ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমরা যখন স্কুলে পড়তাম, তখনও রাজনীতির অনুপ্রবেশ ঘটেনি স্কুল গুলোতে। ক্লাসের এক থেকে দশ রোল নাম্বার যাদের ছিলো ওদের কেউ ডাক্তার, কেউ ব্যাংকার, কেউ সরকারী চাকুরে বড় ছোট মিলিয়ে কেউ আবার ব্যাবসায়ী দেশে কিংবা বিদেশে, কেউ প্রাইভেট জব করছে। আর কলেজে উঠার পর কলেজ হোস্টেল আর কলেজ মিলনায়তন এর সূত্র ধরে রাজনীতিতে ঢুকে পড়লো ক্যম্পাসে। আর দুই বছরের কলেজ পড়া শেষে যারা ঢাকা চট্টগ্রাম সহ দেশের নামী দামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে পড়ার সুযোগ পেল, তাদের পেশাগত জীবন ও স্কুলের ওই সহপাঠীদের মতোই নির্দিষ্ট গন্ডী আর সীমাবদ্ধতায় ঘেরা আটপৌরে জীবনের সীমারেখায় গিয়ে বৃত্তবন্দী।

উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলোতে গিয়েও যারা রাজনীতি থেকে দূরে ছিলো ওদের বেশীর ভাগেরই তেমন উল্লেখযোগ্য সাফল্য নেই বল্লেই চলে। কোন রকম মাছি মারা কেরানী, আর যাদের পারিবারিক সূত্রে যতটা সুযোগ ছিলো সেটা কাজে লাগিয়ে প্রতিষ্ঠা, আর বাকীরা কলুর বলদ।

যারা রাজনীতির সাথে সরাসরি জড়িত ছিলো তাদের সুযোগ ছিলো প্রভাব খাটানোর, দলীয় কানেকশানের সূত্র ধরে চাকুরী, বাণিজ্য কিংবা অন্য কিছু করে আর্থিক সাফল্যের বিচারে তারা অনেক ক্ষমতাবান। কলেজ থেকে যারা বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে পড়ার সুযোগ না পেয়ে স্থানীয় রাজনীতির সাথে যুক্ত হয়েছিলো, তারাই আজ স্থানীয় জনপ্রতিনিধিত্ব কিংবা লোভনীয় পদ পদবীর মাধ্যমে নিজেদের শক্ত পোক্ত অবস্থানে দাঁড়িয়ে হাসে সাফল্যের হাসি, বিলায় উপদেশ, করে তদ্বির। বিশ্ববিদ্যালয়ের নেতাদের প্রভাব দেশজুড়ে আর কলেজ পড়ুয়াদের মফস্বল শহর গুলোতে।

এটা এখন সারা দেশের চিত্র। সরকার ও বিরোধী দল যেকোন একটা দলের ছায়ায় না থাকলে এখন না হতে পারা যায় বিশ্ববিদ্যালয় এর টিচার, না বড় কোনো পদ। সব নির্ভর করে দলীয় কানেকশানের ওপর।

স্কুল গুলোতে এখন যখন রাজনৈতিক দলগুলোর কমিটি হয় তাতে বিস্ময় প্রকাশ করা ছাড়া কিইবা করার আছে। যেখানে ঢাকসু কিংবা চাকসু নির্বাচন হয় না যুগের পর যুগ!

ছাত্র রাজনীতি ছাত্রদের অধিকার নিয়ে কথা বলার জন্য সেটা এখনকার ছাত্র নেতারা হয়তো জানেনই না। দলীয় কর্মসূচী তে অংশগ্রহণ আর পরবর্তী জীবনে নিজের আর্থিক সাফল্যের মূল সূত্র হিসাবে ছাত্ররা নিজেদের সম্পৃক্ত করে রাজনীতিতে। আর এটা দলীয় বিবেচনায় এতটা প্রভাবিত যে ছাত্রাবস্থায় আমাদের ছাত্রলীগ কিংবা ছাত্রদল করতেই হয়। নেতাদের গাড়ী বাড়ী আপনাতেই হয়ে যায়, নামের সমানে আলহাজ্ব ও মাশাল্লাহ বসিয়ে ফেলতে দেরী হয়না।

আর মেধার চর্চা না করতে করতে মেধাহীন জাতিটা একসময় তো আর ভার বইতে পারবেনা। তাসের ঘরের মতো তাইতো ভেঙ্গে যাচ্ছে আমাদের পারিবারিক সনতনী সমাজব্যবস্থা, নীতি আর আদর্শিক তরুণ্য নির্ভর যুব শক্তির অভাবেই আজ সমাজিক দৈন্য। বিচারিক দুর্বলতা আর আকাশ সংস্কৃতির বেহাল অবস্থা আমাদের নিয়ে যাচ্ছে নতুন এক সমাজ ও রাষ্ট্রে। ব্যবস্থার দিকে যেটার নাম সমাজতন্ত্র কিংবা গণতন্ত্র নয়, যেটা নতুন কোন রাষ্ট্র ব্যবস্থা, নতুুন এক সমাজ আর পরিবারতন্ত্র।