ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

আমি আগের ঠিকানায় আছি,কিংবা আগের ঠিকানায় এসো,এই সব মাঝে মধ্যে শুনি ঠিকানা আসলে সব সময় ক্ষনস্থায়ী আজ আমার যেখানে ঠিকানা কাল কি সেই ঠিকানায় আমি থাকবো নাকি সময়ের বদলের মতো মহাকালের ইশারায় বদলে যাবে আমার আগামীকালের ঠিকানা৤ জীবনের ভেলায় ভাসতে ভাসতে কত ঠিকানা যে বদল হলো তার হিসাব কি আমারা কেউ কোন দিন রাখি জন্মের পর মায়ের কোলই প্রথম ঠিকানা আর শেষ ঠিকানা মৃত্যুর মাধ্যমে অর্জন করে নিতে হয়৤৤সেই ঠিকানাটাই আসলে নিশ্চিত নিয়তি মায়ের কোল ছেড়ে যখন মর্তে নেমে আসি তখন বাড়ীর উঠোন আর ঘরের দরজা জানালা দিয়ে যেটুকু আকাশ দেখা যেতো সেটুকুই ছিল আমার ঠিকানা ,তারপর স্কুলের প্রাইমারীতে পড়ার সময় আমার স্কুল বদল হলো কিন্তু ঠিকানা তখনো বদল হয়নি একবারের জন্য ও ,সেখান হাই স্কুলে পড়ার সময় পরীক্ষার আগে দিন মাসের জন্য অস্থায়ী নিবাস হলো স্কুল হোষ্টেল সেটাই আমার জীবনে প্রথম ঠিকানা বদলের ঘটনা ,আমাদের স্কুলটার নাম সিলোনীয়া হাই স্কুল যেটা ফেনী জেলার দাগনভৃইয়া থানায় অবস্থিত ,আমার প্রথম ঠিকানা বদলের ঘটনাটা বলি লেখাপড়ায় খুব একটা খারাপ ছিলামনা আমাদের স্কুল আমাদের থানায় সবসময় পাশের হার কিংবা সাফল্যের বিবেচনায় প্রথম কিংবা ২য় পজিশনে থাকতো যার শতভাগ কৃতিত্ব আমার সেই সব প্রিয় শিক্ষকদের যারা আমাদের নিজের সন্তানের মতো পড়াতেন ,গনিতে আমি বরাবরইখারাপ ছিলাম এবং এখনো অছি বলেই জীবনের অনেক জটিল হিসাব এখনো মিলাতে পারিনি ,তবে আমর এস এস সি গনিতে পাশ করতে পেরেছিলাম একমাএ নিজাম স্যার এর কল্যানে যিনি আমার পেটের চামড়া টেনে আমাকে গনিত শিখিয়েছিলেন ,এছাড়া আলী আশ্রাফ স্যার যে সব মজা করতেন তা চিরদিন মনে থাকবে তিনি ইংরেজী পড়াতেন এবং বলতেন পিলার বানান করতে দইটা এল দিলে নাকি পিলার শক্ত হবে কিংবা কোন বাক্য লিখার সময় সেখঅনে যদি ওয়াজ লিখা থাকতো সেখানে বলতেন মাহফিলের কথা ,তিনি একদিন আমাদের পাঁচজনকে ক্লাসে দাড় করালেন লম্বা চুলের জন্য এবং সাথে সাথে নাপিতের দোকানে পাঠালেন চুল কাটিয়ে আসার জন্য ,আমরা সানন্দে রাজী হয়ে তখনই ছুটলাম নাপিতের দোকানে গিয়ে চুল কাটিয়ে পাশের হোটেলে খেয়ে স্যারের নামে বাকী খাতায় লিখিয়ে এসেছিলাম , জানিনা স্যার তার জীবনে এ রকম ছাএ আর পেয়েছিলেন কিনা ৤তবে ক্লাসে আমার অবস্থান সবসময় আমার স্কুলের সাফল্যের মতো না থাকলেও কাছাকাছিই থাকতো ,পরীক্ষার আগে আমাদের সেই প্রিয় শিক্ষকেরা দু তিনটা দলে ভাগ হয়ে রাতের বেলা ছাএদের বাড়ীতে যেতেন তারা ঠিকমতো লেখাপড়া করছে কিনা তা দেখার জন্য প্রথমবার যখন আমাদের বাসায় রাতে স্যারেরা আসলো তখন রাত দশটার মতো হবে আর আমি তখন মধ্যরাতের ঘুমে ,আমাকে ঘুম থেকে জাগানো হলো ,আমার আম্মা তখন স্যারদের আপ্যায়ন করাতে ব্যস্ত আর আমাকে তেমন কিছুই বললেননা, তারা কিন্তু সে রাতে তারা সিদ্ধান্ত নিলেন আমার প্রথম ঠিকানা বদলের ,স্কুলের হোষ্টেলে আমাকে পাঠিয়ে দেয়া হলো ,জীবনে প্রথম বারের মতো আমার ঠিকানা বদল হলো ,ঠিকানা বদল হলেও অন্নের সংস্থার কিন্তু বাসা থেকেই হতো —(চলবে)