ক্যাটেগরিঃ দিবস প্রসঙ্গ

“এটা জাতীয়ভাবে প্রতিষ্ঠিত যে নারীকে অবহেলা করে কোনো জাতির উন্নয়ন হতে পারেনা। তারা একই সঙ্গে গুরুত্ত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে পরিবার, ‍সমাজ, দেশ এবং যথাযথ সমগ্র বিশ্বে। নারীদের আরো ক্ষমতাবান করতে আমাদের প্রতিটি সেক্টরে তাদের সম অধিকার দিতে হবে প্রতিটি নারীর জীবনে। একই সঙ্গে আমরা যেন তাদের ঘরোয়া সম্মানটাও দিতে পারি। তাই আমরা সরকারের কাছে দাবি জানাচ্ছি নারীদের সম্মান এবং প্রেরণা দিতে একদিনের জন্য রাষ্ট্রীয় ছুটি ঘোষণা করা হোক। আমরা মনে করি ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসই যথাযথ দিন।”

আমার এই লেখাটুকু দৈনিক প্রথম আলোতে ১৭ মে ২০১২ তারিখে প্রকাশিত হয়েছিলো

এরপর সময় চলে গেল ছয় বছর প্রায়। বাস্তবায়িত হল না প্রস্তাবনাটি। তাই আজ আবার লিখতে বসলাম এই প্রসঙ্গে। জাতীয় কবি নজরুল ইসলামের এই সাম্যের গানের কথা আমরা সবাই জানি-

“বিশ্বে যা-কিছু মহান সৃষ্টি চির-কল্যাণকর,
অর্ধেক তার করিয়াছে নারী, অর্ধেক তার নর।”

অথচ আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তিত হয়েছে খুবই সামান্য। এখনো নারীর চলার পথ সুগম নয়, নিরাপদ নয়, আছে এখনো তাদের অধিকারে নায্যতা-সমতার অভাব।

 

ছবি: লাইফডার ডটকম

মূল প্রসঙ্গে আসি। আমি কেন নারী দিবসে সরকারি ছুটির প্রস্তাব করছি? এ প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক, বিশেষ করে বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায়।
উত্তর হল- যদি এই দিনটিকে ছুটি ঘোষণা করা হয়, তবে প্রথমত মিশ্র প্রতিক্রিয়া হবে। তবে এই প্রতিক্রিয়া ধীরে ধীরে ধনাত্মক হবে। একটি দিন সরকারি ছুটি থাকলে তার প্রভাব সমাজের সব স্তরের মানুষের উপর পরে। সবার জানার আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দু হবে কেন ছুটি কি কারণে ছুটি। এর ফলে সচেতনতা বাড়বে। নারীদের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে শুরু করবে।

পারিবারিক, সামাজিক, রাজনৈতিক- সর্বস্তরে সবার চিন্তাশক্তিতে নাড়া দিবে বিষয়টি। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নারী দিবসে ছুটি প্রচলিত আছে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী সহ সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করছি বিষয়টি নিয়ে।

পরিশেষে বলতে চাই-

‘পুরুষ তুমি নারীর পানে
সমতার চোখে চাও,
নারী-পুরুষ একসাথে মিলে
মানবতার গান গাও।’