ক্যাটেগরিঃ নাগরিক আলাপ

 

মোঃ আব্দুস সালাম, এক ক্ষুধে হকার । বয়স ১১ কি ১২ হবে। বাড়ি ময়মনসিং । ৪ বছর আগে ঢাকায় আগমন এক বাসায় কাজ করার উদ্দেশ্যে । কিন্তু কিছু দিন কাজ করে মনে হল এই কাজ তার পক্ষে সম্ভব না। সেখান থেকে চলে আসল কষ্টকর কিন্তু ভিন্ন আরেক জগতে। পেশা হিসেবে বেছে নিল হকারি। আর থাকার বন্দোবস্ত হল শাহাবাগ পুলিশ ক্যান্টিনে।

আব্দুস সালাম প্রতিদিন সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে। সকালের নাস্তা সেরে বের হয় পত্রিকা কিনে আনবার জন্য। পত্রিকা কিনে নিয়ে আসে এক দোকানদারের কাছ থেকে। সে সেগুলো সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত রাস্তায় রাস্তায় হেঁটে বিক্রি করে। তারপর দুপুরের খাবার খেয়ে বের হয় চা বিস্কুট বিক্রি করার উদ্দেশ্যে। এভাবে তার প্রতিদিন কেটে যায় কর্ম ব্যস্ততার মাঝে ।

কিন্তু এই শত ব্যস্ততার মাঝেও সালাম তার পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে । ঢাবির কিছু মহৎ প্রাণ শিক্ষার্থী সালামের মত আরও অনেক সালামকে নিয়ে শুরু করেছে শিক্ষা কার্যক্রম । তারা সপ্তাহে ৪ দিন ক্লাশ করিয়ে থাকে এবং প্রতি ছাত্র বাবদ ২৫ টাকা করে একশ টাকা প্রধান করে। এতে সালাম অনেক খুশি।

বর্তমানে সালামের আয়ও বেশ ভাল। সে প্রতি মাসে বাড়ি যায় ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা নিয়ে। তার বাবা একজন গরিব কৃষক। সংসারের কল্যাণে নিজেকে নিয়োজিত করতে পেরে বেজায় খুশি ।।প্রতি মাসের শেষে সে বাড়ি যায় বেড়াতে।

সালাম এখন ভালোই আছে । কিন্তু ভাগ্যের তাড়নায় এভাবে তাকে আর কতদিন কাজ করতে হবে সে জানে না। সে চায় এই বন্দি শিকল থেকে মুক্তি পেতে। সে চায় আর দশটা শিশুর মত খেলতে, হাসতে, পড়তে।

এতো সব কিছুর মাঝে সালামের একটা আফসোস — কতো সাংবাদিক তার এই সংক্ষিপ্ত জীবনের ইন্টারভিউ নিয়েছে কিন্তু কেউ তার একটা ছবিও পত্রিকাতে ছাপেনি।