ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

যখন একটু বুঝতে শিখেছি তখন থেকেই প্রতিবছর ঈদ আসলেই একটু ভয়ে ভয়ে থাকি। কারণটা পরিষ্কার সড়ক দুর্ঘটনা। ঈদের সময় ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে রাস্তাঘাট প্রচন্ড জ্যাম হয়ে থাকে। মহাসড়কগুলো যেন একেকটা মরণ ফাঁদ। প্রাকৃতিক দুর্যোগের এবং আবহাওয়াজনিত কারণে আমাদের দেশের রাস্তাঘাটগুলো দিন দিন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। এর সাথে যোগ হচ্ছে ড্রাইভারদের অসচেতনতা, ফিটনেসবিহীন গাড়ির দৌরাত্ব্য ইত্যাদি। আমাদের দেশে দুর্ঘটনা ঘটার আগে দেখার কেউ নেই। ঘটনা ঘটার পর সবার গ্রুপ ফটোসেশনের পালা আর মিথ্যা বুলি আওড়ানোর প্রতিযোগিতা শুরু হয়। বলছিলাম সড়ক দুর্ঘটনার কথা। শুধুমাত্র এই ঈদের ৩ দিনে সারাদেশে প্রায় ২০০ জনের মতো মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। খবরের ব্রেকিং এ থাকে মৃত্যুর বিষাদ সংবাদগুলো। কে চায় এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু?

একটি দুর্ঘটনা নিমিষে শেষ করে দেয় একটি পরিবারের স্বপ্ন। একটি মানুষের স্বপ্ন, একটি পিতার স্বপ্ন্, মমতাময়ী মায়ের স্বপ্ন । আর যাই হোক এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু যেন কারো না আসে সেই প্রত্যাশা রইল। ২। ফেসবুকের বন্ধুতালিকায় প্রায়ই যোগ হচ্ছে মৃত মানুষের নাম। যে মানুষগুলো দুদিন আগেও ছিল প্রাণবন্ত, আড্ডায় মাতিয়ে তুলত আসর, একটু ব্যতিক্রম চিন্তা করত, সমাজ পাল্টানোর শপথ যারা নিয়েছিল তাদেরও কেউ কেউ পাড়ি জমাচ্ছে না ফেরার দেশে। রাশেদীন ফয়সাল, ভাই সত্যি বলছি আপনি অনেক ভালো মানুষ ছিলেন। অজানা দেশে অনেক আগে চলে গেলেন। ভালো থাকবেন। সৃষ্টিকর্তার কাছে আপনার আত্মার মাগফেরাত কামনা করি। পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন আপনি। আপনার মত মানুষ তৈরী করতে পেরেছে যে পরিবার সেই পরিবারকে স্যালুট এবং সমবেদনা। আপনার ওয়ালে আর ঘুরে আসবো না, মান খারাপের দুনিয়ার বিস্তৃতি আর চাই না। আসুন নিজ উদ্যোগে , অন্তত নিজের প্রয়োজনে সড়ক দুর্ঘটনা রোধে সোচ্চার হই। যাতায়াতের সময়, গাড়িচালকের ধূমপান,ঘুমিয়ে পড়া,অমনযোগিতা প্রভৃতিকে এড়িয়ে না গিয়ে সঙ্গে সঙ্গে প্রতিবাদ করে প্রতিকার করুন। জানেন ই তো, “একটি দুর্ঘটনা সারাজীবনের কান্না।”

[প্রসঙ্গত গত ১৩ জুলাই সিলেটের দক্ষিণ সুরমার মোগলাবাজারস্থ কোনাপাড়ার গ্রামের বাড়ি থেকে সিলেট শহরে আসার পথে লালমাটিয়া এলাকায় সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন সিলেটভিউ২৪ডটকম’র নিজস্ব প্রতিবেদক রাশেদীন ফয়সাল। ১৩ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে অবশেষে শনিবার বিকেল ৬টার দিকে ঢাকার সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে তিনি শেষ নি:শ্বাস ত্যাগ করেন। ইন্নালিল্লাহি…রাজিউন।]

slide