ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

আইএস, জঙ্গিবাদ এবং শেখ হাসিনা- ভিতর এবং বাহির

 

 

সৈয়দ শাহ সেলিম আহমেদ- লন্ডন থেকে

 

 

এই মুহুর্তে আইএস যেমন বিশ্বে এক বার্নিং ইস্যু, তেমনি জঙ্গিবাদ বাংলাদেশের রাজনীতিতেও হট কেকের মতো এক ইস্যু। আইএস এবং জঙ্গিবাদ- পৃথিবীর যে কোন প্রান্তের যেকোন মিডিয়ায়, সেটা হউক ইসলামিক বিশ্ব কিংবা সেক্যুলার সমাজ অথবা পূজিবাদি বিশ্ব- সকল মিডিয়ায়ই সমানভাবে জনপ্রিয়। গোগল, ইউটিউব, আর সোশ্যাল মিডিয়ায় এই ইস্যু হুট হুট করে পারদের মতো লাফিয়ে উঠে। ক্লিকের পর ক্লিক পড়ে চলে- জনপ্রিয়তার পারদে না হলেও এই ইস্যু যে কতো হট সেটা সহজেই অনুমেয়। আর মিডিয়া সেটা পেলে লুফে নিবে সেটা বলাই বাহুল্য। আর এক শ্রেণী আছেন- সারাক্ষন সব কিছুতেই আইএস, জঙ্গি ইস্যুর তকমা লাগাতে যেমন ব্যস্ত, তেমনি অন্য আরো এক শ্রেনি আছেন আইএস আর জঙ্গিকে কেমন করে রাজনীতকীকরকন করে নিজের ঘরে ফায়দা তোলা যায়। অন্য আরো এক শ্রেনি আছেন- বিশ্বকে কিভাবে এই ইস্যুতে ইসলামোফোবিয়া আক্রান্ত করে যত হট করা যায়। এই তিন মারপ্যাচে আমরা সাধারন বুঝতে অক্ষম হয়ে আছি কে যে এইএস আর কে যে জঙ্গিবাদের বিপক্ষে। কেননা যিনি জঙ্গিবাদ চালু করেন, তিনিই আবার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার, যিনি আইএসকে আর্থিক পেট্রন, আবার তিনিই আইএস এর বিরুদ্ধে বোমা ফেলেন। এটা এমন এক সেনসিটিভ হয়ে আছে, বিশ্বের যে প্রান্তে থেকে সঠিক তথ্য উদ্ঘাটনের জন্যে যদি রিসার্চ করেও বক্তব্য সঠিকভাবে তুলে ধরেন- তাহলেও আপনাকে বিপদে পড়ার সমূহ সম্ভাবনা। কেননা তখন বলা হবে আইএস, জঙ্গিদের অনেক নির্মোহ তথ্য এখানে আছে, হয়তো এদের সাথে কানেকশনও আছে। তাই চালাও জেরা আগে এখানে। অর্থাৎ কাজের কাজ ফেলে অকাজে দৌড়ানো।

 

আইএস ইস্যু মূলত ইরাক, কুর্দি, সিরিয়া ইস্যু যখন সারা বিশ্বের শিরনাম হয়ে যায়- মোটা দাগের গরফে আমরা সাধারণ জনগন বুঝি তখন থেকেই এই আইএস বিশ্ব রাজনীতিতে লেপ্টে যায়।এর রাজনৈতিক, তাত্বিক এবং ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট যদিও নেপথ্যের অনেক কারণ রয়ে গেছে, কিন্তু এই কলামে সেই আলোচনা মুখ্য নয়।অন্য কোন আলোচনায় সেই প্রসঙ্গ। আজকের বিষয় শুধু মাত্র বাংলাদেশ কেন্দ্রিক।

 

আর জঙ্গিবাদের উত্থান বিশ্ব পরিমন্ডলের প্রেক্ষাপট যাই থাকুক না কেন, বাংলাদেশ প্রেক্ষিত অনেকটাই উল্টো। কেননা বিগত জোট সরকারের আমল থেকেই এই জঙ্গিবাদ তত্ব নতুন এক মাত্রা নিয়ে তথাকথিত এবং কথিত বাংলা ভাই আর শায়েখ আব্দুর রহমানের আড়ালে নতুন বোতলে পুরনো মদ প্রকাশ্যে আনা। যদিও বাংলাদেশের দুর্গম কিছু এলাকায় এই জঙ্গি কার্যক্রম আগে থেকেই সুপ্ত হচ্ছিলো, ভিন্ন আঙ্গিকে, ভিন্ন প্রেক্ষিতে। কিন্তু জোট আমলে সেই মাত্রায় নতুন আঙ্গিকে জঙ্গিবাদ প্রকাশ্য মাত্রা লাভ করে  আর সেই মাত্রায় মহাজোট সরকার জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে গিয়ে সঠিক রাজনৈতিক নির্দেশনা ব্যতিরেকে কতিপয় নেতার জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা ও অঘোষিত এক যুদ্ধ- সুরঙ্গিত সেনগুপ্তের ভাষায় ঢাল নেই তলোয়ারের নিধিরাম সর্দার আড়ালে জঙ্গিবাদ শব্দের ব্যাপক প্রসার লাভ করে।

 

সর্বশেষ দুই বিদেশী নাগরিকের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশের রাজনীতিতে যেমন এই আইএস এবং জঙ্গিবাদ প্রধান ইস্যু হয়ে উঠে এসেছে, সেই সাথে বিশ্ব কূটনৈতিক অঙ্গনে শান্তির জনপদ খ্যাত বাংলাদেশকে নিয়ে শুরু হয়েছে বিশ্ব মোড়লদের এক নয়া ডিপ্লোম্যাটিক বার্তার কৌশলী খেলা। এ যেন ছোট বেলা পড়া গল্পের নেকড়ের পানি ঘোলা করার খেলার কথাই মনে করিয়ে দেয়।সব চাইতে বড় দৃষ্ঠিকটু যা লেগেছে, আর তাহলো দুজন নাগরিকের হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করে বিদেশী বন্ধুদের বাংলাদেশের উপর এমন সতর্কতা জারির নামে রাজনীতি থেকে খেলার মাঠ পর্যন্ত গড়িয়েছে- সেই ডিপ্লোম্যাটিক খেলা- যা কূটনৈতিক সহজাত বার্তার আলোকে সেসব যে কোনভাবেই মানানসই নয়, বিশ্ব মোড়লরা নিজেরাও জেনেশুনে বাংলাদেশের সাথে এমন করাটা কতোটা যুক্তিসঙ্গত- সময় এসেছে সেসব আগে খতিয়ে দেখার। কেননা এমন অতিরিক্ত আচরন করেই আজকে কূটনীতিক পাড়ায় আধাসামরিক বাহিনীর টহল- বাংলাদেশ যেন এক নতুন গুয়ানতানামোবে- এমন এক নেগেটিভ সূক্ষ্মখেলার সাথে যেসব দেশের কূটনীতিক জড়িত-সেগুলোও খতিয়ে দেখাটা জরুরী। তার অর্থ এই নয় যে, একজন নাগরিককে যখন তখন হত্যা করা হবে, আর সরকারের কোন দায় দায়িত্ব নেই- এমন নয়। কেননা সব কিছু মিলিয়ে সরকার যথেষ্ট সাধ্যমতো সব কিছু করছে, কূটনীতিকেরা নিজেরাও সেটা বলছেন।

 

এই দুই নাগরিকের হত্যাকান্ড নিয়ে নতুন করে বিদেশ কেন্দ্রিক একটি ওয়েব সাইটের মাধ্যমে আইএস এর দায় স্বীকার করে সংবাদ এসেছে পত্র পত্রিকায়।যিনি এই ওয়েব সাইট পরিচালনা করেন, তিনি এখনো নিশ্চুপ।যদিও এই পরিচালনাকারীর সম্পর্কে নানা মুখরোচক গল্প ছাড়াও কিছু বাস্তব এভিডেন্স ইতোমধ্যেই সংবাদ মাধ্যমে এসেছে।

 

বাংলাদেশে আইএস এবং জঙ্গিবাদ যাতে বিস্তার লাভ না করে সেজন্যে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০০৮ এ ক্ষমতারোহনের পর থেকেই বক্তব্য বিবৃতি যেমন দিয়ে আসছিলেন, তেমনি ষ্ট্র্যাটেজীও পরিচালনা করে আসছিলেন, যার কিছু কিছু হাসানুল হক ইনু প্রকাশ্যে বক্তব্য দিয়ে নিয়ে এসেছেন। যদিও শেখ হাসিনা প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য প্রকাশ্য বক্তব্য বিবৃতি ছাড়া এ সংক্রান্ত ষ্ট্র্যাটেজিক কোন পরিকল্পনা সরকারি কিংবা অন্য কোনভাবে অথবা পার্টির ওয়ার্কিং কমিটি বা মহাজোটের ওয়ার্কিং কমিটির কোন সভা থেকে বলা হয়নি। শেখ হাসিনার এমনি অবস্থানের সাথে বিশ্ব পরিমন্ডলে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ ও ইসলামোফোবিয়া বিরোধী নেতৃত্বদানকারী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ভারত এবং অন্যান্য সহযোগিরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে উগ্র সন্ত্রাসবাদী যাতে ছড়াতে না পারে- এমন ষ্ট্র্যাটেজি সাজায়। দেশের ভিতরে রাজনৈতিকভাবে পর্যুদস্ত শেখ হাসিনা অনেকটা উদ্যোগী ও চ্যালেঞ্জিং এক টাস্ক হিসেবে ভারতীয় সহযোগিতায় নিজের জ্ঞাতে অজ্ঞাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী অবস্থানে নিজেকে জড়িয়ে ফেলেন। আওয়ামীলীগ শুরুতেই শেখ হাসিনার এই উদ্যোগী ষ্ট্র্যাটেজিক অবস্থান বোধগম্য করতে না পেরে অনেকটাই থাকে ইতস্থত ও নিষ্ক্রিয়।হাসানুল হক ইনু সরকারে থাকার সুবাধে শেখ হাসিনার এই উগ্র সন্ত্রাসবাদ বিরোধী রাজনৈতিক কৌশল এবং ভারতীয় গ্রিন সিগন্যাল বুঝতে পেরে এই প্রচারে শেখ হাসিনার হয়ে অনেকটা কৌশলে মুখ্য ভুমিকায় চলে আসেন। শেখ হাসিনা দলীয় নেতাদের উপর ভর না করে ভারতের সাথে মিলে উগ্র সন্ত্রাসবাদ বিরোধী কৌশল সাজান নিজেই। নিজেই কুশলী, নিজেই কান্ডারি- লক্ষ্য ষ্ট্যাটসম্যানশীপ এবং আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী অবস্থান নিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আস্থা অর্জন ও বঙ্গোপসাগর কেন্দ্রিক আগামীর যে রাজনীতি- সেই কৌশলী ও কূটনীতিক যুদ্ধে নিজের নিয়ন্ত্রনে বা সহাবস্থানে নিয়ে এসে বাংলাদেশের জন্য আন্তর্জাতিক উন্নয়নের পার্টনারের সহযোগি হওয়া। বলা যায়, বিগত সাত বছরে শেখ হাসিনা সেই কৌশলী পার্টনারশিপের রাজনীতিতে অনেকটাই সফল। যে কারনে আমরা দেখি, আওয়ামীলীগ দলীয় ওয়ার্কিং কমিটিকে অন্ধকারে রেখে অথবা তাদের বুঝার আগেই শেখ হাসিনা একক উদ্যোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সেন্টমার্টিন দ্বীপ কেন্দ্রিক থ্রি-ডি চুক্তিতে স্বাক্ষর করে নিঝুম দ্বীপ কেন্দ্রিক মার্কিনীদের সহায়তায় নতুন এক বাংলাদেশ তৈরির সূচনা করেছেন। টিটিপিতে স্বাক্ষর করেছেন- ব্যবসায়িক সুযোগ সুবিধা আদায়ের লক্ষ্যে। পাশাপাশি শেখ হাসিনা ভারতকে আস্থায় নিয়ে এসেছেন পুরো মাত্রায়। বিগত ৪০ বছরে ভারত যা পায়নি, শেখ হাসিনার সরকার ভারতকে সেই সব সুযোগ সুবিধা সকল ক্ষেত্রে দিয়ে তাদেরকে একেবারে ভিতরে বাংলাদেশের হার্টের মধ্যে নিয়ে এসেছেন।যার অবিশ্বাস্য এক ফলাফল ছিট মহল হস্তান্তর দেরিতে হলেও সক্ষম হয়েছে। এই অঞ্চলে উগ্র সন্ত্রাসবাদ ও আইএস এর মতো কট্রর জঙ্গি ও সন্ত্রাসিরা যাতে ঘাটি গাড়তে না পারে- সেজন্যে ভারতের সহায়তা গড়ে তুলেছেন বিশাল এক ষ্ট্র্যাটেজিক নেট ওয়ার্ক, যা ভারত ও বাংলাদেশের গোয়েন্দা নজরদারিকে ফাঁকি দিয়ে এই অঞ্চলে আইএস ঘাটি এক দুঃসাধ্য বলাই যায়। এমন অবস্থায় বাংলাদেশে দুই বিদেশী হত্যাকান্ডে আইএস জড়িত- এমন তথ্য ডিপ্লোম্যাটরাও মানতে নারাজ। তারপরেও এই আইএস বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন এক সংস্করন পেতে যাচ্ছে সন্দেহ নাই।

 

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপিয় ইউনিয়ন আর ভারত নিজেরা জানে পাকিস্তানের আর আফগানিস্তানের জঙ্গিবাদের ভয়াবহতা থেকে এই বিশ্ব মোড়লরা কিছুতেই বাংলাদেশে নিজেদের স্বার্থে আর জঙ্গিবাদের উর্বর ভুমি হতে দিবেনা।তবে ছোট ছোট জঙ্গি তৎপরতা রাজনৈতিক স্বার্থেই জিইয়ে রাখবে সেটা বোধগম্য।

 

আবার বাণিজ্যের ভারসাম্য না থাকায়, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ বিরোধী আন্দোলনে খুব একটা দেন দরবারে পারদর্শী বা সমকক্ষ হতে পারছেনা। বাংলাদেশের যেমন দরকার তাদের সাহায্য সহযোগিতা আবার কৌশলগত কারণে তাদেরও দরকার বাংলাদেশকে। শেখ হাসিনা ভেতরের এই সূক্ষ্ম কৌশলকে কাজে লাগিয়ে কূটনীতি ও রাজনীতির পুল সিরাতের সাকো দিয়ে তাদের সাথে পার হওয়ার চেষ্টা করছেন। শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ ২০১৪ পর্যন্ত এই পুল সিরাতের সাকো পারের কৌশল সম্পর্কে ছিলো অজ্ঞাত এবং বলা যায় ধর্তব্যের মধ্যে নেয়নি। ২০১৫ মাঝামাঝি সময়ে বিশেষ করে ড্যান মজিনা বাংলাদেশ ত্যাগের পর শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ নড়ে চড়ে উঠেন। হাসিনার এই কৌশলী খেলায় কি করে কাঠা বিছানো যায়- যাতে আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবিরোধী আন্দোলনে শেখ হাসিনার সহযোগী কৌশল হয় প্রশ্নবিদ্ধ, আবার দেশের ভিতরে শেখ হাসিনা হয়ে পড়েন রাজনৈতিকভাবে কোণঠাসা। প্রতিপক্ষ ছক আকতে থাকে আর খোলসও পাল্টাতে থাকে। সুযোগ খুজতে থাকে মোক্ষম সময়ের। হাসিনার হয়ে মুখপাত্র হিসেবে যিনি কাজ করেন সেই হাসানুল হক ইনু হয়ে পড়েন দেশীয় রাজনীতির হিসেব নিকেশে শেখ হাসিনার নির্দেশে অন্য এক খেলার হাতিয়ার- যা নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে পরিস্কার হতে থাকবে। সেই সুযোগে আওয়ামীলীগও হয়ে পড়ে অতি আত্মবিশ্বাসী আর হাসিনার কুশলী রাজনীতি আত্মস্থ থেকে যোজন যোজন দূরে। সামনে ঘনিয়ে আসে দুই দুটি প্রধান রাজনৈতিক নেতার মামলার চূড়ান্ত রায়। শেখ হাসিনার প্রতিপক্ষ বুঝে নেয়- শিগ্রই তাদের ভাগ্যও কামারুজ্জামানের পথ অনুসরন করতে যাচ্ছে। এই অবস্থায় নতুন ফর্মুলার চূড়ান্ত হিটের জন্য ছক ফেলা হয়। ভারতীয় গোয়েন্দা আর দেশীয় সকল বাহিনী থাকে ঘুমের মধ্যে। শেখ হাসিনা তখন জাতি সংঘে পুরস্কার নিতে ব্যস্ত-আওয়ামীলীগ তখন দিনে ঘুমিয়ে। প্রতিপক্ষ এই মোক্ষম সময়কে নেয় টার্গেট হিসেবে। ফলে ঘটে যায় দু দুটি নির্মম হত্যাকান্ড। বাংলাদেশ হয়ে যায় বিশ্ব শিরোনাম- কূটনীতিকরা বিশেষ মহলের ইঙ্গিতে উঠে পড়ে লেগে যান, পরিস্থিতিকে ঝুকির মধ্যে নিয়ে যাওয়ার জন্যে। ভারত নড়ে চড়ে বসে। প্যান্টাগনে বার্তা চলে যায় দ্রুত। যুক্তরাজ্যকে পাশ কাটিয়ে নয়াদিল্লী-প্যান্টাগন ষ্ট্র্যাটেজি সাজিয়ে তখন ঢাকার মাঠে। পরিস্থিতি দ্রুত তখন সরকারের অনুকুলে খেলা করে। অবস্থান বুঝতে পেরে প্রতিপক্ষ হয়ে যায় নীরব- যেভাবে পর্দার আড়ালে ছিলো- সেভাবে আড়ালেই চলে যায়। পরের পরিস্থিতি শেখ হাসিনা দেশে ফিরেই নিয়ন্ত্রনে নেন, প্যান্টাগন নয়াদিল্লী ব্রিফিং পূর্বেই রাশিয়া ও চীন ব্রিফিং কার্যকর হয়ে যায়।

 

ভেতরের রাজনৈতিক দৃশ্য যাই হউক- শেখ হাসিনা এখন পুরোটাই নিজের মতো করে বিশ্ব পরিমন্ডলে খেলছেন স্বাধীনভাবে সন্দেহ নাই। যা অনেকের জন্যে ইর্ষার কারনও। আবার ছোট ও গরীব দেশের রাষ্ট্রনায়কের এমন পারদর্শীতাও অনেকেই মানতে নারাজ সহজাত মনুষ্য প্রবৃত্তির কারনে।

 

রাষ্ট্রনায়ক শেখ হাসিনা এখন অনেক পরিপক্ষ এবং দক্ষ। দক্ষ সেকারণেই মার্কিন ও ভারতীয় বিশ্বস্থতা অর্জনের পাশাপাশি কুশলী শেখ হাসিনা এখন নিজের কূটনীতি পূর্বমুখীও ব্যাপৃত করেছেন। তিনি চীন ও রাশিয়ার সাথে অংশীদারিত্ব ভিত্তিক কাজ শুরু করেছেন জোরেশোরে। এতে কোন রাখ ঢাক রাখেননি। ভারত কতোটুকু অসন্তুষ্ঠ হবে, মার্কিনীরা কিভাবে নিবে- সেই চিন্তা ভাবনা আপাততঃ বাইরে না দেখিয়ে ভেতরে সমঝোতার কুশলী পার্টনারশিপ বজায় রেখে চীন ও রাশিয়াকেও সাথে নিয়েছেন- সমরাস্র, পারমানবিক বিদ্যুৎ উন্নয়ন আর সেই সাথে গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মানে।

 

শেখ হাসিনা জানেন, বাংলাদেশের গভীর সমুদ্র বন্দর হয়ে চীন তার জ্বালানী সাম্রাজ্য গড়ে তুলে অস্ট্রেলিয়া পর্যন্ত বিস্তৃত করতে চায়। চীনের সেই উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনায় বাধা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। চীনের সাথে ভারতের বানিজ্য সাম্রাজ্য নতুন মাত্রা লাভ করেছে। মার্কিনীদের সাথে ভারতের সামরিক চুক্তিও নবায়িত হয়েছে আবার দিয়েগো গার্সিয়ার চুক্তি নবায়ন না করে মার্কিনীরা ফ্লিট রক্ষণাবেক্ষণ বিলিয়ন ডলারের ৪০ বছরের চুক্তি ভারতে সাথে করেছে। শেখ হাসিনা উভয় সাংঘর্ষিক অবস্থান থেকেই নিজের ফায়দা তুলতে চান। সেজন্যে মৈত্রি গড়ে তুলেছেন একই সাথে ভারত, চীন, রাশিয়া ও মার্কিনীদের সাথে।

 

শেখ হাসিনা যখন একজন পরিপূর্ণ রাজনীতিবিদ হওয়ার আগেই হারান পরিবারের সকল ঘনিষ্টজনদের। গোটা পরিবারের সকলকে হারিয়ে শেখ হাসিনা উপর মানসিক এক বিশাল চাপ ছাড়াও তার সকল ক্ষেত্রেই এই চাপটি বিরাট ভুমিকা ও প্রভাব রাখে, তখনো যখন একজন রাজনীতিবিদ ও সাংসদ হয়ে উঠেননি। যার প্রমাণ আমরা পাই- বিগত সময়ে তার বক্তব্য, বিবৃতি ও রাজনৈতিক কার্যকলাপে। এই চাপ যখন ধীরে ধীরে সময় কালের ও পারিপার্শ্বিক স্রোতের অবস্থানে কিছুটা করে বিদূরিত হতে থাকে, তখনি ঘটে আরো এক ট্র্যাজেডি গ্রেনেড হামলা। এর কারণ ও নেপথ্য কারা- সেসব বিশ্লেষণে না গিয়েই বলা যায়, একজন ব্যক্তি শেখ হাসিনা ও নেত্রী শেখ হাসিনাকে করে তুলে একাকার। সেই একাকার লোকটিকে প্রতিক্রিয়া ও মিথিস্ক্রিয়ায় করে তুলে প্রচন্ড জেদি, আত্মবিশ্বাসী এবং অসাধ্যকে সাধ্য করার দুর্দমনীয় এক সাহসী রাজনীতিকে। এখানে প্রতিপক্ষ শেখ হাসিনাকে ঘায়েল করতে গিয়ে শেখ হাসিনা চরিত্রের ভেতরের ব্যক্তিটি অসম্ভব এক শক্তিশালী মহীয়সী নারীতে পরিণত করে ফেলে নিজেদের অজান্তেই। আজকের শেখ হাসিনা চরিত্রের নেত্রীর বাইরের দিকে তাকালেই ভেতরের সেই অসীম দুর্দমনীয় এবং সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে এক সাহসী যোদ্ধা সেনাপতিকেই পাওয়া যায়। গার্ডিয়ান সেই দিকটা সচেতনভাবে বুঝতে পেরেই গার্ডিয়ানের ৩০০ বছরের ইতিহাসকে পেছনে ফেলে পর পর তিন দিন একাধারে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে করে কাভার স্টোরিযা হাসিনা ডাইন্যাস্টিকেকে করে তুলেছে আরো অপ্রতিরোধ্য এবং আইএস ও জঙ্গিবাদ বাংলাদেশে আস্তানা না গাড়তে সাহসী সেনাপতি হিসেবে।যা বিশ্বপরিমন্ডলে অনেক নেতৃত্বে্র কাছে এক ইর্ষনীয়- সেই ইর্ষনীয় অবস্থান না পারছে সইতে, না পারছে কইতে- এমন ত্রাহি অবস্থায় তাই একের পর এক সতর্কতা নামে কূটনৈতিক চাপ। এখন দেখার বিষয় শেখ হাসিনা কেমন করে এই শক্তিশালী চাপ কাটিয়ে উঠেন। আর (যদি) সহজেই পার পাওয়ার মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনার নতুন এক আবির্ভাব হবে ভুরাজনৈতিক পরিমন্ডলে সন্দেহ নাই।

 

 

Salim932@googlemail.com

11th October 2015, London.