ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

বিকেল পাঁচটা। ফার্মগেটের আনন্দ সিনেমা হলের সামনের রাস্তায় বাড়ছে লোকের ভিড়। অলি-গলি থেকে পিপড়ার মতো মানুষের সারি বের হয়ে যোগ দিচ্ছে রাজপথের মিছিলে। ত্রিশ মিনিটের মধ্যেই ফুটপাত ছাপিয়ে মানুষের স্রোত গিয়ে পড়লো প্রধান সড়কে। সারি সারি বাস আসছে। কিন্তু কোনটাতেই ওঠার জো নেই। লোকাল বাসগুলো কানায় কানায় ভর্তি, যদিও সংখ্যায় অনেক কম। দেখা মেলে অনেক সময় পর পর। সিটিং সার্ভিস নামধারী বাসগুলোর দরজা বন্ধ।সারা দিনের অফিস শেষে ঘরে ফিরতে চাওয়া মানুষদের অপেক্ষা যেন আর শেষ হয় না।

একই চিত্র কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার পাশেও। গুলিস্তান, মতিঝিল, সায়েদাবাদ, সদরঘাট কিংবা যাত্রাবাড়ি থেকে ছেড়ে আসা বাসগুলো থেকে যে কয়েকজন যাত্রী কারওয়ান বাজার বা ফার্মগেট থেকে নামেন, তার বিপরীতে উঠতে চাওয়া যাত্রীর সংখ্যা ঢের বেশি। তাই ঠেলাঠেলির অন্ত নেই।

এমন সময় রাস্তায় দেখা মিলবে বিআরটিসি ডাবল ডেকার কিংবা সিঙ্গেল ডেকার বাসগুলো। অপেক্ষারত যাত্রীর চোখ হয়তো আশায় চকচক করে উঠবে। কেউ কেউ হয়তো ওঠার প্রস্তুতিও নিয়ে নেবে। কিন্তু বিধি বাম। কাছ আসতেই দেখা মিলবে ‘স্টাফবাস’ লেখা স্টিকার। অনেকে ক্লান্ত-শ্রান্ত শরীরে কাঁধে ব্যাগ ঝুলিয়ে নিরুপায় হয়ে হাটতে থাকেন। গন্তব্য যাই হোক, অপেক্ষার বিরামহীন ধৈর্য্যের অবসান যেন তবুও একটু স্বস্তি দেয়!

হয়তো ভাবছেন, স্বস্তিতে হাঁটা খারাপ কিসের? এখানেও পথিক কতটা ঝামেলাহীন? ঢাকার কোন রাস্তায় দেখা মিলবে না চওড়া ফুটপাত। যেখানে একটু নির্ঝঞ্ঝাট হেঁটে বেড়ানো যায়। কোন খানে সরু আলের মতো একটু ফুটপাত, দু’জনে কোন রকমে পাশ কাটানো যায়। আবার যেখানে সামান্য একটু চওড়া সেখানে নানা পণ্যের পসরা সাজিয়ে বসবে হকার। গুলিস্তান, ফার্মগেট কিংবা নিউমার্কেটে গড়ে ওঠা বিপুল সংখ্যক হকার আর তাদের পেতে রাখা দোকানের ফাঁক গলে কতটুকু শান্তিতে হাটতে পারা যায় সে প্রশ্ন রয়েই যায়। রাজধানীর অন্য রাস্তাগুলোর চিত্র সবারই জানা।

তবে হ্যাঁ, হাঁটতে হাঁটতেই হয়তো সেই বাস দেখে পথেক মুচকি হেসে উঠবেন আপন মনে, যে বাসে ভিড় ঠেলে নিজেই উঠতেই পারেনি। রাস্তা ভর্তি গাড়ি। ডানে, বায়ে, সামনে, পেছনে সব দিকে উচ্চ শব্দের হর্ন। আবার একটু ফাঁকা পেলে অধৈর্য হয়ে ওঠা চালকদের বেপরোয়া গতি। দুই বাসের টক্কর কিংবা ফুটপাতে আপনার গায়ে উঠিয়ে দিতে থাকা ধাক্কা থেকে হয়তো নিজেকে সামলে নেয়া। সেটাকেই সৌভাগ্য মনে হয় মাঝে মাঝে। এমন শহুরে নাগরিক জীবন যেন দুর্ভোগের আরেক নাম। এসব থেকে মুক্তি মিলবে কবে?

সাজিদ রাজু
সংবাদকর্মী