ক্যাটেগরিঃ মতামত-বিশ্লেষণ

বিগত ১৪ এপ্রিল, পহেলা নববর্ষ উপলক্ষে এনিটিভিতে এয়ারটেল প্রেজেন্টস একটি টেলিফিল্ম দেখানো হয়েছিল। টেলিফিল্মটির নাম “আমাদের গল্প “। এরও আগে airtel presents থেকে আরো একটি টেলিফিল্ম দেখানো হয়েছিল এর আগের বছর ।”ভালবাসি তাই” নামের ওই টেলিফিল্মটি যথেষ্ট দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছিল। তাই স্বাভাবিকভাবেই টেলিফিল্মটি নিয়ে যথেষ্ট উত্সাহ ছিল অনেকের মাঝে। কিন্ত কি দেখানো হলো টেলিফিল্মটিতে ???

টেলিফিল্মটি নিশ্চিতভাবে সৃজনশীল দর্শকদের হতাশ করেছে বলতে হয়।গল্পটি যেভাবে সাজানো হয়েছে তাতে সবার আগে যে প্রশ্নটি আমাদের সামনে এসেছে, তা হলো গল্পটি কি সত্যিই আমাদের গল্প কিনা?

টেলিফিল্মটি শুরুই করা হয়েছে একটি অশ্লীল নৃত্য,অশালীন অঙ্গভঙ্গি আর অশ্লীল ভাষায় সাজানো গানের মধ্য দিয়ে ।যার কারণে শুরুতেই ভিমরি খেতে হয়েছে দর্শকদের।পাঠকদের বুঝার সুবিধার জন্য আমি শুধু গানটির দুটি লাইন দিচ্ছি।…………সুরাইয়া, রসেরই গোল্লা, সুরাইয়া ,লঙ্গি উচাইয়া ………….ইত্যাদি। বুঝাই যাচ্ছে,গানটি কতটা অশ্লীলতা পূর্ণ !!

আবার চলে আসি,গল্পের কথায়।গল্পটিতে দেখানো হয়েছে যে ,জয়া আহসানের সাথে তাহসানের ইউনিভার্সিটি জীবন থেকে এ্যাফেয়ার ছিল।কোনো এক পর্যায়ে জয়ার পরিবার থেকে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। সে এই ব্যাপারটা তাহসানকে জানায় এবং তাকে বিয়ে করতে বলে। কিন্তু তাহসান বলে দেয় তার পক্ষে এখন বিয়ে করা সম্ভব না,কারণ তার এতে ক্যারিয়ারের ক্ষতি হবে। তাদের মধ্যে আর বিয়ে হয় না। কিন্তু গল্পের শেষে দেখানো হয় যে,প্রকৃত ঘটনা হচ্ছে, জয়া ছিল অন্তসত্ত্বা এবং এর জন্য দায়ী তাহসান। কিন্তু ব্যাপারটি তাহসানের জানা ছিল না।…………

এখন আমার প্রশ্ন হচ্ছে, এই গল্পটি কি সত্যিই আমাদের গল্প কিনা?
আমাদের সমাজে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সামাজিকভাবে তো স্বীকৃত নয়ই ,বরঞ্চ, এই ধরনের ঘটনা খুঁজে পাওয়া মুশকিল। এই ধরনের অসামাজিক সম্পর্কের ঘটনা সাধারণত আমাদের দেশে ঘটছে না। যতটুকু হচ্ছে,তা লোকচক্ষুর অন্তরালে।তবুও এই সংখ্যাটা নেহায়েতই কম। অর্থ্যাৎ, সমাজে প্রচলিত নয়,এমন একটি অপসংস্কৃতির বোঝা কৌশলে আমাদের ঘাড়ে চাপিয়ে দেয়া হলো।

দ্বিতীয় যে ব্যাপারটি ,আমাদের জন্য সামাজিকভাবে সমস্যার সৃষ্টি করবে তা হলো,এর ফলে তরুণ প্রজন্ম বিপদগামী হওয়ার সমূহ সম্ভাবনা রয়েছে।তাই এই ধরনের গল্প নির্মান থেকে আমাদের বিরত থাকা উচিত।

যে সংস্কৃতির চর্চা পশ্চিমাদের জাতিগত বিপদ দেকে এনেছে, সেই বিপদ আমরা প্রকারান্তরে উত্সাহিত করার মত নির্বুদ্ধিতা দেখাতে পারি না। সবচেয়ে বড় কথা গল্পটিতে রূপায়িত সংস্কৃতি মোটেই আমাদের নয়।এটি আমাদের দেশীয় এবং সামাজিক ঐতিহ্যের পরিপন্হী ……….তাই “আমাদের গল্প”কখনোই “আমাদের গল্প “হতে পারে না।
আশা করি সুস্থ সাংস্কৃতিক চর্চা উত্তরোত্তর বৃদ্ধি পাবে।।।