ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

বাংলাদেশ আওয়ামীলীগঃ একুশ শতকের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কতটুকু সক্ষম!

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ,যুক্তরাজ্য থেকে-

বাংলাদেশে এখন পর্যন্ত সবচাইতে পুরনো,সবচাইতে সুসংগঠিত,সবচাইতে জনপ্রিয় রাজনৈতিক দল হিসেবে যে সংগঠনটি একেবারে গ্রামের ওয়ার্ড,মহল্লা থেকে শহরতলী,শহর,নগর,জেলা শহর এমনকি ঢাকা পর্যন্ত বেশ ঝাক-ঝমক ও দাপটের সাথে সর্বত্র ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পূর্ণাংগ,এমনকি কোন কোন স্থানে একাধিক কমিটি,উপ-কমিটি,গ্রুপ-প্রতি-গ্রুপ,পাল্টা-গ্রুপ সমানতালে বয়ে চলেছে,আর তাহলো বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ।বাংলাদেশের আনাচে-কানাচে দলটির রয়েছে অসংখ্য,অগণিত নেতা-কর্মী।বাংলাদেশের মাটি ছাড়িয়ে প্রবাসের যেই প্রান্তে বাংলাদেশীদের বসবাস,সেখানেও রয়েছে আওয়ামী লীগের এক বিশাল কর্মীবাহিনী। আমার আজকের লেখার উদ্দেশ্য সেই সব ফিরিস্তি গাওয়া নয়,বরং সম্প্রতি পত্রিকার পাতায় আওয়ামী লীগের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের কাউন্সিল-এর সংবাদ পড়ে,এবং পরবর্তীতে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক,স্থানীয় সরকার মন্ত্রী,সাংসদ সৈয়দ আশরাফের প্রেস-কনফারেন্সে আওয়ামী লীগের নতুন নের্তৃত্ব এবং তৃণ-মূল আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের দ্বারা নতুন নের্তৃত্ত্ব সৃষ্টির দৃঢ় আশাবাদ ব্যাক্ত করায়,একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমিও বেশ আশাবাদী হয়ে উঠি।আর মূলত সেই আশাবাদী হওয়া থেকেই আজকের লেখার অবতারণা।আজকের সকল আলোচনা তাই আওয়ামী লীগ কেন্দ্রিক হবে,অন্য কোন দলের আলোচনা, সমালোচনা অন্য আরেকদিন আরো এক কোন কলেবরে করা যাবে।আজকের আলোচনা মূলত নতুন এক আলোচনার সূত্রপাত,স্বাভাবিকভাবেই এটা নিয়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া,আলোচনা,সমালোচনা,নতুন চিন্তা-ভাবনা আশা করছি,যা আগামীদিনের রাজনীতির গতি-পথ নির্ধারণে গবেষণার কাজে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করি।কাউকে ছোট কিংবা কারো কোন বিরোধী বলয় তৈরী নয়,বরং বৃহত্তর গণতান্ত্রিক সমাজ ব্যাবস্থা ও গণতান্ত্রিক শাসন ব্যাবস্থা অব্যাহত ও উন্নত করার লক্ষ্যে আমার এই লেখার অবতারণা বৈ অন্য কোন উদ্দেশ্য নয়।

প্রাক-ভাবনাঃ-

০১) গণতান্ত্রিক যে কোন বিশ্বের যেমন ব্রিটেন,আমেরিকা,ফ্রান্স,ইটালী,দক্ষিণ আফ্রিকা,পাশের দেশ ভারত,শ্রীলংকা, প্রভৃতি দেশে সরকার পরিবর্তনের সাথে-সাথে নেতৃত্ত্ব যেমন পরিবর্তন এসে থাকে, সেটা যেমন প্রধান নেতা-নেত্রী থেকে শুরু করে একেবারে নীচের পদ-পদবী পর্যন্ত হয়ে থাকে এবং দলীয় কাউন্সিলের মাধ্যমে নিয়মিত নের্তৃত্ত্ব যখন পরিবর্তিত হয়ে থাকে,তাতে একইভাবে নয়া নেতা-নেত্রী দলটির শীর্ষ পদে যেভাবে দেখা যায়,একইভাবে ঐসব দেশের বিরোধীদলের শীর্ষ পদ-পদবীতে একই পন্থায় নতুন নের্তৃত্ত্ব আসীন হয়ে থাকেন।যেমন ব্রিটেনের লেবার দল,কনজারভেটিব পার্টি,লিবডেম,আমেরিকার ডেমোক্রেট এবং কংগ্রেস দল ইত্যাদি।

০২) সরকারী বা ক্ষমতাসীন দলের নতুন নেতা যেমন সাংবিধানিক ক্ষমতাবলে তার কেবিনেট সাজিয়ে থাকেন,একইভাবে বিরুধীদলের নেতা ও ছায়া সরকারের প্রধান হিসেবে তার টিম সাজিয়ে থাকেন,যারা প্রতিনিয়ত নানা তথ্য-উপাত্ত,গবেষণা করে,জনগণের নানান সমস্যা,সম্ভাবনা,আশা,আকাংখার কথাই শুধু নয়,প্রয়োজনে আইনের নানা খসড়া,বিল উত্থাপণ, আলোচনা, সমালোচনা, কনসাল্টেশন করে থাকেন।

০৩) বলাই বাহুল্য ওই সব গণতান্ত্রিক দেশে সরকারি এবং বিরুধীদল সংসদীয় সকল কমিটিতে আনুপাতিকহারে থেকে অংশগ্রহণ করে থাকেন,উভয়দলের সাংসদরা পার্লামেন্টে সকল ডিবেট আলোচনায় অংশগ্রহণ করে থাকেন।

০৪) এমনকি সরকারের প্রতি অনাস্থা,সরকারি বিভিন্ন সংস্থা ও প্রতিষ্টানের নানা অসঙ্গগতি,নানা দূর্বলতা,ইত্যাদি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিগুলোতে যাচাই-বাছাই ও আলোচিত হয়ে পথ ও পন্থার সুপারিশ করা হয়ে থাকে,ফলশ্রুতিতে পার্লামেন্টে তা আবার উত্থাপিত হয়ে বিষদ আলচনার পর গৃহীত হওয়ার রেওয়াজ রয়েছে।

০৫) ঐ সব দেশের গণতান্ত্রিক সরকার ব্যাবস্থায় সরকার এবং তার সকল প্রতিষ্টান,রাষ্ট্রের বিভিন্ন সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান,যেমন পুলিশ,আদালত,হাসপাতাল, বিচারবিভাগ,মন্ত্রণালয়,করবিভাগ,কর্পোরেশন ও মিউনিসিপ্যাল,ইউনিয়ন পরিষদ ইত্যাদি নিজ-নিজ নিয়ম-রুলস অনুযায়ী জনগণের কাছে দায়বদ্দ্ব সেবাদাকারী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রাষ্ট্রের ও জনগনের সেবা প্রদান করে থাকে।

০৬) নেলসন মান্ডেলা দক্ষিণ আফ্রিকার বর্ণবাদ বিরুধী আন্দোলনের নের্তৃত্ত্ব দিতে গিয়ে যে শ্বেতাঙ্গদের নির্যাতিত ও নিগৃহীত হয়েছিলেন,জেল থেকে মুক্ত হয়ে সেই শ্বেতাঙ্গ নেতা ডি-ক্লার্ক এর সাথে এক হয়ে দেশ গঠণে যেমন কাজ করেছেন,একইসাথে দক্ষিণ আফ্রিকার গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থাকে সুসংহত করতে পরবর্তীতে পার্টি প্রধান ও সরকার প্রধান থেকে সরে গিয়ে নতুন নের্তৃত্ব বিকাশের সুযোগ করে দিয়েছিলেন,ফলশ্রুতিতে কালো-আফ্রিকার একমাত্র ও একচ্ছত্র নেতার আসনে আজও সারাবিশ্বে তিনি সমানভাবে সমাদৃত।

০৭) আধুনিক মালয়েশিয়ার জনক মাহাথির মোহাম্মদ নিজ দেশ এবং সারা বিশ্বে মালয়েশিয়াবাসীর গর্ব ও অহংকারের জাতীয় প্রতীক হয়ে আছেন।মাহাথিরও দীর্ঘদিন দেশ শাসন করে নিজে সরে গিয়ে নতুন নের্তৃত্ব তৈরীর সুযোগ করে দিয়েছেন।

০৮) আর ব্রিটেন,আমেরিকায় যে দল ক্ষমতায় যায়,সেই দলের প্রধান কাউন্সিলের মাধ্যমে যখন নির্বাচিত হন,তিনিই সরকার প্রধান যেমন হয়ে থাকেন,এমনকি সরকারের মেয়াদ শেষে এবং কাউন্সিলের মাধ্যমে যখন নতুন নেতা নির্বাচিত হয়ে থাকেন,সরকার প্রধান কিংবা দলীয় প্রধান হিসেবে আর থেকে তিনি নতুন নের্তৃত্ব সৃষ্টির পথে বাধা হয়ে থাকেননা।আর তাতে দলের কাঠামো কিংবা শৃংখলা বিরুধী হয়না।

৬৩ বছরের পুরনো আওয়ামীলীগঃ-

এ বৎসর আওয়ামীলীগ তার ৬৩তম জন্মজয়ন্তী বেশ ধুম-ধামে পালন করেছে।করারই কথা।আওয়ামীলীগ বর্তমানে ক্ষমতাসীণ,এর নেত্রী মহাজোটের নেত্রী হিসেবে সরকারের প্রধানের মতো গুরু দায়িত্বে সমাসীন।আওয়ামীলীগ নেত্রী একই সাথে তাই দলটির সভানেত্রীও,আর এই সুবাধে তিনি দুইবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার মতো দুর্লভ গৌরবের অধিকারি হয়েছেন।উপমাহদেশের মধ্যে যে ক-টি পুরনো দল এখনো বেশ দাপটের সাথে রাজনীতির মাঠ গরম করে চলেছে,আওয়ামীলীগ তাদের অন্যতম।

আওয়ামীলিগ যখন জন্ম নেয়,অর্থাৎ মুসলিম শব্দটি বাদ দিয়ে যখন দলটি অসাম্প্রদায়িক এক চরিত্র গ্রহণ করে,তরুণ নেতা হিসেবে শেখ মুজিবুর রহমান যখন দলটির হাল ধরেন,তখনকার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে মুসলিম লীগ নামক আজকের অস্তিস্ত্ব সংকটে ম্রীয় থেকে ম্রীয়মান দলটি বিশাল সমর্থক ও নেতা-কর্মী নিয়ে রাজনীতির মাঠে ব্যাপক ভূমিকা রেখে চলেছিলো।তখনকার সামন্ত প্রভূ,ভূমি জমিদার শ্রেণী,অভিজাত মুসলিম সম্প্রদায়,বাঙ্গালী সাধারণ শিক্ষিত ও আধা-শিক্ষিত সর্বশ্রেণীর মুসলমানের কাছে মুসলিলীগ ছিলো আদর্শ এক রাজনৈতিক প্লাট-ফর্ম।আওয়ামীলীগের কম-বেশী সমসাময়িক বয়সী এই মুসলিমলীগ একসময় বিভক্ত হতে-হতে অবশেষে আজকের মুসলিমলীগ(কাদের) নামে সাইনবোর্ড সর্বস্ব একটি দলের জানান হিসেবে রয়েছে।

আজকের আওয়ামীলীগ বাংলাদেশের প্রতিটি রাজনৈতিক আন্দোলন-সংগ্রামের যেমন নের্তৃত্ত্ব দিয়েছে,একই সাথে শেখ মুজিবুর রহমান নামক এই রাজনৈতিক নেতাকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতির মর্যাদা ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর মতো অতি দূর্লভ এক মর্যাদার আসনে অলংকৃতও করেছে,তেমনি করে অসংখ্য জ্ঞানী,গুণী,ক্ষণজন্মা রাজনৈতিক নেতা,অর্থনীতিবিদ,রাষ্ট্র দার্শনিক,সমাজবিজ্ঞানী, লেখক, সাহিত্যিক, সাংবাদিক,বুদ্দ্বিজীবির জন্মও ব্যাপক পরিচিতি এনে দিয়েছে।বলা যায় শেখ মুজিব এবং আওয়ামীলীগ এবং বাঙ্গালী একে অন্যের পরিপূরক,একে অন্যার অলংকার।

বাংলাদেশ নামক রাষ্ট্রটির জন্মলগ্নের নের্তৃত্ত্বে আওয়ামীলীগঃ-

আওয়ামীলীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নের্তৃত্ত্বেই বাংলাদেশের সর্বস্তরের শ্রমিক,কৃষক,সাংবাদিক,সাহিত্যিক,ছাত্র ও যুব-সমাজ,পেশাজীবি, তৎকালীন ইপিআর,রাইফেলস,পুলিশ,সেনাবাহিনীর ঐক্যবদ্ব সংগ্রাম,আন্দোলন আর সশস্র মুক্তিসংগ্রামের মাধ্যমেই ১৯৭১ সালের ১৬-ই ডিসেম্বর পাক হানাদার বাহিনী ও তার দোসরদের পরাজিত করে বিজয়মাল্য পরিধান করে।১৯৬৯-এর গণ-অভ্যূত্থান,১৯৬৬-র ছয়দফা আন্দোলন,১৯৭১-র সাধারণ নির্বাচন এই সবই শেখ মুজিবুর রহমানের ক্যারিশম্যাটিক নের্তৃত্ত্বের ফলে বাঙ্গালী সফল সংগ্রামের মধ্যদিয়ে ১৯৭১ এ ২৬-শে মার্চ স্বাধীনতা লাভ করে।

বাংলাদেশের ধারাবাহিক রাজনৈতিক সংগ্রামের ইতিহাস সঠিক ভাবে পর্যালোচনা করলে দেখা যায়,তখনকার প্রেক্ষাপটে আওয়ামীলীগ নেতা বঙ্গবন্ধু তার রাজনৈতিক প্রজ্ঞা,দূরদর্শীতা,রাজনৈতিক কর্মসূচী প্রণয়ন,বাস্তবায়নের কৌশলে দৃঢ়তা ও কৌশলী ও দক্ষতার পরিচয় দিতে পেরেছিলেন বলে,সর্বোপরি জনগণের মাইন্ড সেটের ভাষা ব্যাপকভাবে উপলব্ধি করার অসাধারণ এক গুণ ছিলো বলেই তিনি আওয়ামীলীগের মতো মধ্যপন্থী এক মধ্যবিত্ত ও আধা-মধ্যবিত্ত ও হাতে গোণা গোটা দু-এক শিল্পপতিদের নিয়ে গড়া আওয়ামীলীগকে নিয়ে পাকিস্তানের বিশাল সুশৃংখল সামরিক,আধা-সামরিক,সামন্ত আমলা-বুর্জোয়া আর উগ্র-ইসলাম পন্থীদের সাথে সমানতালে পাল্লা দিয়ে বাংলাদেশের আন্দোলন-সংগ্রামকে স্বাধীকার আন্দোলনের সফল নের্তৃত্ব দিতে পেরেছিলেন।

মজার ব্যাপার হলো,ইতিহাস ঘাটলে যে তথ্য সবার কাছে সমানভাবে উঠে আসে,আওয়ামী লীগ প্রবাসী সরকারের নের্তৃত্ত্ব দিয়েছে তা যেমন সঠিক,তেমনিভাবে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে সমরাঙ্গে খুব কম সংখ্যক আওয়ামীলিগ-এর প্রথম সারির নেতাদের সরাসরি মুক্তিযুদ্দ্বে অংশ গ্রহণের সুযোগ হয়েছিল,এর নানাবিধ বাস্তব সম্মত কারণও ছিলো।তাই বলে তাদেরকে কোন অবস্থাতেই দোষারোপ করে সত্য আড়াল করার কোন কোন মহলের চেষ্টা যে অসততার উদ্দেশ্যেই করা হয়ে থাকে তাতে কোন সন্দেহ নেই।

নয় মাসের প্রত্যক্ষ মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে শেখ মুজিব পাকিস্তানের কারাগারেঃ-

আওয়ামীলীগের নের্তৃত্ত্বে দেশে সর্বত্র যখন সশস্র মুক্তিযুদ্দ্ব সর্বাত্নক যুদ্দ্বে রুপ পরিগ্রহ করে চলে,তখন পাকিস্তানের কারাগারের শেখ মুজিবের মৃত্যুর রিহার্সাল চলছিলো।শেখ সাহেব অত্যন্ত সাহসী ও দক্ষতার সাথে সেই ভায়ানক টর্চার সেলের বৈরী অবস্থা মোকাবেলা করেছিলেন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা পরবর্তী অবস্থায় আওয়ামীলীগঃ-

আওয়ামীলীগের নের্তৃত্ত্বে দেশ স্বাধীণ হলেও স্বাধীনতার অব্যাবহতি পরে দেশ শাসনের খুব একটা উপযুক্ত সময় ও পরিবেশ আওয়ামীলিগের ছিলোনা।তাছাড়া ১৯৭১ পরবর্তী সকল আর্থ-রাজনৈতিক ঘটনাবলী পর্যালোচনা করলে এ ব্যাপারে নানান যুক্তি,ঐতিহাসিক বাস্তবতা,দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্র,বিশেষ করে মার্কিন বলয় অনুকূলে না থাকা,প্রশাসনিকভাবে যে দূরদর্শীতার পরিচয় আওয়ামীলীগ নের্তৃত্ত্বের দেওয়ার আশা করা হয়েছিলো,যুদ্দ্বিকালীন সময়ের সশস্র যুদ্দ আর বক্তৃতার মাঠে মাঠ গরম করে যেভাবে নের্তৃত্ত্ব দক্ষতার পরিচয় দিয়েছিলো বোধগম্য অনভিজ্ঞতা এবং অবোধগম্য রাজনৈতিক-সামরিক-কূটনৈতিক বিশ্লেষনে সেই নের্তৃত্ত্ব ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছিলো,তা যেমন সত্য,একইভাবে বাঙ্গালীর স্বভাবজাত শ্রেণী চরিত্রের বাইরে এসে এবং মুসলমান নামের নিগূঢ় দাম্ভিকতার বৃত্ত ভাঙ্গার মনঃস্তাত্তিক শক্তি ও সামর্থ্যও তখনকার প্রেক্ষাপটে শেখ সাহেব ও আওয়ামীলীগের ছিলোনা বললেই চলে।

মুক্তিযুদ্দ্ব পরবর্তী ছাত্র-যুব সমাজ,বিভিন্ন শ্রেণী ও পেশার মানুষের মন-মানসিকতা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে আওয়ামীলীগ চরম ব্যার্থতার পরিচয় দিয়েছিলো,ফলে যুদ্দ্ব-বিধবস্থ ভঙ্গুর অর্থনীতি ও বিসশৃংখল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক অবস্থা নিয়ে বেশী দূরে যাওয়ারও সুযোগ ছিলোনা।আর বলা যায় সে গুলোকে যথাযথ ভাবে কাজে লাগানোর মতো দক্ষতা,মেধা ও কূটনৈতিক দূর্বলতার অভাব ছিলো।

১৯৭৫-এর চরম ট্রাজিক দেশী-বিদেশী ষড়যন্ত্রে বঙ্গবন্ধু স-পরিবারে নিহত হলে আওয়ামীলীগও নানান কারণে রাজনীতির দৌড়ে অনেক পেছনে পড়ে যায়।

এরশাদের সামরিক শাসন আওয়ামীলীগকে লাইমলাইটে নিয়ে আসেঃ-

১৯৮৩ সালে তখনকার সেনাবাহিনীর প্রধান হিসেবে এরশাদ-এর নের্তৃত্বে সেনাবাহিনী যখন এক বিশেষ ক্যূ-করে ক্ষমতা কুক্ষিগত করে,এর পরে নানা ধরনের পদ্ধতি আর ঘরোয়া রাজনীতির ও সংলাপের সুবাধে আজকের আওয়ামীলীগ বলা যায় ১৯৭৫-এর পট-পরিবর্তনের পর অনেকটা লাইমলাইটে চলে আসে।বলা যায় ঐ সময় থেকে দ্বিধা-বিভক্ত ও বহু উপদলে-কোন্দলে নাকাল আওয়ামীলীগকে এক কাতারে ঐক্যবদ্দ্ব করে একক বিরুধী রাজনৈতিক দল হিসেবে সুসংগঠিতভাবে ও নবাগতা হয়ে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দলকে পরিচালিত করার ক্ষেত্রে আজকের প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার ভুমিকা বিশেষভাবে প্রণিধান যোগ্য।শেখ হাসিনার দক্ষ ও কুশলী নের্তৃত্ত্বের কারণে একদিকে যেমন আওয়ামীলীগ আবার সুসংগঠিত হতে থাকে,একইসাথে সামরিক শাসন বিরুধী আন্দোলন গড়ে তুলতে ১৫ দলীয় ঐক্য জোটের নের্তৃত্ত্বের আসীন হন।

১৯৮৬-র নির্বাচনে আওয়ামীলীগের অংশ গ্রহণঃ-

ইতিমধ্যে আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধ্বি পেলে ও আওয়ামীলিগের ভাষায় আন্দোলনের কৌশল হিসেবে ১৯৮৬-র এরশাদ সরকার ঘোষিত সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামীলীগ অংশগ্রহণ করে,যা রাজনৈতিক অঙ্গনে অনেক প্রশ্নবোধক চিহ্ন হয়ে আছে।নির্বাচনে আওয়ামীলীগ প্রধান বিরুধীদলের আসন গ্রহণ করে ও সামরিক শাসন অবসানে ৭ম-সংশোধনী পাশে জাতীয় পার্টিকে সহায়তা করে।একদিকে সংসদ,অন্যদিকে রাজপথের আন্দোলনেও আওয়ামীলীগ সক্রিয় থাকে,এক পর্যায়ে ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের আন্দোলন আর ৭ দলের সরকার বিরুধী আন্দোলনের তীব্রতা বৃদ্ধ্বি পেলে আওয়ামীলীগ সংসদ থেকে পদত্যাগ করে,যা এরশাদ বিরুধী আন্দোলনের বেগ-কে আরো তীব্র করে তোলে।

১৯৯০-এর গণ-অভ্যূত্থান ও এরশাদের পদত্যাগঃ-

দেশের আপামর জনতার আন্দোলনের তীব্রতা ও গণরোষের প্রেক্ষিতে এক-পর্যায়ে জাতীয় পার্টি ও তার সরকার ক্ষমতা থেকে সরে যেতে বাধ্য হয়।ক্ষমতায় অধিষ্টিত হন সুপ্রীম কোর্টের প্রধান বিচারপতি শাহাব উদ্দীন আহমেদ।তিন জোটের রুপ-রেখা অনুযায়ী শাহাব উদ্দীণ সরকার ৯০ দিনের মধ্যে নতুন সাধারণ নির্বাচনের আয়োজন করলে সকল দল এতে অংশগ্রহণ করে,নির্বাচনে আওয়ামীলীগ নিরংকুশ সংখ্যাগরিষ্টতা পেতে ব্যার্থ হলে সংখ্যাগরিষ্ট দলের নেত্রী হিসেবে বিএনপি সরকার গঠণ করে।

নির্বাচনকালীন সময়ে আওয়ামীলীগ নেত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে রেডিও-টেলিভিশনে দেওয়া ভাষণ যে নির্বাচনে বিরাট নেতিবাচক প্রভাব ফেলে,নির্বাচন পরবর্তী আওয়ামীলীগ সেটা ভালোভাবে উপলব্ধি করতে পেরে ৫ বছর পরে তত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে আবার নির্বাচনের প্রাক্কালে শেখ হাসিনা স্বাধীনতা পরবর্তী বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামীলীগ সরকারের ভুলের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে মাথায় হিজাব-টুপি পরে,হাতে তসবিহ নিয়ে ছবি প্রকাশ করে বলা যায় বেশ ভালোভাবে নির্বাচনী বৈতরণী পার করে সরকার গঠণ করে,তখন আ স ম আব্দুর রব আর আনোয়ার হোসেনের সাহায্যে আওয়ামীলীগ ঐক্যমতের সরকার গঠণ করে।

সরকার গঠণের পর প্রথম দুই বছর আওয়ামীলীগ বেশ ভালোভাবেই দেশ চালাচ্ছিলো বলে অনেকেই বলে থাকেন,যদিও দলীয় ক্যাডার আর স্ব-জন প্রীতির প্রশ্রয় না দেওয়ার অভিযোগে মেজর (অবঃ)রফিকুল হকের মতো ভালোমানের দক্ষ নেতা ও সংগঠককে স্ব-রাষ্ট্রমন্ত্রীর পদ থেকে থেকে বিদায় নিতে বাধ্য করে আওয়ামীলীগ হাই কমান্ড বলে কথিত আছে।ঐ সময় সরকারের দুই বছর না পেরুতেই আওয়ামীলীগ আবার ৭৫-পূর্ববর্তী অবস্থায় নিজের স্ব-মূর্তিতে আভির্ভূত হতে থাকলে ক্রমেই আবার জনমতে ভাটা পড়ে।সরকারের পাচ-বছর মেয়াদ শেষে তাই নির্বাচনে চরম ভরাডুবি হয়ে ক্ষমতা থেকে আওয়ামীলিগকে বিদায় নিতে হয়।

২০০৮-এর নির্বাচনে বিপুল ভোটে আবার ক্ষমতায় ফিরে আসাঃ-

বিগত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় আওয়ামীলিগ নেত্রী সহ শীর্ষস্থানীয় আওয়ামীলীগ নেতা-কর্মী দূর্ণীতির অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেন,কেউ কেউ গ্রেপ্তার এড়িয়ে পলাতক-ফেরারী হয়ে যান।

অনেক নাটক, বহুল আলোচিত মেজর জেনারেল(অবঃ) হাসান মশহুদ এর নের্তৃত্ত্বাধীন দুদুক- এর দূর্ণীতি বিরুধী অভিযানের পর আর ডঃ শামসুল হুদার নের্তৃত্ত্বাধীন নির্বাচন কমিশনের অনেক সংলাপ আর বিদ্যমান নির্বাচনী আইনের অল্প-বিস্তর সংস্কার আর ভোটার আইডি কার্ড প্রবর্তনের পর ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদের সাধারণ নির্বাচনে শেখ হাসিনার নের্তৃত্ত্বে মহাজোট বিপুল সংখ্যাগরিষ্টতা অর্জন করে সরকার গঠণ করে।নির্বাচনের প্রাক্কালে আওয়ামীলীগ ও মহাজোট যে নির্বাচনী ইশতেহার প্রচার করে এবং নতুন প্রজন্ম ও ভোটারদের কাছে বিদ্যমান সকল সমস্যার সমাধানের,নতুন জব ক্রিয়েশন,বিদ্যুত সহ নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্য-মূল্যের সহজলভ্য ও সস্তার যে অঙ্গীকার করে,ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার নামে ভিশন-২০২০ যে স্বপ্ন দেখায়,তাতে সাধারণ ভোটার এবং অর্ধেকেরও বেশী নতুন ও তরুণ ভোটারদের মনে ব্যাপক আগ্রহ,ভরসা ও আশার নতুন প্রাণের সঞ্চার করে বলেই তরুণ ও নতুন প্রজন্মের ভোট ব্যাংক এর বদৌলতে আওয়ামীলীগ বলা যায় নীরব এক ভোট বিপ্লবের মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়।

নির্বাচনী ফলাফলে ও নির্বাচনী ইশতেহার ও আওয়ামীলীগের অঙ্গীকারের প্রতি তরুণ ও নতুন প্রজন্মের এই বিশ্বাসের ও আশা-আকাঙ্ক্ষার ফলে দেখা যায়-

০১)ব্যাপক জনগোষ্টী ও নতুন প্রজন্ম আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহার ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করে

০২)মানুষ চায় তাদের ভাগ্যের পরিবর্তন
০৩)দ্রব্য-মূল্যের উর্ধবগতি রোধ তথা চাল,ডাল,তেল সহ নিত্য-প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সহনশীল ও ক্রয়-ক্ষমতা এবং সহজলভ্য রাখা,বিশেষত মোটা চাল ১০ টাকা কেজি করার ঘোষণা গ্রামের ও শহরের মধ্যবিত্ত ও নিম্ন-মধ্যবিত্তদের আকর্ষণ করেছিলো

০৪)নতুন প্রজন্ম বিদ্যুত,আইন-শৃংখলা স্বাভাবিক,যোগাযোগ ও রাস্তা-ঘাট এর উন্নয়ন,অধুনিক তথ্য প্রযুক্তি সহজলভ্য ব্যাবহার,ইন্টারনেট যোগাযোগ সহজীকরণ,নতুন নতুন কর্মসংস্থানের ব্যাবস্থা,বিশেষত বিদ্যুতের অসহণীয় দুর্ভোগ থেকে রক্ষা এবং আইন-শৃংখলার উন্নতির প্রতিশ্রুতি সর্বস্তরের জনসাধারণের মাজে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছিলো।

০৫)ঘরে-ঘরে চাকুরী এবং বেকার ভাতা তথা গ্র্যাজুয়েট ইন্টার্ণীশীপ এর যে শ্লোগাণ আওয়ামীলীগ দিয়েছিলো তরুণ-তরুণী ও নতুন-প্রজন্মের মাঝে ব্যাপক সাড়া ও উদ্দীপনা জাগিয়েছিলো

নতুন প্রজন্মের স্বপ্ন-ভঙ্গ এবং আওয়ামীলীগের শাসন ও আজকের বাস্তবতাঃ-

শেখ হাসিনার সরকার গঠণ এবং তার কেবিনেট গঠণে বেশ চমক থাকলে তার সরকারের কর্মকান্ড এবং আওয়ামীলীগের দলীয় প্রভাব-প্রতিপত্তিতে নতুন প্রজন্ম এবং সাধারণ জনগণ বড় হতাশ।ক্রম বর্ধমান সন্ত্রাস,সরকার ও প্রশাসনে অন্ধ স্ব-জন প্রীতি,দলীয় ক্যাডার আর মাসলম্যানদের দৌরাত্ন,যত্র-তত্র,যখন-তখন খুন,খারাবী,গুম,হত্যা,আতংক,আইন-শৃংখলার চরম অবনতি,পুলিশ বাহিনীকে দলীয় কাজে অত্যধিক ব্যাবহার আর পুলিশের বেপরোয়া আর মারমুখী আচরণ,দ্রব্য-মূল্যের উর্ধবগতি সাধারণ নাগরিকদের ক্রয়-ক্ষমতার ও সাধ্যের বাইরে চলে যাওয়া,বিদ্যুতের অসহনীয় লোড শেডিং আর ঢাকা শহরে সু-পেয় পানির জন্য হাহাকার,নতুন প্রজন্মের কাছে ডিজিটাল বাংলাদেশের যে স্বপ্ন ও আশা দেখিয়েছিলো আওয়ামীলীগ,চাকুরী,শিক্ষার সুষ্টু পরিবেশ,পদ্মা সেতু প্রকল্প সহ পরিচ্ছন্ন জবাবদিহিমূলক সংসদীয় রাজনীতির স্বপ্ন দেখিয়েছিলো,তা মুলত ভেস্তে যেতে বসেছে বলে অনেকের সাথে আলাপ করে এই তথ্য পাওয়া গেছে।দূর্ণীতির বিরুদ্দ্বে আওয়ামীলীগের অবস্থানের অঙ্গীকার করে আজ সরকারের উপর থেকে নীচ পর্যন্ত সর্বস্তরে দূর্ণীতির যে মহোৎসব চলতেছে,তরুণ প্রজন্ম আর সাধারণ ভোটার আওয়ামীলীগকে নিয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেছে বলে বাজারে জোর চালু রয়েছে।মীর্যা আব্বাসের মতো ভদ্র বিরুধী রাজনীতিকের বাসা-বাড়ীতে স্ত্রী-মা-বোনদের পুলিশের বেপরোয়া লাঠিপেঠার তান্ডব,বিরুধী মত দমনের নামে পুলিশ ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে দমন-পীড়ন,বাসা বাড়ী থেকে যখন-তখন সাদা পোশাকের লোক পরিচয় দিয়ে রাজনীতিক,ব্যাবসায়ী,কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া ছাত্রদের উঠিয়ে নেওয়া,তারপরে আর কোন হদীস না পাওয়া,মানুষের মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে প্রশাসনকে যথেচ্ছ ভাবে ব্যাবহার করা,দলীয় নেতা-কর্মীদের দ্বারা নীতিহীন কাজ আর অরাজনৈতিক বক্তব্য প্রাদান,জাহাঙ্গীরনগর,জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়,চট্রগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়,ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় রাজশাহী সহ প্রায় প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগ নামধারী অশ্রধারীদের দাপট আর সন্ত্রাসের কাছে গোটা ছাত্র সমাজ আর শিক্ষাঙ্গন একপ্রকারের জিম্মি অবস্থায় থাকা,সাগর-রুণি হত্যাকান্ডের কূল-কিনারা করতে না পারা,নরসিংদীর নিজ দলীয় মেয়র লোকমান হত্যাকান্ড,আর তা থেকে মন্ত্রী ভাই আর প্রভাবশালীদের খালাস, নতুন প্রজন্মকে বড় হতাশ আর বিক্ষুব্ধ করে তুলেছে। পদ্মাসেতু, বিমান, শেয়ারবাজার,কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্ট,শিক্ষাঙ্গনে ভর্তিবাণিজ্যে,ট্রানজিট,আর সমুদ্রের নীচ দিয়ে অপটিক ফাইবার চ্যানেল আর স্যাটেলাইট চ্যানেলের পার্সেন্টেজ ব্যাবসায়ে প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবার,আত্নীয়স্বজন আর এসোসিয়েটস জড়িতদের কথা আজ দেশে-বিদেশে সর্বত্র গুঞ্জনের কেন্দ্রবিন্দুতে,যা নতুন প্রজন্মকে আশাহত করে তুলেছে।

গণতান্ত্রিক রাজনীতিতে অরাজনৈতিক দলীয় কাঠামোঃ-

এবারের আওয়ামীলীগের নির্বাচনী ইশতেহারের অঙ্গীকারের দেশের জনগনের মধ্যে ব্যাপক উদ্দীপনা ছড়াতে সক্ষম হয়েছিলো।জনগণ স্বাভাবিকভাবে আশা করেছিলো,বিগত এক এগারোর তত্বাবধায়ক সরকারের কাছ থেকে রাজনৈতিক দল হিসেবে আওয়ামীলীগ শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং যে ভাবে শীর্ষ নের্তৃত্ত্ব ঘোষণা করেছে,তৃণ-মূল পর্যায় থেকে নের্তৃত্ব গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আওয়ামীলীগ প্রয়াসী হবে,গণতান্ত্রিকভাবে সকলস্তরের নেতা-নের্তৃত্ত্ব নির্বাচিত হবে,গণতান্ত্রিকভাবে দল ও পরিচালিত হবে।দল এবং নের্তৃত্ত্ব নির্বাচিত করা দূরে থাক,৬৩ বছরের পুরনো আওয়ামীলিগ আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম করে আসতেছে,অথচ তার দলের কাঠামো,পরিচালনা,সিদ্দ্বান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া,নের্তৃত্ত্ব নির্বাচন,সবই অগণতান্ত্রিক পন্থায় হয়ে থাকে।এখন পর্যন্ত আওয়ামীলিগের কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কোন নের্তৃত্ত্ব,জাতীয় গুরুত্ব-পূর্ণ কোন সিদ্দ্বান্ত গ্রহণ,বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া কখনো গণতান্ত্রিক পন্থায় হয়েছে বলে দৃশ্যমান হয়নি।খোদ দলীয় সভানেত্রী ১৯৮১ সালের পর থেকে বলা যায় আজীবন তিনিই যতদিন বেচে থাকবেন,ততদিন,সভানেত্রীর পদ দখল করে আছেন,কাউন্সিল,সম্মেলন যাই হউক না কেন,সভানেত্রীর পদে শেখ হাসিনা আছেন,থাকবেন,এর বাইরে বিকল্প নের্তৃত্ব আওয়ামীলীগ ভুলেও চিন্তা করলে মহা-অপরাধ হয়ে যাবে।সভানেত্রী যাকে পছন্দ করবেন,তাকেই সাধারণ সম্পাদক করবেন।মজার ব্যাপার হলো,লক্ষ-কোটি টাকা খরচ করে যে কাউন্সিল,সম্মেলন করা হয়,সেখানেও সভানেত্রীর উপর দায়িত্ব দেয়া হয় পুরো কেন্দ্রীয় কমিটি করার।এর বাইরে গিয়ে কেউ যদি গণতান্ত্রিক কোন ব্যাবস্থায় নের্তৃত্ব বাছাইয়ের প্রস্তাব করেন,তাহলে তিনি হবেন বিদ্রোহী নয়তো মান্না-আখতার-সুলতান-জলিলের(হয়তো তাদের পন্থা ভুল পদ্দ্বতিতে ছিলো,কিন্তু বাস্তবে কেউ করলেই এই রকম সাজা) মতো সংস্কারবাদী,দল থেকে অবহেলিত,দন্ডিত,নয়তো বহিস্কৃত।লক্ষ-কোটি সদস্যের এই দলে নেত্রীর বিরাগভাজন হয়ে দল করার মতো এমন দুঃসাহস এখন পর্যন্ত কেউ করতে যেমন পারেননি,কেউ করলে আওয়ামীলীগ তা গ্রহণযোগ্য হবেনা।গণতান্ত্রিক পন্থায় সিদ্দান্ত গ্রহণ ও কার্যক্রম করার চেষ্টাকে দেখা হয়,নেত্রীর প্রতি বেয়াদবি,বিদ্রোহী,বিরোধীদলের এজেন্ট,দলভাঙ্গাকারী ষড়যন্ত্রকারী,এবং দলের সকল নেতা-কর্মীরা সেজন্য নেত্রীর জন্য জান-বাজী রাখতে প্রস্তুত।

পৃথিবীতে এরকম দ্বিতীয় কোন দেশের নেতা-নেত্রী পাওয়া যাবেনা,যেখানে মাসের পর মাস,বছরের পর বছর,যুগের পর যুগ একই ব্যাক্তি দলীয় প্রধান,দল যখনই ক্ষমতায় যাবে তখনি তিনি প্রধানমন্ত্রী-হোন তিনি সফল কিংবা অসফল,তার কথায় শেষ কথা,তার জন্য লোকে প্রাণ-বিসর্জন ও হানা-হানির মতো ঘটনা পৃথিবীতে আর কোন রাজনৈতিক দলে এমন করে করেনা,যেমনটা এখানে হয়ে থাকে।লক্ষ্যণীয়,পাহাড় সমান জনপ্রিয়তা নিয়ে বংবন্ধু শেখ মুজিব যখন ক্ষমতায় অধিষ্টিত হয়েছিলেন,আজীবন গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রামী সেই বঙ্গন্ধুও একসময় সকল দল নিষিদ্দ্ব করে একদলীয় শাসন-ব্যাবস্থা কায়েম করেছিলেন বা বাধ্য হয়েছিলেন।

অথচ দলীয় প্রচার-বুলেটিন আর গঠণতন্ত্রে গণতান্ত্রিকভাবে সকল নের্তৃত্ত্ব নির্বাচনের কথা রয়েছে,নেতা-নেত্রীরা যখন বক্তব্য-বিবৃতি দেন,অন্যদের সমালোচনা করেন,তখন কিন্তু খালি এই গণতন্ত্রের দোহাই দিয়ে থাকেন।আওয়ামীলীগ সবসময় দাবি করে থাকে তারা গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি,অথচ আওয়ামীলীগের প্রধান-প্রধান নের্তৃত্ব থেকে সর্বস্তরের নের্তৃত্ত্বই অগণতান্তিকভাবে গঠিত এবং পরিচালিত-
যেমন-
০১) ১৯৮১ সালের পর থেকে শেখ হাসিনা সভানেত্রী,এখনও সভানেত্রী-এটা অগণতান্ত্রিক ব্যাবস্থা

০২) সেই হিসেবে ১৯৯৬ সালে এবং বর্তমানে তিনিই প্রধানমন্ত্রী,আগামী টার্মে আওয়ামীলীগ যদি ক্ষমতায় ফিরে আসে তবে তিনিই হবেন আবার প্রধানমন্ত্রী-এটাও সর্বনিকৃষ্ট অগণতান্ত্রিক পন্থা।

০৩) তিনি যাকে চাইবেন তাকে দলে রাখতে পারবেন,বের করে দিতে পারবেন,যাকে ভালো বা পছন্দ করবেন তাকে সাধারণ সম্পাদক বানাবেন,সাংগঠণিক সম্পাদক বানাবেন,যদিও নাম থাকবে সম্মেলন ও দলীয় কার্যনির্বাহী সংসদ এই ক্ষমতা তার হাতে দিয়েছে,দেখুন কতো অগণতান্ত্রিক সিষ্টেম

প্রিয় পাঠক,এই যখন সর্ববৃহত দলের অবস্থা,যারা বর্তমানে ক্ষমতাসীন,তাদের কাছ থেকে দেশবাসী কি করে গণতান্ত্রিক শাসন,প্রশাসন ও স্বচ্ছ-জাবাবদিহিমূলক কর্মকান্ড আশা করেন।আওয়ামীলিগের এই দলীয় অবস্থা যে কেউ স্বীকার করবেন।আমার এখানে মিথ্যে বলার কোন অবকাশ নেই।

কারণ-

০১)অগণতান্ত্রিক পন্থায় পরিচালিত নের্তৃত্ব নয়া গণতান্ত্রিক স্বৈরাচারী সরকার ও প্রশাসনের জন্ম দিয়ে থাকে,যা আমরা সকলেই কম-বেশী দেখে আসতেছি।

০২)অগণতান্ত্রিক ভাবে গঠিত নের্তৃত্ব কখনো গণতান্ত্রিক স্বচ্ছ-জবাবদিহিমূলক প্রশাসন উপহার দিতে পারেনা,

০৩)অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত নের্তৃত্ত্ব সব সময়ই হয় কঠোর,নিষ্টুর, সেকেলে,মান্দাতার আমলের ধ্যান-ধারণায় পর্যবসিত,নতুন চিন্তা-চেতনা ও নতুন টেকনোলজি ও প্রযুক্তির সাথে চলতে অক্ষম,৪০ বছরের বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল প্রমাণ

০৪)অগণতান্ত্রিক ভাবে গঠিত ও লালিত নের্তৃত্ত্ব কখনোই যুগের চাহিদা ও উন্নত-আধুনিক বৈশ্বিক ডিপ্লোম্যাসী ও আন্ত-ভৌগলিক রাজনৈতিক চাল-চলনের সাথে চলতে ও মানাতে অক্ষম বিধায় টার্গেটকৃত প্রকল্প,টেকসই উন্নয়ন, অংশীদারিত্ত্বের গণতন্ত্র চর্চা করতে পারেনা,যুগের সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো বিন্যাস করতে ব্যার্থ হয়,বিচার ও নির্বাহী বিভাগকে নিজের করায়ত্ত্ব করার হীন মানসিকতা থেকে বেরিয়ে এসে দক্ষ ও উন্নত করার চর্চা যেমন করতে পারেনা,একই সাথে উন্নত প্রযুক্তির অপব্যাবহার করে থাকে, সংবিধানের উন্নত রুপ দিতে ব্যর্থ হয়,নতুন প্রজন্মের চাহিদা ও সরবরাহের যোগানের সাথে সামঞ্জস্য রেখে কর্মপন্থা বের করতে অজ্ঞ থাকে।ফলে নতুন প্রজন্ম আধুনিক সকল সুযোগ-সুবিধার দক্ষ ব্যাবহারের ক্ষেত্রে থাকে বঞ্চিত।

০৫) অগণতান্ত্রিক নের্তৃত্ত্ব বাজার অর্থনীতিতে একেবারেই বেমানান,বৃহৎ জনগোষ্টীর জন্য বাজার অর্থনীতি থেকে কল্যাণকর ব্যাবস্থা করায়ত্ব করতে ব্যার্থ হয়্‌,ফলে গরীব আরো গরীব হয়,ধনী আরো ধনী হয়।

০৬) অগণতান্ত্রিক ভাবে গঠিত নের্তৃত্ব এবং যুগের পর যুগ একই নের্তৃত্ত্ব প্রচলিত ধারণার বাইরে বা বৃত্তের বাইরে যেতে অক্ষম ও ব্যার্থ বলেই রাষ্ট্রের সকল সেবামূলক প্রতিষ্টানকে কখনোই গণতান্ত্রিক স্বায়ত্বশাসিত জবাবদিহিমূলক প্রতিষ্টানে
পরিণত করতে পারেনা,যেমন আমাদের পুলিশ,আনসার,বিডিআর,রাব ,গোয়েন্দা সংস্থা, হাসপাতাল, করবিভাগ,ভূমিবিভাগ, কর্পোরেশন, মিউনিসিপ্যালিটি,সিটি কর্পোরেশন-এই সব প্রতিষ্টানের হেন কোন সেবা নেই যে জনগণ তীক্ত অভিজ্ঞতার মুখোমুখী হননি।

০৭) অগণতান্ত্রিক ভাবে গড়ে উঠা নের্তৃত্ত্ব চরম অসহিষ্ণু ও হিংসুক হয়ে থাকে,দেশকে কখনো উন্নতির শিখরে নিয়ে যেতে পারেনা,জ্বালাও-পোড়াও নেতিবাচক রাজনীতির চর্চা ও লালন করে থাকে-৪০ বছরের বাংলাদেশের অগণতান্ত্রিক পন্থায় গঠিত নের্তৃত্বই তার জ্বলন্ত প্রমাণ।

০৮) অগণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত নের্তৃত্ত্ব সব-সময়ই দলীয় কোন্দল,আনুগত্য প্রত্যাশী,হানা-হানির বিষ-বাস্প ছড়ায়,লাশের রাজনীতি উৎসাহিত করে,নতুন-নতুন কর্ম-পরিকল্পণার বদলে ব্যাক্তি ইমেজ ও পারিবারিক ইমেজ এর রাজনীতিতেই ক্রমাগতভাবে অভ্যস্থ হয়ে পরে,কি করে রাষ্ট্রের গোটা সম্পদ নিজের ও অধীনস্তদের করায়ত্ব করা যায়,সেদিকেই বেশী মনোনিবেশ থাকে।

০৯) অগণতান্ত্রিক নের্তৃত্ত্বের ফলে দলে আরো যেসব পদ-পদবী থাকে,তারা যেমন নিজেদের দায়-দায়িত্বের কথা ভুলে গিয়ে একব্যাক্তির সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাতিব্যাস্ত থাকে,নিজের পদের সঠিক কাজের কোন প্রকাশ,মূল্যায়ন, চর্চা, কনসালটেশন করার সুযোগ এবং ক্ষেত্র কোন অবস্থাতেই না থাকার কারণে দলটি যখন সরকার গঠণ করে,সেই সব পদ-পদবী আর সম্পাদক কোন কাজে লাগেনা, তখন তাকে বিভিন্ন গোষ্টী ও আমলার এবং বিশেষজ্ঞদের স্মরণাপন্ন হতে হয়,যারা কখনোই দলের কোন পর্যায়ে ছিলোনা,কর্মী-সমর্থক ও দেশের আপামর জনতার সাথে সম্পর্কহীন সেই গোষ্টী এবং বিশেষজ্ঞ দেশ,দল ও সমাজের প্রতি দায়-বদ্দ্বতার পরিবর্তে থাকে একব্যাক্তি ও তার প্রভুর সন্তুষ্টি অর্জনে ব্যাস্ত,ফলে উন্নয়ন হয় বাধাগ্রস্থ,গণতন্ত্র হয় ব্যাহ্‌ত, ৪০ বছরের বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।

১০) অগণতান্ত্রিক ভাবে নির্বাচিত দলীয় নের্তৃত্ব ও সরকার প্রধান,দলের রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক,সামাজিক কর্মসুচী আধুনিকায়ন ও যূগোপযোগী ও সময়ের চাহিদা নিয়ে কোন আলোচনা ও কনসালটেশন করতে অভ্যস্থ নয়,বরং সে মনে করে তাবত বিষয়ে সে অভিজ্ঞ,তার সামনে কেউ কথা বলে তার পার পাবেনা, ৬৩ বছরের আওয়ামীলীগ তাই দেশ ও জাতির উন্নয়নে কোন দর্শন,কোন সামাজিক,রাজনৈতিক,অর্থনৈতিক মুক্তি ও উন্নয়নের কোন কর্মসূচী সুচারুভাবে জাতির সামনে উপস্থাপন করতে পারেনি,অথচ বারের বার তারা ক্ষমতাসীন হয়ে আছে,ফলে দেশের ও জনগণের তেমন কোন উন্নতি সাধিত হচ্ছেনা।

১১) অগণতান্ত্রিক নের্তৃত্ত্ব জানেনা প্রশাসন,নির্বাহী বিভাগ,বিচার বিভাগ আইন বিভাগ কিভাবে স্বচ্ছ ও আধুনিক ও জবাবদিহি করতে হয়।বাংলাদেশের চিত্র তাই বলে।

১২) অগণতান্ত্রিক নের্তৃত্ব সংসদীয় গণতন্ত্রের প্রাণ জাতীয় সংসদের স্বয়ংসম্পূর্ণতা এবং সংসদকে সকল কর্মকান্ডের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত করতে ব্যার্থতার পরিচয় দিয়ে থাকে,৪০ বছরের বাংলাদেশ তাই বলে।

প্রিয় পাঠক উপরের এতোসব চাক্ষুস প্রমাণিত কারণ সমূহই বলে দেয়,আওয়ামীলীগ-এর এই রকম গড়ে উঠা ও চর্চা করা প্রচলিত গণতান্ত্রিক ব্যাবস্থায় অগণতান্ত্রিকভাবে গড়ে উঠা নের্তৃত্ত্ব দ্বারা আজকের যুগের বিরাজমান চাহিদা,সমস্যার পাহাড় মোকাবেলা করে সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া কোনভাবেই সম্ভব নয়।আওয়ামীলীগ নের্তৃত্ত্ব ও হাইকমান্ড আজকের যুগের এই চাহিদা বুঝতে ও উপলব্ধি করতে অক্ষম।যদি তাই না হতো তবে,নিশ্চয়ই আওয়ামীলীগের মধ্য থেকে নতুন নের্তৃত্ত্ব গঠণের ও বিকাশের প্রক্রিয়া আস্তে-ধীরে সূচিত হতো।বিরাজমান পুরনো নের্তৃত্ত্বের ধরন ও পদ্ধতি নিয়ে আওয়ামীলীগ দেশটাতে অনেক পরীক্ষা-নিরিক্ষা করার সুযোগ যেমন পেয়েছে,প্রমাণিতভাবেও দেখেছে পুরনো,সেকেলে,মান্দাতার আমলের নের্তৃত্ত্ব দিয়ে অধুনিক বিশ্বের ও যুগের চাহিদার সাথে খাপ-খেয়ে চলতে অপারগ শুধু নয়,ব্যার্থ,দেশ ও জাতির কাংখিত উন্নয়ন করতে পারেনি,সম্ভবও নয়।এখানে যেমন বিপ্লব করাও সম্ভব নয়,সেই সব ক্ষেত্র ও উপাদান অনুপস্থিত,সুতরাং বিকল্প হলো,নতুন নের্তৃত্ত্ব বিকশিত হওয়ার সুযোগ করে দিয়ে সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবে নয়া নের্তৃত্ত্ব নির্বাচিত করে সেই নের্তৃত্ত্বের মাধ্যমে দেশ পরিচালিত হলে যুগের চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে দক্ষ প্রশাসনিক কাঠামো গঠণ করে উন্নয়ন পরিকল্পণা হাতে নিয়ে এগিয়ে গেলে জাতীয় উন্নয়ন সাধিত হবে।আওয়ামীলীগ কি তাই করবে?বিরাজমান বাস্তবতা হলো তা কখনো করবেনা।তাই বলে আওয়ামীলীগের বিরোধীতা করতে বলছিনা।কারণ এই মুহুর্তে আওয়ামীলীগের বিকল্পতো দেখছিনা,আর আওয়ামীলীগ তা ভালো করে জানে বলেই এই সুযোগটা বেশ ভালোভাবে কাজে লাগাচ্ছে।তারপরেও আশা কি করতে পারিনা,বাংলাদেশের হাজারো-লক্ষ-কোটি মুজিব অনুসারী আওয়ামীলীগের নের্তৃত্ব কাঠামো,নির্বাচন পদ্দ্বতি সম্পূর্ণ গণতান্ত্রিক ভাবে গঠিত ও পরিচালিত হউক-নিশ্চিয়ই আজ হউক কাল হউক তাই করবেন কাউন্সিলররা।আর তা যদি করতে ব্যার্থ হন,৪০/৫০ বছরের পুরনো মুসলিমলীগকে বাঙ্গালী যেভাবে ছূড়ে ফেলে দিয়েছে,একদিন যে গাদ্দাফি লিবিয়ার জন্য ছিলো অপরিহার্য-যে তার জনগণকে রাজার হলতে রেখেছিলো,কিন্তু গণতন্ত্রের প্রকৃত সাধ দিতে ব্যার্থ হয়েছিলো,২০ বছর দেশ শাসনের পরেও নিষ্টুর নিয়তির করুণ পরিণতির হাত থেকে রেহাই পায়নি,যেমন করে পায়নি ইরাকের সাদ্দাম হোসেন,মিশরের হোসনী মোবারক, আমাদের হোসেইন মোহাম্মদ এরশাদ, একদিন আওয়ামীলীগকেও আগামী প্রজন্ম তাই করুক মুজিবের অগণিত অনুসারীরা কখনো তা চাইবেননা।তাই আজ বাংলাদেশের উন্নয়নের স্বার্থে,দক্ষ নের্তৃত্ত্ব গড়ে তোলার স্বার্থে আওয়ামীলীগের সত্যিকারের সংস্কারের আওয়াজ তোলা উচিৎ এবং সেটা যত শীগ্র হয় দেশ ও জনগণের জন্য ততোই মঙ্গল জনক হবে।কারণ দলের সংস্কার হলে নের্তৃত্ত্বের
সংস্কার,আর নের্তৃত্ত্বের সংস্কার ও আধুনিকায়ন হলে,জাতির উন্নয়নের সংস্কার সাধিত হয়,আর জাতির উন্নয়নের সংস্কার সাধিত হলে জাতীয় উন্নয়ন যেমন সাধিত হয়,নাগরিক সুযোগ-সুবিধা তেমনকরে সাধিত হয়,জাতীয় অর্থনীতির গতি সঞ্চারিত হয়,প্রকল্প বাস্তবায়নের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়ে।

(আগামী কিস্তিতে বিএনপি,তৃতীয় কিস্তিতে জামায়াত,-আপনার মূল্যবান পরামর্শ,আলোচনা,সমালোচনা বৃহৎ জাতীয় স্বার্থে আশা করছি)।

Syed shah salim ahmed
tweet@salim1689
Salim932@googlemail.com
08th July 2012,UK.