ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

আমাদের গ্রাম বাংলায় একটা কথা খুব প্রচলিত আছে।সেটি হল, বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া। গ্রামের ফসল রক্ষার্থে কিংবা ছোট ছোট গাছপালা রক্ষা করার জন্য বেড়া দেওয়ার একটি প্রচলন আছে অনেক আগে থেকে।সাধারণত গরু,ছাগল বা অন্য কোনো গৃহপালিত প্রাণী যেন ছোট গাছপালা খেয়ে ফেলতে না পারে সে জন্য বাশ বা অন্য কিছু দিয়ে ওই গাছ বা ক্ষেতের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষা বেবস্থা নেওয়া হয়।এটিকে বলা হয় বেড়া দেওয়া।অর্থাত, বেড়ার কাজ হলো ক্ষেতকে রক্ষা করা।… কিন্তু যখন কাউকে কোনো কাজ দেওয়া হয়,বা কোনো কিছু রক্ষা করতে বলা হয়, সে যদি সেই কাজটি না করে বরঞ্চ তা ভন্ডুল করে বা যা রক্ষণ করতে বলা হলো তা না করে বরঞ্চ ভক্ষণ করে,তখন তাকে বলে, বেড়ায় ক্ষেত খাওয়া।……..এই বহুল প্রচলিত প্রবাদটিকে সম্ভত প্রথম রাজনীতির মাঠে নিয়ে আসেন আমাদের আজকের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ২০০১ এর ১ অক্টোবরের নির্বাচনের পরাজয়ের পর প্রতিক্রিয়ায় তিনি বলেছিলেন, বেড়ায় আমার ক্ষেত খেয়ে ফেলেছে।বলা বাহুল্য,তিনি তত্কালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান উপদেষ্টা বিচারপতি লতিফুর রহমান, সিইসি এম এ সাইদ এবং প্রেসিডেন্ট সাহাবুদ্দিনকে উদ্দেশ্য করে এই আক্ষেপটি করেছেন।……

আজকের বাংলাদেশ প্রতিদিন পত্রিকাটি পরে অনেকদিন পরে আবার মনে হলো আবারও হাসিনার ক্ষেত বেড়ায় খেয়ে ফেলতে যাচ্ছে কিনা?

খবরে প্রকাশ,প্রশাসনের প্রাইজ পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারাও আর সরকারের কথা শুনতে চাচ্ছেন না।সাধারণত ,বাতাস যেদিকে সেইদিকে পাল তুলে দেওয়া আমাদের আমলাদের বহু পুরনো স্বভাব। কিন্তু, সব সময় দেখা যায় যে, যারা পদ বঞ্চিত হন,তারা সরকারের শেষ সময়ে সরকারকে অসহযোগিতা করে। তবে তা কখনই মেয়াদ শেষের দেড় বছর আগে নয়। কিন্তু, ব্যতিক্রমী যে ঘটনাটি প্রশাসনে ঘটছে, তা হল সরকারের দলীয় বিবেচনায় প্রাইজ পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তারাও আগের মত আর রেসপন্স করছেন না।এমপি, মন্ত্রীদের অনুরোধকেও তোয়াক্কা করছেন না কেউ কেউ। এমনিতেই গত তিন বছরে প্রশাসনে ইতিহাসের নির্লজ্জ দলীয়করণের ফলে প্রশাসনে স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে।তার উপরে প্রাইজ পোস্টিং পাওয়া কর্মকর্তাদের অসহযোগিতা এবং পদবঞ্চিত কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যহীনতা প্রশাসনের স্থবিরতাকে কোনদিকে নিয়ে যাবে তা অননুমেয়। কিন্ত, সব কিছুকে ছাপিয়ে যে প্রশ্নটি আমার মনে উদিত হয়েছে তা হল, দলীয় বিবেচনায় প্রাইজ পোস্টিং পাওয়া এইসব আমলারা উল্টো পথে হাটা দিলেন কেন?…….

আমার যা মনে হয়েছে,তা হল,এইবার প্রশাসনে যেসব পদোন্নতি হয়েছে, তার বেশির ভাগই তৃতীয় বা চতুর্থ সারির আমলা।এক লাফে এত বড় বড় পদোন্নতি পাওয়ার পরেও বর্তমানে সরকারের হিমাঙ্কের নিচের এই জনপ্রিয়তা তাদেরকে নিজেদের ভবিষ্যতের ব্যাপারে হতাশ করেছে।তাই সময় থাকতেই সেই পুরনো ধর্ম স্রোতের দিকে পাল তুলে ধরার নীতিকেই নিজেদের জন্য নিরাপদ মনে করছেন তারা।এদিকে তত্ত্বাবধায়ক বেবস্থা তুলে দিয়ে নিজের ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য প্রশাসনের সকল স্তরে যে নির্লজ্জ দলীয়করণ সরকার করেছে,তাও যে বুমেরাং হওয়ার পথে।তাই দলীয় অনুগত আমলাদের এহেন আচরণে সরকার স্বাভাবিকভাবেই বিব্রত ও চিন্তিত। ………………সব দেখে শুনে ঘুরে ফিরে একটি প্রশ্নটি বার বার ফিরে এসেছে,………..

“তাহলে আবারও কি বেড়ায় খেয়ে ফেলবে আওয়ামীলীগের ক্ষেত???