ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

 


মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ডক্টর দিপুমনি ২১-এ মার্চ সৌদি আরব সফরে আসছেন। সৌদি আরবে তার এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সফরকালে তিনি এদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রীর সাথে রিয়াদে এক বৈঠকে বসবেন।
এই বৈঠকটি মূলত ঢাকায় অবস্থানরত সৌদি দূতাবাস কর্মী খালাফ আলীর হত্যাকাণ্ড, পরবর্তী তদন্তের অগ্রগতি এবং দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান সম্পর্কের ক্রম-অবনতি তথা উষ্ণ সম্পর্কের মধ্যে যে ক্ষীণ ফাটল দেখা দিয়েছে তা উত্তরণে যথাযথ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করছি।

বলেছিলাম তার এই সফর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিজ দেশের মানুষের আচরণ এবং মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের চিত্র তুলে ধরলে পক্ষান্তরে দেশের বদনাম করা হয়। আমরা যখন নিজ ভূমি ছেড়ে পরবাসে বিভিন্ন প্রয়োজনে থাকতে বাধ্য হই তখন ভুলে যাই যে ” দেশটা আমাদের মত নয়”। তাদের সার্বভৌমত্ব, অখণ্ডতা, নিরাপত্তার জন্য প্রচলিত আইন রয়েছে। আইনের প্রতি শ্রদ্ধা নয়, বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অধিকাংশ বাঙালি। ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় সোনার হরিণের পেছনে ছুটতে ছুটতে একসময় হাজির হয় কঠিন ধর্মীয় অনুশাসনের দেশ সৌদি আরবে। এখানে এসে অনেকে আইনের প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধা প্রদর্শন করে অপরাধ মূলক কর্মকাণ্ড থেকে নিজেদের সরিয়ে রেখে দিনরাত পরিশ্রম করে পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে সচেষ্ট।

আরেকদল আছে যারা অল্প পরিশ্রমে কিংবা বিনা পরিশ্রমে অতি অল্প সময়ে কোটি টাকার মালিক হতে চায়। এই চিত্র গুলো আমাদের কমবেশি সকলেরই জানা আছে। আমরা যা করেছি, আমরা যা করছি তার প্রতিফলন ঘটেছে এই দেশে নিয়োগকর্তার মনোভাবে। সরকারী অফিস আদালত সর্ব ক্ষেত্রে।

আজকাল কোনও নিয়োগকর্তা সুযোগ পেলে আমাদের দিকে ব্যাঙ্গও করে বলে তোরা যত অনৈতিক কাজ আছে সব কিছুতে জড়িত।ভেবে পাইনা মুষ্টিমেয় কিছু অপরাধীর জন্য বদনামের দায়ভার সবাইকে কেন নিতে হবে!

বহুদিন থেকে বাংলাদেশীদের ভিসা প্রদান বন্ধ থাকার পর অল্প-বিস্তর কিছু শ্রমিক ইদানীং আসা শুরু করেছিল। এর জন্য আমাদের মাননীয় স্পিকার আব্দুল হামিদ এবং সরকারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে ধন্যবাদ দিতে হয়! সৌদি আরবের ক্রম: স্ফীত বেকারত্ব নিরসনের জন্য অনেক চাকুরীর পদ রিজার্ভ করা হয়েছে। nitaqat পদ্ধতির কারণে অনেক কোম্পানি তার শ্রমিকের আকামা বা রেসিডেনসিয়াল পারমিট নবায়নে ব্যর্থ হওয়ায় (কালো তালিকা ভুক্ত হওয়াতে) প্রায় প্রতিদিন অনেক প্রবাসীকে ফাইনাল exit এ দেশে ফিরতে হচ্ছে।

এমন এক সময় বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনও বিদেশী কূটনীতিক হত্যার মত ঘটনা ঘটেছে। এই হত্যাকাণ্ডের ফলে এদেশে অবস্থানরত ২৫ লাখ প্রবাসী বাংলাদেশীদের উপর সরকারী ভাবে কোন শর্ত আরোপ করা না হলেও তাদের আচরনে এক ধরনের অলিখিত ক্ষোভের প্রকাশ দেখা যায়।

গত বৃহস্পতিবার ভারতের দূতাবাস সৌদি প্রবাসী ভারতীয় নাগরিকদের সমস্যা সরাসরি শোনা এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উক্ত দেশের দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সাথে প্রবাসীদের উন্মুক্ত বৈঠকের আয়োজন করেছিল ।এখানে শ্রমিকদের সমস্যার তাৎক্ষনিক সমাধান দেওয়া হয়।

আমাদের দূতাবাসের কর্মকর্তাগণ এখন শ্রমিকদের সমস্যা সমাধানে আগের চেয়ে অনেকটাই আন্তরিক। যদিও দূতাবাসের ভেতরে ও বাইরে দালাল চক্রের ঔদ্ধত্য কমেনি বরং বেড়েছে।
যে কাজ আমি আপনি করতে পারব ৭ দিনে এসব দালালেরা করে দেবে ১ ঘণ্টা বা তার কম সময়ে, দুতাবাসের বাসের বাইরে এরা অত্যন্ত সংঘবদ্ধ, কোনও কাজে কেউ গেলে তারা চার পাশ থেকে ছেঁকে ধরে।

মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী আপনাকে বলছি, রিয়াদ পৌঁছে ৫ তারা খচিত হোটেলের পেছন দরজা দিয়ে নিজেকে বোরকায় আবৃত করে কোনও প্রটোকল ছাড়া একবার দূতাবাসে আগত শ্রমিকদের, দালালদের কর্তাদের দেখে আসুন। দেখে আসুন বিভিন্ন প্রয়োজনে আগতদের কোথায় লাইনে দাড়াতে হয়, কেমন গরাদবিহীন ছোট কক্ষের ভিতর তাদের ঘণ্টার পর ঘণ্টা দাড়িয়ে থাকতে হয়,আর দেখে আসুন,
হোমরা -চোমরা হলে কেমন ফুড়ুৎ করে কাজ হয়…

আমরা চাই দূতাবাসের Twisted রিপোর্ট নয় সচক্ষে দেখে যান আমরা কেমন আছি, কেমন থাকি। মার্চের শেষে এসে৩ গত তিনদিন সৌদি আরবের তাপমাত্রা নেমে এসেছিল গড়ে ১০ ডিগ্রী সেলসিয়াস! প্রচন্ড শীতের পর বরফ গলা নদী দেখতে কেমন লাগে! আমরা প্রবাসীরা বুক ভরে শ্বাস নিতে চাই ।ধন্যবাদ