ক্যাটেগরিঃ চারপাশে

 

ঢাকার রাজপথে চলতে চলতে আমরা যে কত বিচিত্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হই,তার কোনো হিসেব নেই।আর বিচিত্র সব অভিজ্ঞতার সুযোগ আমরা যে জিনিসটির আশির্বাদ সরূপ পেয়ে থাকি,তার নাম যানজট।তবে আজকে যে বেপারটি নিয়ে লিখতে বসেছি,তা শুধুমাত্র যানজট নয়, বরঞ্চ,তা হলো, ঢাকার সিটি বাস নামা।নারায়ানগঞ্জ থেকে বাসে করে মিরপুর যেতে হয় আমাকে ইউনিভার্সিটিতে।আজ শুধু আজকের বাসযাত্রায় ঘটে যাওয়া চারটি ঘটনা লিখব।তবে ঘটনাগুলি আমার ক্ষেত্রে ঘটলেও বোধকরি ঢাকার রাস্তায় পাবলিক বাসে চলাচলকারী সবার দৈনন্দিন ঘটনাও মোটামোটি এই রকমই।
(বি:দ্র:এইটা একটি শুধু মাত্র সহিহ সিটি বাস নামা,এইখানে কোনো মরাল অফ দা স্টোরি নাই )

ঘটনা ১:
সকাল ৭টায় বাসে উঠেছি,গুলিস্তান যাব বলে।দিনের শুরুতেই কেচাল লেগে গেল,মহিলা সিট নিয়ে।একজন ভদ্রলোক মহিলা সিটে বসে আছেন।একজন মহিলা এসে তাকে সরতে বললেও তিনি কোনভাবেই সরতে রাজি নন।তার এক কথা মহিলারাও তো পুরুষ সিটে বসে আছে।তাকে কোনভাবেই বুঝানো যাচ্ছে না যে এইগুলা পুরুষ সিট নয়,এইগুলা যাত্রীদের সিট।যাত্রী পুরুষ ও হতে পারে,আবার মহিলাও হতে পারে, তবে মহিলাদের জন্য কিছু সংরক্ষিত সিট আছে,আপনি সংরক্ষিত সিটে বসে আছেন।তবুও সে একরোখা।আমি তাকে যুক্তি দিয়ে বুঝতে চাইলাম যে, জাতীয় সংসদে ৩০০ জন প্রতিনিধির মধ্যে নারীও আছেন, পুরুষও আছেন, কিন্তু ৪৫ জন সংরক্ষিত মহিলা আসনে কি কোনো পুরুষ আছে?ভদ্রলোক নিরুত্তর,কিন্তু সিট ছাড়তে নারাজ।শেষে,আমার এক বন্ধু রেগে গিয়ে বলল, আপনি কি সিট ছাড়বেন নাকি কানের নিচে দিমু একটা? এইবার ভদ্রলোক সিট ছেড়ে দিলেন !!!!আমার বন্ধুটি আমার দিকে চেয়ে হেসে বলল,”বুঝলি দোস্ত,মাইরের মধ্যে ভাইটামিন আছে” !!!

ঘটনা ২:
ক্লাস শেষে বাসায় ফেরার জন্য মিরপুর-১ থেকে বাসে উঠেছি।টেকনিকাল আসতেই এক বৃদ্ধ লোককে হেলপার নামতে বলল এই বলে যে,”চাচা,গাবতলী আইআ পরসে, নামেন।”চাচা বলল,”এইটা তো গাবতলী না,আমার থেকে ২০ টেহা ভাড়া নিসস,গাবতলী নামায় দিবি “।মেজাজটা মুহূর্তে সপ্তমে চড়ে গেল।হেলপারকে বললাম,চাচার ভাড়ার টাকা ফেরত দে।সে গড়িমসি করছে দেখে বললাম, তাড়াতাড়ি ফেরত দে,নাইলে কিন্তু কানের নিচে দিমু একটা।সঙ্গে সঙ্গে ভাড়া ফেরত দিয়ে দিল হেল্পারটা।এইবার আমি বন্ধুটির দিকে তাকিয়ে হেসে বললাম,”দোস্ত,মাইরের মধ্যে আসলেই ভাইটামিন আছে “!!!

ঘটনা ৩ :
যানজটের ধাক্কা সামলাতে সামলাতে সবেমাত্র আমাদের গাড়িটি বঙ্গভবনের সামনে এসেছে।এমন সময়,ড্রাইভার পাশে দাড়ানো ঢাকা ইউনিভার্সিটির বাসের গায়ে ধাক্কা লাগিয়ে দিল।আর যায় কোথায়?এক ঝাক বাংলার দামাল ছেলে চলে এলো ততক্ষনাত।ড্রাইভারকে বেধড়ক লাথি,চড়,কিল,ঘুষি আর থাপ্পর মারা শুরু করে দিল!কি আর করা! আমাদের বসে বসে শুধু দেখা ছাড়া আর কিছুই যে করার নাই!যখন মাইর দেওয়া বন্ধ হলো,তখন ড্রাইভারের শরীরের অবস্থা সত্যিই কেরোসিন!হয়ত কেউ একজন কিল,ঘুসি শেষে তার বন্ধুর দিকে হেসে বলেছিল, “দোস্ত,মাইরের মধ্যে কিন্তু ভাইটামিন আছে”!!!

ঘটনা ৪ :
বাসটি যখন যাত্রাবাড়ি অতিক্রম করছে,ঠিক তখনি একটি আজরাইল -১১ এর গাড়ি আমাদের অতিক্রম করার জন্য হর্ন দিচ্ছিল।কিম্তু আমাদের ড্রাইভার ভুলবশত সাইড দিল না।কিছুক্ষণের মধ্যে গাড়িটি আমাদের গাড়ির সামনে এসে আচ্ছামত শাসালো ড্রাইভারকে।আমরা অপেক্ষা করছিলাম,কালো বাহিনী এক্ষণি ছুটে এসে গুষ্ঠি উদ্ধার করবে ড্রাইভারের।কিন্তু না,মাত্র গোটা দুএক ডান্ডার বাড়ি দিয়েই ক্ষান্ত দিল!কালো বাহিনীর মহানুভবতায় আমরা বিস্মিত হলাম !!!!তবে আমি এতটুকু নিশ্চিত,কালো বাহিনীর কেউই একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে হেসে বলেনি যে,”মাইরের মধ্যে ভাইটামিন আছে “।কারণ,মাইরের মধ্যে যে ভাইটামিন আছে এইটা তাদের চেয়ে আর কে বেশী ভালো জানে!!!!

…………..তবে আনন্দের কথা এই যে ,অবশেষে সহি সালামতে বাসায় ফিরতে পেরেছিলাম!