ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আজ মহান বিজয় দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে বাংলাদেশের মাটি হতে শেষ পাকিস্তানিকে বিতাড়িত করা হয়েছিল। স্বাধীন, সার্বভৌম বাংলাদেশের আকাশে রক্তিম সূর্য উদিত হয়েছিল!
সাড়ে সাত কোটি বাঙ্গালীর রক্তে সেদিন একটি চেতনা, একটি স্বপ্নের সফল বাস্তবায়নের জোয়ার! আমাদের স্বাধীনতা লাভের পথটি কখনোই কুসুমাস্তীর্ণ ছিলনা।
পূর্ব-বাংলার প্রতি পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকদের অন্যায়, নিপীড়ন, বৈষম্য চলে আসছিল যুগযুগ ধরে।

পূর্ব বাংলার এক অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বাঙালি জাতির হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ সন্তান আমাদের সকল আশা আকাঙ্ক্ষার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছিলেন।
১৯৪৮-এ বাংলা ভাষার দাবীতে গর্জে উঠা বাঙালি ১৯৫২-এ মাতৃভাষা বাংলা প্রতিষ্ঠিত করেই ছেড়েছিল, ১৯৬৯ এর গণঅভ্যুত্থান এবং তার পথ ধরে ১৯৭১ এ বীর বাঙালির অস্ত্র ধরার ইতিহাস বাংলাদেশকে গোটা বিশ্বে মর্যাদাবান করেছে এক লড়াকু জাতি হিসেবে। বাঙালি কখনোই অন্যায়ের কাছে মাথা নোয়ায় নি!

বিজয় দিবসের দ্বারপ্রান্তে এসে গভীর শ্রদ্ধা ভরে স্মরণ করছি আত্ম উৎসর্গকারী সকল বীর শহীদদের। মহান মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী সকল মুক্তিযোদ্ধাকে।
স্মরণ করছি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে।

বিজয়ের ৪০ বছরে একটি ভূখণ্ড, একটি মানচিত্রের সাথে আমরা বাড়তি পাওনা হিসেবে যা পেয়েছি:-

*এই প্রথম বারের মত ১৯৭১ এর “যুদ্ধ অপরাধী” নয় “মানবতা বিরোধীদের” কাঠগড়ায় দেখতে পাচ্ছি।
হাতে গোনা কয়েকজন নয় ১৯৭৪ সালে (সিমলা চুক্তি) ক্ষমা করে দেয়া ১৯৫ জন “যুদ্ধাপরাধী”র বিচার চাই।

*জাতি দুর্নীতি এবং রাজনৈতিক সহিংসতা থেকে মুক্তি পায়নি। ঘুষ, চুরি, লুটপাট, দখল বাজি, টেন্ডার বাজি থামে নি।

*বিচার ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পায়নি। গুপ্ত হত্যা, বিচার বহির্ভূত হত্যা, আইন শৃঙ্খলা রক্ষীবাহিনীকে নিজেদের পেটোয়া বাহিনীতে পরিণত করা হয়েছে। দেশের প্রধান দুটি দল একই দোষে দুষ্ট। এরা একে অপরের উপর দোষ চাপিয় চলেছে। সমস্যা সমাধানে কেউ এগিয়ে আসেনি।

* বাক-স্বাধীনতা, মিডিয়ার উপর বারবার খড়গ নেমে এসেছে। গঠনমূলক সমালোচনা কিম্বা সরকার বিরোধী প্রচারণাকে কেউই গ্রহণ করতে পারেনি। সংবাদপত্র এবং সাংবাদিক বারবার নিগৃহীত হয়েছে। গণতন্ত্র এখনও প্রতিষ্ঠা পায়নি।

*জাতীয় সংসদ কখনোই স্বাভাবিক ভাবে চলে নি।

*বন্দুকের নল ঠেকিয়ে স্বৈর-শাসকরা বারবার জনমতকে পদদলিত করেছে।

*বিডিআর বিদ্রোহের মত ন্যক্কারজনক ঘটনায় মেধাবী সেনা অফিসারদের স্বাধীন দেে অত্যন্ত সুপরিকল্পিত ভাবে হত্যা করা হয়েছে।

*বাংলা ভাই, শায়খ আব্দুর রহমান, ২১ এ আগস্ট গ্রেনেড হামলা, রমনা বটমূলে হামলা ইত্যাদির মত ধর্মান্ধ এবং ধর্মীয় মৌলবাদীদের উত্থান ঘটেছে।

*শিক্ষা, জাতীয় উন্নয়ন, নারীর প্রতি বৈষম্য,খাদ্য ও কৃষি, কোথাও আমরা সামনে এগোতে পারিনি।

*বিজয়ের ৪০ বছর পরেও দেখি দেশের মানুষ জিম্মি হয়ে আছে বড় দুটি দল আর তাদের চারপাশে উচ্ছিষ্ট ভোগী কাক আর কোকিলের কাছে। সর্বত্র মিথ্যার আবরণ। জনগণ যাকেই ভোট দিয়েছে তারাই ক্ষমার মোহে সব ভুলে মিথ্যার বেসাতি খুলে বসেছে। কাঁদা ছোড়া-ছুড়িতে ব্যস্ত থাকছে। কেউই জনমতের তোয়াক্কা করছে না।

*
*
*

মহান বিজয় দিবসে আমার সকল বন্ধু, পাঠক এবং সুহৃদ ব্লগার বন্ধুদের শুভেচ্ছা জানাচ্ছি। আল্লাহ আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করন।