ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

সাংসদ সুপ্রিয় হাসানুল হক ইনু ভাই-আজকের খন্ডিত জাসদের সভাপতি, বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ইতিহাসে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রথমবারের মতো মহাজোট থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য, টেলিযোগাযোগ সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটির বর্তমান সভাপতি,ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটিরও নেতা,মাঝে-মধ্যে পত্রিকার পাতায় দেশ-রাজনীতি নিয়ে বেশ গোছানো-সুন্দর কলামও লিখে থাকেন,বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে সরসরি অংশ নিয়ে একসময় যে দুই নেতা তখনকার তরুণ-ছাত্র-যুব সমাজের মধ্যে ব্যাপক সাড়া জানিয়েছিলেন, সেই মেজর আব্দুল জলিল এবং আ স ম আব্দুর রব যখন জাসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক-ঠিক সেই সময় হাসানুল হক ইনু ছিলেন অপর এক নেতা মার্শাল মণির সাথে জাসদের গোপণ সংগঠনের কর্ণধার, দেখভাল করতেন জাসদের কৃষিবিষয়ক কার্যক্রম।জাসদ নামক রাজনৈতিক সংগঠনটির যখন যৌবন কাল,তখন সারা বাংলাদেশের ছাত্র,যুব সমাজের কাছে হাসানূল হক ইনু তখন ছিলেন বলা যায় অল্পবিস্তর পরিচিতি,কারণ রাজনৈতিক দক্ষতা,ক্যারিশমা,আর তুখোড় বাগ্মিতার কারণে জাসদের সামনের কাতারে রব-জলিল-সিরাজ-শাহজাহান-জিকু আর সেনাবাহিনীর গোপন নিউক্লিয়াসের তাত্ত্বিক কর্ণেল তাহের এর উপস্থিতিই বেশী আলোড়িত হতো।জাসদের তাত্ত্বিক কাপালিক দাদা সিরাজুল আলম খানের আশীর্বাদ সব সময় ঐ সব নেতাদের কেন্দ্র করেই আবর্তিত হতো বলেই হাসানুল হক ইনু ভাইদের মতো নেতারা বরাবরই পর্দার আড়ালেই থেকে যান,বলা যায় থেকে যেতে বাধ্য হন।

জাসদ যখন ক্ষয় হতে হতে একেবারে ম্রিয়মান এক ব্রেকেট সর্বস্ব দল হয়ে যায়,তখন হাসানুল হক ইনু ভাইদের মতো নেতাদের কদর বেড়ে যায়,ব্রেকেট সর্বস্ব দলের কর্ণধার হওয়ার কারণে রাজনীতিতেও বেশ কদর বেড়ে যায়,এ ক্ষেত্রে ইনু ভাইয়ের দক্ষতার প্রশংসা না করলেই নয়।

হাসানুল হক ইনু ভাইয়ের সব চাইতে বড় যে কাজটি সকলের কাছে প্রশংসার দাবি রাখে,আর তা হলো তিনি বরাবরই যুদ্দ্বাপরাধি ও সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঘোর বিরোধী, জঙ্গীবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার,যদিও ১৯৮৬ সালের এরশাদ সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে গিয়ে তিনি তখনকার জামায়াতের আমীরের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের মধ্যে কোন ভুল ছিলো বলে মনে করেন না,এমনকি জামায়াত এর সাথে যুগপৎ আন্দোলনেরও বিরোধী ছিলেন না। সাম্প্রতিক কালে ইনু ভাই নিজ দলের রাজনৈতিক আদর্শ ও দর্শন প্রচারে যতনা ব্যতিব্যস্ত, ঠিক তার চেয়েও বেশী তিনি খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে বক্তব্য ও প্রচারে কোন কোন ক্ষেত্রে মহাজোট নেত্রী শেখ হাসিনার চেয়েও এক ধাপ এগিয়ে।রাজনীতিতে বিরোধীতা থাকবে,তাই বলে নীতি-হীন উচ্ছেদের রাজনীতি আমাদের সাধারণ জনগণকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে,তা কি ভেবে দেখছেন ইনু ভাই।দেশ ও জনগণের হাজারো সমস্যা থাকতে,সাম্প্রতিক কালের রোহিঙ্গার মতো মানবিক ইস্যূ,পাহাড় ধ্বংসের মতো চরম অমানবিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের হাত থেকে পাহাড়ের পাদদেশে বসবাসকারী নিরন্ন-অসহায় মানুষগুলোর সাহায্যে না এসে হঠাৎ করে খালেদা জিয়ার পিছনে কেন উঠে-পড়ে লেগে গেলেন? উদ্দেশ্য কি বুঝতে পেরেছেন, আগামী নির্বাচনে কোনভাবেই একক কিংবা দলগতভাবে জয়ী হয়ে আসতে পারবেননা,তাই মহাজোটের নেত্রীর কৃপা দর্শনের জন্য এতো সব অযাচিত বক্তব্য ও খালেদা জিয়া বিরোধী-মারমুখী বলয় তৈরীর চেষ্টা? নাকি এনভেলাপের রাজনীতির মোড়েল আপনার এনভেলাপের সংখ্যা নেহায়েত কম হতে শুরু করেছে বলেই এমন রুদ্র মূর্তি ধারণ?

রাজনৈতিক সাংগঠনিক শক্তি ও অবস্থানের কারণে হাসানুল হক ইনুর নের্তৃত্বাধীন জাসদ কোনভাবেই এমন কোন সামর্থ্য রাখেন না যে কোন ভাবে বাংলাদেশের বিরাজমান রাজনৈতিক অবস্থাকে ওলোট-পালট কিংবা প্রচলিত জনমতকে বিশালভাবে প্রভাবিত করারও কোন ক্ষমতা রাখেন বলে দৃশ্যত প্রতীয়মান হয়না-এটা যে কেউ সহজেই মানবেন বলে আমার বিশ্বাস।সম্প্রতি তিনি বিরোধীদলীয় নেত্রী এবং ১৮ দলের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে বহুল আলোচিত সেই মাইনাস টু ফর্মুলার আদলে মাইনাস ওয়ান করার ঘোষণা দিয়ে বেশ আলোচনার লাইম লাইটে চলে এসেছেন।অবশ্য ইনু সাহেব তার জোট নেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মতো মাঝে-মধ্যে বেফাস কথা বলার খ্যাতি অনেক আগেই কুড়িয়েছেন।তবে এইবার এখানেই তিনি থেমে থাকেননি,মানবজমিনের সাথে সাক্ষাৎকারে তিনি তার মাইনাস ওয়ান ফর্মুলা বাস্তবায়নের দৃঢ়তার সাথে অঙ্গীকার বলে ঘোষণা করেছেন,আরো বলেছেন,তিনি পাচ হাজার লোক নিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ীর সামনে মিছিল নিয়ে যাবেন,খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিদায় করার জন্য,সাথে আরো পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বি,এন,পি নেতা নজরুল ইসলামের বক্তব্য খন্ডন করে বলেছেন, তিনি তো আমার ক্ষমতা দেখেন নাই,যখন বাস্তবায়ন করবো তখন দেখবেন,ইত্যাদি।সম্প্রতি হাসানুল হক ইনু আবার জাতীয় সংসদের মতো মহান সংসদে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত ঔদ্ধত ভাবে খালেদা জিয়াকে রাজনীতি ছেড়ে দেওয়া সংক্রান্ত যে বক্তব্য দিয়েছেন, সর্বমহলে তা সমালোচিত ও নিন্দনীয় হয়েছে।খালেদা জিয়া নন বরং এতে ইনু ভাই আপনার রাজনৈতিক দেওলিয়াই প্রকাশিত হয়েছে।

জাতীয় সংসদের সম্মানিত সদস্য এবং একজন জাতীয় নেতার এই যখন অঙ্গীকার,তখন আমাদের রাজনৈতিক দৈন্য দশার চলমান অবস্থা ও চিত্র জানতে আমাদেরকে আর বেশীদূর যেতে হয়না।আমাদের দেশের রাজনৈতিক জট-ঝামেলা আর দৈন্যদশা থেকে সঠিক গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক চর্চা কেন যে শুরু করা যাচ্ছেনা,এই সব রাজনৈতিক নেতাদের মতো নেতৃত্বের অবস্থা দেখলে মোটামুটি ছোট করে হলেও পরিষ্কার একটা ধারণা পাওয়া যায়।

একজন সংসদ সদস্য হিসেবে আইন প্রণয়নে, বাস্তবায়নের গতি-প্রকৃতি মূল্যায়নে,নিজ এলাকা ও জনগণের কল্যাণে, সর্বোপরি টেলিযোগাযোগের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের অদূরদর্শিতা,স্বেচ্ছাচারিতা আর গাফিলতি ও দূর্নীতি দূরীকরণে কি ভূমিকা পালন করেছেন,মহাজোট সরকারের তিন বছরের কার্যক্রম পর্যালোচনা করলেই সহজে অনুমান করা যায়,আপনাদের অবস্থান এখন কোথায় আছে।

বরাবরই আপনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্দে বক্তব্য দিয়ে চমক সৃষ্টি করলেও ক্ষমতার অংশীদার হয়েই সেই রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের লালন ও পালন করা শুরু করে দিয়েছেন,অন্তত আপনার মতো রাজনীতিকের কাছ থেকে জাতি এটা কখনো আশা করেনা।

স্বীকার করি, মহাজোটের শরিক দল হিসেবে,ক্ষমতার ভাগ-ভাটোয়ারা পাওয়ার অধিকার আপনার ও আপনার দলের আছে,তিন বছরের মাথায় তা না পেয়ে মহাজোট নেত্রীর আশীর্বাদ পেতে উঠে-পড়ে লাগাটাই স্বাভাবিক,তাই বলে এমন অসংযত ও ধংসাত্ত্বক রাজনীতির চর্চা করতে হবে নাকি? নাকি আপনার মহাজোট নেত্রী তার রাজনৈতিক বক্তব্যের গ্রহণ যোগ্যতা হানিফ-কামরুলদের মুখ দিয়ে বেফাস বক্তব্য দিতে দিতে গ্রহণযোগ্যতা যখন একেবারে শুন্যের কোঠায় এসে ঠেকেছে,তখন আপনার কাধে ছোয়ার করে বাজারে মহাজোটের প্ল্যান চালু করার,যাচাই করার প্রাথমিক প্রয়াস?অবশ্য জাসদের সব নেতারাই বরাবরের মতোই ক্ষমতাসীনদের সেবা দাসের বা বাজার যাচাইয়ের কাজটা বেশ ভালোভাবেই করতে শিখেছেন, যেমন এর আগে করেছিলেন, তারই দলের নেতা রব,জলিল,তাহের,সিরাজ, আরেফরা,তাহলে ইনু সাহেব এখন বাদ যাবেন কেন?

ইনু ভাই,আপনার নিশ্চয়ই মনে থাকার কথা,সিলেটের জনসভায় আপনি যখন হঠাৎ হার্ট ফেইলুর করে জীবন সংকটাপন্ন অবস্থা,তখনকার প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াই আপনাকে বিশেষ ইমার্জেন্সী হেলিকপ্টারে করে ঢাকায় আনার ব্যবস্থা করে চিকিৎসার বন্দোবস্ত করেছিলেন।খালেদা জিয়ার সংকটকালীন সময়ে জীবনে প্রথমবারের মতো সংসদ সদস্য হয়ে আপনি ভালোভাবেই সেই জীবন বাচানোর প্রতিদান দিয়ে চলেছেন।কিছুদিন আগে বিনা কারণে আপনি খালেদা জিয়াকে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি হয়ে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছিলেন।আর এখন আপনি বলেছেন পাচ হাজার লোকের মিছিল নিয়ে খালেদা জিয়ার বাড়ির সামনে গিয়ে তাকে রাজনীতি থেকে সরিয়ে দিবেন।নজরুল ইসলাম ঠিকই বলেছেন,আপনার হুশ ঠিক নেই।এটা কোন সুস্থ্য লোকের বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতার রাজনৈতিক বক্তব্য হতে পারেনা।রাজনীতিকে রাজনৈতিক ভাবে মোকাবেলা না করে অরাজনৈতিক,অসুস্থ্য সংস্কৃতি চর্চা করলে দেশ ও জনগণের ভোগান্তি বৈ আর কোন মঙ্গল হবেনা।

প্রিয় ইনু ভাই,আপনার ভালোভাবেই জানার কথা খালেদা জিয়া কেবল বিএনপির নেত্রীই নন,দুই দুইবার জনগণের ভোটে নির্বাচিত বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীও।একই সাথে খালেদা জিয়ার সবচাইতে বড় যে পরিচয় সবকিছু ছাড়িয়ে জনগণের হ্রদয়ে স্থান করে নিয়েছেন,আর তা হলো আমাদের মুক্তিযুদ্দ্বে অসীম সাহসী যুদ্দ্বা,জেড ফোর্সের অধিনায়ক,সাবেক রাষ্ট্রপতি,আমি মেজর জিয়া বলছির কোটি বাঙ্গালীর প্রাণের মরহুম জিয়াউর রহমানের বিধবা স্ত্রী।এক এগারো এবং তৎপরবর্তি দমন-পীড়ন ও বর্তমান মহাজোট সরকারের হামলা-মামলা আর পুলিশী নির্যাতনের যাতাকলে পরে বিএনপির অগনিত নেতা-কর্মী যদিও শত চেষ্টার পরেও সংগঠিত হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেনা,তার উপর ১৮ দলের ৩৩ নেতাদের একসাথে জেলে পুরে এবং বেগম জিয়ার সবে ধন নীল মণি দুই পুত্রদের দেশের বাইরে রেখে খালেদা জিয়াকে অসহায় ভেবে,একের পর এক মামলা দিয়ে কাবু করে জব্দ করার মতলববাজি রাজনীতি কতটুকু সফল হবে,সে ব্যাপারে রাজনীতি বিশ্লেষকদের মধ্যে যথেষ্ট মতভেদ রয়েছে।কেননা জেনারেল এরশাদের দুঃসহ সামরিক শাসনের যাতাকলে থেকেও রাজনীতিতে একেবারে নবাগতা ও অপরিপক্ক থাকা স্বত্ত্বেও সেদিন খালেদা জিয়া যে দৃঢ়তার সাথে দল এবং আন্দোলন পরিচালনা করে কাংক্ষিত সাফল্য এনেছিলেন,তাতো আমাদের গণতান্ত্রিক আন্দোলন,সংগ্রামের ইতিহাসের গৌরবময় অংশ হয়ে আছে।তদুপরি ২০০৮ সালের সাধারণ নির্বাচনে সম্পূর্ণ বৈরি পরিবেশে এবং সীমাহীন বাধার প্রাচির ডিঙ্গিয়ে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার সময় যে দৃঢ় রাজনৈতিক মনোবল ও কর্মপন্থা দেখিয়ে কর্মী ও দলকে বলতে গেলে একাই টেনে নিয়ে একেবারে খাদে পড়া অবস্থা থেকে যেমন করে টেনে তুলে রাজনীতির কেন্দ্রে ফিরে এসে প্রমাণ করে দিয়েছেন,জনগণের আপোসহীন নেত্রী হিসেবে তিনিই পারেন কেবল এমন রাজনৈতিক প্রজ্ঞা ও কর্ম স্পৃহা প্রদর্শন করে লক্ষ্যে পৌছতে।সুতরাং হাসানুল হক ইনু সাহেব,খালেদা জিয়াকে বিরাজমান রাজনীতির দৈন্যদশার সুযোগে খালি মাঠে গোল করার অলিক স্বপ্ন দেখবেন না, এতে হিতে বিপরীতই হবে।কারণ খালেদা জিয়ার পেছনে শহীদ জিয়ার লক্ষ-কোটি ছাত্র-জনতা-পেশাজীবী এখনো ভ্যানগার্ড এর মতো দন্ডায়মান।খালেদা জিয়াও যদি আপনার মতো শিষ্টাচার বহির্ভূত রাজনীতি চর্চা করতে উদ্যত হন,তা হলে কাল যদি ছোট করে হলেও খালেদা জিয়া জিয়ার অগণিত ভক্তদের ডাক দেন আপনার বাড়ী ঘেরাও করে এর উপযুক্ত জবাব দিতে,তাহলে ভেবে দেখেছেন, আপনার অবস্থা কি হবে?আপনার মহাজোটের নেত্রী তখন আপনাকে সুরঞ্জিতের মতো এই রাখি,এই ছাড়ি,এই বসাই, এই আছড়াই অবস্থা করবে। ব্রেকেট সর্বস্ব রাজনৈতিক দলের প্রধান হয়ে যে বাহবা কুড়িয়ে আজ মাথা উচু করে চলতেছেন,কাল সেটা কোন ভাবেই কলুষিত হউক,অন্তত আমরা যারা আপনার মতো রাজনীতিকের আরো উচ্ছাসনের প্রতিনিয়ত শুভাকাঙ্ক্ষী,তারা কখনোই তা হতে দিতে পারিনা।

প্রিয় হাসানুল হক ইনু ভাই, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সাল এর দিকে পেছনে ফিরে তাকান,স্মৃতির পাতা একটু পেছনে ঘুরান,দেখবেন,এই আওয়ামীলিগের আর তার দোসর রক্ষীবাহিনীর দ্বারা জাসদের টগবগে দশ হাজার নেতা-কর্মীর লাশ এবং তাদের অসহায় পরিবারের মা-বাবা-ভাই-বোনদের কান্নার রোল আজও বাতাসে বয়ে বেড়াচ্ছে,আজও বাতাসে লাশের গন্ধ,তাদের করুণ আর্তনাদ বাতাসে শিহরণ তুলে চলেছে।কি ছিলো সেই সব হাজারো তরুণের অপরাধ?সমাজ বদলের অঙ্গীকার?এটাই কি অপরাধ?১৯৭৬ সালে কর্ণেল তাহেরকে মৃত্যুর মুখে কে বা কারা ছুড়ে দিয়েছিলো? তাহের ফাঁসিতে ঝূলে গিয়ে আপনাদের মতো নেতাদের জীবন ভিক্ষা দিয়ে জানান দিয়ে গেলো বিপ্লব কখনো মরে না,কখনো আত্মসমর্পণ করেনা।প্রিয় ইনু ভাই,জানি সেই সব কথা আজ আর আপনাকে ভাবায় না।আপনার চোখে-মুখে আজ মহাজোটের মন্ত্রীত্ত্বের টোপ,কি করে একবার ঐ স্বাদের ক্ষমতার চেয়ারে বসা যায়,সেটাই এখন বড় চাওয়া।

কুষ্টিয়ার প্রত্যন্ত এলাকার জনগণের সাথে কথা বলে,আর আপনার সংসদ সদস্য হওয়ার পরে কাজের অবস্থা দেখে মনে হয়ানা,আগামী নির্বাচনে যদি খালেদা জিয়ার বিএনপি এবং ১৮ দল জোটগতভাবে অংশ নেয়,তবে ১৪ দল কেন ২৮ দলের প্রার্থী হয়ে খোদ নৌকা মার্কায় চড়েও আপনি আবার জিতে আসবেন,সেই সম্ভাবনা একেবারে ক্ষীন।তাই বলে কি খালেদা জিয়াকে মাইনাস করে আপনার ভাষায় স্বৈরাচার এরশাদ সরকারকে নিয়ে আর বহুরুপী রাজনীতির সফল রঙ্গনায়ক ব্যারিষ্টার মওদূদকে নিয়ে নির্বাচন-নির্বাচন খেলার ফন্দি-ফিকিরের স্বপ্নে বিভোর হয়ে আছেন,তা কি বাস্তবের মুখ দেখবে বলে মনে করেন?

এই কিছুদিন আগেও আপনি অর্থমন্ত্রী মহোদয়কে কটাক্ষ করে ডিজিটাল না বোঝার মতো কথা বলে নিজের সংসদীয় কমিটির সাফাই গেয়েছেন,কিন্তু বাংলাদেশতো ভালো করে জানে আপনি এবং আপনার সংসদীয় কমিটি এবং আপনাদের মহাজোট এবং জাসদ মিলে বাংলাদেশকে কি পরিমাণ ডিজিটালাইজড করে চলেছেন।আজকেও দেখলাম জাসদের জেলা সম্মেলনে আমি সেই একই বক্তব্য তথা আপনার মিশনে আপনি আধা-জন খেয়ে চলেছেন,উদ্দেশ্য কিন্তু পরিস্কার নয়,গায়ে পড়ে ঝগড়ার গোঢ়তর কোন রহস্য নিশ্চয়ই আছে,আর কে না জানে রহস্য মার্কা রাজনীতিতে জাসদ সিদ্দ্বহস্ত। নানা সংবাদ সূত্রে আপনার বিরুদ্দ্বে কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ বিস্তর,যা বাংলাদেশে স্বাভাবিকভাবেই হয়ে থাকে বলে প্রচলিত,যদি তাই হয়,তা জেনে-শুনে আগামী রাজনীতির ভয়াবহতা থেকে নিজেকে বাচানোর দক্ষ কৌশলী খেলা যদি তা হয়ে থাকে,সে ক্ষেত্রেও দেশ ও জনগনের স্বার্থ-বিরুধী একেবারের বিবেকহীন কাজ বলে বিবেচিত হবে।

সুপ্রিয় ইনু ভাই, খালেদা জিয়া কিংবা বিএনপির রাজনীতির কোন সমর্থকও আমি নই।আপনি খালেদা জিয়াকে রাজনীতি থেকে বিতাড়িত করলে পারলে বরং বাংলাদেশ অন্তত এক আপদ থেকে রক্ষা পায় (এই অর্থে যে বাংলাদেশে কোন রাজনৈতিক দলের মধ্যে গণতন্ত্র চর্চা হয়না বা হতে দেওয়া হয়না,এতে এই দুই দল বলেন আর আপনার দল-তাতে জনগণের ভাগ্যের উন্নয়নের জন্য কারো কোন ভ্রুক্ষেপ নেই), কিন্তু আপনার মতো রাজনীতিকের কাছ থেকে হানিফ-কামরুলদের কিংবা সার্কাসের জোকারদের মতো লাগামহীন বক্তব্য আশা করিনা।আপনাদের মতো রাজনীতিবিদদের দ্বারা বরং জাতির এই সংকটকালীন দম বন্ধ হওয়া অরাজনৈতিক কর্মকান্ডের বিপরীতে উভয় দলকে গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে রেখে আলাপ-আলোচনা ও সংলাপের মধ্যদিয়ে গঠনমূলক রাজনীতি চর্চা করতে উদ্ভুদ্দ্ব করবেন জাতির সকল সাধারণ নাগরিকদের সাথে আমিও এই আশা করি।

দেশ ও জাতির রাজনৈতিক সংকট ও আপদকালীন সময়ে কতিপয় সুস্থ্য ও বিবেকসম্পন্ন নেতা ও দেশপ্রেমিক জনগণই মূলত মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকেন,যুগে যুগে তাই হয়ে থাকে,সমকালীন ও অতীত ইতিহাস তাই বলে। আমাদের বড় দুর্ভাগ্য যে,আমরা এখন সব অতীত ঐতিহ্য ভুলে গিয়ে হুজুগের তালে, পাগলের মতো,বেফাস কথা-বার্তা বলে পরিস্থিতিকে আরো জটিল করে তুলে অরাজনৈতিক শক্তিকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্র প্রস্তুত করে দিতেছি।আমাদের জাতীয় জীবনে এমনিতেই অনেক সমস্যা,তার উপর হুশ-বুদ্দ্বি-বিবেক-বিবেচনা এতো লোপ পেয়েছে যে,কে যে কি ভাবে কোন দিকে পালিয়ে গিয়ে মরবো,সে পথও আমরা রুদ্ধ করে দিতেছি। হায়রে আমাদের রাজনীতি,হায়রে আমাদের দেশপ্রেম!লাজ-শরম ভুলে গেলেই মানুষ কেবল এমন বেফাস-বেলেল্লাপনা আচরণ করে থাকে।আল্লাহ আমাদের সকলকে সুমতি দান করুন, আমিন।

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ, যুক্তরাজ্য থেকে
Salim932@googlemail.com
27th May 2012, UK(modified 6th July 2012).