ক্যাটেগরিঃ আইন-শৃংখলা

প্রথমে বিক্ষিপ্তভাবে নির্জন গলিতে, তারপর বাসায়, সবশেষে নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সংঘবদ্ধভাবে হামলা। প্রথমে নাস্তিক নিধন, তারপর নাস্তিক ব্লগার, এখন কবি সাহিত্যিক এবং প্রকাশক। আচ্ছা আসলেই কি হচ্ছে। কেউ কি টের পাচ্ছেন কিছু? চাপাতির আঘাতে নিহত সবার ধর্ম, রাজনৈতিক পরিচয় আলাদা। কিন্তু একটা বিষয়ে খুব মিল। জানেন কি সেটা? সেটা হল এরা সবাই এদেশের সময়ের শ্রেষ্ট সন্তান। মহান স্বাধীনতা সংগ্রামে ঘৃণ্য ভুমিকা রাখা রাজাকার , আল বদর সর্বোপরি যুদ্ধাপরাধীদের সর্বোচ্চ বিচারের দাবিতে তারা গণ আন্দোলন শুরু করেছিল। স্বাধীনতার পর এদেশের সবচেয়ে সফল এবং শ্রেষ্ট আন্দোলনে এরা এসে দাঁড়িয়েছিল শত প্রতিবন্ধকতাকে পাশ কাটিয়ে। নানা অপবাদ,মিথ্যা প্রপাগান্ডা তাদেরকে সেই মহান পথ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি। কোটি মানুষের যে প্রাণের দাবি নিয়ে তারা রাজপথে নেমেছিল সেই আন্দোলন সফল। কয়েক বছর আগেও যা স্বপ্ন ছিল আজ সেই যুদ্ধাপরাধিদের বিচার এবং শাস্তি শুরু হয়েছে। কলংকমুক্তির পথে এগিয়ে যাচ্ছে দেশ। আর সেই স্বপ্ন সেই প্রাণের দাবি পূরণে বার বার প্রাণ দিচ্ছে আমাদের কিছু সূর্য সন্তান।

দেশের বর্তমান সরকার আওয়ামীলীগ সরকার। শেখ হাসিনার মত মহিয়সী নারী আমাদের প্রধানমন্ত্রী। আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঐকান্তিক চেষ্ঠায় আজ যুদ্ধপরাধিদের বিচার এবং তা বাস্তবায়ন সম্ভব হচ্ছে। নানা বাধা বিপত্তি উপেক্ষা করে প্রধানমন্ত্রী আমাদের কাঙ্খিত বিচার বাস্তবায়ন করে চলছেন। আজ যখন মুক্তিবুদ্ধির মানুষ, লেখক,প্রকাশক, সাহিত্যিক এবং সর্বোপরি যুদ্ধাপরাধিদের বিচারের দাবিতে গড়ে তোলা গণজাগরণের কর্মীরা আক্রান্ত তখন আমাদের সরকার নীরব। প্রতিবারের ন্যায় এবারও মহান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহোদয় দায়সাড়া বক্তব্যের মাধ্যমে আমাদের হতাশ করে চলছেন। গতকালের ঘটনা যতদূর খবর পেয়েছি আজিজ সুপার মার্কেটের ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরায় দীপন’র উপর হামলাকারীদের প্রবেশ, প্রস্থানসহ প্রয়োজনীয় অনেক কিছু ধরা পড়েছে। সেইসাথে পরিষ্কারভাবে খুনদের মুখায়ব চেনা যাচ্ছে। আমরা আগেও দেখেছি অন্য সব হত্যার বিচার সমাপ্ত হলেও ২০১৩ সাল থেকে খুন হওয়া ব্লগার,কবি সাহিত্যিকদের হত্যার কোন ঘটনারই উপযুক্ত বিচার হয়নি। প্রমাণ থাকার পরও পার পেয়ে যায় খুনীরা। কিন্তু কেন? কার মদদে এগুলো ঘটছে? কেন বার বার জঙ্গিবাদীরা চাপাতি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ছে , কেন তারা ধর্মের নামে হত্যার লাইসেন্স নিয়ে বারবার আমাদের আঘাত করছে?

গতকাল নির্ঝর মজুমদার লিখেছেন রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা দলের একটি শাখার মদদে এই হত্যাকাণ্ডগুলো ঘটছে। তিনি তার বক্তব্যের সপক্ষে প্রমাণ দিয়েছেন। তবে আমরা কি ধরে নেব এখন , রাষ্ট্রীয় পৃষ্টপোষকতায় এমন হত্যাকাণ্ড ঘটছে? বহিঃবিশ্বের কাছে জঙ্গী আক্রান্ত দেশ হিসেবে সমবেদনা পাওয়ার জন্য কি এমন হচ্ছে? কেউ কি জবাব দিবেন প্লিজ? না হলে অভিজিৎ ,বাবু, অনন্ত হত্যায় জড়িতরা কেন জামিনে ছাড় পাচ্ছে? জামিনে ছাড়া পাওয়ার পর কেন তাদের আর খুজে পাওয়া যাচ্ছে না?

জানি জবাব নেই। রাষ্ট্রযন্ত্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে থাকা স্বাধীনতাবিরোধীরা সুযোগের সর্বোচ্চ সদ্বব্যবহার করে চলছে। কারণ তাদের নিয়ন্ত্রণ করার কেউ নেই। মুক্তিযুদ্ধের চেতনার দাবিদার আওয়ামীলীগ সরকার আজ চাটুকারে পূর্ণ, এখানে সত্যকে সত্য বলার মত লোকের বড় অভাব। একা প্রধানমন্ত্রী আসলেই কি পারবেন?