ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে অনেক কথা বলা হয়ে গেছে ।তাদেরকে আশ্রয় দেওয়া হবে কি হবে না তা নিয়ে গত কয়েকদিন যাবত ব্লগ,ফেইসবুক এ প্রচুর লেখালেখি হচ্ছে।তবে এইসব লেখালেখির মাঝে সবচেয়ে দুখ:জনক হচ্ছে যারাই এই ব্যাপারটিতে মানবিক দৃষ্টির বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশের মধ্যে আশ্রয় দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছেন তাদেরকেই জামাতের এজেন্ট বিবেচনা করে তুলোধুনো করা হয়েছে ।৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের শরণার্থী শিবিরে আমাদের আশ্রয় দেওয়ার ভারতের মহানুভবতায় আমরা তাদেরকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করলেও আজ কেন মানবিক বিবেচনায় রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেব না এই প্রশ্ন তোলায় অনেকেই এর মাঝে মহান মুক্তিযুদ্ধকে অপমান করার কৌশলও খুঁজে পেয়েছেন।এবং এটি যে জামাতের ষড়যন্ত্র তা অনেকে অনেকটা মাইক লাগিয়ে, গলা ফাটিয়ে,চিত্কার করে আমাদের আরজ করেছেন ।এই “জামাতফোবিয়া” কিংবা জামাত জুজুর ভয় প্রকৃতপক্ষে জামাতকে যে শুধু শক্তিশালীই করছে তা নয়,বরঞ্চ কোনো কোনো ক্ষেত্রে জামাতকে আরো বেশি গ্রহণযোগ্য করে তোলছে।রোহিঙ্গা ইস্যুটির কথাই ধরা যাক।যদি সত্যি সত্যি রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিতে জামাত বেশি আন্তরিকতা দেখায় তবে জামাতকে তাদের সংবেদনশীল মানবতাবাদী ভূমিকার প্রশংসা করা ছাড়া উপায় নেই!! কিংবা দিপু মনির দাবি অনুযায়ী যদি সত্যিই ব্যাপারটি এমন ঘটে থাকে যে, জামাত প্রথমে রোহিঙ্গাদের অস্ত্র দিয়ে রাখাইনদের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিয়েছে, তারপর রাখাইনরা তাদেরকে প্রতিহত করেছে, অত:পর তারা দেশ থেকে উচ্ছেদ হয়ে আমাদের দেশে এসে আশ্রয় চাচ্ছে, আমরা যাতে আশ্রয় দেই এই জন্য আমাদের উপর আন্তর্জাতিক চাপ আসছে এবং এত কিছুর মাধ্যমে মূলত দিনশেষে জামাত যুদ্ধাপরাধীদের বিচার বানচাল করার চেষ্টা করছে!!!!এই বক্তব্যকে আমি কি -ই বা বলতে পারি !!! সর্বসাকুল্যে মাত্র ১০% মানুষের(কিংবা তার চেয়েও কম) প্রতিনিধিত্বকারী দলটি যদি এতই ক্ষমতাশালী হয়, তবে তো বসে বসে আঙ্গুল চুষা ছাড়া বড় দুই দলের আর কিছুই যে করার নেই!!!সরকার কি সত্যিই জামাত জুজুর ভয়ে ভীত নাকি সবকিছুতেই জামাতের ভুত খুঁজে পাওয়া পলিটিক্যাল স্টান্টবাজি? যেটিই হোক না কেন; দুটির উভয়টিই যে দিনশেষে জামাতকে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী করে তুলছে তা কি আমাদের ” মুক্তিযুদ্ধের চেতনার” দলটি উপলব্ধি করতে পারে?

যারা রোহিঙ্গাদের পক্ষে কথা বলেছেন,তারা যদি জামাতের এজেন্ট হয়ে থাকেন,তবে অত্যন্ত দুখের সাথে বলতে হচ্ছে যে, “অসহায় মা,অসহায় শিশু” শিরোনামে সমুদ্রে ভেসে বেড়ানো রোহিঙ্গাদের চিত্র দেখে নাকি ড.জাফর ইকবালের আজ থেকে ৪০ বছর আগে, ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধের সময়ে তার বাবার শহীদ হওয়ার পরে তার মায়ের সাথে ৬ ভাই বোনকে সাথে নিয়ে ছোট্ট একটি নৌকায় করে অনিশ্চিত যাত্রার বেদনার্ত মুহুর্তের কথা মনে পড়ে গেছে! তাহলে কি মুক্তিযুদ্ধের সাথে তুলনা করে জাফর ইকবালও মুক্তিযুদ্ধের অপমান করলেন!! আমরা কি ধরে নিব তিনিও জামাতের এজেন্ট?যদি তা-ই হয়ে থাকে তবে তা আমাদের জন্য কতটা হতাশার হবে!!অবশ্য আসিফ নজরুল যদি জামাতের এজেন্ট হতে পারেন তবে জাফর ইকবাল আবার বাদ যাবেন কেন?বোধকরি ড.জাফর ইকবালকেও মহান সংসদে জামাতের এজেন্ট বলে গালাগাল দেওয়া হবে ।মুক্তিযুদ্ধের অপমান করায় মাননীয় বিচারপতি(মাননীয় না বললে আদালত অবমাননা মামলা হতে পারে!!) এইচ,এম শামসুদ্দিন মানিক স্ব:প্রণোদিত হয়ে রুলও জারি করতে পারেন!!আর আমরা জনগণ গ্যালারিতে বসে দেখা ছাড়া যে আমাদের আর কিছুই করার নেই!!!