ক্যাটেগরিঃ স্বাধিকার চেতনা

প্রথমেই গভীর শ্রদ্ধা নিয়ে স্বরন করছি সেই সকল বীর শহীদের যাদের আত্মত্যাগর আমরা পেয়েছি একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভুখন্ড, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ছিল সম্পূর্নরুপে অসাম্প্রদায়ীক চেতনা। আপনারা অনেই দেখেছেন গতকাল দেশের সর্ব বৃহত্ত ঈদগাহের ইমাম সাহেব এসে আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন। এতে এ কথাই প্রমান করে জামাত শিবির শুধু মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী দল নয়, ইসলাম বিরোধী দলও বটে। যারা মনে করেন জামাত শিবির ইসলামী দল দেশের সর্ব বৃহত্ত ঈদগাহের ইমাম সাহেব আশা করি তাদের সেই ভুল ভেঙ্গে দিয়েছেন।

আন্দোলনকে সফলতার শিখরে পৌছানোর জন্য প্রথমেই আমাদের সকল মত ও পথের তরুন প্রজন্মকে নিয়ে একটি সর্ব দলীয় স্বাধীনতা প্রজন্ম কমিটি গঠন করতে হবে। যেই কমিটিতে থাকবে ব্লগার, অন লাইন এক্টেভিটিস, ও বিভিন্ন মতাদর্শের তরুন প্রজন্ম। সেই সাথে থাকবে কিছু সুনির্দিষ্ট দাবী দাওয়া।

নিম্নে কিছু দাবী তুলে দেয়া হলো। সকলকে অনুরোধ করব এই দাবীগুলোর সাথে প্রয়োজনীয় দাবী সমূহ যোগ করে একটি পরিমার্জিত দাবী নামা তৈরী করার জন্য এগিয়ে আসতে।

দাবীঃ ১। সকল যুদ্বাপরাধী ও রাজাকারদের বিচারের আওতায় আনতে হবে। দেশের প্রতিটি জেলায় সরকারী ভাবে যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারদের লিষ্ট তৈরী করতে হবে। এবং সরকারী প্রজ্ঞাপন জারীর মাধ্যমে রাজাকারদের সামাজিক ভাবে বয়কট ও তাদের প্রতিষ্ঠান সমূহ জাতীয় করন করতে হবে। যদি কোন ব্যক্তি বা মহল তাদের সাথে কোন প্রকার সামজিক সম্পর্ক ও লেন-দেন করে তবে উক্ত ব্যক্তি বা মহলকেও একই পরিনতি ভোগ করতে হবে। ৭১ এর মুক্তিযুদ্ধের বিরোধীতা করে জামাতসহ যে সকল দল হানাদারদের সহযোগীতা করেছে সে সকল রাজনৈতিক দল গুলোকেও ৭১ এ হানাদারদের সহযোগীতার অপরাধে জাতীয় সংসদে আইন পাশের মাধ্যমে নিষিদ্ধ ঘোষনা করতে হবে।

দাবীঃ ২। যুদ্ধাপরাধী, রাজাকারদের সর্বচ্চ শাস্তি নিশ্চত করনের জন্য ৭১ এ শহীদ ও নির্জাতিত পরিবার গুলোকে বিচার কার্জের সাথে সম্পৃক্ত করে তাদের পূর্ব পুরুষদের রক্তের ঋন শোধ করার সুযোগ দিতে হবে।

দাবীঃ ৩। দেশের খ্যাতিমান আইন বিদগনকে বিচার কাজে সহযোগিতা করার জন্য আহবান করতে হবে। যাতে করে দেশের সাধারন জনগনের কাছে পরিস্কার হয়ে যায় কারা যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকারের বিচারের বিপক্ষে।

দাবীঃ ৪। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের কমিটমেন্ট ছিল। (ক) একটি স্বাধীন সার্বভৌম ভুখন্ড, জাতীয় পতাকা ও জাতীয় সঙ্গীত। (খ) কমিটমেন্ট ছিল সকল শ্রেনী পেশার জনগনের অধিকার ও কর্তৃত্ব, অর্থনৈতিক মুক্তি, শোষনহীন সমাজ ব্যবস্থা, সাম্প্রদায়ীক চেতনা ও সুস্থ-সন্ত্রাসমুক্ত দেশ। প্রথমটি অর্জিত হলেও দ্বিতীয়টি অসমাপ্তই রয়ে গেছে। যুদ্ধাপরাধী ও রাজাকার বান্ধব বিভিন্ন মহল প্রচার-প্রচারনা চালাচ্ছে দেশ ও বিদেশে এই বলে যে, স্বাধীনতা প্রজন্ম চত্বরে ঢল নামা লক্ষ জনতার জড়ো হওয়াটা সরকারের একটি মহলের কাজ। অতএব অভিলম্বে দ্বিতীয় কমিটমেন্টটি বাস্তবায়নের মাধ্যমে সরকারকে তারুন্যের এই গন জাগরনকে সন্মান প্রদর্শন করতে হবে।

দাবীঃ ৫। অভিলম্বে দেশের প্রতিটি গ্রাম পর্যায়ে ৭১ এর শহীদের তালিকা তৈরী করে গ্রাম ভিত্তিক শহীদের নামের তালিকা সহ একটি ফলক তৈরী করতে হবে। যাতে করে দেশের সকল মানুষ তাদের জন্য কোন বিশেষ দিনে শ্রদ্ধা না দেখিয়ে বরং প্রতিনিয়ত শ্রদ্ধা দেখানোর সুযোগ পায়। এবং সেই সাথে গ্রাম ভিত্তিক রাজাকারদের তালিকা প্রনয়ন করতে হবে যাতে করে বাংলার মানুষ ৭১ এ তাদের কৃত কর্মের জন্য সামাজিক ভাবে বয়কট ও ঘৃনা প্রকাশ করতে পারে। এবং এই লিষ্ট তৈরীতে স্থানীয় সাধারন মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।