও বলবো এটা যেহেতু রক্ত-বাহিত রোগ তাই রোগীর জন্য ব্যবহৃত সিরিঞ্জ/সূচ ধ্বংস করাটাই উত্তম।

আক্রান্ত ব্যক্তির বীর্য, লাসিকা গ্রন্থি নিঃসৃত লালা, আক্রান্ত মায়ের শিশু, মাতৃ দুগ্ধ, আক্রান্তের রক্ত গ্রহণ, আক্রান্তের কোন অঙ্গ (অরগ্যান) সুস্থ দেহে প্রতিস্থাপন।

উপসর্গ: জ্বর, ওজন কমে যাওয়া,কাশি, গলাভাঙা, লাসিকা গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ডায়রিয়া, অস্থিসন্ধি ফুলে যাওয়া, ত্বকে লালচে দানার উপস্থিতি।

রোগ নির্ণয়: এইচআইভি এন্টিবডি পরীক্ষা

যারা সুস্থ তাদের জন্য টিপস: বলা হয় কনডম ব্যবহার নিরাপত্তা বাড়ায়, এইডস এর ঝুঁকি কমায়, কথাটা বিশ্বাস করবেন না। কনডম যে কোন সময় ফেটে যেতে পারে।
কোন ধর্মই জেনা-ব্যভিচার, সমকামিতা, বিকৃত যৌনাচারের স্বীকৃতি দেয়নি। কঠিন ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলুন।
যৌন মিলনে একমাত্র স্ত্রীকে বেছে নিন।

সচেতনদের জন্য টিপস: সৌদি আরবসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাক-বিবাহ যোগ্যতা হিসেবে এইডস, যৌন রোগ, হেপাটাইটিস সহ সকল সংক্রামক ব্যাধি মুক্ত
পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হয়। আপনি আপনার সঙ্গী/সঙ্গিনী বেছে নেবার আগে ঠিক কাজটি করুন।

এইডস রোগী পেয়ে গেলে কি করবেন: হ্যান্ড-শেক, আলিঙ্গনে, একসাথে খাবার দাবারে, একই টয়লেট ব্যবহারে সমস্যা নাই।
তাঁর প্রতি সহানুভূতিশীল হোন। তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান।

চিকিৎসা: নেই! মৃত্যুই যার পরিণাম! আসুন এইডস এর মত ভয়াবহ ঘাতক ব্যাধির বিরুদ্ধে নিজে সচেতন হই এবং অন্যকে সচেতন করি।

ছবি ও তথ্য: ইন্টারনেট