ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

অসাধারণ একটি সত্য উচ্চারণ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্য একটি বিষয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে হলেও তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতির দৈন্যদশার একটি প্রকৃত চিত্র উন্মোচন করেছেন।

বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন সংস্কার নিয়ে একটি প্রস্তাব উত্থাপন করেছেন। প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে হবেন, নির্বাচন কমিশনারগণ কারা হবেন, সেই বাছাই প্রক্রিয়া কেমন হবে, কিভাবে হবে তার একটি রূপরেখা দিয়েছেন। একই ভাবে নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে তারও একটি প্রস্তাবনা দিয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেছেন যে, সামনের দিনগুলোতে জাতীয় শৃঙ্খলা, নিরাপত্তা, শান্তিপূর্ণ নির্বাচন, ক্ষমতার পালা বদলের একটি পরীক্ষা জাতির সামনে ও অংশগ্রহণে হয়ে যাবে।

বেগম জিয়ার এই প্রস্তাবনার প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের খালেদা জিয়ার প্রস্তাবনাকে অগ্রহণযোগ্য হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিষয়টি প্রতিক্রিয়া নিয়ে নয়, বরং প্রতিক্রিয়াটি কখন এসেছে তাই নিয়ে। ওবায়দুল কাদেরের প্রতিক্রিয়াটি এসেছে খালেদা জিয়ার উত্থাপন করা প্রস্তাবনার পরপরই। তার মানে এই প্রস্তাবনা ভেবে দেখার বা চিন্তা করার মতো এবং দলের অন্য সবার সাথে পরামর্শ করে প্রতিক্রিয়া দেয়ার মতো স্বাভাবিক সময় শাসক দল নেয়নি। মির্জা ফখরুল রোববার সেই কথাটিই বলেছেন একটি উদাহরণ টেনে। তা হলো বাজেট পেশের পর বিরোধী দলগুলো যেমন সরকারি দলের বাজেটকে যেভাবে সমালোচনা করে সেই উদাহরণটি টেনে।

আমাদের তরুণদের চিন্তার জায়গাটা সেটাই। মির্জা ফখরুল বিএনপির একজন স্বচ্ছ ব্যক্তিত্বের পরিচ্ছন্ন রূচির নেতা। রাজনৈতিক শিষ্টাচার কি জিনিস, রাজনীতিকের মুখের ভাষা কেমন শালীন হওয়া দরকার তার এক প্রকৃষ্ট উদাহরণ। সেই তিনিই স্বীকার করে নিলেন, বাজেট বক্তৃতার পর বিরোধী পক্ষ সেই বাজেট পড়ে দেখার মতো সময়ও নেয় না। বিশ্লেষণতো পরের কথা। সংসদের বাজেট অধিবেশন শেষ হওয়া বাকি, মিছিল নিয়ে রাস্তায় নেমে পড়ে বাজেটকে গণবিরোধী আখ্যা দিয়ে। সেই মিছিলের ব্যানার লেখা হয় আগের দিনই। লোখ জোগাড় করা হয় আগের দিন। মিছিল শুরু হওয়ার স্থান ঠিক করা থাকে আগেই। তার মানে, সরকারের সমালোচনা করাই যেন বিরোধী দলগুলোর কাজ। ভালোর দিকে তাকানোর সুযোগ নাই এবং সরকারের যে কোন কাজ মানেই খারাপ এই ধারণা তাদের মধ্যে কাজ করে সব সময়। তাইতো দেখি এক সরকার কোন প্রকল্প হাতে নিলে, সেটা যতই বাস্তবসম্মত ও জনবান্ধব হোক, পরের সরকারের প্রধান কাজ হয় সেই প্রকল্প বন্ধ করার।

মির্জা ফখরুল সাহেব যথেষ্টই সত্য কথা বলেছেন। আওয়ামী লীগ হয়তো বাজেটের মতো করেই প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। কিন্তু এই সত্য উচ্চারণ করতে যেয়ে আপনি যে সত্য উন্মোচন করলেন, বাংলাদেশের এই রাজনৈক সংস্কৃতি বন্ধ করবেন কবে? এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলগুলোর ওপরই দায়ভার বেশি বর্তায় না কি? সচেতন নাগরিক হিসেবে আমাদের প্রত্যাশা, সরকারের ভাল-খারাপ নির্বিশেষে নয় বরং গঠনমূলক সমালোচনা করে সুষ্ঠু রাজনৈতিক আচরণের ধারা তৈরির উদ্যোগ নিন এখনই। মানুষ মনে রাখবে।

সাজিদ রাজু
সংবাদকর্মী।