ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

সাগর-রুনি হত্যাকারীদের গ্রেফতার ও বিচারের দাবিতে আয়োজিত প্রতিবাদ সঙ্গীতের সুরের ভাষা ঝংকার তুলেছিল জাতীয় গ্রন্থাগারের সামনের রাজপথে।ব্লগাররা যে শুধুই কিবোর্ডে ঝড় তুলে তা নয়, বরঞ্চ,জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে রাজপথেও লড়াই করতে জানে সমানতালে,তার প্রমাণ তারা দিয়ে দিল প্রতিবাদ সঙ্গীতের কর্মসূচিতে স্বতস্ফূর্ত অংশগ্রহনের মধ্য দিয়ে। এই বিষয়টি বিস্তারিত বলার আগে পারস্পরিক বিক্রিয়াহীন দুটি অপ্রাসঙ্গিক গল্প বলে নেই।

গল্প ১:
এক দেশে এক দরবেশ ছিলেন।তার ছিল এক মুরিদ।তারা রাজ্য থেকে অনেক দূরে এক জঙ্গলে ধ্যান করত।রাজ্যের রাজা ছিলেন অত্যন্ত জালিম।সে জনগনকে নানাভাবে জুলুম নির্যাতন করত।এক কথায় রাজ্যের সর্বত্রই ছিল এক চিলতে শান্তির জন্য হাহাকার।রাজা আর তার সভাসদরা কেড়ে নিয়েছিলেন রাজ্যের মানুষের সব রকম সুখ শান্তি।হত্যা আর গুম আতংক কেড়ে নিয়েছিল সবার ঘুম।আর ওই যে দরবেশ,সে জঙ্গলে থেকে প্রতিদিন আল্লাহের কাছে দুআ করত, আল্লাহ যেন তাকে রাজ্যের রাজা করে দেন, যাতে সে জনগনকে এই অশুভ শক্তির হাত থেকে মুক্তি দিতে পারেন!আর তার মুরিদ সাথে সাথে বলেন, আমিন। কিন্তু তার এই দুআ আর কবুল হয় না।এভাবে মাস কেটে যায়,কেটে যায় বছর।দরবেশের দুআ ও কবুল হয় না,মানুষের ভাগ্য আর বদলায় না।শেষে একদিন মুরিদ বিরক্ত হয়ে দুআ করে যে, আল্লাহ তুমি যদি আমাকে এই রাজ্যের রাজা বানাও, আমি মানুষকে এক মুহুর্তের জন্যও শান্তি দেব না,এই রাজার চেয়েও বেশি জুলুম করব। মুরিদের দোয়ায় বিরক্ত হয়ে দরবেশ তাকে তাড়িয়ে দেন।বিতাড়িত মুরিদ রাজ্যের পথে হাটা দেয়।……ইতোমধ্যে রাজ্যের রাজা মারা যায়,নতুন রাজা কে হবে,কেউ সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারে না।শেষে সিদ্ধান্ত হয়,যে বেক্তি সবার আগে প্রত্যুষে রাজ্যের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করবেন,তিনিই হবেন রাজ্যের নতুন রাজা। ঘটনাচক্রে, মুরিদই সবার আগে রাজ্যে প্রবেশ করে রাজা বনে যান!রাজা হয়েই সে তার ওয়াদা মোতাবেক জুলুম নির্যাতন বহুগুন বাড়িয়ে দেয়।জনগনের ঘাড়ে চেপে বসে নতুন ভুত!সবাই মিলে তখন দরবেশকে অনুরোধ করে সে যেন,রাজাকে বলে যাতে জনগনের উপর আর জুলুম না করতে,কেননা রাজা যে তার মুরিদ ছিলেন! যথারীতি দরবেশ রাজার সাথে দেখা করতে যান।দরবেশকে দেখেই রাজা সিংহাসন থেকে উঠে আসে তাকে সম্মান করেন।দরবেশ তাকে জনগনের সেবা করতে বলেন।কিন্ত রাজা তাতে রাজি নন।তিনি দরবেশকে বলেন,”আমাকে এই অনুরোধ আপনি করবেন না,কেননা তারা ভালো শাসক পাওয়ার যোগ্য নয়। যদি তাই হত তবে আপনার দুআ ই কবুল হত,আমারটা নয়।যারা রাজার জুলুমের ভয়ে তাকে জবাবদিহি করেন না বিপদের আশংকায় ,তাদের মুক্তির কোনো সম্ভাবনাই নাই। তাই এই দেশের মানুষের জন্য এমন নিষ্ঠুর শাসকই দরকার।।”

গল্প ২ :
অর্ধ পৃথিবীর বাদশাহ উমার জুম্মার খুতবা দেওয়ার শুরু করেছেন।এমন সময় এক যুবক দাড়িয়ে বলল,আমরা আপনার কথা শুনব না,যতক্ষণ না আপনি বলবেন যে ,সরকার থেকে যে কাপড় দেওয়া হল,তাতে কারোরই পুরো জামা হলো না,কিন্ত আপনার হলো কি করে? তখন উমারের পক্ষে তার ছেলে বলল, আমার অংশটুকু আমি আব্বাকে দিয়ে দিয়েছি,তাই দিয়ে উনার পুরো জামা হয়েছে !!!!যে দেশের একজন সামান্য যুবক প্রেসিডেন্টকে তার পরিধেয় পোশাক নিয়েও প্রশ্ন করার সাহস রাখে,তাদের রাষ্ট্র পরিচালনায় উমারের মত শাসক আসতে বাধ্য !!!

এবার চলে আসি মূল প্রসঙ্গে। সাগর-রুনি ইস্যুতে আয়োজিত ব্লগারদের চতুর্থ কর্মসূচি, প্রতিবাদ সঙ্গীত পন্ড করতে পারেনি পুলিশি বাঁধাও। পাওয়ার সাপ্লাই না দেওয়া,দুপুর থেকেই অনুষ্ঠানস্থলে পিকআপ ভেন ফেলে রাখা,ইত্যাদি আর ও বাঁধার পরেও পন্ড হয়ে যায়নি, খালি মুখেই প্রতিবাদী সঙ্গীত পরিবেশন করেছেন শিল্পীরা। রাষ্ট্রযন্ত্রের বাধা আর বৈরী আবহাওয়া ,সব কিছুকেই উপেক্ষা করে সফল হয়েছে প্রতিবাদ কর্মসূচি।কোনো কিছুই থামাতে পারেনি ব্লগারদের।সকল বাধার মুখেও শ্রদ্ধেয় আবু সুফিয়ান ভাইয়ের আত্মবিশ্বাসী উচ্চারণ, ফাইট উইথ মাইট …

সত্যিই ব্লগাররা এত বাধার মধ্যেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে প্রশ্ন করতে ভুলেনি,”কত ডিজিটাল বর্ষে এক ৪৮ ঘন্টা হয় ??’ প্রতিবাদ সঙ্গীতের সুর ঝংকার তুলুক একটি একটি করে ১৬ কোটি হৃদয়ে।যেন শাসকের সামনে সত্য কথা বলার সাহস করতে পারি আমরা সবাই।যেন সত্যি সত্যি আমরা জনগণ যোগ্য হয়ে উঠি যোগ্য শাসকের জন্য। কানের মধ্যে এখনো বাজছে একটি উচ্চারণ… “ফাইট উইথ মাইট” ।