ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

এক সময় জংগী শব্দটা শুনলে আমাদের চোখে যে অভয়ব ভেসে উঠতো সেটা নিম্ন বিত্ত বা নিম্ন মধ্য বিত্তের এতিম খানায় বেড়ে উঠা কিংবা মাদ্রাসা থেকে পাশ করা গায়ে পানজাবী মুখে দাডিওয়ালা একটা যুবক বয়সী ছেলের ছেহারা ভেসে উঠতো, সব দোষ যেন ওই আলীয়া কিংবা কওমী মাদ্রাসা গুলির, আর তাদের গুরু শায়ক আবদুর রহমান কিংবা বাংলা ভাইয়ের মতো কোন নৃসংশতায় ভরা মুখচ্ছবি।

গুলশান হত্যাকান্ড আর কল্যানপুর এর ঘটনা আমাদের ভাবনার জগতকে পাল্টে দিয়েছে, প্রশ্ন ছুডে দিয়েছে আমাদের সমাজ ব্যবস্হায়, যে সমাজ ব্যাবস্থাকে আধুনিক ও মননশীল ভেবে আমরা ছেলে মেয়েদের কাধে কিন্ডার গার্ডেনে ভর্তির সময় তাদের শরীরের থেকে ভারী ব্যাগ ঝুলিয়ে দিচ্ছি, স্কুল, টিউশন, গান নাচ সব দিকে আমাদের ছেলেমেয়েদের ইচ্ছে হোক না হোক আমরা ঠেলে দিয়ে তার উপর চাপ সৃষ্টি করছি, সব বিষয়ে আমার ছেলেই যেন প্রথম হয়।আর আমাদের সে চাপ সইতে না পেরে তারা ক্রমশ দুরে সরে যাচ্ছে আমাদের কাছ থেকে।স্বাভাবিক জীবন যাত্রা নিয়ে বেড উঠার বদলে, মেধা মননশীল বই পত্র পড়ার কোন সুযোগ না নিয়ে, না পেয়ে তারা কেবল সৃজনশীল নামের বিধ্ধংসী এক শিক্ষা ব্যাবস্থার যাতা কলে পৃষ্ঠ হয়ে জিপিএ ফাইভ অর্জনই তাদের জীবনের একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাড়ায়।

photo-1

চরম হতাশায় ভোগার কোন এক কান্তিকালে যাদের বাবা মাার ব্যাস্ততা অফুরান কর্মজীবি কিংবা ব্যাবসায়ী দম্পতি দুজন মিলে সন্তানের সেই পড়ালেখার যে অতিরিক্ত খরচোর চাপ সেটা সামলাতে গিয়ে নিজেদের পারিবারিক পরিবেশটাই হারিয়ে ফেলেছেন, প্রতিদিন তো দুরে থাক কারো কারো সন্তানের সাথে সপ্তাহান্তে ও একদিন এক টেবিলে বসে খাবার সুযোগ মেলে না,আর উচ্চ বিত্ত শ্রেনীর পার্টি ক্লাব আর বিদেশ গমনের ফাকে কখন যে তারা নিজ সন্তানের চোখে বাবা কিংবা মা হিসাবে যে সম্মান টুকু পাওয়ার কথা সেটি ও হারিয়ে ফেলেন।ছেলে মেয়েরা নিজেদের সার্কেল নিয়ে ব্যাস্ত কেউ কেউ মনে মনে তাlর চেযে  গরীব বন্ধুটিকে হিংসে করতে শুরু করেন তাদের একান্নবর্তী পরিবারের হাসি আনন্দ আর দুঃখ বোধ গুলো দেখে। তাদের মনে হতে শুরু করে কি হবে এত টাকা পয়সা গাড়ী বাড়ী দিয়ে যেখানে বাবা মায়ের ভালোবাসাই মিলছেনা। বাবা রিকশা চালিয়ে যা আয় করে দিনশেষে মায়ের হাতের রান্না এটাই তো আনন্দের, মনে করে তখন।এ জাতীয় ভাবনা থেকে কেউ কেউ হচ্ছে হতাশায় মাদকাসক্ত কেউ জেদের বশে প্রতিশোধ পরায়ন হয়ে হয়ে উঠেছে আজকের নিব্রাস কিংবা অর্ক। তাদের এই হতাশাবোধ এর সুযোগ নিয়ে তাদের নিয়ে ব্রেইন গেইম খেলতে লেগে পডে কিছু বেজন্মার দল।

হুমায়ন আহমেদ লিখেছিলেন যে ছেলে ইন্টার মিডিয়েট পাশ করা পর্ষন্ত প্রতিদিন রাতের খাবার বাবা মার সাথে খায় তার নষ্ট হবার সুযোগ নেই,আসলেই এ জন্য তাকে নিদিষ্ট সময়ে খাবার টেবিলে থাকতে হবে আার বাবা মার মুখোমুখি হতে হলে তাকে সুস্থ এবং স্বাভাবিক থাকতে হবে।

তাই আমাদের দৃষ্টি ভংগীটাকে বদলাতে হবে, আমার সন্তান ডাক্তার প্রকৌশলী হোক এটা ভাবার অাগে ভাবতে হবে আমার সন্তান মানুষ হোক, সন্তানের পিঠে পরম মমতায় হাত বুলিয়ে বুঝতে চেষ্ঠা করুন সে কি চায়, কিসে তার ভালো লাগে, কেবল অর্থ বিত্ত ই যে তাদের সুখী করবে তা না, আপনার ভালোবাসার প্রয়োজন তার জীবনে প্রয়োজন সবার আগে,  ভালোবাসা এমন এক অব্যার্থ মহৌষোধ যা যে কোন কিছু বদলাত ব্যাপক ভুমিকা রাখতে পারে,সময় দিন ভালোবাসার কথা প্রকাশ করুন, আশস্ত করুন সন্তানদের তারা পারবে, সাহস জোগাতে বাবা মায়ের একটু আাশার বানীই যঘেষ্ট, আপনার সন্তান যাতে বিপঘে যেতে না পারে জংগী হয়ে সর্বনাশ ডেকে আনতে না পারে গোটা সমাজের সে  দিকে খেয়াল রাখুন।

তাই জংগীবাদ বিরোধী আন্দোলনের সুচনা হোক পরিবার থেকে,পরিবারের অটুট বন্ধন আর পারস্পরিক চাওয়া পাওয়া থেকে কেবল মাত্র  ভালোবাসা থেকে।