ক্যাটেগরিঃ প্রবাস কথন

শিরোনামহীন ব্রিটেনের কাহিনী- দ্বিতীয় পর্ব

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ,যুক্তরাজ্য থেকে-

গল্পের প্লট হাসপাতাল এর ভিতরে-

মোহনকে নিয়ে পুলিশের এম্বুলেন্স রয়েল হাসপাতালের এএন্ডই-তে যখন পৌছে,তখন ঘটে যায় ডাক্তারের নাটকীয় পরিবর্তন।ডাক্তার মহাশয় বেকে বসেন।আমার রেজিষ্টার্ড পেশেন্টকে বিনা অপরাধে এবং বিনা অভিযোগে নির্মমভাবে পিঠিয়ে প্রায় সঙ্গাহীন অবস্থায় কেন এখানে নিয়ে আসা হয়েছে,তার ব্যাখ্যা চেয়ে বসেন?পুলিশ কিংবা উপস্থিত কেউ সদুত্তর দিতে না পারায় প্যারামেডিক্স সহ উপায়ান্তর না দেখে মোহনকে নিয়ে পুলিশ ভ্যান ও এম্বুলেন্স ছুটে চলে পার্শ্ববর্তী ছোট শহরের হাসপাতালের দিকে।সেখানে ভর্তি করা হয় জরুরী বিভাগে,মোহনকে চিকিৎসকরা জরুরী চিকিৎসা দেওয়ার পাশা-পাশি পুলিশের বক্তব্য হাসপাতাল এ রেকর্ডভূক্ত করে রাখেন।কনসালট্যান্ট সঙ্গত কারণেই খুজতে থাকেন মোহনের নিকটাত্নীয় ও পরিবার-পরিজনদের, ইতিমধ্যে বিলকিস অবস্থা আদ্যোপান্ত পর্যবেক্ষণ করতে পেরে হাসপাতালে এসে উপস্থিত হয়ে যায়।মোহনের ভাই-বোনের সামনে এমন কান্না-কাটি শুরু করে যে,উপস্থিত সকলেই বিলকিসের কান্না দেখে সহানুভূতি দেখাতে থাকলে মোহনের ভাইদের সাথে এক চোট কথা কাটা-কাটি হয়ে যায়।মোহনের ভাইয়েরা জানতে চান,এতো অল্প সময়ের ভিতরে কি এমন ঘটে গেলো যে বিলকিসকে পুলিশের স্পেশাল টিম ডাকতে হলো?আর ডেকেই যখন বসলো,তখন পুলিশের বেধড়ক পিঠুনি থেকে কেন মোহনকে রক্ষা করা গেলোনা? পলিশ কল করার আগে কেন একবারের জন্য হলেও ভাইদের খবর দেওয়া হলোনা ?এতোসব প্রশ্নের জন্য বিলকিস ইতস্তত করছিলো,কি জবাব দেবে,তাই ঘটা করে চিৎকার করে শুধু কাধতে থাকে আর মোহনের জন্য দরদ দেখাতে থাকে চোখের জল ভাসিয়ে।

পরিস্থিতি আরো জটিল হয়ে উঠে,পুলিশের সার্জেন্ট যখন এসে বলেন,পুলিশকে কেউ তথা বিলকিস কখনো ইনফর্ম করেনি মোহন অসুস্থ্য,সুতরাং পুলিশ সমস্ত ঘটনার জন্য দুঃখিত এবং আইনগত ও যুক্তিসঙ্গত সর্বপ্রকারের সহযোগীতা দিতে প্রস্তুত।ওয়েটিং রুম থেকে পুলিশ বেরিয়ে যাওয়ার সাথে-সাথে বিলকিস কেধে-ফেঠে বলতে থাকে,এই আপনাদের ছোট-ছোট বাচ্চারা আপনাদের ভাইয়ের অবস্থা দেখে পুলিশকে ওরা ইংরেজীতে কি বলেছে,আল্লাহই জানেন,ও মাইগো,আমার সোনাইরা (মোহন-বিলকিস এর মেয়ে)পুলিশ ডেকে ওর আব্বার এই হাল করছে,ও আল্লাহ আমাকে বেচে থেকে এটাও দেখতে হলো,ও আল্লাহগো…কান্না আর থামেনা।মোহনের ভাইয়েরা বলে বাচ্চারা কি করে কল করে,এতো ছোট-ছোট বাচ্চারা নাম্বার কি করে ঘূরায়?ভাইদের মাথায় কিছুতেই তা বোধগম্য হয়না।

এদিকে কেবিনের ভিতর মোহনের জরুরী চিকিৎসা চলতেছে,আর সঙ্গা ফিরলেই মোহন ভিড়-ভিড় করে শুধু বলতে থাকে,বিলকিস পুলিশ আমাকে মেরে ফেলতেছে,আমাকে বাচাও।

এই যখন অবস্থা চলতে থাকে,বিলকিসের মোবাইলে কল আসে বিলকিসের বড় বোন এর কাছ থেকে,দুই বোনের মধ্যে কি যেন আলাপ চলে বেশ ফিস-ফিসিয়ে,তারপর বিলকিস এসে বলে,সোনাইরা যদি পুলিশ কল না করতো তাহলে কি আজ এই দশা হতো।বিলকিস বলতে থাকে,আমি আমার মোহনকে সুস্থ্য না করে হাসপাতাল থেকে ফিরে যাবোনা।আপনারা সকলেই বাসায় গিয়ে রেষ্ট নেন।আমার দুধের শিশু সহ বাচ্চাদের আমি একেলা বাসায় রেখে এসেছি,তাতে কি ওদের জন্য আল্লাহ আছেন,আমি মোহনকে এইভাবে রেখে কোথায়ও যাবোনা।

গল্পের দৃশ্য হাসপাতালের বাইরে-

মোহনের অসুস্থ্যতার চিকিৎসার পরিবর্তে ওকে বাচানোর চিকিৎসা চলতেছে,কনসালট্যান্ট যখন সাফ এই কথা জানিয়ে দিলেন,বিলকিস ও তার আগেকার বক্তব্য থেকে সরে আসতে থাকলো।
এখন বিলকিস বলতেছে,মোহন সোফার ওয়্যার খুলে নিজেই ফাস লাগতে চেয়েছিলো,তাই সোনাইরা পুলিশ ডেকে বসে মোহনকে বাচানোর জন্য।ইতিমধ্যে বিলকিস এর বড় বোন চার ঘন্টার পথ ড্রাইভ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে চলে আসে বিলকিসের বাসায়।বিলকিস-এর বড় বোন আসার পর থেকে বিলকিস বলতে থাকে,মোহন ঘূমের মধ্যে হঠাৎ করে এতো পাগলামী করে বসে যে,তাকে বাচানোর জন্য পুলিশ কল করা ছাড়া আর কোন পথই খোলা ছিলোনা।ইংরেজী না জানার কারণে বিলকিস উপস্থিত সময় পুলিশকে আর রুখতে পারেনি।এই ভাবে সময় যত পেরুতে থাকে,বিলকিস ও তার বক্তব্য চেইঞ্জ করতে থাকে।এতে দেখা যায় বিলকিস প্রতি ঘন্টায় তার বক্তব্য পাল্টিয়ে গল্পের নতুন মোড় দিতে ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে উঠে।

মোহন এখনো হাসপাতালে,অবস্থার তেমন কোন উন্নতি না হওয়াতে তাকে স্থানাস্তর করা হয় আরো এক হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার জন্য।বিলকিস সারাক্ষণ থাকে হাসপাতালে,আর বিলকিসের বড় বোন তার বাচ্চা-কাচ্চাদের নিয়ে বাসায়,এই অবস্থায় মোহনের ভাই-বোন-মা মোহনের চিকিৎসা আর ছোট বাচ্চাদের খোজ-খবর নিয়ে ব্যাতিব্যাস্ত হয়ে আছে,যেমন করে আছে বিলকিস।এরই মধ্যে চলছে জীবন যেখানে যেমন,পুলিশও তাদের ইনকোয়ারী শুরু করে দিয়েছে।

গল্পের বিপরিত আরো এক সত্য ঘটনা অবলম্বনে নয়া কাহিনী-

প্রিয় পাঠক মোহন-বিলকিসের উত্থান-পর্ব দেখতে আমাদেরকে ইন্ডিপেন্ডেন্ট পুলিশ কমিশনের রিপোর্ট এবং হাসপাতাল থেকে মোহনের ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হচ্ছে,তাই চলুন গল্পের আরো এক বাস্তব ঘটনার বিপরিত কাহিনীর ভিতর আরোহন করে আসা যাক।

গল্পের ঘটনার স্থান লন্ডনের প্রাণ কেন্দ্র-

ডেভিড মিশেল গার্ডেন এর ১৫ তলা ফ্ল্যাটের ৭ নম্বর ফ্লোরের বাসিন্দা নাজমা,ষোড়শী,সদ্য বিবাহিতা,বাবা-মায়ের পছন্দের পাত্র,দেশ থেকে আসা দুঃসম্পর্কের আত্নীয় আবু জিন্দাল।বিয়ের আগ থেকে নাজমা অনেক ছেলে বন্ধুদের সাথে সম্পর্ক গড়ে উঠে,যা নাজমার পিতা-মাতাকে বেশ ভাবিয়ে তুলে।কিছুতেই যখন নাজমাকে মা-বাবা বশে আনতে পারছিলেননা।তখনই দেশ থেকে আসা সুন্দর,ভদ্র,সহজ-সরল আবু জিন্দালকে হাত ছাড়া করতে চাননি।ছলে-বলে কৌশলে নাজমাকে আবু জিন্দালের সাথে বিয়ে দিয়ে দেন।

গল্পের স্থান যখন দেশে-

বিয়ের পরে অনেক নাটকীয় ঘটনার পর এবং বেশ মুন্সিয়ানার সাথে মা-বাবা নাজমা ও আবু জিন্দাল কে দেশে পাঠিয়ে সংসার করাতে থাকেন,উদ্দেশ্য আবু জিন্দালের বাবা-মায়ের সাথে থেকে কিছুদিন তাদের সেবা-যত্ন করার।ইতিমধ্যে নাজমা ও আবু জিন্দালের কোলে জন্ম নেয় তিন-চারটি ফুট-ফুটে সন্তান।বাবা-মা সহ সকলেই খুশী।নাজমার পরিবার ভাবে নাজমা হয়তো এইবার পরকীয়া থাকে ফিরে আসবে,ড্রাগস এর নেশাও ছেড়ে দিবে,কারণ সংসারের বেশ ক-বছর হতে চললো নাজমা ও আবু জিন্দাল দেশে বেশ সুখেই আছে,তাছাড়া বাচ্চা-কাচ্চা ও হয়ে গেছে।তাই নাজমার কথায় বাবা-মা তাদেরকে আবার লন্ডনে নিয়ে আসেন।

গল্পের স্থান আবারো লন্ডনে

নাজমা লন্ডনে এসেই আবু জিন্দালকে বুঝিয়ে বলে তুমি বাচ্চা-কাচ্চাদের দেখা-শুনা করো,আর রাতের বেলা রেষ্টুরেন্ট এ কাজ খুজে নেও,তাতেই আমাদের চলবে,কারণ আমিতো দিনের বেলা কাজ করবো।সহজ সরল জিন্দাল তাতে আহ্লাদে আটখান হয়ে যায়,সে দিনের বেলা বাচ্চাদের দেখ-ভাল করতে থাকে,আর নাজমা কাজের কথা বলে প্রতিদিনকার মতো বাইরে-বাইরে থাকে,ঘর থেকে যখন বেরিয়ে যায়,তখন মাথায় স্কার্ফ দিয়ে বেশ ধর্মীয় পোশাক পরিধান করে যায়,বাসা থেকে বের হয়েই পাবলিক টয়লেটে ঢুকে জিন্স শার্ট-প্যান্ট আর কখনো মিনি স্কার্ট পরিধান করে বন্ধুদের সাথে আড্ডায় চলে যায়,চলে সমান তালে মদ্যপান,ড্রাগস সেবন,আর বন্ধুদের নিয়ে যখন তখন বিছানায় যাওয়া।মাঝে-মধ্যে জিন্দালের কাছে এমন সব উঠকো খবর আসলে জিন্দাল তা কানে নিতে চায়না।নাজমার বাবা-মা এবং ভাইয়েরা নাজমাকে রাস্তায় পেয়ে বুঝানোর ব্যার্থ চেষ্টা করেছেন,অবশেষে বাধ্য হয়ে আবু জিন্দালকে পরামর্শ দিয়েছেন নাজমাকে কন্ট্রোল করার জন্য।এই নিয়ে আবু জিন্দাল নাজমার সাথে পরে আলাপ করবে বলে ঐ দিন নাজমা ফিরে আসার পর কাজের সময় হওয়াতে রেস্টুরেন্ট এ চলে যায়।

গল্পের পাত্র যখন চরম নাটকীয় মিথ্যে মামলার আসামী হয়ে জেলে –

কাজ শেষে অনেক রাতে যখন ফিরে তখন দেখে বিবি-বাচ্চারা ঘুমিয়ে পড়েছে,তাই আর না ডেকে নামাজ পড়ে সেও শুয়ে পড়ে।পরদিন যখন এই নিয়ে কথা হয়,তখন দুজনের মধ্যে বেশ ঝগড়া হয়ে যায়,নাজমা আবু জিন্দালকে বাসা থেকে বের করে দেওয়ার হুমকি দেয়,এমনকি দেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ভয় দেখায়।আবু জিন্দাল তাই চুপসে যায়।তারপরেও দুজনের খট-খটানি যেন থামেনা।নাজমা বলে তুমি বেশি বাড়া-বাড়ি করলে,আমার স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করলে, তোমাকে এখান থেকে বের করে দেবো,তুমি যখন জেনেই গেছ,তা হলে এখন থেকে আমার বন্ধুদের আমার ফ্ল্যাটে এনে রাখবো,দেখি তুমি কি করো?আবু জিন্দাল বাচ্চাদের কথা বলে,মান-ইজ্জতের কথা বলে,আল্লাহ-রসূলের ভয় দেখায়,কে শুনে সেই সব।একটু পরেই ফোন করে বন্ধুদের ফ্ল্যাটে নিয়ে আসে,সমান তালে চলে মদ,ড্রাগস সেবন,আবু জিন্দালকেও ওরা আহবান করে তাদের পার্টিতে যোগ দিতে,আবু জিন্দাল সেই সবে ভ্রক্ষেপ না করে বাচ্চাদের নিয়ে পাশের রুমে চলে যায়।ইতিমধ্যে নাজমা তখন তার ছেলে-বন্ধুদের নিয়ে আরেক রুমে ঢুকে যখন দরজা লাগিয়ে দেয়,তখন আবু জিন্দাল এসে বাধা দেয়।নাজমা তাতে ক্ষেপে যায়।বন্ধুদের দিয়ে আবু জিন্দালকে বেদম পেঠাতে থাকে,আধ-মরা করে বলে বেরিয়ে যেতে,আবু জিন্দাল তখন বাচ্চাদের জড়িয়ে ধরে ঢুকরে কেধে ওদের পায়ে পরে বলে, ওকে যেন বের করে না দেওয়া হয়,তাহলে তার বাচ্চারা যাবে কোথায়,বাচ্চাদের দেখ-ভালের জন্য হলেও যেন তাকে এখানে থাকতে দেওয়া হয়।নাজমা যখন বুঝতে পারে এতো পিঠা খাওয়ার পরেও আবু জিন্দাল যখন বাসা থেকে যাবেনা বলে ঠিক করেছে,তখন সে আরো এক নাটক করে বসে।ড্রাগস এর নেশা জিন্দালের হাতে দিয়ে,মদের বোতল মেঝেতে ছূড়ে মেরে,কিচেন থেকে নাইফ এনে জিন্দালের হাতে দিয়ে বন্ধুদের দিয়ে ধরিয়ে,বোতলের কাচ দিয়ে নিজের হাত কেটে রক্ত বের করে বলে পুলিশ কল করো।

পুলিশ এসে আবু জিন্দালকে ধরে লক-আপে নিয়ে যায়,নাজমার ষ্ট্যাটমেইন্ট নিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়,নাজমার বন্ধুরা সব আবু জিন্দালের বিরুদ্ধে স্বাক্ষী হয়ে যায়।জিন্দাল ড্রাগসের আসামী বনে জেলে চলে যায়।

জেল ফেরৎ জিন্দাল-

ইতিমধ্যে খবর পেয়ে নাজমার মা-বাবা-ভাই চলে আসেন,বাচ্চাদের দেখা-শুনার জন্য,চেষ্টা তদবির করতে থাকে আবু জিন্দালকে ছাড়িয়ে আনার,নাজমাওকে সুপথে আনার।কিন্তু কে শুনে কার কথা।নাজমার সাফ কথা,তাকে তার মতো চলতে দিয়ে হবে,কারণ সে বলে সে ব্রিটিশ,সে তার জীবন তার মতো চালাবে,বাধা দেবার কে?আবু জিন্দাল ছাড়া পেতে পারে,লিগ্যাল হতে পারে, যদি তার এই সব বেহিসেবি কাজ-কর্মে কোন বাধ না সাধে।নাজমার মা-বাবা লইয়ারের সাথে পরামর্শ করে নাজমার শর্তে রাজি হয়ে আবু জিন্দালকে জেল থেকে বের করে নিয়ে আসেন।

জিন্দালের শুকরিয়া এবং নাজমার বেডরুমে ছেলে বন্ধু-

জেল থেকে ফেরার পর আবু জিন্দাল আল্লাহর দরবারের শুকরিয়া আদায় করে,নাজমা সুপথে এসেছে মনে করে,কারণ সে তার বাচ্চাদের কারণে তার ভুল বুঝতে পেরে জিন্দালকে নিয়ে আবার সংসার শুরু করেছে।জিন্দাল মনে মনে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় কর্‌ রাতের বেলা কাজে চলে যায়।গভীর রাতে কাজ থেকে ফিরে বাসায় ঢুকে নামাজ-কালাম পড়ে বেড রুমে যখন শুতে যাবে,তখন ভূত দেখার মতো মাথা গরম হয়ে যায়,দেখে নাজমা তার এক বন্ধুকে নিয়ে শুয়ে আছে।সে এখন কি করবে ভেবে পায়না।নিজের বেড রুমে এই অবস্থা দেখতে পেয়ে আর সহ্য করতে না পেরে চিৎকার করে উঠে।

নাজমা তখন পুলিশ কল করে বসে,পুলিশ এসে আবু জিন্দালকে বাসা থেকে বের করে দেয়,জিন্দাল যতই বলে এটা আমার ঘর,আমার বাচ্চারা এখানে শুয়ে আছে,নাজমা আমার স্ত্রী,পুলিশ তাতে কর্ণপাত করেনা,কারণ পুলিশের একটাই কথা নাজমার জীবনের জন্য তুমি হুমকীস্বরুপ,তুমি এখান থেকে চলে না গেলে আমরা তোমাকে এরেষ্ট করে নিয়ে যাবো।আবু জিন্দাল বাধ্য হয়ে বাসা থেকে বের হয়ে গভীর রাতে রাস্তায় চলে আসে,আসার সময় এক নজর নিজ সন্তানদের দেখতে চেয়েছিলো,একটা গরম কাপড় আনতে চেয়েছিলো,নাজমা এতো নিষ্টুর আচরণ করে যে,তাও সম্ভব হয়নি।

জিন্দাল এখন লন্ডনের রাস্তায়-

গভীর রজনীতে লন্ডনের রাস্তায় খালি পায়ে আবু জিন্দাল হাঠতে থাকে,শীতে পা থর থর করে কাপতে থাকে,পা যেন চলতেই চায়না,কি করবে ভেবে পায়না,চিৎকার করে কাধতে ইচ্ছে করে,পারেনা কারণ ভয়,পাশে যদি কেউ কমপ্লেইন করে বসে এতো রাতে শোরগোল করার জন্য…………।

(প্রিয় পাঠক, নাজমার সাথে আবু জিন্দালের আবারো সমঝোতার চেষ্টা চলছে,মুরুব্বীদের কথামতো জিন্দাল আবারো নাজমাকে নিয়ে বসবাস করবে বলে আভাস পাওয়া গিয়েছে…এই পর্যন্তই জিন্দালের খবর…)

(আগামী পর্বে এক জনপ্রিয় সমাজপতির ভয়ংকরভাবে প্রতারণা আর সন্ন্যাসী হয়ে চলা সহ আরো মর্মস্পর্শী বাস্তব ঘটনার খন্ড-খন্ড চিত্র –বিপরিত চিত্র)।

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ।
Salim932@googlemail.com,tweet@salim1689
24th June 2012.UK