ক্যাটেগরিঃ ফিচার পোস্ট আর্কাইভ, স্বাধিকার চেতনা

[প্রিয় পাঠক, এটা শারমিন আহমদ এর বক্তব্যের বিরোধিতা বা সমালোচনা নয় কিংবা আওয়ামী লীগের পক্ষে বা বিপক্ষে নয়, নিছক কতিপয় তথ্যের শেয়ার করা এই পর্বে-অন্য কোন উদ্দেশ্য নয়, তার আগে একটা কথা বলে রাখা ভালো মুক্তিযুদ্ধ,বঙ্গবন্ধু এবং তাজউদ্দিন আহমদ এক ও অভিন্ন যেমন অভিন্ন মুক্তিযুদ্ধে শত শহীদের আত্মা ]

প্রাথমিক ভাবনা-

০১. বিজ্ঞানের ভাষা হলো এই হলে এই হয়।আর্কিমিডিস গতির যে সূত্র আবিষ্কার করেছিলেন, তা এখন পর্যন্তই নতুন এবং সেই রেকর্ড কারো পক্ষে ভাঙ্গা দুঃসাধ্য, একারণেই সেটা বিজ্ঞানের সূত্র দ্বারা প্রতিষ্ঠিত এবং নানা কালের ঘটনার পরিক্রমায় বিজ্ঞান উন্নতি লাভ করলেও সেই সূত্র অবিকল অবিকৃত ভাবে স্বীকৃত হয়ে আছে।

০২. বিজ্ঞানের অপর এক শাখা মেডিকেল সাইন্স-যা প্রতিদিনের বিজ্ঞানের সাথে সামঞ্জস্য, সেখানে কিন্তু তার বিপরীত চিত্র। বিপরীত চিত্র এই কারণে, প্রতিদিনকার বিজ্ঞান নানা মেডিকেলের সূত্র এবং আবিষ্কারের মাধ্যমে প্রতিনিয়ত ডেভেলপ করে চলছে এবং নতুন নতুন আবিষ্কারের জন্ম যেমন দিচ্ছে, সেই সাথে নতুন নতুন মেডিকেল সামগ্রীও বাজারে আসছে।

০৩. ব্র্যান্ড আইটেম হিসেবে পাশ্চাত্য দেশ সমূহ শুধু নয়, আজকের যুগে বাংলাদেশ ভারত পাকিস্তান সৌদি আরবও তাল মিলিয়ে নতুন নতুন ব্র্যান্ড আইটেম জন্ম দিচ্ছে, সেটা যেমন গার্মেন্টস থেকে শুরু করে সঙ্গীত, কলা, প্রযুক্তি, হিউম্যান রিসোর্স সকল ক্ষেত্রেই সমানভাবে বিদ্যমান ও পারদর্শী।

০৪. ইতিহাসের কষ্টিপাথরে বারে বার নানা সম্প্রদায় ও নেতৃত্ব নতুন নতুন যুগ-সৃষ্টি ধর্মী ইতিহাসের জন্ম দিয়ে যেমন খ্যাতি ও কুখ্যাতি দুটোই করে ইতিহাসে যার যার স্থান করে নিয়েছেন, ঠিক তেমনি নতুন নতুন স্রোত, কাল, সমাজ, সভ্যতা বিনির্মাণে ও সমাজের এবং সভ্যতার গতিধারাকে পাল্টেও দিয়ে নতুন করে লিখেছেন, যেমন সম্রাট আওরঙ্গজেব, শাজাহান, চেঙ্গিস খান, তুঘলুক, পাল ও মোঘল সাম্রাজ্য, মাও সেতুং, চেগুয়েভারা, লেলিন, ষ্ট্যালিন, বঙ্গবন্ধু, গান্ধী, সুভাষ, ফিদেল, হুগোশ্যাভেজ, কামাল আতাতুর্ক এমন আরো অনেকেই।

প্রাথমিক ভাবনার প্রথম পর্যায়-

ইমানের কথা হলো এবং মুসলমান মাত্রই বিশ্বাস করেন, করতেই হবে, না হলে ইমান থাকবেনা। আর তা হলো কেয়ামতের আগে আগে আদি, অকৃত্রিম ও অনাদি এবং কায়েমি কাল থেকে চলে আসা সম্মানী লোক অপমানিত হবেন এবং প্রতিষ্ঠিত সত্যের বিপরীতে মিথ্যার ছড়াছড়ি ও নানা রঙের ও নানা বর্ণের ও রূপের বহিঃপ্রকাশের তথ্যের নয়া সমারোহ মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্য হবে, পছন্দ হবে, অধিকাংশ মানুষ সেইসবের দিকেই ধাবিত হবে এবং বাস্তবিক সত্য বলেই গ্রহণ করবে, পাশাপাশি প্রতিষ্ঠিত সত্য দূরীভূত হবে, ভুল বলে ছুড়ে ফেলে দিবে।

প্রাথমিক ভাবনার দ্বিতীয় পর্যায়-

ইসলামের ইতিহাসেই প্রমাণিত হযরত আলী ওয়াজহু কারামুল্লাহ (রাদিয়াল্লাহু আনহু) চতুর্থ খলিফা এবং মা ফাতেমা ( রাদিয়াল্লাহু আনহার স্বামী) অথচ পৃথিবীর মধ্যে মুসলমান নামক সংখ্যা গরিষ্ঠ আরো একটি দেশ আছে, যার নাম আসাদের সিরিয়া। সেখানকার একটি সম্প্রদায় হলেন শিয়া। এই শিয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে ছয় প্রকারের মতবিরোধ যেমন আছে, তেমনি তারা ছয়ভাগে বা ছয় মাযহাবে বিভক্ত।তাদের মধ্যে সবচাইতে যে খারাপ মাযহাবের অনুসারী তারা হলো এই ষষ্ঠ শ্রেণীর এবং তারা হযরত আলী রাদিয়াল্লাহু আনহুকে আল্লাহর অসি(শালীন ভাবে চেঞ্জ করে বললাম শিরক থেকে বাঁচার জন্য) হিসেবে মনে করে তারই( হযরত আলী)নবী হওয়ার কথা ছিলো……… (আস্তাগফেরুল্লাহ)। বাকি আর লিখলামনা প্রিয় পাঠক বুঝে নেবেন, কারণ লিখে এবং পড়ার সময় আপনাদের উচ্চারণের মধ্য দিয়ে শিরক নামক কবীরা গুনাহের মধ্যে ফেলে দিতে চাইনা।ওই সময়ে শিয়াদের ঐ ষষ্ট শ্রেণীর লোকজন বুদবুদের ফেনা তুলে চারদিকে মাতম তুলতে পারলেও কালক্রমে ইসলামের সঠিক চর্চা ও ইতিহাস এবং কোরআন হাদিসের সঠিক জ্ঞান পৌঁছে দেয়ার ফলেই মুসলমানদের মধ্যে সেই ষষ্ট শ্রেণী ঘৃণিত এবং অভিশপ্তই রয়ে যায়। অথচ আধুনিক সভ্যতার দাবীদারেরা এখনো সেই ষষ্ঠ শ্রেণী ভুক্ত মানুষদের অসম্ভব কদর করে থাকেন, তাদের মতবাদ ও চিন্তা চেতনা নিয়ে ম্যাজিকের মতো নতুন নতুন বোতলের ছিপি খুলে মিডিয়ায় আলোড়ন তুলে থাকেন।

আধুনিক বিজ্ঞান ও গ্যালিলিওর সূত্র-

একসময় বলা হতো গ্যালিলিয়র আবিষ্কৃত সূত্রই অকাট্য প্রমাণিত এবং স্কুল কলেজে সেটাই পড়ানো হতো। বহু বছর পর গ্যালিলিওর সূত্রের বিপরীতে নতুন থিওরি আবিষ্কার অনেক সত্যের বিপরীতে নতুন কড়া নাড়ার বিপরীতে বরং কোরআন প্রদর্শিত সেই আদি সূত্রের কথারই স্বীকৃতি দিলো।

টাইম মেশিন এবং হকিংস-

হকিংস নিজে যে বিজ্ঞানের  টাইম সূত্র আবিষ্কার করলেন, সেই সূত্র ভেঙ্গে দেননি, বরং তাকে আরো আধুনিক ও মডিফাইড করার চেষ্টা করছেন।

আমেরিকা, ব্রিটেন, বাংলাদেশ বা আরো কোন দেশ-

কলম্বাসের আবিষ্কৃত আমেরিকা, বা শিল্প বিপ্লবের পর গণতান্ত্রিক সূতিকাগারে ব্রিটেনের আরোহণ অথবা ১৯৭১ সালের শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশের অভ্যুদয়, কিংবা পৃথিবীর আরো অন্যান্য দেশের স্বাধীনতা লাভের ও জন্মের ইতিহাস যা একবার তৈরি হয়ে সৃষ্টি লাভ করে, নতুনভাবে কোন যুদ্ধের বা আগ্রাসনের দ্বারা সেই দেশ পরাধীন লাভ না করা পর্যন্ত, এমনকি প্রলয় কিংবা ভূমিকম্পের ফলে বিশ্ব মানচিত্র থেকে হারিয়ে যাওয়ার পরেও সেই জন্মের ইতিহাস সৃষ্টি কখনো আর পরিবর্তন হয়না বা করার কোন দৃষ্টান্ত বা রেকর্ড সেটা জাতি সংঘ সনদে হউক বা নিজস্ব রাজনৈতিক গতিধারার অবকাঠামোগত ভাবেই হউক, কিন্তু হয়না, হওয়াও সম্ভব নয়, যদিনা সেই দেশ পরাধীনতায় ফিরে যায়।

প্রত্যেক ভুলকারী কোন না কোন ক্লু নিজেদের অজান্তেই রেখে দেয়-

অপরাধ বিশেষজ্ঞ এবং ফরেনসিক এক্সপার্ট যারা, তারা ভালোভাবে বলতে পারবেন যে, অপরাধী যখন কোন অপরাধ করে, কিংবা কোন প্লট যখন সাজায়, সেটা সিআই,আইএসআই, এমআইসিক্স, মোসাদ, কেজিবি, র, গ্রুপ- যেই হউক প্রত্যেক কর্মের পেছনে নিজেদের অজান্তে বিন্দু মাত্র হলেও ভুলের চিহ্ন রেখে যান-এটাই অপরাধ বিজ্ঞানের সূত্র। আর সেই ক্লূ ধরেই চলে আসে প্রমাণ।

এরশাদের শাসনামল, শারমিন আহমদ, সাপ্তাহিক মেঘনা-

সাবেক রাষ্ট্রপতি জেনারেল (অব:) এরশাদ এখনো জীবিত। স্মৃতির বিলোপ না ঘটে থাকলে এবং পড়ন্ত বেলায় আগের মতো রাজনৈতিক জোচ্চুরি যদি না করেন, তবে সৎ সাহস নিয়ে এই বক্তব্যের সাথে একমত ও স্বীকৃতি দিবেন আশা করি, আর তাহলো, তিনি এবং তার সময়ের ডিজিএফআই এর পরিচালক এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিম্যান্টের এরশাদের সেই মেজর জেনারেল (নামটা আমি এই মুহূর্তে মনে করতে পারছিনা, তবে খুব পরিচিত নাম সকলের কাছেই) সরাসরি তত্বাবধানে জামিয়াতুল মাদ্রাসা আর মাওলানা মান্নান ও তাদের পৃষ্ঠপোষকতায় সাপ্তাহিক মেঘনা প্রকাশিত হতো, অথচ বাজারে এমন ধারণা প্রচলিত ছিলো, এই সাপ্তাহিকের সাথে তাদের কোন সংশ্লিষ্টতা ছিলোনা। কারন সেই সাপ্তাহিকের ডিক্লারেশন, মালিকানা আদতেই লেখা পড়ায় ছিলো অন্যদের নাম।সেই সাপ্তাহিকে মান্যবর শিরিন শারমিন একটি সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন এবং সেটাই ছিলো বৃহৎ আকারের। তাতে তিনি যে সব কথা লিখেছিলেন বা বলেছিলেন, বিশ পঁচিশ বছর পরে এসে একই বক্তব্য, একই তথ্য তিনি তার বর্তমান আলোচিত বইয়ে এবং মুজিব কাকু নামের নয়া ভার্সনে প্রকাশ করেছেন।মেঘনায় প্রকাশিত তথ্য আর আজকের এই মুজিব কাকুর প্রকাশিত তথ্যের মধ্যে সামান্যতম কোন হের ফের নেই। মেঘনা যখন প্রকাশিত হয়, তখন আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়ামের জ্যেষ্ঠ মেম্বার ছিলেন শারমিন আহমদ এর আম্মা জোহরা তাজ উদ্দিন। ঐ সময় আওয়ামীলীগ ৭৫ এর পট পরিবর্তনের পর থেকে ক্ষমতার বাইরে। আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মরহুম আব্দুর রাজ্জাক এবং মরহুম আব্দুল মালেক উকিল শিরিন শারমিনের বক্তব্যের বিরোধিতা করে মেঘনায় সাক্ষাতকার দিয়েছিলেন। আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়ামের মেম্বার হিসেবে সেদিন জোহরা তাজউদ্দীন শারমিন আহমদ এর বক্তব্য খণ্ডন যেমন করেননি, এমনকি শারমিনের বক্তব্যের পক্ষে ওকালতিও করেননি, যেহেতু তিনিই ছিলেন তাজউদ্দিনের ঘনিষ্ঠ এবং সহধর্মীনী ও মুক্তিযুদ্ধের সময়কালীন উপস্থিতিও ছিলো সক্রিয়। শারমিন আহমদ ঢাকা ছাড়ার আগে পরে ঐ সময়ে আব্দুর রাজ্জাক ও আব্দুল মালেক উকিলের বক্তব্যের বিরোধিতা করে প্রতিবাদ করেননি।(আমি ভুল না করে থাকলে সাপ্তাহিকের নাম মেঘনাই)

মুক্তিযুদ্ধ ও শারমিন আহমদ-

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ যখন সংগঠিত হয়, তখন একজন আব্দুর রাজ্জাক, একজন মালেক উকিল, একজন আ স ম আবদুর রব, একজন সিরাজুল আলম খান, একজন শাজাহান সিরাজ ( এদের নাম- যেহেতু মুজিব বাহিনীর সংশ্লিষ্টতা বইয়ে এসেছে) এবং আরো অনেকের নাম আছে, তাদের বয়স ছিলো পরিপূর্ণ একজন যুবক। শারমিন আহমদ এর বয়স তখন বড় জোর.. নাই বললাম, উনার নিজের বাসায়(ভিডিও)কৈশোর ও তারুণ্যের সন্ধিক্ষণের বয়স- মুক্তিযুদ্ধের সেই সব ঘটনাবলীর ভেতরকার রাজনৈতিক বিশ্লেষণের ফ্যাক্টরগুলোকে তিনি রহস্যে ঘেরা প্রশ্নের এবং পারিবারিক ইমোশনের আড়ালে খুব সুদক্ষভাবেই তুলে এনেছেন সন্দেহ নেই। ইতিহাসের যেকোন বিচারে সেটা অবশ্যই বিশ্লেষণের যেমন দাবী রাখে, তেমনি সহজ সমীকরণের ক্ষেত্রে কোন অবস্থাতেই কেবলমাত্র শারমিন আহমদ এর দেয়া তথ্য ঠিক কতোটুকু বা কোন পর্যায় পর্যন্ত গ্রহণ যোগ্য কিনা সেটা ইতিহাসেই বিচার্য, যদিও তার আগেই তিনি কনক্লুশান টেনে নিজেই বিতর্ক উস্কে দিয়েছেন। শারমিন আহমদ এর ভিডিও বক্তব্য, যা তিনি বইয়ের উপস্থাপনা করতে গিয়ে নিজেই নিজের উপসংহার টেনে ইতিহাসের সেই সব কঠিন কিংবা সত্য মিথ্যা যাই হউক- তাকে প্রশ্ন বিদ্ধ করেছেন, যদিও তিনি আম জনতার কাছে অনেক জনপ্রিয় এবং বলা যায় সেলেব্রিটির তকমায় শীর্ষে পৌঁছে গেছেন, সন্দেহ নেই।

প্রত্যেক দেশের মুক্তি সংগ্রামে এবং বিপ্লবের ক্ষেত্রে আগে পিছে অনেক ঘটনা এবং তথ্য যেমন থেকে- যা সর্বসাধারণের অগোচরে থাকে, ঠিক তেমনি মুক্তিসংগ্রামী বা বিপ্লবের নায়ক ও কুশীলবরা অনেক নেপথ্যের ঘটনা কখনোই সামনে নিয়ে আসেননা- এটাও এক ধরনের সত্য। বিশ্ব ইতিহাস কোষ তার অনেক জ্বলন্ত প্রমাণ রয়েছে।

মুক্তিযুদ্ধকালীন ঘটনা প্রবাহ সমূহ আজকের ৪২ বছর পরের ঘটনা প্রবাহের ও আধুনিক প্রযুক্তির যুগের অবস্থার সাথে মিলিয়ে কোনভাবেই বিচার্য করা যেমন সঠিকতা হবেনা, একইভাবে ঐ সময়ের নেপথ্যের কারণ ও ঘটনা সমূহ সঠিক ভাবে উপস্থাপনের জন্য চাই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য ও বিবরণ। কিন্তু ঘটনার দুই নায়কই আজকেই অনুপস্থিত।

শারমিন আহমদ ৪২ বছর পর কেন এই সময়ে এসে বলছেন-

প্রশ্ন আসতেই পারে, শারমিন আহমদ কেন জোহরা তাজউদ্দীনের মৃত্যুর আগে প্রকাশ না করে এখন এই অসময়ে এসে তখনকার অর্থাৎ ৪২ বছর আগেকার গীত গাইছেন ? আমি আগেই বলেছি এটা শারমিন আহমদ এর বইয়ের সমালোচনা বা তার তথ্যের বিরোধিতা নয়, যেহেতু বইটা এখনো পড়াই হয়নি, তার বক্তব্যের তথ্যের বিরোধিতা করার প্রশ্নই আসেননা। তবে এ ধরনের তথ্য সর্বসাধারণের সামনে নিয়ে আসার জন্যে তাকে ধন্যবাদ দিতেই হয়। তিনি সঠিক কাজটিই করেছেন। হতে পারে তার তথ্যের অনেক অমিল বা অনেক ব্যাখ্যার সাথে ঐতিহাসিক সত্য নাও মিলতে পারে।

তবে আওয়ামীলীগ সরকারের বিরুদ্ধে দেশে বিদেশে একটি শক্তিশালী এবং অত্যন্ত প্রভাবশালী একটি দেশের সহায়তায় যখন হাসিনার সরকারকে উৎখাতের ব্যাপক এক পরিকল্পনা নিয়ে লবীষ্ট সক্রিয় হচ্ছে ধীরে ধীরে, তার ঠিক আগ মুহূর্তে শারমিন আহমদ কেন এই বইটি প্রকাশ করেছেন ? এই প্রশ্ন আমার নয়, আমাকে বেশ কয়েকজন করেছেন ? আমি তাদের বলেছি আমি জানিনা এর উত্তর, শুধু যিনি লিখেছেন তিনিই দিতে পারবেন অথবা যারা আওয়ামীলীগ বিরোধী স্রোত তৈরির কাজে হাত দিয়েছেন তারাই ভালো করে বলতে পারবেন কিংবা যে বা যারা আওয়ামীলীগ করেন, তারাই জানেন। আমি আওয়ামীলীগ কিংবা বিরোধীদল কিছুই করিনা। আমার কাছে বাংলাদেশটাই আমার দল, আমার প্রাণ।

সিআইএ চায়না হাসিনার সরকারকে-

শাহরিয়ার কবীর মাত্র কিছুদিন আগে(বই প্রকাশের আগে)বলেছেন, আমেরিকা চায়না আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় থাকুক। এটা ধ্রুব সত্য।সত্য বলেই আমেরিকার উপমহাদেশের শরীক ভারতের সাথে মনঃস্তাত্বিক সংঘাত শুরু হয়ে যায় বিগত দশম নির্বাচন নিয়ে। এটা এমন পর্যায়ে চলে আসে, কোন প্রকারের রাখ ঢাক আমেরিকা রাখতে চায়নি। বাংলাদেশ ইস্যুতে আমেরিকা ভারতীয় দূতকে হেনস্থা করে বসে, উদ্দেশ্য গ্রিন সিগন্যাল পৌঁছে দেয়া।বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক আধিপত্য বিস্তার নিয়ে আমেরিকার সাথে ভারত, চায়না আর আজকের রাশিয়ার দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছে, যদিও একই সাথে ব্যবসায়িক ও ষ্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ সমানতালে বাড়তে থাকে উভয় দেশ সমূহের মধ্যে।এ কজন মার্কিন দূত সূত্রে জানা গেছে, সিআইএ আইএসআইকে সামনে রেখে ষ্ট্র্যাটেজী নির্ধারণ করেছে, হাসিনা সরকারকে দৃশ্যপট থেকে সরিয়ে দেয়ার। সিআইয়ের অনেক কাজের সহযোগী র` হলেও কৌশলগত কারণে র-হাসিনার সরকারের সাথে যেমন কাজ করতে সম্মত, একই সাথে হাসিনার বিকল্প শেখ মুজিব কেন্দ্রিক একজন বিকল্প নেতৃত্বও গড়ে তুলতে কাজ করছে, যে কৌশলকে সিআইএ আইএসআইকে তার আদর্শিক পার্টনারদের সামনে রেখে বাস্তবায়ন করতে চায়।সিআইএ অবগত র` বাংলাদেশ সৃষ্টির পর থেকে দেশীয় এজেন্টদের মাধ্যমে কাজ করলেও বর্তমানে সশরীরে উপস্থিত থেকেই কাজ করছে। সিআইএ তাদের পার্টনারদের মাধ্যমে হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে অপারেশন (কূটনীতিকের ভাষায় ট আদ্যক্ষরের এই টি বইয়ের টি নয়, অপারেশন কোড নেইম দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির নামের আদ্যক্ষর হবে হয়তো সফল করতে র` প্রধান বাঁধা। সেজন্যে দরকার র` এর পাতানো খেলায় মুজিব কেন্দ্রিক কৌশল নির্ধারণে মাঠ দখলে নিতে। এটা আমার কোন মতামত নয়, তথ্য শেয়ার করলাম মাত্র। কেননা তথ্যের পেছনে তথ্য থাকে।

লন্ডনে বৈঠক, আমেরিকার একাউন্টে লেনদেন-

৮ মাস আগে বাংলাদেশের একজন বিরোধী দলীয় নেতা ও আইনজীবীর মধ্যস্থতায় ও প্রভাবশালী এক মিডিয়া ব্যক্তিত্বের মাধ্যমে যোগাযোগ হয় আমেরিকান নামকরা বাংলাদেশী একজনের লবীষ্টদের সাথে। তাদের মাধ্যমে ভার্জিনিয়া ও কানেকটিকাটে বৈঠক হয়-প্রাথমিক প্রকল্প হিসেবে মুজিবের সহযোদ্ধা তাজউদ্দীন প্রকল্প হাতে নেয়া। লন্ডন থেকে বাংলাদেশের আইনজীবী কাম নেতার মধ্যস্থতায় প্রভাবশালী মিডিয়া ব্যক্তিত্বের লবীষ্টদের মাধ্যমে আটলান্টায় বিশাল একাউন্ট ট্রান্সফারের খবর একজন আলোচনা ক্রমে ইঙ্গিতে বলেছিলেন ৮ মাস আগেই। মুজিব কাকু আসছে- এই তথ্য নিয়ে, বিশ্বাস করিনি। এখনো করিনি।

এই কারণে করিনা- বঙ্গবন্ধু এবং তাজ উদ্দিন আর বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ এক ও অভিন্ন স্বত্বার দুটি স্বতন্ত্র অস্তিত্ব। তাজ উদ্দিন নিজেই বলেছেন বাঙালি জাতির অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু এবং বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে তারা মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, বঙ্গবন্ধুর অনুপস্থিতিতে তাজ উদ্দিন বঙ্গবন্ধুকে মুজিব নগর সরকারের প্রধান করেই প্রবাসী সরকার গঠন করেছেন।শারমিন আহমদ তাতে একমত। যেমন একমত জোহরা তাজউদ্দিন। প্রশ্ন হলো শারমিন আহমদ বই লিখছেন, বই প্রকাশের জন্য  মিলিয়ন ডলারের টি প্রকল্পের কথা বই প্রকাশের ৮ মাস আগে বইয়ে মুজিব কাকু নিয়ে এই তথ্য কেমন করে লন্ডনে বসে ঐ নেতা জানলেন ? আমি হিসেব মেলাতে পারছিনা। উনি কি অবগত ? আমি জানিনা।

টি প্রকল্পের বর্হিশাখা ইউরোপে ও লন্ডনে-

লন্ডনের একজন তাত্ত্বিক রাজনীতিক জানালেন, মার্কিন দূতের দেয়া টি প্রকল্পের আভাসের সূত্রে, ঐতিহাসিক কেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক স্রোত হাসিনা বিরোধী রাজনীতিকে উস্কে দিয়ে বিপ্লবের ক্ষেত্র তৈরির জন্য ইউরোপ-আমেরিকা-লন্ডন সক্রিয় উনারা।সিআইএর ষ্ট্র্যাটেজীক পার্টনার পরিচয়ের একজন বিশেষজ্ঞ এসব দেখভাল করছেন, যা সকলের নাগালের বাইরে। মুজিব কাকু কিংবা ইতিহাস কেন্দ্রিক তথ্য এটা মাত্র শুরু- আমি অবাক হয়ে শুনছিলাম, কথোপকথন। কেন জানি বিশ্বাস করতে মন চায়না, কেননা ঐতিহাসিক তথ্যের সাথে এসবের লেনদেন কোথায়-হিসেব মিলেনা। আমাদের সাধারণের কাছে এরকম বহু হিসেবইতো মিলেনা। তারপরেও ঘটনাসমূহ ঘটে যায়।

সাঈদীর ফাঁসি ও যুদ্ধাপরাধের বিচার-

এই ধারার অপর গোপন অংশের সূত্রে জানা গেছে, মাওলানা সাঈদীর ফাঁসি হচ্ছেনা।হচ্ছেনা বলেই এবং কোন ধরনের রিস্ক নিয়ে বিপদের মুখোমুখি হতে আইনজীবীরাও চাননা। আমেরিকা চাচ্ছে জামায়াত বাংলাদেশের রাজনীতির মূলধারায় গণতান্ত্রিক পন্থায় থাকুক। সিআইএ তাই জামায়াত কানেকশন বাড়িয়ে দিয়েছে। র` চাচ্ছে জামায়াতও রাজনীতিতে সক্রিয় থাকুক। জামায়াত না থকলে আল্লামা শফী হুজুর ও মাদ্রাসা কেন্দ্রিক রাজনীতি মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে, যা সামাল দেয়া কঠিন- র` সিআইএ ভালো করেই জানে। আইএসআই নিজ দেশের ও তালেবান অভিজ্ঞতায় সিআইকে ব্রীফ করেছে এমনকরেই, যা গ্রহণীয় পর্যায়ের বলে জানা গেলো তাদের মাধ্যমে। আর সেজন্যে র` এর ফর্মুলায় দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর ফাঁসি হচ্ছেনা, জামায়াতও গোলাম আযমকে ছাড় দিয়ে হলেও সাঈদী নিজামী মোজাহিদকে রক্ষা কল্পে সরকারের সাথে নেগোসিয়েশনের টেবিলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ের মুরুব্বীদের মাধ্যমে।সেই মধ্যস্থতায় সাঈদীর ফাঁসি হবেনা, তবে রায়ও সরাসরি হবেনা, অনেক জটিল ধরনের এক রায় হবে। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ বিশেষজ্ঞদের পরামর্শও নেয়া হচ্ছে, ফাঁসি এড়িয়ে কেমন করে জামেলা পূর্ণ জটিল এক রায় দেয়া যায়।এই সমঝোতা কার্যকর হয়ে গেলে রাজনীতির গতিপথ ভিন্নভাবে এগুবে। সিআইএ তাই বিকল্প ব্যবস্থাগুলোর ক্ষেত্র আগে ভাগেই সামনে নিয়ে আসছে একের পর এক লন্ডন আমেরিকা হয়ে এখন ঢাকায় বাজিমাত তুলছে।

মুজিব বাহিনী ও ১১ সেক্টর-

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধে মুজিব বাহিনী ও ১১টি সেক্টর ও সেক্টর কমান্ডারদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। বিতর্ক যতই থাকুক সেই সব অবদান অস্বীকার করা যাবেনা। আর সেগুলোকে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করার মধ্যে আদর্শ দেশপ্রেমিকতা নেই।মুজিব বাহিনীর সেই সব নেতারা আর যোদ্ধারা জীবন বাজী রেখে শত্রুর বিরুদ্ধে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে এবং সরাসরি তত্বাবধানেই যুদ্ধ করেছিলেন। একইভাবে ১১টি সেক্টরের সেই সব বীর সেনানীরা সহ অসংখ্য বীর যোদ্ধারা মাতৃভূমির জন্য লড়াই করেছিলেন। মুক্তিযুদ্ধের এই ১১টি সেক্টরের মধ্যে সবচাইতে বড় সেক্টরের কমান্ডার ছিলেন মরহুম এম এ জলিল। তেমনি ভাবে অন্যান্য সেক্টর কমান্ডাররাও গুরুত্বপূর্ণ। তাই বলে বৃহৎ ও সুবিশাল সেক্টরের দাবীদার হয়ে মেজর (অব:) জলিল কিংবা অন্য সেক্টর কমান্ডাররা অথবা মুজিব বাহিনীর কোন নেতা ও সদস্য নিজেকে মুক্তিযুদ্ধের একক ও অনন্য ইউনিক নেতা দাবী করতে পারেননা, তা সঠিক হবেনা। যদি এরকম হয়, তাহলে আরো অনেকেই অনেক অবদানের জন্য নিজের কৃতিত্বের দাবীতে বলবেন তিনিই সব কিছু। বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধকালীন স্পিন ডক্টর হিসেবে তাজউদ্দিন আহমদ বা সেক্টর কমান্ডার হিসেবে কোন সেক্টরের নেতা, মুজিব বাহিনীর নেতা হিসেবে কোন নেতা বঙ্গবন্ধুর সমকক্ষ দাবী করাটাও যুক্তিসঙ্গত নয়, ৪২ বছর পরে অনেক কিছুই যুক্তির মাধ্যমে সঠিক মনে হলেও তখনকার বাস্তবতা আর বিশ্ব প্রেক্ষাপটে এবং একই সাথে এই সকলের বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বে মুক্তিযুদ্ধ করার জন্যেই নিবেদিত ছিলেন, করেছিলেন- এখানে কোন দ্বিমত কারো নেই। তাহলে বিতর্ক কেন ? কাদের পারপাস সার্ভ করা হচ্ছে। এরশাদের কথায়ই বলতে হয়, টাকার কাছে আমরা সবাই বিক্রি হয়ে গেছি। এরশাদ যতো খারাপ চরিত্রেরই হউন না কেন, মাঝে মাঝে খাটি কথাই বলেন, যেমন ক্ষমতায় থাকার সময় বলেছিলেন এদেশে সবই সম্ভব।

আজকের প্যালেস্টাইন ও আমাদের মুক্তিযুদ্ধ-

ইয়াসির আরাফাতের মতো বিপ্লবী নেতা খুব কমই জন্ম নিয়েছেন। তারপরেও ইয়াসির আরাফাত মৃত্যু বরন করেছেন বা পয়জন মিশিয়ে তাকে হত্যা করা হয়েছে, অথচ আমাদের মুক্তিযুদ্ধের আগে থেকে চলে আসা পশ্চিম তীর ও গাজা উপত্যকার আর প্যালেস্টাইনের জনগণের মুক্তির সংগ্রাম আজো চলছে, সেখানে শক্তিশালী ইসরাইলের বর্বরতায় বিশ্ব বিবেক সোচ্চার হলেও কিছুই করার নেই, ইসরাইলের শক্তি আর সম্পদের কাছে বিশ্ব নেতারা বন্দি।

বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় আমেরিকার পাকিস্তান সমর্থন থাকা সত্যেও শারমিন আহমদ এর এই মুজিব কাকু দক্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্ব আর একদিকে পাকিস্তানের সাথে লিয়াজো আর অন্যদিকে মুজিব বাহিনী আর ১১টি সেক্টরের সেনানী, ইপিআর বিডিআর জোয়ান আর ক্ষেতে- কামারের মুক্তি-সেনানীদের সীমাহীন সাহসী যুদ্ধ আর আক্রমণের রণ কৌশলী এই মুজিব কাকুকেই করে তুলেছিলো বঙ্গবন্ধু, যার ফলে নয় মাসের মধ্যেই বিশ্ব দেখলো বাংলাদেশ স্বাধীন- পৃথিবীর ইতিহাসে আজো যা বিরল।এমন কোন দেশ কি কেউ দেখাতে পারবেন নয় মাসের যুদ্ধে স্বাধীন ? শুধু কি তাই দুই লক্ষেরও উপরে ভারতীয় সৈন্যদের বাংলাদেশের মাটি থেকে সরিয়ে নেয়া- মাত্র একমাস সময়ের মধ্যেই শুরু, পৃথিবীর ইতিহাসে কি এমন দৃষ্টান্ত আছে ? আজকের ইরাক আফগানিস্তান লিবিয়া অভিযানের কথা আমাদের চোখের সামনে। এখনো ইরাকের মাটিতে আফগানিস্তানে লিবিয়ায় বিদেশী সৈন্য। সরিয়ে নেয়ার কতো রোড প্ল্যান করা হচ্ছে, নেয়া কি হচ্ছে আদৌ ।

আমাদের প্রগতিশীল বুদ্ধিজীবীরা আওয়ামীলীগের বিরোধিতা করতে গিয়ে শেখ মুজিবের সব চাইতে বারোটা বাজিয়ে দিয়েছেন- এটাই মূলত: বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসের নির্মম ট্র্যাজেডি।

জাসদ যা বলতো, শিরিনের মুজিব কাকু ও অন্যদের ইতিহাস চর্চা একই-

একটা বিষয় বেশ সাদৃশ্য অসম্ভব ভাবে লক্ষণীয়। ১৯৭২ সালে প্রধান বিরোধীদল জাসদ বঙ্গবন্ধুর বিরোধিতা করতে গিয়ে ঠিক যে ভাষায়, যে সব তথ্য দিয়ে বক্তব্য দিতো, আজকে ৪২ বছর বয়সে এসেও ঠিক একই রকমের তথ্য, একই রকমের বক্তব্য বঙ্গবন্ধুর বিরুদ্ধে দেয়া হচ্ছে।সুতরাং সেদিনের বক্তব্যের সাথে নতুন বক্তব্য কোথায়?

নেতা শেখ মুজিব আর শাসক শেখ মুজিব বিস্তর ব্যবধান-

একজন রাজনৈতিক নেতা আর নেতৃত্বের অসাধারণ গুণাবলীর ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতায় বঙ্গবন্ধু যেমন পার পেয়ে যান, আকাশছুয়ী জনপ্রিয়তা লাভ করেন, ঠিক তার বিপরীতে একজন শাসক শেখ মুজিব এবং আওয়ামীলীগের নেতা শেখ মুজিব চরমভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দেন। তার মানে এই নয় যে, শাসক শেখ মুজিবের ব্যর্থতার মাপকাঠির নিরিখে নেতা শেখ মুজিবের সকল গুণাবলী ও অর্জন ইতিহাসের চোরাবালিতে নতুন করে লেখার চেষ্টা করা।আওয়ামীলীগের বর্তমান নেতৃত্বকেও এই বাস্তবতা মানতে হবে।অতিরিক্ত ভক্তি ও অতরঞ্জিতা সব কিছুই খারাপ। যার যা ভুমিকা, যার যা প্রাপ্য, তাকে তাই দিতে হবে।সকলকে সাথে নিয়েই সুন্দরের জন্ম দেয়া যায়, বিভাজন ও বিভক্ত করে নয়।

হাসিনা ও আওয়ামীলীগের বিরোধিতা-

একইভাবে আওয়ামীলীগের সীমাহীন স্বেচ্ছাচার, স্বজনপ্রীতি, দলবাজি, গুণ্ডামি, সন্ত্রাসী, লুটপাটের প্রতিবাদ করতে গিয়ে ইতিহাসের মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে ছিঁড়ে ফেলতে হবে- এমন বিরোধিতা কতোটুকু যুক্তিসঙ্গত ও ঐতিহাসিক ভিতকে নাড়িয়ে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট সেটা কি ভাবা যায় ?। আজকের আওয়ামীলীগও বঙ্গবন্ধুর এই অবস্থার জন্যও ইতিহাসের ঐতিহাসিক দায়বদ্ধতা এড়াতে পারেনা।

(আগামীতে থাকছে প্রথম পর্ব- শিরিন শারমিনের মুজিব কাকু আর একজন পিতা তাজউদ্দিন)

Salim932@googlemail.com
26th April 2014,London.