ক্যাটেগরিঃ গণমাধ্যম

 

বিআরটিসি বাসের চাপায় সাংবাদিক নিখিল ভদ্র পা হারানোর পর এবার টিসিবির ভাড়া করা স্টাফ বাসের চাপায় প্রাণ হারালেন সাংবাদিক দীনেশ দাশ (৪৭)। রোববার সকাল ৯টার দিকে রাজধানীর কাকরাইল গির্জার সামনে টিসিবির স্টাফ বাস তাকে চাপা দিলে তিনি ঘটনাস্থলেই নিহত হন। তিনি মোটরসাইকেলে করে মেয়েকে স্কুলে পৌঁছে দিয়ে প্রেসক্লাবে যাচ্ছিলেন। টিসিবির বাসটি স্টাফদের নিয়ে কারওয়ানবাজার যাচ্ছিল।
সাংবাদিক দিনেশ দাশের মৃত্যুর প্রতিবাদে জাতীয় প্রেসক্লাবের সাংবাদিকরা দফায় দফায় বিক্ষোভ মিছিল করছেন। এতে প্রেসক্লাবের সামনের রাস্তা যান চলাচল করতে পারছে না। রোববার বিকেল চারটা ৩৫ মিনিটে বিক্ষোভের এক পর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের একটি পাজেরো জিপ ভাঙচুর করেন। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পাজেরোটির (ঢাকা মেট্রো-ঠ ১৩-০০২৯) চালক তাদের লক্ষ্য করে লাঠি দেখালে সাংবাদিকরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। সাংবাদিকরা কদম ফোয়ারার চারদিকে রাস্তায় শুয়ে পড়ে রাস্তা অবরোধ করেছেন। তারা নৌপরিবহন মন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করছেন।

বিক্ষোভরত সাংবাদিকদের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করেন বিশিষ্ট অভিনেতা নায়ক ইলিয়াস কাঞ্চন। তিনি বলেন, ‘প্রত্যেক সরকারের আমলে কিছু লোক পরিবহন খাত নিয়ন্ত্রণ করে। চাঁদাবাজির টাকা দিয়ে তারা চলেন। এজন্যই তারা পরিবহন খাতের অনিয়মের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছেন না।’ তিনি দীনেশ দাশকে সহায়তা করার জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানান।

দীনেশ দাশ নিহত হওয়ার প্রতিবাদে প্রগতিশীল শিল্প ও গণমাধ্যম ফোরাম নামের একটি সংগঠনও মানববন্ধন আয়োজন করে। এতে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট অভিনেত্রী রোকেয়া প্রাচী, সাংবাদিক অঞ্জন রায়, আবদুল্লাহ শাহরিয়ার, মাসুদুল হাসান, সুশান্ত সিনহা প্রমুখ।

এদিকে টিসিবির ভাড়া করা বাসটি (ঢাকা মেট্রো- জ ১৪-২৪৩৫) আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া বাসের চালক বাদশাহ মিয়াসহ দু’জনকে আটক করা হয়েছে। বাদশাহ মিয়া প্রথমে নিজেকে বাসের হেলপার বলে পরিচয় দেন। পরে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি চালক বলে স্বীকার করেন। বেপরোয়া ড্রাইভিংয়ের অভিযোগে বাদশাহ মিয়ার বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। তার ড্রাইভিং লাইসেন্সও তখন থেকে পুলিশের কাছে জব্দ আছে।

রমনা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আব্দুল কুদ্দুস ফকির জানান, বাসটি ছিল টিসিবির ভাড়া করা বাস। স্টাফদের নিয়ে কারওয়ানবাজারে যাচ্ছিল। চালক বাদশাহ মিয়ার ড্রাইভিং লাইসেন্স পুলিশের কাছে জব্দ আছে। তার লাইসেন্স সঠিক কিনা তা বিআরটিএর মাধ্যমে যাচাই করে দেখা হবে। আটক অন্যজনের নাম হাসান। তবে তিনি অন্য বাসের হেলপার বলে পুলিশের কাছে দাবি করেছেন।

খবর পেয়ে তথ্যমন্ত্রী আবুল কালাম আজাদ ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে দীনেশ দাশের মরদেহ দেখতে আসেন। এ সময় তিনি বলেন, ‘একের পর এক এমন দুর্ঘটনা সত্যিই দুঃখজনক। এমন দুর্ঘটনা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নিহতের পরিবারকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়া হবে।’

দীনেশ দাশের নিহত হওয়ার খবরে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ছুটে আসেন কলামিস্ট সৈয়দ আবুল মকসুদ। এ সময় তিনি বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধের জন্য আমরা সরকারের কাছে যতই দাবি জানাচ্ছি, সরকার এ নিয়ে ততই তামাশা করছে। এভাবে একের পর এক মূল্যবান জীবন চলে যাচ্ছে, এতে সরকারের কোনো মাথাব্যথা নেই। সড়ক দুর্ঘটনার বিরুদ্ধে নাগরিকরা আন্দোলন করলে সরকার তা নিয়ে রাজনীতি করে। এসব অকাল মৃত্যুর জন্য দায়ীদের আমরা ধিক্কার জানাই।’ এছাড়া জাতীয় প্রেসক্লাব, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিক সংগঠনের নেতারা দীনেশের মৃত্যুতে ছুটে আসেন।
সাংবাদিক দীনেশ দাশের মরদেহ জাতীয় প্রেসক্লাবে নেওয়া হয়। সেখানে বিভিন্ন সাংবাদিক সংগঠনের নেতাসহ সর্বস্তরের সংবাদকর্মীরা তার মরদেহে শেষ শ্রদ্ধা জানান। এরপর সেখান থেকে দিনেশ দাশের গ্রামের বাড়ি নওগাঁর রানীনগর উপজেলার বাণীয়াপাড়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছে।

***
কামাল শাহরিয়ার