ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

রাজধানীতে তেল-গ্যাস-খনিজ-সম্পদ ও বিদ্যুৎ-বন্দর রক্ষা জাতীয় কমিটির বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশ লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপ করেছে। এতে কমপক্ষে ৩৫ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

জানাগেছে, সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে থেকে কমিটির বিক্ষোভ মিছিলটি জ্বালানি মন্ত্রণালয় অভিমুখে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাওয়ের কর্মসূচি দিয়েছিল কমিটি। কিন্তুতোপখানা রোডে ঢোকার মুখে পুলিশ মিছিলের গতিরোধ করে। এ সময় মিছিলটি ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ লাঠিচার্জ করে ও টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে।

এর আগে মিছিল পূর্ব সমাবেশে আনু মুহাম্মদ বলেন, ‘ সরকার একের পর এক অপচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ফুলবাড়িতে উন্মুক্ত খনি করারও পাঁয়তারা করছে সরকার। কিন্তু সেখানে যে ডাকাতরাই যাক না কেন, তারা জীবিত ফিরতে পারবে না।’

তিনি আরো বলেন, ‘জ্বালানি মন্ত্রণালয়ে দেশি-বিদেশি দুর্বৃত্তদের রুখতে না পারলে এই দেশে দারিদ্র্য ক্রমান্বয়ে বাড়তে থাকবে।’

জ্বালানি মন্ত্রণালয় ঘেরাও কর্মসূচিকে মুক্তিযুদ্ধের দ্বিতীয় পর্ব উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এর মাধ্যমে বাঙালি জাতিকে একটি আত্মনির্ভরশীল জাতি হিসেবে গড়ে তোলা হবে।’

তিনি বলেন, ‘ জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতির কারণে জনগণের পরিবহন ব্যয় ৫০ শতাংশ বেড়েছে । একের পর এক কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র দিয়ে সরকার দেশের সামগ্রিক অর্থনীতিকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়েছে। জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের অপকর্মের বিরুদ্ধে কেউ যেন আদালতে যেতে না পারে সে জন্য ২০১০ সালে দায়মুক্তির আইন করে দিয়েছে। এ আইনের কারণে দেশের খনিজ সম্পদের ওপর দেশের জনগণের মালিকানা হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।’

সকাল ১১টার দিকে তোপখানা রোডে দুইস্তর বিশিষ্টি কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে সব ধরনের যান চলাচল বন্ধ করে দেয় পুলিশ। পুলিশের বাঁধা পেয়ে কমিটির মিছিল আবার প্রেস ক্লাবের সামনে ফিরে আসে এবং সেখানে বিক্ষোভ সমাবেশ করে।

মিছিলে পুলিশের বাঁধা, লাঠিচার্জ ও টিয়ারসেল নিক্ষেপের প্রতিবাদে আগামী ২ জানুয়ারি সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করার ঘোষণা দিয়েছেন কমিটির সদস্য সচিব আনু মুহাম্মদ।

কামাল শাহরিয়ার
স্টাফ রিপোর্টার ( ফেয়ার নিউজ সার্ভিস )