ক্যাটেগরিঃ ক্যাম্পাস

গতকালকের পত্রিকার একটি নিউজ বোধকরি সবারই নজর কেড়েছে।চাকরি জাতীয়করণের দাবিতে বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা প্রধানমন্ত্রীকে স্মারকলিপি দিতে যাচ্ছিলেন।শিক্ষকরা শাহবাগ আসতেই পুলিশের হামলা,একজন শ্রদ্ধেয় শিক্ষককে শার্ট এর কালার ধরে টেনে নিয়ে যাচ্ছেন একজন পুলিশ।বেদনাদায়ক এই দৃশ্যটি ভুলে যেতে চেয়েছি বারবার।কিন্তু কিছুতেই ভুলে থাকা সম্ভব হচ্ছে না।তাই বিবেকের তাড়নায় লিখছি।হঠাত করেই মনে পড়ে গেল,স্কুল জীবনের এক শিক্ষকের কথা। অংক শিখাতেন আমাদের।আমাদের কাছে অনেক ভালবাসার আর শ্রদ্ধার মানুষ ছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে শিক্ষকদের জীবন নিয়ে নির্মম সব গল্প বলতেন।একদিন আমাদের বললেন, এক অঙ্কের শিক্ষক নাকি তার এক প্রিয় ছাত্রকে জিগ্যেস করেছিল, বলত,যদি আমার বেতন ৫ টাকা হয়,আর ঠাকুরদের কুকুরটার পিছনে মাসিক খরচ ২০ টাকা হয়,তাহলে, তোদের অঙ্ক মাস্টার ঠাকুরদের কুকুরের কয়টা ঠেং এর সমান??? তখন এই গল্পটির তাৎপর্য ঠিক বুঝে উঠতে পারিনি।আজ সত্যিই নিজেকে খুব অসহায় মনে হচ্ছে রাজপথে মানুষ বানানোর এই কারিগরদের রক্ত রঞ্জিত হতে! মনে পড়ে,সার অনেক দু:খ নিয়ে একদিন বলেছিলেন,কোনো এক শিক্ষককে নাকি বাজারে এক বদলোক চরম অপমান করেছিল,তখন নাকি ওই শিক্ষকের এক ছাত্র দূর থেকে দেখে বলেছিলো, ভাগ্গিস,আমি সামনে ছিলাম না। মানির মান আল্লায়ই রাখে!! সত্যি বলছি,আজ এই জীবনে প্রথমবারের মত পাহাড় সমান ব্যক্তিত্বের আমার শিক্ষকের করুন মুখটি ফুটে উঠেছে। আমি সত্যি আর ভাবতে পারছিনা। কিন্তু আবার যে স্যার আপনার কথা মনে পড়ে গেল! তখন ক্লাস টেন এ পড়ি। আপনি জিগ্যেস করেছিলেন,”he is a teacher”এর অর্থ কি? জবাবে “সে একজন শিক্ষক ” বলায় আমার উপর প্রচন্ড রাগ করেছিলেন। বেত্রাঘাতও করেছিলেন। ক্ষোভের সাথে বলেছিলেন,তোর কাছে এটা আশা করিনি।আমাকে হতভম্ব করে দিয়ে তিনি বলেছিলেন,শিক্ষককে “তিনি” বলতে হয়। সত্যি বলছি স্যার,সেদিন আমি এই কথার মর্ম পুরাটুকু উপলব্ধি করতে পারি নাই। সেদিন মার খাওয়ার পরও বন্ধুরা হেসেছিলাম, আপনার এই মার দেওয়ার কারণটিকে ঠুনকো মনে করে। সেদিনের হাসির জন্য আজ নিজের প্রতি নিজেরই বড় করুনা হচ্ছে! সেদিনের হাসিটা কেন যেন কান্না হয়ে ফিরে আসছে বারবার আমার কাছে।

স্যার, জানি না, শিক্ষকদের রাজপথে মার খেতে দেখে আপনার কেমন লাগছে! দেখলাম ,প্রথম আলো, ছবিটির ক্যাপশনে লিখে দিয়েছে,যে পুলিশটি শিক্ষককে লাঞ্চিত করছে,সে হয়ত ভুলে গেছে কোনো এক শিক্ষকের কাছেই তার বিদ্যা শিক্ষার হাতে খড়ি।যেখানে শিক্ষকরা লাঞ্চিত হলেন,নিশ্চয়ই সেখানে আরো মানুষ ছিল।তাদের চোখের সামনেই অপমানিত হলেন জাতির কর্ণধার শিক্ষকরা। হয়ত ওই সম্মানিত শিক্ষকদের কোনো ছাত্রও ছিল অদুরেই। সেও হয়ত দূর থেকে দেখে বলছিল,”………ভাগ্গিস আমি সেখানে ছিলাম না। মানীর মান আসলেই আল্লায়ই রাখে”………!!!

সামসুল আরেফিন
১৭/৫/২০১২