ক্যাটেগরিঃ দিনলিপি

ইদানিং সময়টা ভালো যাচ্ছে না আমদের।বেশ কিছু দিন থেকে আড্ডাটা ঠিক জমছে বলে মনে হচ্ছে না । আগে শুধু চায়ের টেবিলে ই কেটে যেত ঘন্টার পর ঘন্টা। কিন্তু এখন আর ঠিক জমে না ।কেমন যেন একটা গুমোট ভাব চারদিকে ।কোনো এক অজানা আশংকা আর অব্যক্ত হতাশা ঘিরে রেখেছে যেন। কিন্তু কেন??? আমরা তো এখন পরাবাস্তব জগতের মানুষ। পৃথিবীর মানুষের আবেগ-অনুভুতি, দু:খ-কষ্ট, হতাশা ক্লিষ্ট বেদনাগুলো আমাদের স্পর্শ করার তো কথা নয়!

ও,আচ্ছা,আমরা করা?পরিচয় টা বুঝি দেওয়া হয়নি এখনো।

আমরা উপন্যাসের চরিত্র ।তিনজন মানুষ আমরা। কিন্তু আমাদের মধ্যে একটা অদ্ভুত মিল আছে ।আমাদের তিনজনকেই ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলিয়েছে দেশের আইন, শাসন, ও বিচার বিভাগ। এখন ও চিনতে পারেননি!!!

আমি বাকের ভাই ।ওই যে মুনার বাসার সামনে রহিম মিয়ার চায়ের দোকানে বসে আড্ডা দিতাম,বদি আর মজনু কে নিয়ে ।আমার আর দুইজন সাথীর একজন আঙ্গুল কাটা জগলু ভাই ।এম.এ. করা বেকার ছেলেটি মানসিকভাবে অসুস্থ নিজের ছুট্ট ছেলেটিকে সুস্থ দেখার বাসনায় সন্ত্রাসীর ভাগ্য বরণ করেছিল ঘটনাচক্রে ।

আর বাকি রইলো মন্টু। নিজের বোনের ইজ্জত-আব্রু হেফাজত করতে না পারে ক্রোধে, রাগে, ক্ষোভে যে নিজের হাতে খুন করেছিল নরপশুদের । আমরা সকলে -ই রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা চেয়েছিলাম ।নির্দয় রাষ্ট্রপতির দয়া হয়নি। ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুলতে হয়েছে আমাদের সবাইকে ।মাঝেমাঝে আঙ্গুল কাটা জগলু তো খুব অভিমান করে!বলে, মন্টুর তো ফাঁসি হওয়া ঠিক হয় নাই, বাকের ভাই । মন্টু যা করছে পৃথিবীর সব ভাই -ই তো তাই করত ।পরিবারের একমাত্র কর্মক্ষম মানুষটিকে রাষ্ট্রপতি কি মানবিক বিবেচনায় ক্ষমা করে দিতে পারতেন না? আর আপনার কথাই ধরুন, আপনি তো খুন না করেও ফাঁসির কাষ্ঠে ঝুললেন।এইটা ঠিক হয় নাই, বাকের ভাই, রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করতে পারতেন ।

আমি হেসে বলতাম, না রে! খুনিদের ক্ষমা করা ঠিক না ।এতে সমাজে অস্থিরতা বাড়বে। রাষ্ট্রপতি ঠিক কাজ এ করেছেন ।এইভাবে ভালোই কাটছিল আমাদের সময় ।

…………..হঠাত করে শুনলাম, আমাদের রাষ্ট্রপতি নাকি খুনিদের ক্ষমা করে দিচ্ছেন !!!

রাষ্ট্রপতির মহানুভবতায় আমরা পরলৌকিক জগতে থেকে ও বিব্রত। ভবিষ্যত বিপদের আশঙ্কায় আতঙ্কিত ।তাই এখন আর আড্ডা জমে না ।গুমোট ভাবটা ঘিরে ধরে রেখেছে আমাদের ।
তবুও আমরা একটি দিনের প্রতিক্ষায় থাকি ।

…………যেদিন বাস্তবের রাষ্ট্রপতির উপন্যাসের রাষ্ট্রপতিদের মত নির্দয় হবেন ।।।

সেই দিনের প্রতিক্ষায়……..

বাকের ভাই,
আঙ্গুল কাটা জগলু,
মন্টু ।
৭/৫/২০১২