ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

 

তারেক রহমান কেন এমন বিতর্ক সৃষ্টি করলেন ?

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ-লন্ডন থেকে

হঠাত করেই অনেকটা ধুমকেতুর আলোকচ্ছটার ন্যায় লন্ডন থেকে দেশের রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়ালেন বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমান।এমনসব রাজনৈতিক ঐতিহাসিক প্রতিষ্ঠিত সত্যকে তিনি নানা প্রশ্নের ধুম্রজালে ও কতিপয় রেফারেন্সের সামনে পেছনের অংশ বাদ দিয়ে চুম্বক ও সুবিধাজনক অংশ বেছে বেছে নিয়ে নিজের বক্তব্যের উদ্ভট থিওরি দল ও জনগণের সামনে এমন খোলাসাভাবে নিয়ে আসলেন কেন ? মিডিয়াও জেনে শুনে এরকম প্রতিষ্ঠিত ও শাশ্বত ঐতিহাসিক সত্যকে তারেক রহমানের জবানীতে নতুন করে চলে আসাতে অনেকটা লুফে নিয়ে একেবারে আনকাট অবস্থায় বেশ ফলাও করে কেনইবা প্রচার করলো ? গত ২৫মার্চের লন্ডনের বক্তব্যের পর পরই সপ্তাহ খানেক ঘুরেই আবার হঠাত করে তোড় জোড় করে কেনইবা তারেক রহমান বঙ্গবন্ধুকে অবৈধ প্রধানমন্ত্রী বলছেন ? কি এর কারণ ? লক্ষ ও উদ্দেশ্যইবা কি ? রাজনৈতিক ময়দানে নতুন রাজনীতি চর্চার কথা বলে স্বাধীনতা, বঙ্গবন্ধু ও প্রথম রাষ্ট্রপতি নিয়ে হঠাত করে তিনি ঝাপিয়েইবা কেন পড়লেন ?

 

২৫ মার্চ লন্ডনে তারেক যে বক্তব্য দিয়েছেন- সেই বক্তব্য যে দুর্বল ও ইতিহাসের কষ্টিপাথরে ঠিকবেনা- সেটা তারেক রহমান নিজেও জানেন। আর জানেন বলেই তারেক রহমান তার ২৫ তারিখের বক্তব্যের ধারাবাহিকতা রক্ষা কল্পে নতুন বেগ ও মাত্রা নিয়ে এসে আওয়ামীলীগকে ঝাঁকিয়ে দেয়ার জন্যে ৮ এপ্রিল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে কড়া মন্তব্য করে বসলেন। কিছু কিছু রেফারেন্সও দিয়েছেন, যা বিএনপির নেতা কর্মীদের চাঙ্গা ও উজ্জীবিত রাখতে সহায়তা করবে।তারেক রহমানের বক্তব্য আমি নিজে সামনে থেকে শুনেছি।আমার নিজের কানকেও ৮ তারিখ আমি বিশ্বাস করতে পারছিলামনা- একি শুনছি।যারা হাত তালি দিয়েছেন, তারা নিতান্তই দলীয় অন্ধ সাপোর্টর এবং অবশ্যই তৃতীয় বিশ্বের রাজনৈতিক নেতাদের এই অন্ধ সাপোর্টার আর অতি উৎসাহী নামের শুভাকাঙ্ক্ষীরা নেতার বারোটা বাজানোর জন্যে এ এডভান্স এলিম্যান্টস হিসেবে কাজ করেন, সেদিন তাদের অতি উৎসাহ আর হাত তালি দিয়ে তারেক রহমানের বক্তব্য সমর্থনে তাই করেছেন, তাতে অবাক হইনি। বাঙালি শ্রেণী চরিত্রে ইংরেজ উপমহাদেশ থেকে বিদায় নেয়ার আগে সঙ্গোপনে এই কাজটি বেশ দক্ষতার সাথে আমাদের নাড়ি ও অস্থিমজ্জায় ঢুকিয়ে দিয়ে গিয়েছিলো-যার রেশ যুগ যুগান্তরে চলছে।

তারেক রহমান সেদিন যে সব রেফারেন্স সমাবেশে দিয়েছিলেন, সেই সব রেফারেন্সের কথিত জনকেরা বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে, ৭৫ এর পট পরিবর্তন যখন হয়ে যায়, তখন ঘটনার আবর্তে ঘুর পাক খেয়ে খেয়ে পরিবর্তিত ও আবর্তিত হয়ে সুবিধাবাদী রূপ বা চরিত্র ধারণ করেছিলেন এবং তাদের বক্তব্যও তখন পরিবর্তিত হয়েছিলো-সেটা ৭১-৭৫ এবং ৭৫-৯৬ সালের বাঙালি মাত্রই অবগত আছেন, যা আর্কাইভে ও বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় তার যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। এহেন সুবিধাবাদী শ্রেণী চরিত্রের উক্তিকে তারেক রহমান অত্যন্ত কৌশলে সামনে নিয়ে এসে কিছুটা আপেক্ষিক মাত্রায় ছুরি চালিয়ে উপস্থাপন করেছেন অত্যন্ত নিপুণতার সাথে। এমনকি ডঃ কামাল হোসেনের সাপ্তাহিকের সাক্ষাতকারের আগে-পিছের এমনকি যে কোট তিনি ব্যবহার করেছেন, ঠিক সেই কোটের পরের কয়েক লাইন তিনি বক্তব্যে সংযোজন না করেই রেফারেন্স হিসেবে ব্যবহার করেই দিব্যি হাত তালি নিয়েছেন।আর জেনারেল(অবঃ)শফিউল্লাহ ৭৫ পরবর্তী থেকে ৯০ পর্যন্ত ভূমিকা দেশবাসীর সকলেরই জানা। আবার ৯৬তে এসে তিনি আওয়ামীলীগের একনিষ্ঠ নেতা বনে যান।একই কথা প্রযোজ্য এ কে খন্দকারের বেলায়ও। শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা নিয়ে বলছি, ৭৫ পরবর্তী সময়কালীন সময়ে এ কে খন্দকারের রাজনৈতিক বক্তব্য আর ৯২ থেকে সেক্টর কমান্ডারের ব্যানারে এসে বক্তব্যের মধ্যে অনেক তফাৎ।ইতিহাসের ছাত্র কিংবা ঐতিহাসিকগণ রেফারেন্স নেয়ার আগে সেই সব পূর্ণভাবেই যাচাই বাছাই করে নিয়ে থাকেন-এটাও সাধারণ মাত্রই অবগত আছেন। আবার স্বাধীনতার ঘোষণা নিয়ে যে রেফারেন্স তারেক রহমান দিয়েছেন সেখানেও তিনি আগে পিছের সকল অংশ বাদ দিয়ে শুধু মাত্র তিনির সুবিধাজনক অংশই রেফারেন্স হিসেবে বক্তব্যে তুলে ধরেছেন-আর তাতেই তিনি বাহবাও নিয়েছেন। ডঃ কামাল হোসেনের সাপ্তাহিকের সাক্ষাতকার এবং  স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র সম্পর্কে তারেক রহমান পুরোপুরি অবহিত হওয়ার পরেও কেন এমন আজগুবি রেফারেন্স টেনে তিনি বঙ্গবন্ধুকে অপমান করলেন আর এমন বড় ধরনের মিথ ও বিতর্কের জন্ম দিলেন ? কি তার উদ্দেশ্য ? প্রশ্ন আসতেই পারে। এই কারণেই আসতে পারে, তোফায়েল আহমেদ এই বক্তব্য শুনে বিগড়ে গিয়ে তারেক রহমানকে আহাম্মক, অশিক্ষিত বলেছেন, প্রধানমন্ত্রীও তীর্যক মন্তব্য করেছেন, গোটা আওয়ামীলীগ সমস্ত শক্তি দিয়ে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে- সেদিন তার বক্তব্য শুনছিলাম আর ভাবছিলাম আমার চেনা জানা এই মানুষ আর আজকের এই মঞ্চের মানুষটির মধ্যে আকাশ পাতাল ব্যবধান নাকি চারদলীয় জোট সরকারের বহু বিতর্কের জন্মদাতা তারেক রহমান সেই তারেক রহমান যাকে নিয়ে নানা গসিপ আর রিউমারের ডাল পালা ছড়িয়েছে, নাকি স্রেফ এক পলিট্যাকাল ষ্ট্যান্ট আর ব্লাফের রাজনীতির জন্ম দিতে চাচ্ছেন- যা দিয়ে আওয়ামীলীগকে আওয়ামীলীগের অস্র দিয়ে কাবু করে নিজের দলের নেতা কর্মীদের উজ্জীবিত করে রেখে মুক্তিযুদ্ধের তকমাটিকে নতুন প্রজন্মের চার কোটি ভোটারের মননে সুকৌশলে ছড়িয়ে দিবেন- কোনটি ? নাকি তারেকের রয়েছে সরকারের সাথে অন্য এক রাজনৈতিক এবং ব্যক্তিগত সাপ লুডু খেলা ?

 

রাজাকার পুনর্বাসন নিয়ে তিনি যে বক্তব্য রেখেছেন, তা আওয়ামীলীগের ক্ষেত্রে সঠিক হলেও প্রথম আওয়ামীলীগ-একথাটিও সঠিক নয়। কেননা, আওয়ামীলীগের আগে শাহ আজিজ সবুর খান গঃদের জিয়াউর রহমানই কেবিনেটে স্থান দিয়েছিলেন, পতাকাও দিয়েছিলেন।একইভাবে ফ্রেঞ্চ টেলিভিশন ফুটেজও অপূর্ণাঙ্গ এবং এডিট করা।

 

তারেক রহমানের বক্তব্যের জবাবে রেফারেন্স টানার আগে মুক্তিযুদ্ধকালীন সময়ে মুজিব নগর সরকারের প্রধান হিসেবে বঙ্গবন্ধুকে জিয়াউর রহমান সহ অন্যরা আনুষ্ঠানিকভাবে জেনে শুনেই, কোন প্রকারের চাপের কাছে মাথা নত করে নয় বরং স্বেচ্ছায় রাষ্ট্রীয় সম্মান জানিয়ে স্যালুট প্রদানের ছবিই যথেষ্ট- অধিক কথা বলার কিংবা অহেতুক বিতর্কের কোন প্রয়োজন নেই।(সংযুক্ত)

 

ঠিক একইভাবে স্বাধীনতার ঘোষণা পত্রে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে যেখানে বিস্তৃত আছে সকল পয়েন্ট পরিষ্কারভাবে- তাই তারেক রহমানের বক্তব্য যে টিকেনা সেটা জানার জন্যে কারো কোন বিশেষজ্ঞের মতামত নেয়ার প্রয়োজন আছে বলে মনে হয়না।৬৭ থেকে ৭১ আর স্বাধীন বাংলা নিউক্লিয়াস আর স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন, ইশতেহার পাঠ, সুপ্রিম কমান্ডার সহ আদ্যোপান্ত ইতিহাসের সকল ঘটনাবলীই বঙ্গবন্ধুকে কেন্দ্র করেই ছাত্র জনতার মধ্যে ইস্পাত কঠিন ঐক্য গড়ে উঠেছিলো।এব্যাপারে সব চাইতে সুন্দর ও সাবলীল বক্তব্য তুলে ধরেছেন, মুক্তিযুদ্ধের অনন্য এক সফল নায়ক, স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের সাধারণ সম্পাদক অথচ দেশ স্বাধীনের পর যিনি বঙ্গবন্ধুর সব চাইতে বেশি সরাসরি বিরোধিতা করে জাসদ নামক নতুন এক রাজনৈতিক ফোর্সের জন্ম দিয়ে আলোড়ন তুলেছিলেন, সেই আ স ম আবদুর রব মানব জমিনে বলেছেন,” দেশে ইতিহাস  বিকৃতির মহোৎসব চলছে।মুক্তিযুদ্ধকে দলীয় ইতিহাসবিদরা বিতর্কিত করছেন। বাঙালি  জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ৭ইমার্চের এক উত্তাল জনসমুদ্রে  বাংলাদেশের স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন,এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম আমাদের স্বাধীনতার সংগ্রামবঙ্গবন্ধুর এই তেজোদীপ্ত ঘোষণা ছিল সিরাজুল আলম খানের নেতৃত্বে গঠিত নিউক্লিয়াসের কৃতিত্ব । আর এই নিউক্লিয়াসের সিদ্ধান্তেই ২রা মার্চ স্বাধীনতার পতাকা উত্তোলন হয় এবং৩রা মার্চ স্বাধীনতার ইশতেহারে দেশের নাম নির্ধারণ, জাতীয় পতাকা নির্ধারণ, জাতীয় সংগীত নির্ধারণবঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্বাধীন ও সার্বভৌম বাংলাদেশের সর্বাধিনায়ক ঘোষণা করা হয় এবং এসব সিদ্ধান্তই চুড়ান্ত।

সুতরাং বঙ্গবন্ধুই স্বাধীন দেশের প্রথম প্রেসিডেন্টঅন্যদিকে  বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়াউর রহমানের মুক্তিযুদ্ধের ঘোষণা গভীর তাৎপর্যপূর্ণ।  অহেতুক বিতর্কে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃত হওয়ার আশঙ্কা থাকে

 

তারেক রহমান এর নতুন ইতিহাস নির্মাণের কারণ-

 

০১)আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর থেকে জিয়াউর রহমান, খালেদা জিয়া এবং তারেক রহমানের প্রতি যে ভাবে অরাজনৈতিক এবং ন্যাক্কার জনকভাবে প্রকাশ্যে আক্রমণ এবং সেই সাথে বেগম জিয়াকে ক্যান্টনম্যান্টের বাড়ি থেকে উচ্ছেদ করে, একইভাবে ক্রমাগতভাবে বিএনপিকে আন্দোলন সংগ্রাম করতে যেভাবে পুলিশী বাধা ও দলীয়ভাবে মিডিয়া প্রচার করে বেগম জিয়া ও তারেক রহমানকে কোণঠাসা করে রাখছে একের পর এক- এতে দ্বিতীয় টার্মে ভোটার বিহীন নির্বাচনেও সরকার গঠন করে আওয়ামীলীগ শুধু ক্ষমতা পাকাপোক্তই করছেনা, বিএনপিকে আগামী ২০২১ সাল পর্যন্ত নির্বাচনী রোড ম্যাপ থেকে দূরে রাখার কৌশল, একের পর এক মামলা, সরকারের বিরুদ্ধে মুখ খুললেই জেলের ভাত- এহেন অবস্থায় আওয়ামীলীগের এই কঠিন রাজনৈতিক বৈরি অবস্থার বিপরীতে নিজ দল, কর্মীদের উজ্জীবিত ও চাঙ্গা রাখতে তারেক রহমানকে এহেন কঠিন এক অরাজনৈতিক ফোর্সের মিথ তৈরির যুদ্ধে নামা ছাড়া বিকল্প নেই বলেই ধরে নিতে হচ্ছে।

 

০২) বিএনপির তৃণমূল আর জাতীয়তাবাদের হাজারো লাখো নেতা কর্মীদের ধারণা, তারেক রহমান বিএনপির জন্য বিশাল এক এসেট, সন্দেহও নাই। এবং তিনি আওয়ামীলীগের একরোখা স্বৈরাচারী কায়দায় দেশ শাসনের বিপরীতে এমন কোন রাজনৈতিক ক্যারিশমা দেখিয়ে সরকারের পতন ঘটাতে ভুমিকা রাখবেন- এই অবস্থা ও কর্মীদের ভিতরে এমন ম্যাসেজ যথাযথ ভাবে দেয়ার জন্যে একই সাথে নিজের বিশাল ভাবমূর্তি ধরে রাখার জন্যে এরকম মিথ্যার মাধ্যমে নিজের  মুখে নতুন রাজনৈতিক ফোর্সের ফ্লো তৈরির পথ ধরেছেন।

 

০৩) নতুন প্রজন্মের চার কোটি ভোটারের মধ্যে জিয়াউর রহমান ও বিএনপির মুক্তিযুদ্ধকালীন ভুমিকাকে বিশাল এক এসেট হিসেবে দাঁড় করিয়ে আওয়ামীলীগের প্যারালাল এক নতুন প্রজন্মের শক্তির এই ভোট ব্যাংকে হাত দিয়ে স্রোত তৈরির চেষ্টা থেকেই এরকম অভিনব এক চ্যালেঞ্জিং টাস্ক হাতে নিয়েছেন।

০৪) আওয়ামীলীগের বিরোধী রাজনৈতিক এবং পরিবর্তনের জন্য উন্মুখ স্রোতের কাছে তারেক রহমান এবং জিয়াউর রহমান একক ও অনন্য- এমন ধারণা প্রচার ও প্রতিষ্ঠা থেকেই এমন কৌশল

 

০৫) তারেক রহমানের সব চাইতে বড় যে কৌশল আর তা হলো, এরকম অভিনব নতুন ঐতিহাসিক তথ্যের বক্তব্যে আওয়ামীলীগের ঘুম হারাম করে দিয়ে বুঝিয়ে দেয়া, রাজনৈতিক নেগোসিয়েশনের টেবিলে ফিরে না আসলে, এর চাইতেও আরো জঘন্য ঐতিহাসিক ফোর্সের ফ্লো তিনি প্রবাহিত করে দিবেন- যা আওয়ামীলীগের সাজানো বাগানে নিজেই আগুনে জ্বলসে যাবে।

 

০৬) মিডিয়া ও অন্যান্য মাধ্যম যেখানে এক প্রকারের মৌনতাই সম্মতির লক্ষণ নিয়ে আত্মাহুতি দিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে একীভূত হতে পারছেনা, তাদের মূলে আঘাত ও নক করে আওয়ামীলীগ ও বঙ্গবন্ধু বিরোধী স্রোত তৈরিতে মিডিয়ার সামনে ক্ষেত্র তুলে ধরা যাতে বিএনপির জন্য স্পেস নিয়ে ঢুকে পড়া সুবিধাজনক ও সহজ হয়ে যায়।

 

০৭) তারেক জানেন, গ্রেনেড হামলার মামলা যদি এগিয়ে আসে, তাহলে তার রাজনৈতিক মৃত্যু ঘটবে।আওয়ামীলীগের জন্য প্লাস পয়েন্ট হয়ে থাকবে সকল সময়ের জন্য। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে প্রচার আর নতুন তথ্য মূলত তারেক রহমান গ্রেনেড হামলার মামলা নিয়ে পেছনের দরজা দিয়ে সরকারের সাথে সমঝোতা ও নতুন রাজনৈতিক সিনারিও তৈরির পরিকল্পনা থেকেই এমন বক্তব্য

 

০৮) ডানকান স্মিতের ঢাকা সফরে টাস্ক ফোর্সের হঠাত গতি-তারেক রহমানের ২৫ মার্চের বক্তব্যের পর পরই তড়ি ঘড়ি করে ৮ এপ্রিল সমাবেশের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে বক্তব্য, মূলত ব্রিটেনের সাথে আওয়ামীলীগের দরকষাকষি এবং টাস্ক ফোর্সের গতিপথকে থামিয়ে দিয়ে নতুন নেগোসিয়েশনের ক্ষেত্র তৈরিতে আওয়ামীলীগকে বাধ্য করার এক কৌশল

 

০৯) ভারতীয় পক্ষের নতুন সরকার ক্ষমতায় আসার নয়া সিগন্যালের আভাস হিসেবে র-কর্তৃক ভারত রক্ষক ডট কম হঠাত করে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেয়ায় তারেকের ধারণা র- বিএনপির সাথে নয়া সমঝোতায় আগ্রহী, যা থেকে তারেক চাচ্ছেন, র-এর কাছেও সেই সিগন্যাল দেয়া, যে কারণে ভারত রক্ষক ডট কম রেফারেন্স প্রথমবারের মতো ব্যবহার করে তিনিও আগাম সিগন্যাল দেয়ার সাথে সাথে সমঝোতার পথ খুলে দিলেন, আওয়ামীলীগের কাছেও সিগন্যাল পাঠালেন ইতিহাসের গতিপথ ভারত সহায়ক হলে নতুন ভাবে লেখা হয়ে যাবে, যদিনা আওয়ামীলীগ তারেক রহমানের সাথে সমঝোতা করে।

 

প্রশ্ন হলো- তারেক রহমান যে পথে হাঠছেন, সে পথ বড় বিপদ সংকুল এবং অত্যন্ত ঝুঁকি পূর্ণ। কেননা সে পথে সামান্য রাজনৈতিক পরাজয় তারেক রহমানের সাথে বিএনপির রাজনৈতিক মৃত্যু অবধারিত। আর এটা জেনে শুনেই আর কোন বিকল্প পথ না পেয়ে তারেক রহমান সহজেই লন্ডনের ঐ তিন স্তরের সার্কেলের একত্রিত সমন্বিত রূপরেখা নিয়ে ইতিহাস কেন্দ্রিক নতুন আজগুবি বক্তব্য নিয়ে হাজির হচ্ছেন। যে কথা না বললেই নয়, স্রোতের বিপরীতে সম্পূর্ণ নতুন তত্ব নিয়ে হাজির হয়েও হিমালয় পর্বতের মতো জনপ্রিয় থাকা সত্ত্বেও জাসদ এবং রব-জলিল আজকে ক্ষয় থেকে ক্ষয়্যিঞ্চু হয়ে আছেন। ঠিক একই সত্য ভারতের যগজীবন রাওয়ের বেলায়ও, ব্রিটেনের লৌহ মানবী থ্যাচারের বেলায়, টনি ব্লেয়ারের বেলায়ও- যারা বিশাল ম্যান্ডেট আর জনপ্রিয়তা নিয়েও স্রোতের বিপরীতে চলতে গিয়ে অজনপ্রিয় হয়ে বিদায় নিয়েছিলেন।তেমনিভাবে তুলনামূলক ভাবে অ-জনপ্রিয় হয়েও কনজারভেটিভ কাট নীতি গ্রহণ করেও স্থান করে নেয়, যেমন ভাবে স্থান করে নেন মালয়েশিয়ার মাহাথির, শ্রীলংকার প্রেমাদাসা সহ আরো অনেকেই।

 

আবার অক্সফোর্ড ক্যামব্রিজে পড়লেই সঠিক রাজনৈতিক পন্ডিত হওয়া যায়না। অপরদিকে অক্সফোর্ড থেকে একজন বেনজীরই বের হন, সবাই নন, তেমনি অপেক্ষাকৃত ছোট লিটল রকের আরাকানসাস থেকে একজন ক্লিনটনই বের হন, যেমন বের হন জনগণের পালস, নাড়ি নক্ষত্র ভালো করে জেনে বুঝে রাজনৈতিক দিক নির্দেশনা দিয়ে সফলতার শীর্ষে পৌঁছে অমরত্ম লাভ করেন শেখ মুজিব, গান্ধী, চেগুয়েভারা, মাওসেতুং অনেকেই।

 

তারেক রহমানকে ঘিরে লন্ডন কেন্দ্রিক যে তিন স্তরের সার্কেল গড়ে উঠেছে, তাদের দুটি সার্কেলের একটি যুক্তরাজ্য বিএনপি আর অপরটি অক্সফোর্ড-ক্যামব্রিজ কেন্দ্রিক- এই দুই সার্কেলই ঢাকার রাজনীতির সাথে ভারতীয় উপমহাদেশ আর পশ্চিমা রাজনীতির অবস্থান, বিশ্লেষণ বুঝতে যেমন অক্ষম, তেমনি এদের চিন্তা ও ধারণারই বাইরে, যার প্রমাণ তারেকের বিগত পর পর দুটি সভার বক্তব্যের বিষয়বস্তু।এই দুই সার্কেলের খপ্পরে তারেক রহমান যে গোখরো সাপের বিষ মুখে রাজনীতির ময়দানে নতুন ধারার রাজনীতির পরিবর্তে ইতিহাসের গতিধারাকে পাল্টে দিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক ফোর্স তৈরির আশা নিয়ে মাঠে নেমেছেন, সেই ফোর্সের অক্সিলিয়ারি ও অগ্রগামী সৈনিক হিসেবে ঢাকার বিএনপি কতোটুকু তৈরি তাদের নেই কোন ধারনা। কেননা ঢাকার রাজনীতিতে যদি তারেকের নতুন ম্যাজিকের ইতিহাস নির্ভর রাজনীতির স্রোতকে সামনে এগিয়ে নিতে না পারে-তাহলে তারেকের লন্ডন মিশন ব্যর্থতার চোরাবালিতে শুধু হারাবেনা, আগামী ১৫-২০ বছরের মধ্যে বিএনপি নামক বিরোধী রাজনৈতিক দল দুর্বল থেকে দুর্বল হয়ে যাবে- এই হিসেব কি তাদের আছে ? তারেক রহমানের জেনে রাখা উচিত যুক্তরাজ্য বিএনপির বর্তমান কমিটি আর অক্সফোর্ড সার্কেল ঢাকার রাজনীতি পরিবর্তনের ক্ষেত্রে নিতান্তই অন্তঃসারশূন্য। শূন্যের সাথে যত শূন্যই যোগ করা হউক শূন্য হতেই বাধ্য।

 

তৃতীয় যে সার্কেল তারেক রহমানকে ঘিরে আছে, সেটা আশার আলো জাগালেও তারেকের ঐ দুই শক্তিশালী লবির কাছে মার খেয়ে পেছনে পড়ে আছে। যে কারণে অসংখ্য রিসার্চ করার পরেও নতুন ধারার রাজনীতিকে ঐ তৃতীয় সার্কেল কিছুতেই সামনে এগিয়ে নিতে পারছেনা।তারেক রহমান সেটা যে অবগত নন, তা নয়। কিন্তু সামনে শত্রু ভয়ংকর রূপ ধারণ করে আছে- আগে তাকে ঘায়েল করতে হবে। আর সেই ঘায়েল করার জন্য চাই ঘায়েল করার ধারালো অস্র, তা যত খারাপই হউক। আর এই খারাপ অস্র দিয়ে খেলতে গিয়ে মাত্র এক মাসের ভিতরে নিজের জনপ্রিয়তা কোথায় গিয়ে ঠেকেছে- সেদিকে কোন খেয়াল করার সময় এখন তারেক রহমানের নেই।

 

কিন্তু ইতিহাস বড় নির্মম ও নিষ্ঠুরসত্য সব সময়ই অবিচল। সামনে যত আধারই থাকুক না কেন, সত্য একদিন ভেসে উঠবেই তার আপন মহিমায়। যুগে যুগে সেটাই প্রমাণিত। বঙ্গবন্ধু যেমন বঙ্গবন্ধুর স্থানে আছেন, থাকবেন তেমনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তিনির স্থানে থাকবেন সমহিমায় উজ্জ্বল। এখানে আওয়ামীলীগ বিএনপি কিংবা হাসিনা খালেদা বা তারেক রহমান বা সজীব ওয়াজেদ যতই ঝগড়া ফ্যাসাদ করুন না কেন, কেউ কাউকেই কারো স্থান থেকে সরাতে পারবেননা। এটাই ইতিহাসের মূল শিক্ষা। আর এই শিক্ষা যত তাড়াতাড়ি আমদের নেতা নেত্রীরা উপলব্ধি করবেন মনে প্রাণে- ততোই আমাদের মঙ্গল। উইনস্টন চার্চিল একটা কথা বেশ সুন্দর ভাবেই বলেছিলেন, আজকের লেখার শেষাংশে এসে সেই কথাটাই স্মরণ করিয়ে দিতে চাই- ইফ উই কোয়ারল ইচ আদার, উই সি উই হ্যাভ লস্ট আওয়ার ফিউচার। বিএনপি আওয়ামীলীগ কেউই তাদের ফিউচার লস্ট করুন আমরা তা চাইনা।

 

Salim932@googlemail.com

11 April 2014, London.