ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

গত বছরের কথা। বারিধারায় একটা কাজে গিয়েছিলাম। ফেরার সময় ঢাকাস্থ মিয়ানমার এম্বেসির পাশ দিয়ে হাঁটছিলাম। সেখানে ফুটপাতে এক নারীকে দেখলাম একটা শিশু কোলে নিয়ে বসে আছেন। ওই নারী কিছু একটা বলে আমার দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করলেন। আমি তার ভাষা বুঝলাম না। পাশের ভবনের গার্ড জানালেন, ওই নারী রোহিঙ্গা। তার স্বামীর সন্ধানে এম্বেসিতে ঘুরছেন বেশ কিছুদিন। কিন্তু কোনোভাবেই ঢুকতে পারছেননা। ব্যস্ততার কারণে সেখান থেকে দ্রুত চলে যাই। ঢাকায় রিকশায় উঠলে আমি সময় কাটানোর জন্য রিকশাওয়ালাদের সঙ্গে গল্প করি। এরকম বেশ কয়েকজন রিকশাওয়ালাকে পেয়েছি যারা কিনা বাংলা ঠিকভাবে বলতে পারেনা। নতুন বাংলা শিখেছে। দেশের বাড়ি কোন এলাকায় তা বলতে সংকোচ তাদের। একজনকে চেপে ধরেছিলাম। পরে সে নিজের রোহিঙ্গা পরিচয় স্বীকার করে। গতকাল জানতে পারলাম বরিশাল থেকে চার রোহিঙ্গাকে আটক করেছে পুলিশ। এর মধ্যে দু’জন নারীও রয়েছে।

Displaced-Rohingya-community

সম্প্রতি রাখাইন থেকে টেকনাফ হয়ে হাজার হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। কতজন এসেছে সে সংখ্যা নিয়ে বিতর্ক আছে। তাদের আশ্রয় দেওয়ার ব্যাপারে পক্ষে-বিপক্ষে অনেক কথা রয়েছে। আমি সেদিকে যাচ্ছিনা। আমার প্রশ্ন হচ্ছে- যারা দালালদের মাধ্যমে বিজিবি’র চোখ ফাঁকি দিয়ে টেকনাফে আসতে পারে, তাদের জন্য টেকনাফ থেকে বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে ছড়িয়ে পড়া কী কঠিন কিছু?

রাখাইন রাজ্যে মানবিক বিপর্যয় ঘটেছে- এটা যেমন সত্য। তেমনি সত্য হচ্ছে- টেকনাফ ও এর আশাপাশের গড়ে ওঠা অনিবন্ধিত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে রোহিঙ্গাদের আমানবিক দিনযাপন করছে। ফলে তারা ক্যাম্প ছেড়ে জীবিকার খোঁজে বাইরে আসবে এটাই স্বাভাবিক। এতে করে তারা শুধু কাজ নয়, বিভিন্ন অপরাধে জড়াতে পারে। এটা ‍জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অবশ্যই হুমকি। রোহিঙ্গা সংকটের শুরু থেকেই সরকার এ আশংকা করে আসছে। সুতরাং এ মূহুর্তে  রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ওপর সরকারের নজরদারি বাড়ানো জরুরি। বিশেষ করে যারা নিরাপত্তার দায়িত্বে রয়েছে তাদের ওপর নজরদারিটা আরও বেশি দরকার।

স্থানীয় এক বন্ধুর সঙ্গে কথা বলে জেনেছি, রোহিঙ্গাদের চলাফেরায় কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই। টেকনাফ থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত বিজিবি’র মোট ৪টি চেকপোস্ট রয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট শুরু হলে বিজিবি আরও নতুন দুটি চেকপোস্ট বাড়ায়। তবে বিজিবি’র চোখ রোহিঙ্গাদের থেকে চোরাচালানের মালের ওপর বেশি। এই সুযোগে রোহিঙ্গারা টেকনাফ ছেড়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকায় ঢুকছে। বাঙালিদের সঙ্গে চেহারায় খুব পার্থক্য না থাকায় সহজে আমাদের সমাজে মিশে যাচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে দুর্বৃত্তরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দুর্নীতিবাজ সদস্যের সাহায্যে এই রোহিঙ্গাদের ব্যবহার করতে পারে। ইতিমধ্যে কয়েক দফায় অগণিত রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় নাম লিখিয়েছে। কিছু সংখ্যক নির্বাচন কমিশন শনাক্ত করেছে। কিন্তু সরকারের পক্ষে তাদের খুঁজে বের করা কঠিন। এ অবস্থায় রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর ওপর নজরদারি বাড়ানো দরকার। আর বাহিনীগুলোর ওপর নজরদারির পাশাপাশি সরকারের পক্ষ থেকে রাজধানীসহ সারাদেশে এবিষয়ে সতর্কতা জারি করা দরকার।