ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

প্রতিনিয়ত একের পর এক দখলের খবর আসছে। সরকার যেই আসুক দখলবাজরা দখল নিতে কোন ভুল করেন না। তবে সেসব দখলের ভিন্ন ভিন্ন ক্ষেত্র থাকে। তেমনি খাল-বিল, নদী-নালা দখলের পর এবার দখলের তালিকায় পড়েছে ঢাকা চিড়িয়াখানা। ইতোমধ্যে চিড়িয়াখানার প্রায় ছয় একর জমি অবৈধ দখলে চলে গেছে।

ছয় একর জমি অবৈধ দখলে চলে যাওয়া কারণে চিড়িয়াখানা কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। তারা বেদখল হওয়া ওই জমি উদ্ধারের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু অবৈধ দখলদারদের দায়েরকৃত মামলার কারণে তাদের বাঁধার সম্মুখীন হতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে ঢাকা চিড়িয়াখানার কিউরেটর ড. এ বি এম শহিদ উল্লাহ বলেন, ‘প্রায় ছয় একর জমি এখনো অবৈধ দখলে রয়েছে। যখন আমরা সেসব জমি দখলদারদের কবল থেকে উদ্ধারের উদ্যোগ নেই তখন আমাদের ২২টি মামলার মুখোমুখি হতে হয়েছে।’ তিনি বলেন, এ মামলাগুলো ১৯৯৫ সাল থেকে চলছে।

তিনি আরো বলেন, ‘কখনো কখনো আমরা নিম্ন আদালত থেকে অবৈধ দখল উচ্ছেদের সপে রায় পেলেও দখলদাররা উচ্চ আদালত থেকে তাদের নিজেদের সপে স্থগিতাদেশ পায়।’
তিনি বলেন, ‘মামলা পরিচালনার ক্ষেত্রে এটা আমাদের জন্য একটি বড় ধরনের ভোগান্তির কারণ।’ তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রতিদিন দাফতরিক কাজ করতে হয়। পাশাপাশি উন্নয়ন কাজও করতে হয়। কিন্তু আদালতের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে গিয়ে আমাদের অধিকাংশ সময় নষ্ট হয়। তিনি জানান, অবৈধ দখলদাররা চিড়িয়াখানা সংলগ্ন ওইসব জমিতে কিছু অস্থায়ী ঘরবাড়ি ও দোকানপাট তৈরি করেছিলো। এখন তারা এসব জমিকে উত্তরাধিকার সূত্রে পাওয়া সম্পত্তি বলে দাবি করছে।’ তিনি এটাকে চিড়িয়াখানার নিরাপত্তার জন্য একটি হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা যদি অবৈধ দখলদারদের কবল থেকে জমি মুক্ত করতে না পারি তাহলে চিড়িয়াখানার চারদিকে সীমানা প্রাচীরও নির্মাণ সম্ভব হবে না। অথচ একটি চিড়িয়াখানার নিরাপত্তার জন্য এটা ন্যূনতম প্রয়োজন।’

অন্যদিকে, চিড়িয়াখানার জমিতে অবৈধভাবে বসবাসকারীরা বলছেন, তারা পূর্বপুরুষদের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে এসব জমি পেয়েছেন। তাই এসব জমি চিড়িয়াখানার সম্পত্তি হতে পারে না। সে কারণে এসব জমির দখল ত্যাগ করার বিষয়টিও অবান্তর।

চিড়িয়াখানার কিউরেটর বলেন, এ সমস্যার সমাধান হওয়াটা খুবই জরুরি। কেননা, চিড়িয়াখানাকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করার লক্ষ্যে উন্নয়ন কাজ শুরু হতে যাচ্ছে।

***
কামাল শাহরিয়ার