ক্যাটেগরিঃ মুক্তমঞ্চ

Truth is ever to be found in simplicity, and not in
the multiplicity and confusion of things … He is
the God of order and not of confusion….> Isaac Newton
…………………………

ভাবছিলাম, জগতমন্ডলে এতো ঘুর্ণন বাস্তবতা কেন! ভাবছিলাম, এতো গোল-বৃত্ত-চক্কর দেখতে পাচ্ছি কেন? সার্কুলার আদলের তাত্পর্য আছে বলেই এই বাস্তবতা নিঃসন্দেহে। এবং এও যুক্ত হলো চিন্তাতে- In the sacred art of Ancient Greece, Ancient Rome, Hinduism, Buddhism and Christianity, among other religions, sacred persons may be depicted with a halo in the form of a circular glow’ কারণ কী?
খুঁজতে খুঁজতে পেলাম নোবেল জয়ী ক্যামব্রিজের পদার্থবিদ Brian Josephson (তিনি এক্সট্রা সেনসরি পারসেপশন-এ বিশ্বাস রাখেন) এর Physics and Spirituality: The Next Grand Unification, Phys. Education, (22), 1987. পাইলাম- ‘relationships between quantum mechanics and the paranormal’।
এরপর পাওয়া গেল একজন অ-বিজ্ঞানী, যিনি শুধু নিজের অনুসন্ধিত্ষার দৌলতে ‘এ্যাবসলিউট ইন্টেলিজেন্স’ বের করবার প্রচেষ্টাতে সার্কুলার থিওরী সামনে নিয়ে আসলেন। তিনি ব্যাংকার এ্যালেক্সা ইয়ার্ডলি-Ilexa Yardley. তিনি জোর দিলেন- ‘As every entity and process is a circle (an oscillation), then the circle is the basis for both science and religion.’ ইয়ার্ডলি’র সার্কুলার থিওরীকে বেশ গুরুত্বের সাথে নিয়েছেন ব্রায়ান জোসেফসন। তাঁর মতে সার্কুলার থিওরী ভবিষ্যতের বিজ্ঞান স্টাডি। ব্রায়ানের বক্তব্যের ভিডিও এখানে- ‘Which way for physics?’
http://www.lindau-nobel.de.axprod.net/MediaContainer.AxCMS?type=lectures&LaureateID=6847
এবার তাঁদের চিন্তার সাথে আরো কিছু চিন্তা যোগ করে সামান্য চিন্তা-ধারণা-কথা রচনা করি।

beginning is end অথবা two is one সহজে বুঝা যায় না যেনো। শুরুতে শেষ। একটি বৃত্ত আঁকতে হলে যেখান থেকে শুরু সেখানে এসে মিলে যাওয়া। হুমম, এভাবে বলা যায়, শুরু আর শেষ একাকার, না শুরু না শেষ। অথবা শুরু আর শেষ নাই প্রসঙ্গ এসে দেখা দিলো। একটি বৃত্তের যে-কোনো জায়গাকে ধরা যেতে পারে তার শুরুশেষ বিন্দু। এবং সহজবোধ্য না- (many is one, separate is, then, continually and eternally, unified) এছাড়া সহজে বোধগম্য না, যদি বলা হয়, এককই শুন্য আর শুন্যই একক। মজা আর মজাতে মজে আছে মজা!
বিজ্ঞানের সকল শাখার অংকে ‘এক’ আর ‘শুন্য’ মৌলিক একক ধরা হয়।
এবং Mathematics and physics are tied together by the circle.বৃত্তের এতো প্রভাব! কেন?
এলিক্সা ইয়ার্ডলি জানালেন- between you and anything that is not you there is a hidden circle.কি বুঝালেন তিনি! নিকোলাস কোপার্নিকাসের কাছে হেলিওসেন্ট্রিক মডেল বৃত্তাকারেই ধরা দিয়েছিলো কেন?
বৃত্ত তত্বের হাইপোথিসিস বার করলেন এই মর্মে যে, একটা লুকোনো বৃত্ত যোগ বিয়োগ করণে ক্রিয়াশীল। ‘there is a hidden circle connecting and separating, producing and explaining, all entities, processes and systems.’ ঘুরতে ঘুরতে প্রেম বিরহ খেলা! মাথা ঘুরবার ব্যাপার!
এবং কেন ‘পাই’ (pi=π) ধরে ফেলে এমন বিস্ময! Zero and infinity are held together by pi. পাই হলো, একটা বৃত্তের সারকামফারেন্স, যা বৃত্তের ডায়ামিটারের তিনগুণের কিছু বেশি পরিমাপের। অংকে একত্রে পাই।

আরো কিছু বুঝাবুঝি এই ইংরেজি কথাগুলোর তথ্যে-
‘Color is a visual way of breaking up the circle. Every color is the same color (white or black) from a different perspective (time frame). This is a symbolic way to understand how an individual anything is connected to its whole; one circle, all circles, relative perspective.’

মহাত্মা রুমি বলেছিলেন ‘Say I am you’ , এখানেও কি আমি তুমি বৃত্ত বাস্তবতা এলো?
বৃত্ততেই ঘৃণা আর ভালোবাসা ঘুর্ণন।

ওই যে বৃত্তাকার চাকা ঘুরছে, এর তাত্পর্য তো বিস্ময়কর!

ঘুর্ণন। ঘুরছি, ঘুরছো, ঘুরছে। ঘুরতে থাকবার মধ্যে বিজ্ঞান কলা ইতিহাস সভ্যতা; ঘুরতে থাকবার মধ্যে যাহা সুন্দর তাহা অসুন্দর; ঘুরতে থাকবার মধ্যে যোগ বিয়োগ পুরণ ভাগ; ঘুরতে থাকবার মধ্যে গতি বেগ সবল দুর্বল আকর্ষণ মাধ্যাকর্ষণ ওজন ইত্যাদি। ধরিত্রী ঘুরছে দুইভাবে একসাথে- আহ্নিক ও বার্ষিক। ঘুরতে ঘুরতে তাত্পর্য বিকিরণ করতে থাকছে গ্রহ নক্ষত্র ছায়াপথদের শরীরে স্ফুট ক্ষণস্থায়ী বাস্তবগণ ও বাস্তবতা।

ঘুরতে ঘুরতে কেনই বা অর্থপূর্ণ জগত সংসার?
ঘুরতে থাকা বুঝিয়ে দ্যায় যে-দিক হতে আসা সে-দিকেই যেতে থাকা এবং যে-দিকে যাওয়া সে-দিক হতে আসা।
গাড়ি চাকা ঘুরতে ঘুরতে গতি পায়, স্থানান্তরে যায়। গাড়িও যায় চাকাও যায় পৃথিবীর পথে পথে। পথও চক্রাকারে সীমাবদ্ধ। যেতে যেতে কোথাও যায় না মুলত পৃথিবী পৃষ্টে ঘুরতে থাকা। প্রপেলারের ঘুর্ণন নির্ভর আকাশযানটির উড্ডয়ন অবতরণ। মাধ্যাকর্ষণ ছাড়িয়ে স্পেসশিপটি বহুদূরের দিকে যেতে যেতে কি খুব কাছের দিকেই আসতে থাকবে? স্থানকাল কি চক্র সীমাতে প্রস্ফুটিত ধারনাতীতের ধারণা? রূপের অজস্র ‘আমি’ ‘তুমি’ ঘুরতে ঘুরতে কি ফানা বাকা? ঘুরতে ঘুরতে কি নির্বাণ? ঘুরতে ঘুরতে কি তাহলে সকল রূপের তুমিহীন অরূপ ‘আমি’তে পৌঁছে যাওয়া? ঘূর্ণনে দেখা যাচ্ছে, বহুতে একক, এককে বহু, এবং বিস্তারিতে একক গ্রন্থনার প্রতিভাস!
ঘুর্ণন। ঘুরছি, ঘুরছো, ঘুরছে। ঘুরতে থাকবার মধ্যে বিজ্ঞান কলা ইতিহাস সভ্যতা……

সারওয়ার চৌধুরী
আবুধাবী
ইএই
০৪ নভেম্বর ২০১১