ক্যাটেগরিঃ কৃষি

 

মধ্যপ্রাচ্যের মত আমাদেও জ্বালানী আর সোনার খনি নেই। নেই ইউরোপ, আমেরিকা, জাপান, চীন এর মত প্রযুক্তি অথবা শিল্প নির্ভর অবস্থান । বাংলাদেশ নামক ক্ষুদ্র এবং দরিদ্র এই দেশটির আছে, সোনা ফলানো এক খণ্ড নিজস্ব জমি আর স্ফুলিঙ্গে বিস্ফোরিত জ্বালানির মত উপযোগী জলবায়ু। আছে, রোদ -বৃষ্টি গায়ে মেখে শ্রম ঢেলে দেওয়া কৃষক আর প্রাচীন দেশীয় কৃষকের কানে কানে বয়ে আসা মার্জিত বিজ্ঞতা বা প্রযুক্তি।

এরপরও, এই দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্য যেমন- চাল,ডাল,মাছ,মাংশ এমনকি ফলমূল সহ শাক-সবজির দাম অনেক বেশি। আর এর দায় আমরা সরকারী অথবা বিরোধী দলের উপর দিয়ে বেকার বসে থাকি। অথচ আমরা ইচ্ছে করলেই সচেতনতা ও উৎসাহ দিয়ে এই সমস্যা গুলিকে ঝেড়ে ফেলে দিতে পারি।

আমরা বাংলাদেশের ফ্ল্যাট বাসা থেকে গ্রামের বসত ভিটা পর্যন্ত প্রতিটি বাড়িকে জীবন্ত কৃষি জাদুঘর হিসেবে গড়ে তুলতে পারি। এতে একদিকে যেমন দেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য বাড়বে তেমনি অর্জন হবে একক খাদ্য স্বয়ং সম্পূর্ণতা। বাড়বে পর্যটন শিল্পের বিকাশ ও রোধ হবে দেশীয় মুদ্রার অপচয়।

আপনি একজন মন্ত্রি, এমপি, দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক, সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বা বিনোদন প্রেয়সী ব্যক্তিত্ব। আপনার বিনোদনের সাথে কৃষিকে যুক্ত করুন। সকালের ঘুম ঝরা চোখে ঝাঁঝরি দিয়ে সবজির বাগানে, ছাদে ফুল গাছের টবে পানি দিতে আপনার কখনোই খারাপ লাগবে না। আপনার এক্যুরিয়ামে বিদেশী মাছের পাশাপাশি চৌবাচ্চায় শিং, মাগুর, কই মাছের চাষ ভোজন বিলাসীদের অন্তত তৃপ্তির ঢেঁকুর জোগাবে। আপনার মন ভাল নেই? ছাদের খোপ থেকে এক ঝাঁক পায়রার নীল আকাশে ডানা মেলা হয়ত আপনার মনকে ভাল করে দিতে পারে। নিজের ফলানো গাছের ফল পরিবারের সবার সাথে ভাগ করতে পারার সুখ অন্যরকম।

পরিশেষে, সার কথা হিসেবে একটি লাইন বলতে পারি ’নিজস্ব অবস্থান থেকে আপনি যদি কৃষক, কৃষি সংগঠন, তথা কৃষির উন্নয়ন করেন তবে কৃষি আপনাকে এর লাভ বা প্রতিদান দিতে সদা-সর্বদা প্রস্তুত।’