ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

লাখো কন্ঠে জাতীয় সঙ্গীতের রেকর্ডঃবিশ্বকে জানিয়ে দিলো ব্রিটেন প্রবাসীরা আমরাও পারি (ভিডিও)

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে

বাংলাদেশের ৪৪ তম স্বাধীনতার ঊষালগ্নে সমগ্র বাংলাদেশের সাথে ব্রিটেনের হাজারো নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে গাইলেন “আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসি”। মা, মমতা আর মাতৃভূমির প্রতি প্রাণের টান, হাজারো মিলিত কণ্ঠের অপূর্ব এক ধ্বনি আজ ব্রিটেনের আলতাব আলীর সবুজ চত্বরের এই বুক থেকে ব্রিক লেনের কোল ঘেঁষে একেবারে প্রান্ত রেখা ছুঁয়ে আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে দিলো বিশ্বময় এক জ্যোতির্ময়ী অমৃত সুধার এক বাণী- প্রিয় বাংলাদেশ আমি তোমাকে ভালো বাসি। এ ভালোবাসা- আমার প্রাণের চেয়েও প্রিয়।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবসের ঊষা লগ্নে গত মধ্যরাতেই এই আলতাব আলী পার্কে হাজারো নারী পুরুষ প্রাণের স্পন্দনে মিলিত হয়ে শত শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মোমবাতি প্রজ্বলনের মাধ্যমে তাদের প্রাণের আকুতি, প্রাণের স্পন্দন প্রকাশ করেছিলেন। বড় বেশী দামে কেনা আমাদের এই স্বাধীনতার ঊষা লগ্নে পাকিস্তানী ঘাতকেরা বড় নির্মম পৈশাচিক ভাবে হত্যা যজ্ঞে মেতে উঠেছিলো। বিশ্বের বুকে মানবাধিকার লংঘনের এমন নির্লজ্জ দৃষ্টান্ত, রক্তের এমন হোলি খেলা আর দ্বিতীয়টি নেই। তাইতো প্রতিবছর ২৫ মার্চের কালো রাতে বাঙালিরা ছুটে চলেন শহীদ মিনারে, শহীদদের আত্মার কাছে। ফিরে যান সেই সব হায়েনা আর পশুদের ধিক্কার জানাতে।

আর আজকে ২৬ মার্চের সূর্যোদয়ের এই সকালে বাংলাদেশ জেগে উঠলো নতুন প্রাণের আলোয়। ব্রিটেনের বুকে আলতাব আলী পার্কে প্রবাসী বাঙালিরাও আজ সমবেত হয়ে গাইলেন, বাংলাদেশের আপামর জনতার সাথে একাত্ম হয়ে একীভূত হয়ে গেলেন, জানান দিলেন পৃথিবীর যেই প্রান্তে আমরা থাকিনা কেন, দিনশেষে বাংলার মায়ের কোলে আমরা ফিরে আসি। বাংলাদেশ আমাদের প্রাণের দেশ।কারণ এদেশটিকে আমরা বড় ভালোবাসি।প্রজন্ম একাত্তর, উদীচী, ঘাদানিক,আওয়ামীলীগ, যুবলীগ,কমিউনিষ্ট পার্টি,জাসদ, বাসদ,ন্যাপ,ফ্রেন্ডস অব ছাত্রইউনিয়ন, ওয়ার্কাস পার্টি, বিলেতের সাংবাদিক, কবি, সাহিত্যিক, তরুণ প্রজন্ম আর বিলেতে বেড়ে উঠা একদল উজ্জ্বল আর উচ্ছল তারুন্য সব মিলে মিশে একাকার এক মোহনায়, বেজে উঠলো সেই অমিয় সুর, জীবনের গান, জনতার জয়গান, প্রানের গান-আমার সোনার বাংলা।সঞ্চালনায় আওয়ামীলীগের সেক্রেটারি সাজিদুর রহমান ফারুক আর স্বেচ্ছাসেবকদের অক্লান্ত পরিশ্রম আর বৃষ্টি উপেক্ষা করে ঠায় দাঁড়িয়ে নারী পুরুষ যুবা সকলেই গেয়ে উঠলেন ঘড়ির কাটায় তখন পড়ন্ত বিকেল বেলা ঠিক পাঁচটা, শিল্পী আলাউর, সাথে ব্রিটেনের বাংলার দামাল ছেলেদের কন্ঠে একি সুর একই গান আমার সোনার বাংলা, আমি তোমায় ভালোবাসি। পেছনে তাকিয়ে দেখি কবি শামীম আজাদ, নাট্যাঙ্গনের পরিচিত মুখ স্মৃতি আজাদ, ক্যামেরার বিশেষ কাজের মুন্সীয়ানায় পারদর্শী সহকর্মী লিপি হালদার, ছড়াকার দিলু নাসের, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তানিম রীয় সেলিম- সবার কন্ঠে একই সুর একই গান।এ অন্য রকম এক অনুভুতি, অন্য রকম এক ভালোবাসা- যে ভালোবাসা বলা যায়না, ছোয়া যায়না,ভাগ করা যায়না, বুঝে নিতে হয় হ্নদয়ের অতলান্ত গভীরতা আর বুক ভরা নিশ্বাস নিয়ে। এমনি এক ভালোবাসার সুন্দর নাম আমার সোনার বাংলা…..।

ব্রিটেনের হাজারো নারী পুরুষ ছেলে বুড়ো বুড়ি যখন সমস্বরে গেয়ে উঠছিলেন, আমার সোনার বাংলা, তখন বিশ্বাস করুন, হে প্রিয় জনগণ, আমাদের চোখের সামনে তখন ভেসে উঠছিলো বাংলা মায়ের মুখচ্ছবি। আমাদের তখন কারো মনে হয়নি আমরা প্রবাসে ব্যস্ত নাগরিক জীবনে পড়ে আছি। এ যেন এক নতুন বাংলাদেশ-প্রবাসের মাটিতে এক খণ্ড বাংলা-পদ্মা মেঘনা যমুনা সুরমা শঙ্খ নদীর কোলে ভেসে চলা আমার বাংলা, মধুমতি ভাগীরথীর কোল ঘেঁষে বয়ে চলা, বাংলার আম কাঁঠাল ঝাউয়ের শনৈ শনৈ পাল তুলে চলা নৌকার কলতান। নারী পুরুষ সকল প্রবাসী তখন প্রাণ খুলে আকাশের পানে মুখ উঁচু করে বড় গর্ব করে গাইলেন আমি তোমায় ভালোবাসি। এ ভালোবাসা বড় নিখাদ, বড় অকৃত্রিম। এতে নেই কোন পাপ, নেই কোন পঙ্কিলতা, নেই কোন গ্লানি, নেই কোন কুটিল রাজনীতি।

আলতাব আলী পার্ক থেকে আমার সোনার বাংলা আমি তোমায় ভালোবাসির শ্লোগান একে একে গেয়ে বয়ে চলে ব্রিক লেনে, ইষ্টলন্ডন হয়ে টেমসের পার ঘেঁষে, পূর্ব থেকে পশ্চিমে, উত্তর থেকে দক্ষিণে, বাঙালি যেখানে যেমন করে চলেন, সেখানেই মনের অজান্তে গেয়ে চলেন সোনার বাংলা তোমায় ভালোবাসি। এভাবেই বয়ে চলা, বিশ্বকে জানান দেয়া, আমরাও পারি। আমরাই বীরের জাতি, বিশ্বে অনন্য এক স্বাধীন সার্বভৌম জাতি- সুন্দরের বাংলাদেশ, নতুন স্বপ্নের বাংলাদেশ, আগামীর বাংলাদেশ।

Salim932@googlemail.com
26th March 2014,London.