ক্যাটেগরিঃ জনজীবন

 

জামালপুর জেলার সরিষাবাড়ি উপজেলা। ঢাকা থেকে যমুনা সারকারখানা হয়ে সরিষাবাড়ি উপজেলার সাথে যোগাযোগের রাস্তায় ফাটল ধরে ভেঙ্গে গেছে। বুধবার থেকেই বন্ধ হয়ে গেছে সব ধরণের যানবাহন চলাচল। ফলে টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরের উত্তরাঞ্চলসহ সরিষাবাড়ি উপজেলার বাসিন্দাদের ঢাকার সাথে যোগাযোগ করতে হবে এলেঙ্গা হয়ে ভেঙ্গে ভেঙ্গে।

 

অন্যদিকে জামালপুরের সাথে ঢাকার ট্রেন চলাচল প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। জামালপুর সদর থেকে আর কোন ট্রেন সরিষাবাড়ির জগন্নাথগঞ্জ ঘাট বা বাহাদুরাবাদ ঘাট পর্যন্ত যাচ্ছে না। রেল লাইন পানির নিচে। শুধু সরিষাবাড়ি নয়, জামালপুর জেলার ৭ উপজেলার মধ্যে ৫টিই ব্রহ্মপুত্র নদ ও যমুনার তীরে। তাই এই ৫টি উপজেলার কয়েক লাখ মানুষই বন্যাকবলিত। গ্রামের পর গ্রাম ডুবে যাচ্ছে। রাস্তা ঘাট পানির নিচে। যোগাযোগের একমাত্র উপায় নৌকা। যাদের নৌকা নাই তাদের সম্বল কলাগাছের ভেলা। ঘরের চাল পর্যন্ত পানি ছুঁইছুঁই। হাঁসমুরগি, গবাদি পশু নিয়ে ঠাঁই হয়েছে উঁচু বাঁধে, স্কুল ঘরে। যেখানে তাও নাই, সেখানে চালের উপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ। এ চিত্র দেখলে বিশ্বাস হয়না, কল্পনাতো অনেক দূরের ব্যাপার।

 

এ তো গেল জামালপুর জেলার চিত্র। যমুনার দুই পাড়ে গাইবান্ধা, সিরাজগঞ্জ, বগুড়া, নাটোরসহ উত্তরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পানির নিচে। মোটা চালের দাম কেজি প্রতি ৫০ ছুঁই ছুঁই। মানুষের হাতে নগদ টাকা নেই। ঘরে ফসল থাকবে কোথায় যেখানে ঘরই নেই! হাঁসমুরগি, গরু ছাগল ঈদের আগে আগে বিক্রি হচ্ছে খুবই অল্প দামে। কি আর করা ওদের তো খাওয়াতে হবে। নিজেরই যেখানে খাবার সংকট সেখানে গরু ছাগলের প্রতি মায়া দেখানো যায় আর কয় দিন?

 

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক টিভিতে বললেন, বাড়ি বাড়ি গিয়ে ত্রাণ পৌঁছে দিচ্ছেন তারা। গ্রামের বানভাসী মানুষ তা বলছে না। তাদের অভিযোগ বিস্তর। অনেকে দুঃখে কথা বলছেন না। আরো কিছু দিন এভাবে চললে হয়তো কথা বলাও ছেড়ে দেবেন তারা। এমন অবস্থায় যাওয়ার জায়গা থাকবে আর কোথায়? তাই জেলা সদরে বসে শুধু সাংবাদিকদের বক্তব্য-বিবৃতি না দিয়ে দয়া করে ব্যবস্থা নিন।