ক্যাটেগরিঃ ধর্ম বিষয়ক

মাসখানেক আগের কথা ।বন্ধুদের কোনো এক আড্ডায় হঠাত করে ই প্রসঙ্গ ঘুরে চলে এসেছিল ভারতীয় ক্রিকেট তারকা ইউসুফ পাঠানের কথা ।সিভান্গী দেব নামে এক হিন্দু মেয়ে কে বিয়ে করতে যাচ্ছে সে ।তবে আলোচনার বিষয় এইটা নয়,মজার বেপার হচ্ছে তার মন্তব্য ।পাঠানের দাবি, বিয়ের মধ্যে আবার ধর্ম কি ?তার বাবা মসজিদের ইমাম এবং তারা যথেষ্ট ধার্মিক ।বিয়ের সাথে নাকি ধর্মের কোনো যোগসাজস নাই !তখন পাঠানের ধার্মিকতা(!) ও বুদ্ধির (!) দৌড় নিয়ে হাসাহাসি হয়েছিল খুব।

কিনতু গত 4may fb তে একটা পোস্ট share করেছিলাম ।বিবাহের ক্ষেত্রে ধর্মীয় আইনের বাধ্যবাধকতা উঠিয়ে দেওয়ার প্রস্তাবিত আইনটি নিয়ে ছিল পোস্টটি ।বিপত্তির শুরু সেখানেই ।আইনটি তে যা আছে, সংক্ষেপে তা হলো –

১ :যে কোনো ধর্মের ছেলে মেয়ে তাদের ধর্ম ত্যাগ না করে ই বিয়ে করতে পারবে ।
২:তাদের সন্তানদের কোনো ধর্মীয় পরিচয় থাকবে না ।
৩:সন্তান বড় হয়ে ধর্ম বাছাই করতে পারবে
৪:কোনো ছেলে সন্তান না থাকলে মেয়ে সন্তান সম্পদের পূর্ণ অধিকার পাবে।

আমার এক fb বন্ধু এবং স্নেহ প্রতিম ছোট ভাই (বাপ দাদার ধর্ম মতে মুসলিম) দাবি করে বসলো ,এতে অন্যায়ের কিছু নেই। বরঞ্চ ব্যাপারটিতে নাকি “উদার মানসিকতার “পরিচয় আছে।
সে যে দাবিগুলো করেছে তা মোটামুটি এই রকম :

১:বিয়ে মানে হলো দুইজন নারী পুরুষ কাজী অফিসে গিয়ে কাগজ কলমে সাইন করার সামাজিক নিয়ম, এতে ধর্ম কোনো সমস্যা না।
২:এর ফলে দুটি ভিন্ন ধর্মের অনুসারী নিজ নিজ ধর্ম পালন করে ও পরস্পর বিয়ে করতে পারবে।
৩:সবচেয়ে মজার বেপার হচ্ছে ,এই সহজ জিনিস টা নাকি কঠিন করা ঠিক না।

এক্ষেত্রে শুরুতে ই একটি কথা বলে নিয়া ভালো যে ,পৃথির কোনো ধর্ম ই অন্য একটি ধর্মের অনুসারীকে বিয়ে করাটা ভালোভাবে নেয় না। এটি একটি অস্বাভাবিক অবস্থা। ব্যতিক্রম শুধু ইহুদি ধর্ম। তবে তাদের বেপারটি আর ও মজার! ইহুদিরা তাদের মেয়েদের অন্য ধর্মাবলম্বীদের কাছে বিয়ে দেয়, কিন্ত কখনো ই ছেলেদের এই অনুমতি দেয় না। কারণ তাদের বিশ্বাস,সন্তানেরা তাদের মায়েদের ধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়। যার কারণে, বিল ক্লিন্টনের মেয়েকে এক ইহুদি ছেলে বিয়ে করায় জুইস কউন্সিল এর তীব্র সমালোচনা করেছিল। অর্থাত নিজেদের জাত কে বিশুদ্ধ রেখে অন্যান্য সকল ধর্মের মধ্যে ফ্রী mixing উত্সাহিত করা তাদের কৌসল।সৈযদ মজতবা আলীর কর্নেল গল্পটিতে ও এর ইঙ্গিত দেওয়া আছে।

আবার মূল প্রসঙ্গে চলে আসি, আমরা জানি যে, সকল ধর্মের মূল কথা হলো, নৈতিক মানুষ সৃষ্টি করা,, অর্থাত, নৈতিক ভাবে মানুষ কে মানুষ হিসেবে গড়ে তুলা ই ধর্মের মূল কথা।এখন প্রশ্ন হচ্ছে,এই নৈতিক মানুষ সৃষ্টিতে বিয়ের কোনো ভুমিকা আছে কিনা?

যদি থাকে তবে বুযতে হবে, ধর্ম এবং বিয়ে দুটি আলাদা জিনিস নয়,বরঞ্চ, পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত,,
এবার দেখে নেই ,বিয়ের বেপারে ইসলাম ধর্ম কি বলে?
“তোমরা নিজেদের মধ্যে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হও”(আল কোরান ২৪:৩২)

“তিনি তোমাদের জন্য তোমাদের মধ্য থেকে ই spouse সৃষ্টি করেছেন,যাতে তোমাদের মধ্যে শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করে,তিনি তোমাদের মধ্যে দয়া ও ভালবাসা সৃষ্টি করেছেন, নিশ্চয় ই এটা তাদের জন্য নিদর্সন, যারা অনুসরণ করে,,”(আল কুরন৩০:২১)

অর্থাত, শান্তিপূর্ণ অবস্থা বিরাজ করার জন্য বিয়ে টা গুরুত্বপূর্ণ।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, ধর্মের মত গুরুত্বপূর্ণ বেপারে যদি husband &wife দিধা বিভক্ত থাকে, তবে কি শান্তি বিনষ্ট হওয়া খুবে সাভাবিক না?তার মানে, বিয়ের হুকুমটি যে কারণে করা হলো তা লঙ্ঘিত হলো।

আমার বন্ধুর দ্বিতীয় দাবিটির দিকে লক্ষ্য করুন, এই আইনে নাকি নিজ নিজ ধর্মের অনুসারী থেকেও বিয়ে করার সযোগ আছে!!

ধর্ম যখন অন্য ধর্মাবলম্বী কে বিয়ে করার ই অনুমতি দেয় না,তখন নিজ ধর্মের অনুসারী হওয়ার দাবিটি হাস্যকর!

এই বেপারে নিচের হাদিসটি প্রনিধানযোগ্য :

উম্মে সুলায়ম (রা)আবু তালহা (রা) এর পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেছিলেন,তিনি তালহা কে বলেন,তমি যদি ইসলাম গ্রহণ কর ,তবে আমি তোমাকে বিয়ে করার অনুমতি পেতে পারি।আবু তালহা ইসলাম গ্রহনের পরে তাদের মধ্যে বিয়ে হয়েছিল।

মনে করেন,একজন মুসলিম ছেলে একজন হিন্দু মেয়ে কে বিয়ে করলো, এইক্ষেত্রে সন্তানদের ধর্ম কি হবে?মা চাইবে তাকে হিন্দু ধর্মে দীক্ষিত করতে,বাবা মুসলিম,এতে কি সাভাবিকভাবে ই তাদের শান্তি বিনষ্ট হবে না?
আবার আসা যাক, বিয়ে কিভাবে নৈতিক মানুস সৃষ্টি করে?
নিচের হাদিসগুলো লক্ষ্য করুন :
১:হে যবক, আমি তোমাদের বিয়ে করার আদেশ দিচ্ছি ।(wasa’l,vol14,p3)
২:যে বিয়ে করলো সে ইতোমধ্যে তার ধর্মীয় অনুশাসন মেনে চলার ক্ষেত্রে অর্ধেক নিশ্চিত করলো, আর তাকে নিশ্চয় ই আল্লাহ কে ভয় করা উচিত, বাকি অর্ধেক নিশ্চিত করার জন্য।(wasa’il,vol14,p5)
3:যদি কেউ আল্লাহ এর সাথে পবিত্র ও পরিশুদ্ধ অবস্থায় সাক্ষাত করতে চায়,তবে সে যেন বিয়ে করে(wasa’il,vol14,p6)
৪:ইমাম জাফর এস সাদিক বলেন,”বিশ্বাস ইতিবাচক ভাবে বৃদ্ধি পায়,যদি তার সত কর্মশিলা স্ত্রী এর প্রতি ভালবাসা বৃদ্ধি পায়।
অর্থাত, নিশ্চিত ভাবে ই বলা যায়, নৈতিক মানুষ সৃষ্টি তে বিয়ের ভুমিকা অপরিসীম,,তাই বিয়ে টা আসলে একটি ধর্মীয় বেপার যা ধর্ম নিশ্চিত করে তার অনুসারীকে নৈতিক মানুষ হতে।
আমার বন্ধুর সর্বশেষ মন্তব্যটিও প্রনিধানযোগ্য, “সহজ বেপার কঠিন ভাবে নেওয়ার কিছু ই নেই”
কিন্ত আমার আল্লাহ যখন বলেন, “তোমরা কি কোরানের কিছু অংশ মানবে আর কিছু অংশ অসীকার করবে ? ‘
তখন কিন্ত আর বেপার টি সহজ থাকে না।
সুতরাং ,মুসলিম পরিচয় দিতে চাইলে কোরান আংশিক মানার সুযোগ নেই,, তাই বেপারটিকে কঠিন ভাবে ই নিতে হচ্ছে,এবং যারা এই বেপারে সচেতন নয়,তাদের সচেতন করার দায়ত্ব ও কোরান দিচ্ছে,
“তোমরা ই সর্বোত্তম জাতি, তোমাদের এইজন্য সৃষ্টি করা হয়েছে যে, তোমরা সত কাজের আদেশ দিবে এবং অসত কাজে বাধা দিবে”(সুরা ইমরান )”
“আল্লাহ দিকে মানুষ কে ডাক উত্তম কথা এবং হিকমত এর সাথে আর তর্ক কর যুক্তিপূর্ণ উপায়ে ”
তাই আশা করি, ধর্মীয় আইন পরিবর্তনে সরকার হাত দিবে না।
আমাদের সবার শুভো বুদ্ধি জাগ্রত হউক।