ক্যাটেগরিঃ সেলুলয়েড

শৈশবে শুধুমাত্র একজন কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই চিনতাম। নির্বাক হয়ে কি যেন সব করে! মানুষকে হাসানোই শুধু তার কাজ। এটাই ছিলো আমার কাছে তার পরিচয়। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে যেয়ে তার সম্পর্কে কিছুটা জানতে পারি। বুঝতে পারি হাসি, কৌতুক আর বিচিত্র পোশাকের এই লোকটি সব সময় সবাইকে জানাতে চায় আরও কিছু। বোঝাতে চায় কত নির্মম এ সভ্যতা। হাসির পেছনে আছে এক তীব্র দুঃখ, ক্ষোভ। আছে চ্যালেঞ্জ। আছে অন্যরকম এক জীবনবোধ ভবঘুরে হয়ে সবকিছুকে থোড়াই কেয়ার করে। দেখিয়ে দেয় মানুয়ের জীবন থেমে থাকেনা, থেমে থাকার নয়।

দেখিয়েছেন যন্ত্র সভ্যতার ভেতর একজন শ্রমিক কতটুকু মানুষ সত্ত্বা নিয়ে টিকে থাকে। আবার সম্পদের কাছে একজন মানুষের মানবিকতা কতটা নীচে নেমে যেতে পারে। দেখিয়েছেন কেউ সাথে না থাকলেও আবার কীভাবে চলতে হবে সামনে। কীভাবে এগুতে হবে জীবনের জন্য। মানুষের জন্য। দেখিয়েছেন সবকিছুর ভেতরেই আছে প্রেম, মানবিকতা, ভালোবাসা আর জীবনের জয়গান।

চাপা কোট, সাইজে বড় প্যান্ট, বড় জুতো, মাথায় বাউলার হ্যাট, হাতে ছড়ি আর একমেবাদ্বিতীয়ম টুথব্রাশ গোঁফ। ভবঘুরে হলেও ব্রিটিশ ভদ্রজনোচিত আদব-কায়দায় সুসংস্কৃত এবং সম্মানবোধে অটুট। সামান্য এই বর্ণনায় তার পরিচয় পেয়ে যাওয়া সম্ভব। তিনি আর কেউ নন আমাদের সবার পরিচিত চার্লি চ্যাপলিন। পুরো নাম চার্লস স্পেনসার চ্যাপলিন। যার বর্ণময় জীবন খ্যাতি আর বিতর্কে নিম্ন থেকে শীর্ষবিন্দু ছুঁয়ে গেছে।

মহান এই মানুষটির জন্ম ইস্ট স্ট্রিট, ওয়ালওয়ার্থ, লন্ডন ১৬ এপ্রিল, ১৮৮৯। আজ তাঁর ১২৯তম জন্মদিন। তাকে নিয়ে উপমহাদেশের প্রখ্যাত গণসংগীত শিল্পী প্রতুল মুখোপাধ্যায় যথার্থই গেয়েছেন,

“……শান্ত দুটি চোখে স্বপ্নের দূরবীণ…
ইচ্ছে করে আজ ফেলে সবকাজ
তোমার পাশে পাশে হেঁটে বেড়াই
মুখে নিয়ে হাসি প্রাণের স্রোতে ভাসি
একসাথে একসুরে প্রেমের গান গাই……
আমি তোমায় ভালোবাসি চার্লস চ্যাপলিন।”

তাকে জানাই শ্রদ্ধা। ভালোবাসা। জয় হোক জীবনের। জয় হোক স্যার চ্যাপলিনের জীবনবোধের।