ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

ময়মনসিংহে একজন শিক্ষককে মেরে ফেলা হলো। একজন নিরীহ পথচারীকে মেরে ফেলা হলো। পিটিয়ে আহত করা হলো অন্য শিক্ষকদের। নারীরাও বাদ গেলেন না। এলাকাবাসীর অভিযোগ পুলিশের কিছু সদস্য অতি উৎসাহী হয়ে বেধড়ক লাঠিপেটা করেছেন আন্দোলনরত শিক্ষকদের। কি তাদের দোষ? কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে আন্দোলন? গণতান্ত্রিক দেশে একটা ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন কি অন্যায়?

শুধু শিক্ষকরাই নন, আহত হয়েছেন আরো অনেকে। অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা আহত হয়েছে। ন্যায্য দাবি আদায়ে যে কোন শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের অধিকার সবার যেমন আছে, ময়মনসিংহের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদেরও সেই অধিকার আছে। এমন আন্দোলন পুলিশ জোর করে বন্ধ করতে পারে না। জোর খাটানো উচিত নয়। সেই সঙ্গে বলতে চাই, যে পুলিশ সদস্যরা শিক্ষকদের গায়ে হাত তুলেছেন, তাদের এমন অন্যায় কাজের সুষ্ঠু বিচার করতে হবে।

আন্দোলন দমনের জন্য গায়ে হাত তুলতে হবে, লাঠি পেটা করে আহত করেও তাদের থামানো যাবে না, শেষে একেবারে মেরেই ফেলতে হবে? এমন শৃঙ্খলা ভঙ্গের মতো, সরকারের পতন ঘটিয়ে দেয়ার মতো অবস্থায় কি ছিল তাদের আন্দোলন?

আর একটি বিষয় সরবে উচ্চারিত হচ্ছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। কিছুদিন আগেই নারায়ণগঞ্জে শিক্ষক শ্যামল কান্তিকে কান ধরে উঠবস করানো হয়। ফেসবুকে অনেকেই পোস্ট দিচ্ছেন, নারায়ণগঞ্জের সেই শিক্ষকের জন্য তথাকথিত প্রগতিশীলরা কান ধরে ফেসবুকে ছবি পোস্ট করলেন। বিচারের জোর দাবি জানানো হলো। বিচার কতদূর গড়িয়েছে জানানেই। ময়মনসিংহে নিহত শিক্ষকের নাম আবুল কালাম আজাদ হওয়ায় সেই প্রতিবাদ শোনা যাচ্ছে না। এমন অভিযোগ যেন সত্যি না হয়। আমরা চাই, যেখানেই শিক্ষাগুরুর মর্যাদা ভুলণ্ঠিত হবে, সেখানেই প্রতিবাদের ঝড় উঠবে। আর সরকারের উচিত হবে এমন ঘটনা যেন আর তৃতীয়টি না ঘটে সে ব্যাপারে খেয়াল রাখা।

সাজিদ রাজু
সংবাদকর্মী