ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সাম্প্রতিক পরিস্থিতি দেখে যে জিনিষটা প্রথমেই মনে আসে তা হলো কোন পথে যাচ্ছে দেশের চলমান রাজনীতি? দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন এখন বেশ সরগরম। আমরা ভাবি আর নাই ভাবি এ পরিস্থিতি দিন দিন আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে এবং যে প্রক্রিয়া চলমান তাতে যেতে বাধ্য।বিরোধী দল বলছে তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে,দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে যে কেউ যে কোন কাজ করতে পারে। আর সরকার দল বলছে কী করে আন্দোলনের নামে বিরোধীদলের বিশৃঙ্খলা মোকাবেলা করতে হয়, তা সরকারের জানা আছে। সরকারের সরলতাকে যেন দুর্বলতা ভাবা না হয়। তাহলে দেখা যাচ্ছে দুপক্ষই তাদের নিজ নিজ অবস্থানে অনড়। জনগন কী চাইছে সে দিকে দৃষ্টিপাত করার সময় কারো নেই।

আমাদের দলগুলোর এখন করণীয় হচ্ছে ক্ষমতায় না থাকলে ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য আন্দোলন করা আর ক্ষমতায় গেলে তা আঁকড়ে ধরে রাখার চেষ্টা করা।

দেশে রাজনীতি বলতে এখন দুই ধারা। নিবন্ধিত অনিবন্ধিত মিলে যত গুলো দলই থাকুক না কেন, মূলধারা কিন্তু দুটোই। ক্ষমতা ঘুরে ফিরে এই চক্রে আবদ্ধ থাকবে আরও অনেক দিন ৤ কাল মার্কস এর তত্বকে অসার প্রমাণ করে আমরা যে সরকার ব্যবস্থার মধ্যে আছি, সেটাকে যে যাই বলুক আমি উত্তরাধিকার তন্ত্র বলবো। কারণ বাংলাদেশের জন্মলগ্ন থেকে এখন পর্যন্ত সে রকমটাই চলে আসছে আর তার ধারাবাহিকতার ফসল হিসেবে আমি আমাদের ভবিষ্যত সরকার প্রধানের নাম এখনই বলে দিতে পারি আর সে হলো তারেক কিংবা জয় ।

ভবিষ্যত সরকার প্রধান কে হবেন? আমার এ নিবন্ধের মুল আলোচ্য বিষয় নয়। আমার এ নিবন্ধের মুল আলোচ্য বিষয় হচ্ছে দেশের বর্তমান চলমান সংকট শেষ পরিণতি আঁচ করা। এ বিষয়ে আমার একান্ত কিছু মতামত আপনাদের সঙ্গে ভাগাভাগি করা।

ডেভেলপার কোম্পানীগুলোর মতো আমাদের প্রধান দুটো দল এক চুলও ছাড় দিতে রাজী নয়। সরকার প্রধান হিসেবে দেয়া শেখ হাসিনার বক্তব্য বিশ্লেষণ করলে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি সম্পর্কে সরকারের মনোভাব স্পষ্ট হয়ে উঠে। আর বিরোধীদলেরতো বাড়ী বাঁচাও সন্তান বাঁচাও আন্দোলন করতে করতে যা একটু দম ছিলো ইলিয়াছ আলী আন্দোলনে তাও নি:শেষ হয়ে এসেছে। তাদের সাথে আছে জামায়াত ইসলামী। আমার মতে তারাই এখন পযর্ন্ত বিএনপিকে রাজপথে রেখেছে। তাদের সর্ম্পকে আমার যে ভয়টা কাজ করে সেটা হলো বিএনপির মুখোশ পরে তারা যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচাতে চোরাগোপ্তা হামলা শুরু করলে তার দায় কিন্তু কিছুতেই প্রধান বিরোধী দল এড়িয়ে যেতে পারবে না।

বিরোধী দল যেভাবেই আন্দোলন করুক না কেন আগামী দেড় বছর শক্তি ক্ষয় করা অহেতুক বলেই মনে হচ্ছে। সরকারের যে মনোভাব তাতে একদিন আগেও সরকার ক্ষমতা ছাড়বে না। আওয়ামীলীগ সরকারের মেয়াদ পুর্তির পর কি হতে পারে সেটাই ভাববার বিষয় কারণ, সরকার তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনবে না এটা নিশ্চিত। বিরোধীদল কি দলীয় সরকারের অধীনে নির্বাচন করবে? জবাব সবারই জানা।

তাহলে এ প্রক্রিয়া থেকে উত্তরণের উপায় কী? কোন পথে আসবে সমাধান?

কদিন আগে হিলারী ক্লিনটন বাংলাদেশ সফর করে গেলেন এবং স্পষ্টত বলে গেলেন সংকট সমাধানে সংলাপের কথা। একই কথা আওড়ে গেলেন ভারতের প্রণব মুখার্জীও।শেখ হাসিনা বলছেন, সংসদে আসুন কোন প্রস্তাব থাকলে তা পেশ করুন।

একটি কার্যকরী সংলাপের জন্য সরকারকে আরো আন্তরিক হতে হবে। সংলাপে বসার উদ্যোগ নিতে হবে সরকারের তরফে।

বিরোধীদলের প্রথম সারির নেতারা এখন কারাগারে।জামিনে মুক্তি পেলেন পাঁচজন সংসদ সদস্য। এটা কী সংলাপের পূর্ব প্রস্তুতি? এই প্রশ্ন এখন রাজনীতির মাঠে।ঘটনা যদি তাই ই হয়, তবে সংলাপের এই পদ্ধতিও প্রশ্নবিদ্ধ হবে।

এভাবে চলতে থাকলে সংকট আরও ঘনীভূত হবে।জনজীবনে নেমে আসবে অস্থিরতা। অর্থনীতি হবে স্থবির। সংঘাতময় পরিস্থিতিতে দেশে বসবাস করা হয়ে উঠবে কষ্টকর।

আমরা জানি দেশের এ অবস্থা কেউ কামনা করে না। সবাই চায় শান্তিতে বসবাস করতে।কিন্তু এভাবে চলতে থাকলে সেই কাঙ্ক্ষিত শান্তির দেখা মিলবে না। দেখা যাবে দেশের সুশীল সমাজও একটা পর্যায়ে আর ভূমিকা রাখতে পারছে না। বিদেশীদের মধ্যস্থতায় আমাদেরকে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। আমরা কি তা চাই?

যারা দেশ চালাবেন তারা নয়, আমাদের করণীয় ঠিক করে দেবেন দাতারা,তাই কি আমরা চাই? ভাবার কোন কারন নেই যে,তারা রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে মাথা ঘামাবে না। তারা তা ঘামানোর জন্য বসে আছে ।আর তাদের আগ্রহ বাংলাদেশের প্রতি আরও বেড়ে গেছে সম্প্রতি।

নতুন সমুদ্র সীমায় অনেক গ্যাস এবং পেট্রোবাংলা ইতিমধ্যে খুঁজে পেয়েছে সাড়ে চার হাজার কোটি টাকার তেলসম্পদ। সুতরাং তাদের স্বার্থের কারণেই তারা আসবে, আমরা না ডাকলেও আসবে আর সেখানে আমরা নিজেরাই আসার সে সম্ভবনার দ্বার খুলে দিচ্ছি, সেটা দারুন অসম্মান জনক দেশের জন্য।

তাই,বিরোধীদলকে বলছি আন্দোলন নিয়মমাফিক করুন ।অনেক ইস্যু আছে সরকারকে ঘায়েল করার মতো, সেগুলো নিয়ে আন্দোলন করুন। হরতাল জ্বালাও পোড়াও করে আওয়ামী লীগকে দুর্বল করতে গিয়ে নিজেরাই দিন দিন দুর্বল হয়ে পড়বেন। আর সরকারের প্রতি আহবান হলো আপনারাও বিরোধী দলে ছিলেন, তখন আপনারা কী করেছিলেন সেটা এত তাড়াতাড়ি ভুলে যাওয়ার কথা না ।আবার আপনারা একদিন বিরোধী দলে যাবেন এটা সহজভাবে মেনে নিতে শিখুন। তাহলে কোন সমস্যাই আর সমস্যা মনে হবে না ।কিন্তু বর্তমান অবস্থান নিয়ে যদি এগুতে থাকেন সেটা কারো জন্য মঙ্গলজনক হবে না, জনগণের জন্য তো বটেই ,আপনাদের গোয়ার্তুমি কিন্তু আপনাদেরই সর্বনাশ ডেকে আনবে। মাইনাস টু বা মাইনাস ওয়ান কিংবা ওয়ান ইলাভেন এর মতো নতুন কোন শব্দ প্রবেশ করবে আমাদের রাজনীতির ইতিহাসে, সুতরাং সময় থাকতে সাধু সাবধান ।