ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

 

১। প্রত্যেক মানুষের বাক স্বাধীনতা-চিন্তার স্বাধীনতা আছে। কথা সত্য। তবে আপনার বাক স্বাধীনতা যদি অন্য কারো স্বাধীনতা,বিশ্বাস এবং ধর্মীয় মূল্যবোধে আঘাত হানে তখন বুঝতে হবে আপনি যা করছেন সেটা বাক স্বাধীনতা না। আপনি অন্যের ধর্মীয় বিশ্বাসে হস্তক্ষেপ করছেন, যেটি কোন ভাবেই গ্রহণযোগ্য না। আপনি ধর্মে বিশ্বাস করেন না, সেটা আপনার ব্যাপার। কিন্তু তাই বলে অন্য ধর্মের মৌলিক বিষয় নিয়ে প্রশ্ন তোলার কোন অধিকার আপনাকে দেয়া হয় নি। যার যে অধিকার নেই তখন সে অধিকার খাটাতে গেলেই সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়।

২। একজন মানুষকে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয়েছে। আপনি সেই হত্যাকে সমর্থন করছেন তার মানে পরোক্ষভাবে আপনিও একজন খুনী। আপনি ধর্মের দোহাই দেন। লিসেন স্যার। ১৪০০ বছর আগে নবী মুহম্মদ (সা.) এর শত্রুর অভাব ছিল না। নবীর বিরুদ্ধে অপপ্রচার’র ঘটনা ছিল সর্বাধিক। এমনকি মে’রাজ এর ঘটনা প্রকাশ করার পর উনাকে পাগল, মিথ্যুক আখ্যায়িত করা হয়েছিল। সামান্য ভুল বোঝাবুঝি থেকে নবী পত্নী আয়েশা (রা.) এর উপর অপবাদ রটানো হযেছিল। ঠান্ডা মাথায় চিন্তা করুন। সেই সময় ইসলামে আপনাদের মত কাপুরুষ বীর ছিল না। ছিলেন জগত শ্রেষ্ট বীর আলী, উমর, যুবাইর, খালিদ বিন ওয়ালিদ। কিন্তু তখন কথায় কথায় লাশ ফেলা হত না। কারণ ইসলাম আপনাকে সে অনুমতি দেয়নি। বিধর্মীকে কাফির বলতেও ইসলামে নিষেধ করা হয়েছে।

*আবিসিনিয়ায় হিজরত করতে গিয়ে খ্রিস্টান হয়ে যাওয়া সাহাবি উবায়দুল্লাহ ইবনে জাশ ইসলামের প্রথম মুরতাদ। কিন্তু উনাকে হত্যা করার পারমিশন নবী দেননি। নিজের বিছানায় স্বাভাবিক মৃত্যু তার হয়েছিল।
*বিনা দাওয়াতে ইসলাম গ্রহণকারী তুলায়্হা আল আজদি একসময় নিজেকে নবী দাবি করেন। খলিফা আবু বকরের সাথে যুদ্ধে লিপ্ত হন। পরে পরাজিত হন। সবশেষে পালিয়ে গিয়ে আবার ইসলাম গ্রহণ করেন এবং উমরাহ করেন। মুরতাদ হয়ে যাওয়া তুলায়হাকে কিন্তু দেখিবামাত্র কোপানো হয়নি। বরং তিনি সুন্দরভাবে ইসলামে ফিরে এসেছিলেন।

৩। ভাই যত যুক্তিই দেখান আইন হাতে তুলে নেয়ার অধিকার আপনার নাই। ব্যক্তি জীবনে আপনি বিপর্যস্ত হয়ে আত্মঘাতি হওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, মসজিদে বোমা মেরে এক ঢিলে দুই পাখি মারতে চান সেটা আপনার ব্যাপার। অবশ্যই সাংবিধানিকভাবে বাংলাদেশ ইসলামী রাষ্ট্র নয় এবং ইসলামী বিধান এখানে কার্যকর নয়। মনে রাখবেন নবী মুহম্মদ’র ইসলাম এবং আপনার ইসলাম ভিন্ন। তরবারী দিয়ে ইসলাম প্রতিষ্টিত হয়নি। ভালবাসা এবং ক্ষমার জোরেই বিশ্বে ইসলাম প্রতিষ্টিত হয়েছে।

 

ভালো থাকুন সবাই। ভালো থাকুক বাংলাদেশ।