ক্যাটেগরিঃ প্রশাসনিক

একটু বৃষ্টি হলেই রাজধানী ঢাকা পানিতে তলিয়ে যায়। গেল কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে এক অসহ্য পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। বাসা থেকে বের হওয়ার সময় ঠিক থাকে কিন্তু গন্তব্যে পৌঁছনোর সময় ঠিক থাকে না। এমনিতেই যানজটে নাকাল জীবন, তার উপর এই বর্ষা যেন মরার উপর খাড়ার ঘা হয়ে দেখা দিয়েছে।

অথব একটু নজর দিলেই এই ঢাকায় এমন জলজট আর থাকতো না। আমরা কোন বিশেষজ্ঞ নই, কিন্তু বিশেষজ্ঞরাই বলছেন, ঢাকার এই বেহাল অবস্থা শুধুই পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকা। থাকবেই বা কিভাবে? সরকার দলীয় ক্যাডার আর প্রভাবশালীদের দ্বারাই বিভিন্ন সময় দখল হয়েছে পানি চলাচল ও নির্গমনের খাল।

একটি বা দুটি নয়, রাজধানী জুড়ে ছিল ৪৬টি খাল। এর মধ্যে বর্তমানে অস্তিত্ব রয়েছে ২৬টি খালের। বাকি ২০টি খাল এরই মধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। তবে নগর পরিকল্পনাবিদরা মনে করেন খালের প্রকৃত সংখ্যা ছিল ৫২টি। এখন যে ২৬টি খালও আছে তাও রয়েছে অস্তিত্ব সংকটে। যার ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই নগরজুড়ে দেখা দেয় জলাবদ্ধতা।

সম্প্রতি রাজধানীর খালগুলো নিয়ে সম্প্রতি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীতে খালের সংখ্যা ৪৩টি। এসব খালের মধ্যে ঢাকা ওয়াসার রক্ষণাবেক্ষণ করে ২৬টি। ৯টি খাল রাস্তা, বক্সকালভার্ট ও ব্রিক স্যুয়ারেজ লাইনে পরিবর্তন করা হয়েছে। বাকি ৮টি খাল রয়েছে জেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে।

এতো গেল খালের সংখ্যা নিয়ে কথাবার্তা। তবে অস্তিত্বে থাকলেও এসব খালের বাস্তব অবস্থা মোটেও সুখকর নয়। খালের উপর বাড়ি বানিয়ে সেসব বাড়ি ভাড়া দিয়ে কোটি কোটি টাকার বাণিজ্য করছেন প্রভাবশালীরা। আমাদের প্রশ্ন, তথাকথিত সেই প্রভাবশালীদের কত প্রভাব যে তারা সরকারকেও নিয়ন্ত্রণ করে! তারা কতটা শক্তিশালী যে সিটি মেয়রদেরও চোখ রাঙায়!

সাদা চোখে দেখেই বোঝা যায়, পানি যাওয়ার জায়গা নাই, তাই জলাবদ্ধতা। এসব খাল দখল করে দুই পাশে ওয়াকওয়ে করে মানুষের হাটার ব্যবস্থা করে দিন। ড্রেজিং করে, ময়লা-কচুরি পানা পরিস্কার করে পানির প্রবাহ তৈরি করুন। দুই পাড়ে গাছ লাগিয়ে ছায়ার ব্যবস্থা করুন, আপনাদের শ্লোগানের ক্লিন ঢাকা-গ্রিন ঢাকা এমনিতেই হবে। মিডিয়া ডেকে সংবাদ সম্মেলন করে গ্রিন ঢাকার আওয়াজ নাগরিকদের শোনাতে হবে না। আর সেই সঙ্গে ঢাকা ফিরে পারে সবুজের আবাস, হয়ে উঠবে পর্যটন শহরে।