ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

সংবাদপত্র বা নিউজ পাবলিশারকে আমরা কেন বিশ্বাস করি? প্রথমেই এই প্রশ্ন যদি করা হয়, তাহলে হয়তো উত্তর আসবে গণমাধ্যম নিশ্চিত হয়ে খবর প্রকাশ করে বলেই আমরা তাদের পরিবেশিত খবরকে বিশ্বাস করি। খবর প্রকাশের বহু নিয়ম আছে। সেসব দিকে না গিয়ে বরং একটি খবরের দিকে একটু নজর দেই।

খবরটি হলো- সম্প্রতি ভারত সফরে গিয়ে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ আসামের মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সনোয়ালের জন্য দশ মিনিট অপেক্ষা করেছেন। দেশের একটি মৌলবাদ সমর্থিত পত্রিকা এবং আরেকটি চরম ডানপন্থী অনলাইন পত্রিকা এই খবরটি প্রকাশ করেছে। এর বাইরে কিছু অখ্যাত অনলাইন পোর্টালও একই খবরের কথা বলছে।

বলতে দ্বিধা নেই দেশটি ভারত বলেই এত কথা। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে অনেক কথা আছে বিভিন্ন মহলে। সেই কূটনৈতিক কচকচানিতে না গিয়ে আসল কথাটা পেড়ে ফেলি। কথা হলো- আসামের রাজ্যপাল জগদীশ মুখী এবং রাজ্যটির মুখ্যমন্ত্রী আমাদের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করেছেন। কোথায়? গুয়াহাটির ভিভান্তা-বাই তাজ হোটেলে। অথচ যারা অপেক্ষা নিয়ে নিউজ করেছেন তারা হোটেলের নামটা পর্যন্ত ঠিক করে লিখতে পারেননি।

একটি বিদেশি রাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতির সঙ্গে রাজ্যপাল এবং মুখ্যমন্ত্রী এসে দেখা করবেন এটাই স্বাভাবিক এবং সেটাই হয়েছে। তাহলে অপেক্ষার কথা কেন উঠলো? প্রথমে দেখা করেন রাজ্যপাল, এর কিছু পরেই ঢোকেন মুখ্যমন্ত্রী। দুটি বৈঠকেরই আনুষ্ঠানিক ফটো তোলা হয়েছে। একজন বের হওয়ার পর আরেকজন ঢোকার মাঝখানে হয়তো কেউ একটা ছবি তুলেছেন (এভাবে ছবি তোলা যায় কিনা সেটা ভেবে দেখতে হবে। কারণ অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের ছবি তোলার ক্ষেত্রেও কিছু নিয়ম মেনে চলতে হয়)। সেই ছবি কোনভাবে প্রকাশ পেয়েছে, আর তাতেই গেল গেল রব উঠলো।

যারা খবরটি প্রকাশ করেছেন তারা কি সেখানে ছিলেন? কিংবা যেসব গণমাধ্যমকর্মী সেখানে ছিলেন তাদের কাউকে জিজ্ঞেস করেছেন? সহজ উত্তর- না। তাহলে খবর প্রকাশ করলেন কীভাবে? এখানে কবি নীরব! তবে সাধারণ সংবাদকর্মী হিসেবে জানি কেন এটা করা হলো। সহজ উত্তর-উসকানি দেওয়া। এত সহজে ‘উসকানি’ শব্দটা কেন ব্যবহার করলাম সেই প্রশ্ন যদি ওঠে তাই আগেভাগেই বলে রাখি ওই হোটেলে সংবাদ সংগ্রহের জন্য এই সামান্য তথ্যমজুরও উপস্থিত ছিলেন।

২০১৩ সালে শাহবাগ আন্দোলনের সময় প্রতিনিয়ত নিয়ম করে উসকানি দিয়ে মানুষের জীবনহানির পরিস্থিতি সৃষ্টিকারী কিছু পত্রিকাই কিন্তু রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে এসব খবর প্রকাশ করেছে। অনলাইন গণমাধ্যমের নামে এসব যথেচ্ছাচার কবে কমবে? রাষ্ট্র, সরকার, প্রশাসন কি এখানে ‘তুমি কি কেবলি ছবি’ টাইপ চুপ করে থাকবে?

বলে রাখি, ইংরেজি ‘রেগুলেশন’ এবং বাংলা ‘নিয়ন্ত্রণ’ এক অর্থ বহন করে না। দুটোর ধারণা ভিন্ন। কেউ যদি মনে করেন আমি গণমাধ্যমকে নিয়ন্ত্রণ করার কথা বলছি তবে সেটা ভুল হবে।

ভিন্ন কথা বলি এবার। সম্ভবত আবদুল হামিদই প্রথম কোনো রাষ্ট্রপতি  যিনি আসাম সফর করেছেন। আসাম সরকারও তাকে লাল গালিচা সংবর্ধনা দিয়েছেন। রাস্তায় রাস্তায় তোরণ নির্মান করে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধানকে স্বাগত জানিয়েছে। শিলংয়ের রাজ্যপাল গঙ্গা প্রসাদ সরকারি বাসভবন ‘রাজভবনে’ আবদুল হামিদকে অতিথি হিসেবে উঠিয়েছেন। ওই ভবনের কিছু ট্রাডিশনও আমাদের হামিদ সাহেবের জন্য ভাঙা হয়েছে! শিলংয়ের বালাটে ‘৭১ এর স্মৃতিবিজড়িত স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন আবদুল হামিদ।

সেই পরিদর্শনের বিষয়ে ভারতের প্রধানমন্দ্রী নরেন্দ্র মোদী কিন্তু আমাদের রাষ্ট্রপতিকে বলেছেন, “একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। আপনার এই সফরে আমরা আনন্দিত ও সম্মানিত বোধ করেছি।”

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা ভারতীয়দের বাংলাদেশের পক্ষ থেকে সম্মানিত করাও তাৎপর্যপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন মোদী।

মুক্তিযোদ্ধা আবদুল হামিদ যে সফর করলেন সেটি নিয়ে খবর ও একটি মাল্টিমিডিয়া উপস্থাপনা প্রকাশ করেছে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম। এই প্রতিবেদনগুলো খেয়াল করলে দেখা যাবে আমাদের রাষ্টপ্রতির আবেগের জায়গাটি।

সবশেষে আমার কথা একটাই, খবর, উড়োখবর, গুজব অনেকেই প্রকাশ করে। নানা স্বার্থে সেগুলো ছড়িয়ে দেওয়া হয়। পাঠকও বিভ্রান্ত হন। পাঠক, এসব ‘কাটতি, ঝটতি’ তথাকথিত গণমাধ্যম থেকে সাবধান থাকুন।