ক্যাটেগরিঃ প্রকৃতি-পরিবেশ

ঘূর্ণনের হিসেব মোতাবেক ভবিষ্যতে থাকা এক টুকরো অতীতে একটি গল্পাংশ এই যে, একজন মেধাবী ছাত্রের সাথে সমুদ্র গর্ভের অক্টোপাসের সখ্যতা রেকর্ড করা হয়েছে। এই দুই প্রাণ সাগর পারে বসে ঘন্টার পর ঘন্টা সুকৌশল বিষয়ক ভাব বিনিময় করেছে। মানুষের রাজনীতি বিজ্ঞানেও অক্টোপাস যোগ করেছে রণকৌশল – এই কথা সারা দুনিয়ার মানুষকে ওই ছাত্রটি জানিয়েছে এমন সম্ভাবনার কথা লোকমুখে শোনা গেছে কয়েক শতাব্দী। মানুষের সন্তান ছাত্রটি অক্টোপাসের কাছ থেকে চির বিদায় নেয়ার দিন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছিলো বলে অক্টোপাস বংশধর কি কারণে কান্না উপহার দিয়েছিলো জানা যায় নি।
অক্টোপাস বলেছিলো-
‘ভালো থেকো সব সময় বুদ্ধি সহকারে’।
ছাত্রটি বলেছিলো-
‘তোমার জন্যে আমৃত্যু এবং মৃত্যু পরবর্তীর শুভ কামনা থাকলো।’

অক্টোপাস, এ্যামেজিং ক্রিয়েচার। যদি বলা হয়, একটি জায়েন্ট অক্টোপাস আপনার স্ত্রী বা স্বামী হবে, আপনি কি ভাষা খুঁজে পাবেন না ভাব প্রকাশ করবার! অসুবিধা কি, ওর দু’টি মায়াবী চোখ আর অষ্ট হাতে ভালোবাসা আর মেধাজাত কৌশল দিতে পারে আপনাকে! কিংবা যদি বলা হয়, আগামীকাল আপনাকে অক্টোপাসের রূপ দিয়ে সমূদ্রে ছেড়ে দেয়া হবে; আপনার মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়বে কি!

বুঝে নেবার অন্যতম বিষয় হলো অক্টোপাসেরা স্পাইনলেস, (মানুষকে স্পাইনলেস বলে গালি দিলে রাগ করে।) মানে হাড্ডি নাই, মেরুদন্ড নাই কিন্তু অক্টোপাসেরা মেধা জ্ঞান কৌশল প্রভাব এবং ঐক্যকে প্রতীকায়ন করে।
জগতের ঘটনাগুলো এমন যে, তাতে মানুষ হতবাক বা মুর্ছা গেলে, কিংবা অশ্রুতে ভাসালে ধরিত্রী অথবা হাসতে হাসতে হর্ষ বিকিরণ করতে থাকলেও, ঘটনাগুলো ঘটতে থাকে নির্ধারিত সময়ে।

প্রচুর বুদ্ধি ও কৌশলের অধিকারি অক্টোপাসকে ইল (Eel) মাছ খায় বেশ মজা করে, বাইন মাছের মতো দেখতে কিন্তু সাপের মতো মুখ সেই মাছটি কিন্তু অক্টোপাসকে ভয় করে। সুকৌশলে গর্তের ভেতর নিজের শরীর লুকিয়ে রেখে, খপ করে অক্টোপাসকে ধরে ফটাফট চিবিয়ে গিলে ফেলে। কখনো এমন হয, খপ করে ধরেছে একটা হাতের গোড়ায় অক্টোপাসের, ধস্তাধস্তি করে অক্টোপাস পালিয়েছে হাত খানা ওই মাছটিকে দিয়ে। আবার কখনো আক্রান্ত হওয়ামাত্র হেচকা টানে মাছটিকে গর্ত থেকে বের করে প্যাঁচিয়ে ফেলে আট হাতে। পিচ্ছিল মাছটাও ‘ভিক্ষা চাই না তোর কুত্তা সামলা’ এমন ভাব দেখিয়ে ‘ওরে মা রে খাইছে আমারে’, – ব্যাপক কুস্তি করে অক্টোপাসের অষ্ট হাতের প্যাঁচ ফসকে দ্রুত পালিয়ে যায় মাছটি। প্যাঁচ ফসকানো খুব কঠিন সাধনা কারণ অষ্ট হাতে ১ হাজার ৯২০টি চোষক নল কোনো কিছুকে ধরে রাখতে সাহায্য করে। ইল মাছের শরীর পিচ্ছিল থাকার কারণে হয়তো সব সময় আটকাতে পারে না।

অক্টোপাস বিশেষ প্রাণী এই কারণেও যে, তার রয়েছে তিনটি হৃদপিন্ড। দাঁত নাই তবু মুখের চামড়া চোয়ালের কাজে লাগে। পুলিশ যেমন বিক্ষোভকারীদের আক্রমণের ভয়ে টিয়ার গ্যাস ছাড়ে, অক্টোপাসও শত্রুর উপর কালচে বাদামী রঙের তরল ছিটিয়ে তাত্ক্ষণিক আন্ধা বানিয়ে ফেলে শত্রুদের। আর আজব ব্যাপার হলো, আত্মরক্ষা করতে ব্যর্থ হলে অক্টোপাস অজ্ঞান হয় অথবা নিজেরই হাত খেতে শুরু করে।

কিন্তু প্রায় দেড় লাখ ডিম দেবার ক্ষমতাসম্পন্ন এই সামুদ্রিক প্রাণী তার ডিমগুলো থেকে বাচ্চা বের হবার পর কেন মারা যায় তা জানে না মানবজাতি। আর পুরুষ অক্টোপাস সঙ্গমের পর কয়েক মাসের মধ্যেই মারা যায় কি কারণে তাও মানুষের জানার বাইরে এখনও।

এবং কৌতুহল উদ্দীপক এই যে,
হাঙরের মজাদার খাবার অক্টোপাস যদিও বিস্ময়কর নিশাচর সামুদ্রিক প্রাণী, অক্টোপাস ক্যামফ্লাজ করে খপ করে প্যাঁচিয়ে ফেলে হাঙরকে খাওয়ার জন্য। এখানে-

হাঙর খায় অক্টোপাস। অক্টোপাস খায় হাঙর। হিসাব বরাবর।

-সারওয়ার চৌধুরী

২০সেপ্টেম্বর ২০১১
সিলেট, বাংলাদেশ