ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

 

হাসপাতালের বেডে সংজ্ঞাহীন খাদিজা। শারীরিক অবস্থার কোন উন্নতি এখনো জানা নেই ডাক্তারদের। নীবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে চলছে অপেক্ষা জীবন ফিরে পাবার, সংগ্রাম চলছে মৃত্যুর সঙ্গে। স্বজনদের চোখে মুখে শঙ্কা, বিবেকবান মানুষের হৃদয় কাঁপছে। সচেতন জনগণ হাহুতাশ করছেন। দেশের গড়বে যে ভবিষ্যত প্রজন্ম, তাদের সহনশীলতার এতো অভাব! যে কোন মূল্যে মনের আকাঙ্খা পূরণ করতেই হবে?

খাদিজার এমন করুণ অবস্থার জন্য দায়ী বদরুল, ছাত্রলীগ নেতা। দেশের ঐতিহ্যবাহী একটি ছাত্র সংগঠনের উচ্চ পর্যায়ের একজন প্রতিনিধি। যে সংগঠন ভূমিকা রেখেছে দেশ ও জাতীর যে কোন অতীত সংকটে, সম্ভাবনায়। দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে অন্যতম শীর্ষে অবস্থান করছে সিলেটের শাহ জালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। প্রগতিশীলতার চর্চ্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশে যে বিশ্ববিদ্যালয় রেখে চলেছে অনন্য অবদান। এমন একটি সংগঠনের নেতা, এমন একটি বিশ্ববিদ্যালয় পড়ুয়া একজন শিক্ষার্থী, তাকে কি এমন জঘণ্য কাজ মানায়?

কাজগুলো বদরুল একা করছে না। এমন ঘটনা নতুন নয়।সাম্প্রতিক সময় মিডিয়ায় জায়গা পেয়েছে এমন বেশ কিছু ঘটনা। প্রেমের প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় কয়েকদিন আগেই ছুরিকাঘাত করা হয়েছে উইলস লিটল ফ্লাওয়ার স্কুলের এক শিক্ষার্থীকে। তারও আগে হত্যা করা হলো তনুকে। আমাদের বোনরা কি তবে আর সামনে এগোবে না? পড়ালেখা করে মানুষের মতো মানুষ হওয়ার সুযোগ পাবে না? এ কেমন প্রেম যে কেড়ে নিচ্ছে এক একটি তাজা তরুণ প্রাণ? এসব কেমন ভালবাসা যা ভেতরে ক্রোধ, ক্ষোভ আর হিংসার প্রসার ঘটাচ্ছে, যার মূল্য দিতে হচ্ছে প্রাণের বিনিময়ে? না পাওয়ার বেদনায় ভালবাসার মানুষটিকে যদি মেরেই ফেললাম, তবে আর ভালবাসবো কাকে?

ক্রমাগত নষ্টের দিকে ধাবমান এসব তরুণদের কে বোঝাবে, মানুষের মধ্যে সহনশীলতার গুণটি থাকতে হবে। মানুষ যা চায়, তাই পাওয়া যায়না। আমরা যেভাবে যা চাই, সব সেভাবে পাওয়া যায় না। কে শেখাবে যে মানুষকে অনেক কিছু বিসর্জন দিতে হয়, সব পাওয়ার মধ্যেই স্বার্থকতা নয়। কে বলবে যে, আকাঙ্খিত বস্তু না পেলেই কারো ওপর চড়াও হওয়া উচিত নয়, অপরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হয়। কোন কিছু না পেলেই তাকে ধ্বংস করতে নেই। তাতে ফল ভাল হয় না।

সাজিদ রাজু
সংবাদকর্মী