ক্যাটেগরিঃ স্বাস্থ্য

psycho-physical fusion of mind and body, dualism. হুমম, ‘ডাইলে চাইলে উতরাইলে গো সই/সেই উতরানি মোরে উতরাইলে/শ্যাম পীড়িতি আমার অন্তরে।’ কিন্তু কথা আছে। ডাল পানি সমেত পাত্রে রেখে আগুনের তাপে দিলে, ডালও একা একা উতরায়। চালও একা একা তদ্রুপ উতরাইয়া হয় ভাত। আরে! আরো কিছু দেখা যায়! ওখানে এক টুকরো সত্যের ঝিলিক। সীমাতে নির্দিষ্ট সুন্দর, সীমাতে তাত্পর্য, সীমাতে নির্মাণ, বিনির্মাণ। উতরানি বা ফিউশন দেখতে হলে, বুঝতে হলে সীমিত ডাল অথবা ডাল-চাল একটা নির্দিষ্ট সাইজের পাত্র, সীমিত আগুন/উনুন, সীমিত তাপ, তারপর, তারপর দেখো হে ফিউশন। তরতিব ছাড়া আগুন পানি ডাল এক জাগায় করলেই নির্ধারিত ফিউশন পাওয়া যায় না। সীমাতে খেলা; সীমাতে ক্রীড়ানৈপূণ্য। সীমাতে স্বাদ, অতি হলে গো ভাই বিস্বাদ। দেখো ফুল ফুটেছে, সুঘ্রাণ ছড়াচ্ছে, মনোমুগ্ধকর ঘ্রাণ! কীভাবে পর্যায় অতিক্রম এই প্রাপ্তির দেখতে থাকো। নির্দিষ্ট ফুলের গাছ, নির্ধারিত মাটি, নির্ধারিত সময়, পরাগায়ন, তারপর পুস্পায়ন। সীমিত পর্যায় শেষে নির্দিষ্ট সুঘ্রাণ, নির্দিষ্ট পরিমাণ। ঘ্রাণ পেয়ে মুগ্ধ হলো সসীম বস্তু ও মনের মিশ্রিত রূপের নর ও নারী।

মনেরে জিগাই দেহঘড়ির সন্ধান দেও। শরীর ছুঁই, মন পাই না; মন ছুঁই শরীর আসে না শরীরের দাবী নিয়ে। আবার শরীর মন দুইই আসে অনির্বচনীয় রূপে। ‘মায়া লাগাইসে’ বরাবর, ষোল আনা এক যোগ এক সমান এক! অতঃপর কান্দে! ‘আমার মন মজাইয়া রে, দিন মজাইয়া মুর্শিদ নিজের দেশে যায়’। সে আসিয়াছিলো, অতঃপর চলিয়া যাইতেছে দেহ পিঞ্জর ছাড়িয়া!

শরীরে আঘাত লাগবার কারণে ব্যথা প্রস্ফুটিত হয় শরীরে। মন আঘাত পাওয়ার কারণে ব্যথিত হয় মন। মনের ব্যথায়ও অশ্রু ফোটে, দেহের ব্যথায়ও অশ্রুভেজা। শরীর ভিজে বৃষ্টিতে, বিনা বৃষ্টিতে মন ভিজতে পারে। কখনো শরীরে প্রাপ্ত আঘাত মনকে বিমর্ষ করে না। এবং শরীরে আঘাত না-করে মনকে দুঃখভারাক্রান্ত করা যায়। মনের দুঃখবোধ সময় সাপেক্ষে শরীরকে দুখি বানাতে পারে। শরীরের দুঃখও প্রলম্বিত হলে মনও আক্রান্ত হয়। মনের সাথে অন্য মনের যোগ সাধনে যে মনোহর অনুভবের সাক্ষাত পাওয়া যায়, শরীর কি সেই অনুভবের সাকার সাক্ষী থাকছে না! শরীরের অনুভূতি প্রাণবন্ত রূপে পেতে হলে মনের ব্যাকুল যোগ প্রয়োজন। তন-মন সঁপিলে তারে পাওয়া যায়।

ফেইস ইজ দ্য ইনডেক্স অব মাইন্ড। এই সূচীপত্র বেশুমার হইতে পারে। সহস্র প্রকার ছবি তোলা যায় মুখমন্ডলের। প্রতিটি ছবি বিবৃতি দ্যায় ভিন্ন। যে-ছবিতে মন কান্দে, সেই ছবিতে দেহ কান্দে না। যে-ছবিতে দেহ কান্দে সেই ছবিতে মন কান্দে না। কোনো ছবিতে দেহ-মন কান্দে, আবার কোনো ছবিতে দেহ-মন অনিন্দ্য আবেদন রেখে হাসতে থাকে। আর বহু মুখমন্ডলের ছবি অনির্বচনীয় বিস্ময় ধারণ করে আবির্ভূত হয় ধরণী মাঝে।

কিন্তু বিস্ময়,শরীরের সুখ দুখ, মনের সুখ দুখ, যুক্ত থেকেও পৃথক পৃথক। শরীরের দ্যুতির শক্তি আর মনের দ্যুতির শক্তি পৃথক পৃথক তাত্পর্য বিন্যাস করে। বস্তুটির, মানুষটির, ধারণাটির ফানা ফানা পোশাকহীন শরীর দেখতে পারলেই তার মনময়ুরীর সারমর্ম দেখা যায় না। সময় শরীরকে একটা বিনাশের পর্যায়ে নিয়ে যায়। শরীরের বিনাশের সাথে সাথে মনের বিনাশ হয়ে গেলো না! ‘বিনাশ’ ধারণার বাস্তবায়নের জন্যে দৃষ্ট বাস্তব বা শরীর থাকতে হয়। শরীরের ভাঁজ দেখলেই মনের ভাঁজ দেখা হয়ে যায় না। মানুষের শরীরে শৃংখলা গ্রন্থিত কিন্তু মনেরে শিকল দিয়ে বাঁধা সহজসাধ্য না। মন মুক্ত এবং বন্দী দুইই। মনের গতি আলোর গতিকে ছাড়িয়ে যায়। ‘যাও পাখি বলো তারে’ যদি বলা যায় তেমন করে, ব্যাস, বাক্য ভাষাবন্দী হওয়ার আগেই পৌঁছে গেছে সাত সমুদ্দুর তের নদীর ওপার।

***
২১/০৭/২০১১
ইউএই