ক্যাটেগরিঃ প্রযুক্তি কথা, ফিচার পোস্ট আর্কাইভ

 

21_Mustafa_Jabbar_AMO_040118_0012

নতুন দায়িত্ব পাওয়া মাননীয় ডাক টেলিযোগাযোগ ও আইসিটি মন্ত্রী তথ্য প্রযুক্তিবিদ মোস্তফা জব্বার বলেছেনে, মন্ত্রী হিসেবে তার সর্বাধিক অগ্রাধিকার কাজ হবে দেশে ইন্টারনেটের মূল্য কমানো এবং টেলিটককে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করা। মন্ত্রীমহোদয় কাজগুলো কীভাবে করবেন তা হয়তো বেশ কয়েকদিন পর আমরা জানতে পারবো। আশায় রইলাম।

মন্ত্রী মহোদয় দেশের প্রযুক্তি সেক্টরে কী পরিবর্তন করেন তা দেখার আগে আমার একটি আইডিয়া দেশের প্রযুক্তিপ্রেমিদের কাছে শেয়ার করলাম। আইডিয়াটা হচ্ছে টেলিটককে ঘিরে।

এই মুহূর্তে আমাদের টেলিটক লাভে আছে কিনা জানি না। তবে টেলিটককে যে ইচ্ছাকৃতভাবে কোন অদৃশ্য শক্তি নেটওর্য়াক সম্প্রাসরণসহ নানা দিকে বেড়ে উঠতে দিচ্ছে না তা পুরোপুরি পরিষ্কার। এখন মাননীয়মন্ত্রী মহোদয় দেশের প্রযুক্তির জন্য টেলিটককে ঘিরে এক শুভ উদ্যোগ গ্রহণ করার আগ্রহ দেখিয়েছেন।

এ মুহূর্তে বাংলাদেশে যারা ফোন করেছেন তারা নতুন করে টেলিটকের সিম কিনবেন কিনা সন্দেহ আছে। যদি সিমই না কেনেন তবে টেলিটক যে ভালো সেবা দেয় সেটা গ্রাহক বা দেশবাসী কীভাবে বুঝবে? সুতরাং শেষে হয়তো মাননীয় মন্ত্রীও মুখ ফিরিয়ে নেবেন। তবে আলোচ্য উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য আমার আইডিয়াটি এমন-

১। মাননীয় প্রযুক্তিমন্ত্রী যেটা করতে পারেন সেটা হচ্ছে, মন্ত্রণালয়সহ গ্রাম পর্যন্ত সকল সরকারি অফিসের বর্তমান যে মোবাইল নাম্বারটি রয়েছে তা টেলিটকে রূপান্তর করা। অথবা যে সকল অফিস এখনো সরকারি নাম্বার নেয়নি সে সকল অফিস নতুন মোবাইল নম্বর টেলিটক থেকে নেয়া।

২। দেশে সরকার নিয়ন্ত্রণাধীন সকল সরকারি, আধা সরকারি এবং সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় চলমান সকল অফিসের মূল নম্বর টেলিটকের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা।

৩। কিন্তু ইতোমধ্যে যে সকল সরকারি অফিস বিভিন্ন কোম্পানির নম্বর সরকারি নম্বর হিসাবে ব্যবহার করছেন, সে নাম্বারগুলো অপরিবর্তিত রেখে অপারেটরটি টেলিটকে কনভার্ট করা। অপারেটর কনভার্ট প্রক্রিয়াটি এমএনপি সেবার মাধ্যমে করতে হবে। এজন্য গত ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে ইনফোজিলিয়ান বিডি নামক প্রতিষ্ঠানকে ফোনের নম্বর অপরিবর্তিত রেখে অপারেটর বদলের সুযোগ বা এমএনপি সেবার যে লাইসেন্স দেয়া হয়েছে তার মাধ্যমে সেবাটি দ্রুত চালুর ব্যবস্থা করা।

৪। টেলিটকের টকটাইম ব্যালেন্স দিয়ে সব রকম সরকারি ফি পরিশোধ করা যাবে এমন সেবা চালু করতে হবে। এখন থেকেই  সীমিত কিছু সেবা চালু করা যায়।

৫। এ সিদ্ধান্তগুলো নেয়া হলে, বিশেষ করে এমএনপি সেবা চালু হওয়ার সাথে সাথে টেলিটক লাখ লাখ কনর্ভাটেট গ্রাহক পেয়ে লাভবান কোম্পানিতে পরিণত হতে থাকবে এবং গ্রাহকদের মাঝে দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।

৬। দেশের প্রতিটি নাগরিক টেলিটক সিম কিনতে বাধ্য হবেন।

৭। এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে টেলিটক দিয়ে একজন গ্রাহকও যদি কোন কল না করে, তবুও অন্য কোম্পানি থেকে প্রতিদিন লাখ লাখ কল টেলিটকে প্রবেশ করবে। যার জন্য কলের আন্তঃসংযোগ ফি বাবত প্রতিমাসে টেলিটক বিভিন্ন কোম্পানি থেকে কোটি কোটি টাকা প্রাপ্য হবেন।

৮। একই সময়ে অন্য কোম্পানিগুলো সরকারি সিদ্ধান্ত এবং এমএনপি সেবার কারণে লাখ লাখ গ্রাহক হারিয়ে প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হবে। ফলে বাধ্য হয়েই তারা সেবার মান বৃদ্ধিসহ সাশ্রয়ী সেবা দেবে।

৯। অন্যদিকে টেলিটক দেশের বৃহত্তম পেশা ভিত্তিক নাম্বার সিরিজ বা প্যাকেজ চালু করে গ্রাহক আকৃষ্ট করতে পারে। যেমন: টেলিটক শিক্ষক, টেলিটক ডিফেন্স, টেলিটক ব্যাংকার ইত্যাদি।

 

সর্বশেষ মন্ত্রী মহোদয় বলেছেন দেশে ইন্টারনেটের দাম কমাবেন। ভালো কথা। এ প্রতিশ্রুতি তিনি টেলিটক দিয়েই শুরু করবেন বলে আমাদের বিশ্বাস। সে রকম কোন সিদ্ধান্ত নিতে পারলেই আমরা নিশ্চিত হবো আসলে তিনি দেশের টেলিকম সেক্টরের ‘ক্যান্সার’ দূর করতে পারবেন।