ক্যাটেগরিঃ রাজনীতি

দেশের বর্তমান রাজনীতি নিয়ে কথা বলার উত্সাহ দিন দিন হারিয়ে ফেলছি।সরকারের কর্মকান্ড শুধু যে আমাদের ক্ষুব্ধ করেছে তা নয়,বরঞ্চ,আমাদের নতুন করে ভাবতে হচ্ছে যে দিন দিন আমরা অসভ্য জাতিতে পরিনত হচ্ছি কি না?রাজপথে পেটোয়া পুলিশ বাহিনীর হামলায় নিহত হলেন জাতির বিবেক একজন স্কুল শিক্ষক।অথচ,কোথাও কোনো প্রতিবাদ নেই!গতকাল গভীর রাতে ইলিয়াস আলীর বনানীর বাসায় অভিযান চালিয়েছে ডিবি পুলিশ!এদিকে আশরাফ দাবি করেছেন,ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে নাকি প্রায় ১২০০ অভিযান পরিচালনা করেছে সরকার!এসব কিছু দেখে হায়দার হোসেনের একটি গানের একটি চরণ খুব মনে পড়ছে ……….. “নির্মমতা কতদূর হলে জাতি হবে নির্লজ্জ?”

সরকারের আচার আচরণে এটা স্পষ্ট যে বিরোধী মত দলনে তারা সিদ্ধহস্ত।জনগণ তত্ত্বাবধায়ক চায় কি চায় না,সেটা তাদের বিবেচনা করার মত সময় নেই!সব কিছুতেই সরকারের “বিচার মানি,কিন্তু তাল গাছটা আমার” এই নীতি জনগনকে প্রচণ্ডভাবে ক্ষুব্ধ করেছে।পাশাপাশি সরকারের এই দলন নীতির বিপরীতে বিরোধী দলের ভূমিকাও নিঃসন্দেহে জনগনকে হতাশ করেছে।বিরোধী শিবিরে dedicated কর্মীর অভাব স্পষ্ট।যার কারণে থাইলান্ডের ‘লাল শার্ট’ধারীদের মত কোনো আন্দোলন আমাদের দেশে চোখে পরে না।কেননা,রাজনীতিটা আদর্শিক জায়গা থেকে করে না এই দেশের অধিকাংশ দল।তাই জনগণ যত “স্মার্ট’ই হউক না কেন,সরকারের সৃষ্ট “গোলক ধাঁধা”থেকে বের হতে পারছেনা কিছুতেই।যথারীতি একটি গল্প।এক শিক্ষিত,স্মার্ট তরুণ গিয়েছে চাকরির” interview”তে।তার সাথে কর্মকর্তাদের নিন্মোক্ত সাক্ষাত্কার :

প্রশ্নকর্তা: একটি প্লেনে ৫০টি ইট আছে।একটি ইট ফেলে দিলে কয়টা ইট থাকবে?
প্রার্থী:খুব সহজ,৪৯ টি।
প্রশ্নকর্তা:একটি হাতিকে ফ্রিজে রাখার ৩ টি ধাপ কি?
প্রার্থী:১.ফ্রিজটি খুলুন ২.হাতিটিকে ফ্রিজে রাখুন ৩.ফ্রিজটি বন্ধ করুন।
প্রশ্নকর্তা:একটি হরিনকে ফ্রিজে রাখার ৪ টি ধাপ কি?
প্রার্থী:১.ফ্রিজটি খুলুন ২.হাতিটিকে বের করুন৩.হরিনটিকে রাখুন ৪.ফ্রিজটি বন্ধ করুন।
প্রশ্নকর্তা:বনে সিংহের বিয়ে হচ্ছে।সবাই গেছে,কিন্তু একজন যায় নি।কে এবং কেন?
প্রার্থী:হরিন।কারণ সে এখন ফ্রিজে।
প্রশ্নকর্তা:একজন বুড়ি কুমির ভর্তি একটি খাল পার হলো,কিন্তু কুমিরগুলো তাকে খেলো না,কেন?
প্রার্থী:কারণ কুমিরগুলো সেখানে ছিল না,তারা সিংহের বিয়েতে গেছে ।
প্রশ্নকর্তা:কিন্তু খাল পার হতে গিয়ে বুড়িটি মারা গেল।কেন?
প্রার্থী:সম্ভবত বুড়িটি সাতার জানত না।
প্রশ্নকর্তা:আপনার উত্তর সঠিক হয় নি।প্লেন থেকে ইটটি বুড়ির মাথায় পরায় সে মারা গেছে।আপনি আসতে পারেন!!!

চাকরি প্রার্থী এই শিক্ষিত,স্মার্ট তরুনটি যেমন এতসব উদ্ভট প্রশ্নের উত্তরে যথেষ্ট স্মার্টনেস এর পরিচয় দেওয়ার পর ও তার চাকরি হয় নি,আমাদের জনগনের অবস্থা ও তা-ই।আমরা যত যুক্তি দিয়ে ই বুঝাই না কেন, সরকার আমাদের কথায় কর্ণপাত করে না। পক্ষান্তরে বিরোধী দলের সাংগঠনিক দুর্বলতা সরকারকে আর ও আগ্রাসী হতে সুযোগ করে দিয়েছে।চরিত্রগত দিক থেকে দেশের প্রধান দুটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে খুব বেশি পার্থক্য না থাকলেও ,এ কথা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে,তুলনামূলকভাবে কিছুটা “ভদ্র”লোকের দল বিএনপি।কিন্তু তারপর ও দায়িত্ব নিয়েই বলছি, স্বাধীনতার ৪১ বছরেও আমাদের জনগনের চাওয়া যে সিকি ভাগ ও পূরণ হয় নি,তার জন্য যারা রাষ্ট্র পরিচালনা করেছেন মূলত তারাই দায়ী।আমি মনে করি,মিশরের হোসনি মুবারকের সরকারের সাথে আমাদের দেশের এই ৪১ বছরে যারা শাসন করেছেন,তাদের মধ্যে কোনো চরিত্রগতভাবে পার্থক্য নেই।পার্থক্য হচ্ছে,মিশরে মোবারক একাই প্রায় ৩ যুগ শাসন করেছেন।কিন্তু আমাদের শাসকরা কখনো বাকশালের নামে,কখনো উর্দি পরা স্বৈরশাসকের ভূমিকায়, কখনো বা গণতন্ত্রের মুখোশে।কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ মিশরের মত এতটা উত্তাল হয়ে উঠে না কারণ যোগ্য নেতৃত্বের অভাব।জনগণ একটি হুইসেলের অপেক্ষায় আছে।কিন্তু নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস এবং আস্থা রাখতে পারছে না। বড় দুইটি রাজনৈতিক দলের লেজুড়বৃত্তি থেকে বের হওয়ার কোনো সুযোগ পাচ্ছে না তারা।বিকল্প তৃতীয় শক্তি হিসেবে ড.ইউনুসকে গ্রহণ না করাটাই স্বাভাবিক।কারণ,জনগণ তাকে মার্কিন স্বার্থের তল্পিবাহকই মনে করে।রাজনৈতিক দলের বিবেচনায়,দুটি ঘরনার লোক আদর্শিক জায়গা থেকে রাজনীতি করে।১.বামপন্থী রাজনীতিবিদরা ২.ইসলামী রাজনৈতিক দল। অর্থাৎ,ইতিবাচক পরিবর্তনের জন্য এই দুটি ঘরনার যে কোনো একটি তে ভিড়তে হবে জনগনকে।

ইসলামী দলগোলোর মধ্যে সবচেয়ে অগ্রগণ্য ধরা যায় জামাআত ইসলামীকে।অন্য ইসলামী দলগুলো রাজনীতিকে “জায়েজ”মনে করতে বড্ড বেশি দেরী করে ফেলায় অনেকটাই পিছনে পরে গেছে তারা।আবার প্রয়োজন অনুযায়ী কোথাও কোথাও “কার্ভ”করে যাওয়ার কারণে এবং জনশক্তিকে কুরআন,হাদিসের পাশাপাশি আধুনিক জ্ঞান ভিত্তিক পড়াশুনার সিস্টেম চালু করায় দলটি মডারেট ইসলামী দল হিসেবে সীকৃত।তবুও জামাআতকে বিকল্প নেতৃত্ব ভাবতে পারছেনা জনগণ,কেননা মহান মুক্তিযুদ্ধে দলটির “বিতর্কিত”ভুমিকা।যদিও বা জামাআত দাবি করে,রাজনৈতিক বিরোধিতা ছাড়া তারা কোনরূপ অপরাধমূলক কাজের সাথে যুক্ত ছিল না,তথাপি ৭১ এ “জনগনের পালস”বুঝতে না পারার রাজনৈতিক দায় থেকে সহসা মুক্তি মেলছে না দলটির।সুশৃঙ্খল এই স্তরভিত্তিক নেতৃত্বের দলটির দুজন শীর্ষ নেতা মন্ত্রিত্বের দায়িত্ব পালনকালে শতভাগ সচ্ছতা নিশ্চিত করলেও “জনগনের পালস” না বুঝে “রাজনৈতিক বিরোধিতা’ করার খেসারত দিতে হচ্ছে দলটিকে।”বিতর্কিত রাজনৈতিক সিদ্ধান্তটিকে” ভুল বলে বিবৃতি দেওয়ার ও প্রয়োজন মনে করে না দলটি।বরঞ্চ,তাদের দাবি, মুক্তিযুদ্ধের রাজনৈতিক বিরোধিতা করেছিল কমরেড তুয়াহা এবং আজকের শিল্প মন্ত্রী দিলীপ বড়ুয়ার মত এক শ্রেনীর বামপন্থী নেতারা।মুক্তিযুদ্ধকে “দুই কুকুরের লড়াই” বলেও বিবৃতি দিয়েছেন কেউ কেউ।তাই ওই সকল বাম নেতাদের ‘রাজনৈতিক বিরোধিতা “যদি’ জায়েজ ‘হয় ,তবে জামাআত এর রাজনৈতিক বিরোধিতা ও ‘নাজায়েজ’ হবে না।দলটির শীর্ষ নেতারা বর্তমানে “মানবতা বিরোধী অপরাধে “র অভিযোগে জেলে আছেন।তাই অপরাধের সাথে যুক্ত ছিলেন না,এই কথা কোর্টে প্রমানিত না হওয়া পর্যন্ত দলটির সাধীনতা পরবর্তী ইতিবাচক রাজনীতি জনগনের নিকট মোটেও গ্রহণযোগ্য হবে না।পক্ষান্তরে,দেশ প্রেমিক হিসেবে সীকৃত হলেও,বামপন্থীদেরকে মানুষ “ভালোভাবে” নিতে পারছে না,কারণ ঐতিহাসিকভাবে এই অঞ্চলের মানুষের ধার্মিকতার কারণে।যার কারণে বিপুল পরাক্রমশালী বামরা আজ বাংলাদেশের রাজনীতি থেকে প্রায় হারিয়েই গেছে বলা যায়।যতটুকু তাদের অস্তিত্ব আছে,তাও জোনাকির আলোর মত “নিভিয়া জলিছে “ধরনের।যে কারণে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদের ডাকে তেল,গেস রক্ষার দাবিতে ১৬কোটি মানুষকে “লাল-সবুজ”প্লাটফর্মের পেছনে দাঁড়াতে দেখি না। অর্থাত,আদর্শিক রাজনীতি করা বামদের “ধর্মবিমুক্ষতা”তাদেরকে রাজনৈতিকভাবে “সার্বজনীন’করে তুলে নি।যার ফলে,বিকল্প আদর্শিক নেত্ত্রিতের শূন্যতা জনগনকে আর বড় দুটি দলের লেজুরবৃত্তি থেকে বের হতে দিচ্ছে না।তাই আমি মনে করি,পরিবর্তনের জন্য হুইসেলের অপেক্ষায় থাকা একটি জাতিকে সরকার ক্ষুব্ধ করেছে আর বিরোধী দল করেছে হতাশ।কেননা, সঠিক নেতৃত্বের হুইসেল পেলে ততক্ষনাত জেগে উঠে এই জনগণ।তার প্রমান তারা ৫২এর ভাষা আন্দোলনে দিয়েছে।দিয়েছে ৬৯ এর গণ অভ্ভুত্থানে,৭১ এর মহান মুক্তিযোদ্ধে এবং ৯০ এর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনে ।তাই হুইসেলের প্রতিক্ষায় থাকা জাতির প্রতিক্ষা যেন আর শেষ হয় না !! … সবশেষে আবার একটি গল্প।

ইন্ডিয়া,ইংল্যান্ড এবং বাংলাদেশের তিনজন মানুষ গেছেন ইশ্বরের সঙ্গে দেখা করতে।প্রথমে ইন্ডিয়ার অধিবাসী ইশ্বরের সঙ্গে দেখা করে তাকে জিগ্গেস করলেন,”আমাদের ধনী-গরিব বৈষম্যময় দূর হবে কবে?”ইশ্বর বললেন,আরো ৫০ বছর পরে।লোকটি কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে গেলেন।

এবার ইংল্যান্ড এর লোকটি গিয়ে ইশ্বরকে জিগ্গেস করলেন,আমরা আমেরিকার গোলামী থেকে মুক্তি পাব কবে?ইশ্বর বললেন,আরো ১০০ বছর পরে। লোকটিও কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে এলেন।
এবার বাংলাদেশের লোকটি গিয়ে জিগ্গেস করলেন,আমরা সত্যিকারের দেশ প্রেমিক শাসক পাব কবে?………….এবার ইশ্বর কাঁদতে কাঁদতে বের হয়ে এলেন!!!!!!

সামসুল আরেফিন
১৯/০৫/২০১২