ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

‘জাতীয় পার্টি পরিবার ক্ষমতার একমাত্র যাওয়ার লক্ষ্যে এগিয়ে যাচ্ছে। ক্ষমতার লক্ষ্য পার্টি ২৬ বছরে এখন ঐক্যবদ্ধ। প্রত্যেক মানুষের আত্মা, আদর্শ, হৃদয় ও চিন্তাধারা এখন এক ও অভিন্ন হয়ে আছে। এভাবে ঐক্যবদ্ধ থাকলে জাতীয় পার্টি ক্ষমতায় আসবেই।’ রোববার রাউজউক মাঠে দলের ২৬তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে আয়োজিত জনসভায় জনতার উদ্দেশ্যে জাতীয় পার্র্টির চেয়ারম্যান ও সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদ এ কথা বলেন।

এসময় তিনি বলেন, ‘জাতীয় পার্র্টি নিজেদের আদর্শ, ইসলামী মূল্যবোঁধ, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়েই রাজনীতি করছে এবং আজীবন করবে। জাতীয় পার্র্টি কারও সঙ্গে আপস করবে না। একমাত্র নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যায় বলে আমরা বিশ্বাস করি।’

এরশাদ আরো বলেন, ‘জাতীয়তাবাদের অতন্ত্র প্রহরী হিসিবে জাতীয় পার্র্টি কাজ করছে এবং করবে। আমরা শ্রমিক বাঁচাতে চাই। বন্ধ কলকারখানা চালু করতে চাই। আমরা দলীয়করণের সমাধি রচনা করতে চাই। ধনীর অট্টালিকা এবং দরিদ্রের দূরত্ব দূর করতে চাই। এদেশের মানুষ শেয়ারবাজারে সর্বহারার হাহাকার দেখতে চায় না। গুপ্তহত্যা দেখতে চায় না। লক্ষ কোটি মানুষের বেকারত্বের সমাধান চায়। আমার সেসব চাওয়ার বাস্তবতা দেখাতে চাই।’

এসময় তিনি ও তার পার্টিকে নিশ্চিহ্ন করে দেওয়ার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল বলেও জানান। দেশ ও মানুষ রক্ষার্তে জাতীয় পার্টি আগামী নির্বাচনে ৩০০ আসনে নির্বাচন করবে বলেও দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
দলের মহসচিব আলহাজ্ব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার তার বক্তব্যে বলেন, জাপা চেয়ারম্যান, সাবেক রাষ্ট্রপতি এইচ এম এরশাদ যখন কারাগারে ছিলো, তখন কারাগারের ভেতরে তাকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করা হয়েছিল। কিন্তু সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি, ভবিষ্যতেও হবে না। জনগণ আপনার প্রতি আস্থা পেয়েছে। বাংলাদেশের জনগণ জাতীয় পার্টি আবার ক্ষমতায় দেখতে চায়।

রুহুল আমিন আরো বলেন, ‘জাতীয় পার্টির ক্ষমতামলে দেশের যে উন্নয়ন হয়েছে তা জনগণ ভুলে যায়নি। জনগন জাতীয় পার্টিকে ৩০০ আসনে নির্বাচন করতে এবং ক্ষমতার চেয়ারে দেখতে চায়। বাংলাদেশের আধুনিকায়নে জাতীয় পার্টির ক্ষমতা না যাওয়ার বিকল্প নেই সেটা সাধারণ মানুষ এই সমাবেশে উপস্থিত হয়ে বুঝিয়ে দিচ্ছে।’

অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন বাণিজ্যমন্ত্রী জিএম কাদের, কাজী জাফর ফিরোজ, ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ,কাজী ফিরোজ রশিদ, জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু,সালমা ইসলাম,গোলাম হাবিব দুলাল,সাঈদূর রহমান টেপা,নূরে হাসনা লিলি চৌধুরী, এসএম ফয়সাল প্রমুখ।

মঞ্চে ওঠার আগে দুইটা ২৫ মিনিটে এরশাদ জাতীয় পতাকা উত্তোলন করেন। এরপর দলীয় পতাকা উত্তোলন করেন দলের মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার। এরপর জাতীয় ও দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করেন বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা শিল্পীরা।

***
কামাল শাহরিয়ার