ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

যুদ্ধাপরাধের দায়ে অভিযুক্ত জামাতের সাবেক আমির গোলাম আজমের ছেলে ব্রিগেডিয়ার জেনারেল(অব:) আব্দুল্লাহিল আমান আযামী সম্প্রতি একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলে তাকে নিয়ে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনের দেওয়া বক্তব্যের জন্য ভিসি মহোদয়কে তার নিকট ক্ষমা চাইতে কিংবা তার(জাবি ভিসির) বক্তব্যের স্বপক্ষে প্রমান পেশ করতে অনুরোধ জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য,অধ্যাপক আনোয়ার হোসেন একটি বেসরকারী টিভি চ্যানেলের টক শোতে দাবি করেন যে, “আযামীর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অফিসার পদে যোগদানের ন্যূন্যতম যোগ্যতাও ছিল না”। ব্রি:জে:(অব) আযামী এই বক্তব্যের তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়ে দাবি করেন যে,অধ্যাপক সাহেবের এই বক্তব্য বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে হেয় করেছে।এর মাধ্যমে প্রমান করার চেষ্টা করা হয়েছে যে,ভয়-ভীতি দেখিয়ে,প্রলোভন,কিংবা প্রভাব-প্রতিপত্তি খাটিয়ে “অযোগ্যরাও” সেনাবাহিনীর সদস্য হতে পারে।এই বক্তব্যকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে এক গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করেন।বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে তার ব্যাকগ্রাউন্ড তুলে ধরে আযামী বলেন, “১৯৭৯ সালের মাঝামাঝিতে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ৫ম বিএমএ লং কোর্সে যোগদানের জন্য দরখাস্ত জমা দেওয়ার পর থেকে তার ৩০-৩১ বছরের সেনাবাহিনীর ক্যারিয়ারে কোনো দোষ/ত্রুটি/অপরাধ খুঁজে পাওয়া যায়নি। অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, “আপনার সেই ন্যূন্যতম যোগ্যতা বিহীন আযামী বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সর্বকালের রেকর্ড ভঙ্গ করে ১৯৮১ সালে বাংলাদেশ মিলিটারি একাডেমীর ৫টি পুরস্কারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ পুরস্কার “সোর্ড অফ অনার”, দ্বিতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার “গোল্ড মেডেল” এবং তৃতীয় শ্রেষ্ঠ পুরস্কার “ট্যাকটিক্স প্ল্যাক” ; এই তিনটি পুরস্কারই অর্জন করেছিল।তিনি বলেন, “আপনার কি ধারণা সর্ব বিষয়ে সর্বশ্রেষ্ঠ ঘোষণা করে “সোর্ড অফ অনার” দিয়েছিল যোগ্যতাহীন আযামীকে? চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় হতে ডিগ্রী পরীক্ষায় কলা বিভাগ থেকে সম্মিলিত মেধা তালিকায় প্রথম স্থান অধিকার করে “গোল্ড মেডেল” সে পেয়েছিল কোনো কিছু না লিখেই? যুদ্ধ বিদ্যার কলাকৌশলে শ্রেষ্ঠত্ব প্রদর্শন করতে না পারলেও মিলিটারি একাডেমি আজমীর ভয়ে তটস্থ ছিল বিধায় তাকে “ট্যাকটিক্স প্ল্যাক”টিও ধরিয়ে দিয়ে ধন্য হয়ে ছিল?

গোলাম আজমের ছেলে এত সব অপকর্ম করে বাঘা বাঘা বীর মুক্তিযোদ্ধার সামনে দিয়ে বেরিয়ে গেল আর তারা কোনো প্রতিবাদ করলো না?আর আপনিও জনগনকে তখন এটা না জানিয়ে খুব বড় অন্যায় করে ফেললেন না?”

এখানেই থেমে থাকে নি গোলাম আজমের ছেলে।তিনি তার মেধা, মনন, যোগ্যতার পুরোটুকু যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর স্বার্থে ব্যয়িত হয়েছে তার প্রমাণস্বরূপ সাক্ষী মেনেছেন যাদেরকে তাদের নাম নিম্নরূপ:
-মে:জে:আব্দুস সালাম(সরকারদলীয় এম পি )
-মে:জে:সৈযদ সাফাতুল ইসলাম (আওয়ামীলীগের সা: সম্পা: সৈযদ আশরাফুল ইসলামের ভাই)
-লে:ক:ফারুক খান (বর্তমান মন্ত্রী)
-সাবেক সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হু.মু.এরশাদ
-১৯৮০ সালের পর থেকে সেনাবাহিনীর সকল সেনাপ্রধান
-মে:জে:সবিদ আলী ভুইআ(সরকারী এম পি)
-মে:জে:তারিক আহমেদ সিদ্দিকী(প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা)

ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব)আযামী অধ্যাপক আনোয়ার হোসেনকে চ্যালেঞ্জ করেছেন আজমীর বক্তব্যকে মিথ্যা প্রমানিত করতে কিংবা তার কাছে ক্ষমা চাওয়ার সত সাহস প্রদর্শন করতে।দেখা যাক, তিনি চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করেন নাকি গোলাম আজমের ছেলের কাছে ক্ষমা চান।আশা করি,জনাব আনোয়ার হোসেন চুপ করে থেকে নিজেকে মিথ্যাবাদী প্রমান করবেন না বরঞ্চ আজমীর চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করে তাকে মিথ্যাবাদী প্রমান করে জোর গলায় বলবেন,”যুদ্ধাপরাধির ছেলেকে এক হাত নিয়েছি”। তা না হলে জাতির কাছে আপনি নিজেই হ্যাংলা হয়ে যাবেন যে স্যার।