ক্যাটেগরিঃ খেলাধূলা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

বিশ্বকাপ ফুটবল কড়া নাড়ছে। বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। বাংলাদেশেও সে ঢেউ স্পষ্ট। তরুণ -যুবক থেকে শুরু করে মোটামুটি সব বয়সের মানুষ মেতে উঠেছে প্রিয় দল, প্রিয় খেলোয়াড়ের বন্দনায়। তর্ক-বিতর্ক সোশাল মিডিয়াসহ পাড়া-মহল্লা, এমনকি বাড়ির অন্দরমহল পর্যন্ত তুঙ্গে । আনন্দ উদযাপন, উচ্ছ্বাস প্রকাশে বা দল কিংবা খেলোয়াড়ের বন্দনায় – জার্সি ব্যবসা রমরমা, রমরমা পতাকা ব্যবসা। কেউ কেউ সাজাতে ব্যস্ত রঙতুলির আঁচড়ে নিজের বাড়ির দেয়াল, অন্যের বাড়ির দেয়াল।

প্রান্তিক জনগণ এমনকি কৃষকও শরিক হচ্ছেন এই উন্মাদনায়। এ যেন বাঁধ ভাঙা নদীর স্রোত। এ যেন বাঁধ ভাঙা নদীর স্রোত। এই স্রোত থামবার নয় সঙ্গত কারণে – কেননা মানুষ উৎসব মুখর। আর কারও আনন্দ উদযাপনে বাধা দেয়া ভীষণ বেরসিক কাজ ! আপাতদৃষ্টিতে উচিতও নয় ।

তবে এখানে আলোচিত অংশ হলো ভিনদেশি পতাকা ওড়ানো। পতাকা – জাতীয়তাবোধ, স্বতন্ত্র পরিচয়বাহী এবং দেশপ্রেমের পরিচয় বহন করে নি:সন্দেহে । এটি ব্যবহারেও রয়েছে নিয়মনীতি । যা কোন কোনো দেশের সংবিধানে উল্লেখ আছে, আবার কোনো কোনো দেশের সংবিধানে উল্লেখ করা নেই। তবে পতাকা ব্যবহারের নিয়ম-কানুন সংবিধানে থাকুক বা না থাকুক বিশ্বের প্রতিটি দেশ এ নিয়ে সচেতন থাকে। আমরা কতটুকু সচেতন?

আমাদের সচেতনতাটুকু জরুরি। আমরা যেন শোভা বাড়াতে যেয়ে সৌন্দর্য নষ্ট না করে ফেলি। যে দেশের পতাকা তা তৈরির নিয়ম মেনে চলা উচিত। কোনো দেশের পতাকা যেন অবমূল্যায়ন না করা হয়। এক দলের সমর্থক দ্বারা অন্যদলের সমর্থকদের পতাকা বা দেয়ালচিত্র যেন অবমাননা বা নষ্ট করা না হয়। এছাড়াও উগ্রতা পরিহার করে আনন্দময় পরিবেশ বজায় রাখার ব্যাপারে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

রাশিয়া ফুটবল বিশ্বকাপে যেসব দল অংশগ্রহণ করছে সেসব দেশের পতাকা – বিশেষ করে, আর্জেন্টিনা, ব্রাজিল, জার্মানির পতাকা উড়ছে বাংলাদেশের শহর থেকে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে, যানবাহনে। পতাকা বিধিমালা কী বলে?

বাংলাদেশের পতাকা বিধিমালা ১৯৭২ অনুযায়ী, বাংলাদেশে অবস্থিত বিদেশি কূটনৈতিক মিশনসমূহ ছাড়া অন্য কোনো স্থানে অন্য রাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলনের সুযোগ নেই। আর যদি করা হয় তাহলে সরকারের বিশেষ অনুমোদন নিতে হবে।

বিশ্বকাপ ফুটবল ২০১৮ উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদেশি পতাকা অননুমোদিতভাবে উড়ানো বন্ধে হাইকোর্টে একটি রিট করা হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা মুহাম্মদ নুরুল আমিন নামে একজন এই রিট করেন। এটি নিয়ে কথা বলার সুযোগ নেই। বলছিও না। দেখা যাক, আদালত কী বলে।

ভিনদেশি পতাকা ওড়ালে ক্ষতি কী? পতাকা নিজ দেশেরই কথা বলবে। তাই অন্য দেশের পতাকা ওড়ানো একটু বাঁকা চোখে দেখা যেতেই পারে। বিষয়টি যদি রাজনৈতিক হয় – তাহলে তা রাষ্ট্রদ্রোহও বটে। কিন্তু খেলাধূলা, আনন্দ-উৎসবে ভিনদেশি পতাকা ওড়ানোকে এতো কঠিনভাবে ভাববার কোন যুক্তি নেই। বরং এটি স্বাভাবিক।

যতদিন বিশ্বকাপের উন্মাদনা থাকবে – তরুণদের কোনোভাবে এটি থেকে বিরত রাখা কঠিন। এখানে বাধা দেওয়ায় ফুটবলপ্রেমীদের মন খারাপের কারণ সৃষ্টি করা ছাড়া আর কোনো লাভ নেই।

পতাকা ওড়ানো কোনো সমস্যা নয়। আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যিনি বেশ সংস্কৃতিমনা, খেলাধুলাকে অত্যন্ত পছন্দ করেন, তিনি যথার্থ বলেছিলেন, যে যেই দলের সমর্থক, সে তাদের পতাকা তুলবে না, এ কেমন কথা? এর মধ্যে দিয়েই তো খেলার একটা উত্সাহ চলে আসবে সারা দেশে। আমরা যত বেশি খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক চর্চা এসব দিকে আমাদের ছেলেমেয়েদের সম্পৃক্ত করতে পারব, তত বেশি সন্ত্রাস, অপরাধ দূর করা সম্ভব হবে।

মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে সহমত পোষণ করছি। কারণ আবেগেরও মূল্য রয়েছে। আবেগের মধ্য দিয়ে স্বপ্ন ও সম্ভাবনার দুয়ার খুলে যায়। এই প্রিয় দলের ভিনদেশি পতাকা ওড়াতে ওড়াতে আমাদের মনেও স্বপ্নের জন্ম নিতে পারে। স্বপ্নের জন্ম নিক। যেমন, আমার স্বপ্ন  বিভিন্ন ক্ষেত্রে শুরু হোক বাঙালির বিশ্বজয়ের পদযাত্রা।  আমরাও ভাবতে শুরু করি  পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে ক্রিকেট, ফুটবল বা অন্য কোনো উপলক্ষে উড়বে কোনো ভিনদেশির হাতে লাল-সবুজ পতাকা।